behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

‘পনির’ খাবেন নাকি এড়িয়ে যাবেন?

সুস্মিতা খান১৬:০১, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬

ঢাকাই পনির

ছোটবেলার খুব প্রিয় একটা বিষয় ছিল টম আর জেরির ছুটোছুটি। সারা সপ্তাহ বসে থাকতাম আমরা, কখন শুক্রবার আসবে আর বিটিভিতে এই জবরদস্ত জুটিকে ছুটোছুটি করতে দেখা যাবে। আর এই জুটির সঙ্গে  আর যে ব্যাপারটির জন্য আমি অধীর আগ্রহে বসে থাকতাম, তা হল জেরির কুটকুট করে পনির খাওয়া। দিন পার হয়েছে, এখন আর নিয়ম করে টম আর জেরির ছুটোছুটিদেখা হয়না। কিন্তু পনিরের প্রতি ভালবাসাটা রয়ে গেছে অটুট।

খেতে সুস্বাদু হওয়ায় প্রায় সবাই পনির পছন্দ করেন। পনির তৈরির মূল উপাদান হলো দুধ। গরু, মহিষ, ছাগল বা ভেড়ার দুধ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। অনেকের মাঝেই ধারণা আছে যে, পনির একটি চর্বিজাতীয় খাবার, তাই এটি খেলে ওজন বেড়ে যাবে। তাই ইচ্ছে থাকলে অনেক সময়ে বিশেষ দিবস বা বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া পনিরের ব্যবহার খুব বেশি চোখে পড়ে না। অথচ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পনির রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। গবেষণায় জানা যায় যে, বিভিন্ন ধরনের পনিরের মধ্যে হলুদ রঙের পনির বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এতে উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পনিরে লাইনোলিক এসিড ও স্পাইনগোলিপিডস নামে এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। পনিরে উপস্থিত ভিটামিন বি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন “বি” আমাদের হাড়কে শক্তিশালী করে। এছাড়া হলুদ পনির শরীরের রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ডেনমার্কের একদল গবেষক পরীক্ষা করে দেখেছেন যে পনির খেলে ওজন কমে। উক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, টানা দুই সপ্তাহ শুধু পনির এবং মাখন খাবার ফলে পাকস্থলিতে খাদ্য হজম হওয়ার জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে একধরনের এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ফ্যাটি এসিডও বেশি উৎপন্ন হয়েছে যা অধিক শক্তির উৎপাদন করেছে এবং ফলাফল হিসেবে কয়েক পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমেছে। এই পদ্ধতিতে ওজন কমানোকে বলে “চিজ মেটাবলিজম।”

পনির

পুষ্টিমানের পরে এখন চলুন জেনে নেই পনির ব্যবহারের পদ্ধতিগুলো -

· অনেকেই পনির কিনে তা ফ্রিজে না রাখা পর্যন্ত শান্তি পান না। যদিও বাইরে তা বেশ কয়েক সপ্তাহ ভালো থাকে। তবে আশা করা হয় ফ্রিজে রাখলে তা বাইরের তুলনায় বেশিদিন ভালো থাকবে।

· পনির কেনার সময় তা প্লাস্টিক র‌্যাপ দিয়ে মোড়া থাকলেও এভাবে রাখা উচিত নয়। অমসৃণ কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে সংরক্ষণ করাই উত্তম। কারণ আবদ্ধ করে রাখলে পনিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

· পনির ফ্রিজে রাখলেও তা খাওয়ার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে নেওয়া উচিত। অন্যথায় তার সঠিক স্বাদ পাওয়া যায় না।

· পনিরের গায়ে সামান্য ছত্রাক জন্মালেই তা যে বাতিল করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। সাধারণ পনিরের ক্ষেত্রে ছত্রাক জন্মানো অংশটি বাদ দিলেই চলে।

· স্বাস্থ্যগত কারণে দুধ খাওয়া নিষেধ থাকলেও সাধারণত পনির খাওয়া যায়। তবে চেষ্টা করবেন যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা কম লবন দেওয়া বা লবন ছাড়া পনির খাবেন।

লেখক: পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্যকর্মী।

/এফএএন/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ