behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রস্তুত 'স্টুডিও চিজকেক'

শেরিফ আল সায়ার১৭:৫৬, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬

হাতে যখন ডিএসএলআর ক্যামেরা ঠিক তখনই কি আপনি ফটোগ্রাফার হয়ে গেলেন? না, বিষয়টা তো মোটেও তেমন হওয়ার কথা ছিল না। ফটোগ্রাফার হতে হলে প্রথমে প্রয়োজন নেশা তারপর কাজ শেখার আগ্রহ। ওই আগ্রহটাই এনে দেবে নতুন কিছু করার প্রেরণা।

তাই মির্জা রাজন নামে এক তরুণের গল্পই করা যেতে পারে। তার ‘স্টুডিও চিজকেক’ এখন ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে এগিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত গতিতে। শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশ থেকেই ছবি তোলার আমন্ত্রণ পাচ্ছেন।

ছবি তোলার প্রতি আগ্রহটা কীভাবে এলো? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, আগ্রহ ছিল ছবি তোলার প্রতি। ছবিতো মানুষের স্মৃতি ধরে রাখে। তবে পকেটে টাকা ছিল না ক্যামেরা কেনার। আর এজন্যই তখন বড় ভাইদের কাছ থেকে ক্যামেরা ধার করে ছবি তোলা শুরু করি।

 

এই ধার করা ক্যামেরা দিয়ে বিয়ের ছবি তুলেই রাজন ক্যামেরা কেনার টাকা তুলে ফেলে। এরপর মনের আনন্দে ছবি তোলা শুরু।

কিন্তু সময় যত যেতে থাকে ততই বিপত্তি হয় কাজ পেতে। সবাই নাকি প্রফেশনাল হিসেবে বিবেচনা করতে চায় না। কারণ অফিস নেই, নির্দিষ্ট দল নেই। এরপর ঠিকই ভাবনায় কপাল কুচকায় রাজন। ভাবতে থাকেন কি করা যেতে পারে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু মির্জা সাব্বির হোসেনের বিয়েতে ছবি তোলার আমন্ত্রণ পান।

বিয়ের আসনে বন্ধুর ছবি তোলা দেখে সাব্বিরও যেন অনুপ্রাণিত হয়। সাব্বির আগ্রহ প্রকাশ করে ছবি তোলার প্রতি। তবে এতো কি সহজ? কাজটা তো শিখতে হবে। বন্ধু রাজনের সঙ্গে থেকে ছবি তোলার প্রাথমিক কাজটা শিখেই ফেলেন সাব্বির। তবে একটু গভীরে যাওয়া তো উচিত। আর এজন্যই ছবি তোলার ওপর প্রশিক্ষণও নেন। এরই মধ্যে রাজন সিদ্ধান্ত নেন দল গোছানোর। রাজনের বুদ্ধি শুনে এক পায়ে রাজি সাব্বির। তারপর এখন তো স্টুডিও চিজকেক ১৭ জন সদস্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

 

রাজনের উদ্যোগে ১৭ জনের দল হলেও মূল হলেন- সাব্বির, আবির মাহমুদ হক এবং নাফিস রহমান।

এই চারজনকেই দলনেতার আসনে বসে দুরন্ত গতিতে ছবির নেশায় হারিয়ে যাচ্ছে পুরো দল। ছোট্ট ছোট্ট দলে ভাগ হয়ে ছবি তুলে যাচ্ছে চিজকেক। 

চিজকেকের সদস্যরা

চিজকেক ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বা বিয়ের ছবিই বেশি তোলে। শুধু বিয়ের ছবি কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে সাব্বির বলেন, অন্য ইভেন্টের ছবি আমরা তুলি কিন্তু ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে আমাদের আগ্রহটা একটু বেশি কারণ মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিকে আমরা ধরে রাখতে পারছি। আমার তোলা ছবি ৫০ বছর ওই দম্পতি রেখে দেবে। এটা ভাবতেই তো ভালো লাগে।

এখন আসি নেশা কি পেশা হয়? রাজন তো বলেই বসলো, অবশ্যই হয়। নেশা যদি পেশা হয় তবেই জীবনের সব আনন্দ। অন্যদিকে সাব্বির এখন ব্যাংকে চাকরি করেন। প্রশ্ন ছিল, দুই দিক কি ব্যালেন্স করা যায়? তিনি বললেন, যদি শ্রম থাকে আগ্রহ থাকে তবে সব সম্ভব। আমার তো কোনও সমস্যা হয়নি।

স্টুডিও চিজকেক

সাব্বির সাফ জানিয়ে দিলেন, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ফটোগ্রাফিকে পাকাপোক্ত পেশা করে ফেলা। চাকরি করে আর কত দিন?

বাকি দুজন আবির এবং নাফিস দুজনই এখন শিক্ষা জীবন শেষ করেননি। তারাও নেশাকে পেশা করে ফেলবেন বলেই ভাবছেন।

স্টুডিও চিজ কেকের বিশেষত্ব কি? এমন প্রশ্নে রাজন মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, আমরা ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতেই বিশেষ মনোযোগ দিতে চাই। এখন ঢাকা সহ সারা দেশ থেকে কাজের অফার পাচ্ছি। স্বপ্ন দেখছি একদিন দেশের বাইরে থেকেই ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কাজ পাবো।

স্টুডিও চিজ কেক-এর ঠিকানা: নিউ ডিওএইচএস, মহাখালি, বাড়ি নং: ২৮২/এ, লেন: ১৯/সি।

ফেসবুকে তাদের আরও কাজ সম্পর্কে জানা যাবে। ফেসবুকের লিংক: https://www.facebook.com/studiocheesecake/timeline

স্টুডিও চিজ কেক-১

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ