behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

এখানে প্রয়োজন মানেই ‘সাইকেল’

সামিউল্যাহ সম্রাট১৭:৪৫, মার্চ ১২, ২০১৬

সাইকেল-২

কনকনে শীত কিংবা কাঠফাটা রোদ অথবা বৃষ্টি। এসব  কোনও বাধাই নয়।  থেমে থাকেনা স্কুলে যাওয়া,মিস হয়না কলেজের  কোন ক্লাস। পাবলিক যান বাহনের জন্য অপেক্ষা নয়,নেই ‘পাছে লোকে কিছু বলে’র প্রতি তোয়াক্কা। ছেলেদের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও  জেলার মেয়েরা বাইসাইকেলে করেই নিজেদের প্রয়োজন সেরে নিচ্ছে। 

গাঁয়ের একেবারে প্রান্তিক অসচ্ছল পরিবারের মেয়েটিও একটি পুরনো সাইকেলে করে স্কুল,কলেজ,  এমনকি কখনও কখনও বাজার সদাই করে ঘরে ফিরছে। পেছনে ছোট ভাই বা বোনটিকে চড়িয়ে অনায়াসে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি থেকেও বেড়িয়ে আসে। 

লাহিড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর  ছাত্রী আঁখি আক্তার। সে  চতুর্থ শ্রেণীতে থাকার সময়েই বাই-সাইকেল চালানো শিখে ফেলে। তখন অবশ্য নিজের সাইকেল ছিলনা। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হবার সময় বাবা তাকে একটি পুরনো সাইকেল কিনে দেন । গত পাঁচ বছর সে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া আসা মিলিয়ে  প্রায় সাত কিলোমিটার পথ সাইকেলে করেই পাড়ি দিয়ে আসছে।  গ্রামে থেকে তো ভ্যান গাড়ি স্কুল পর্যন্ত যায় তাহলে কেন এভাবে পরিশ্রম করে বাইসাইকেল চালায় একথা জিজ্ঞেস করতেই তার চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস ঝলকে উঠল। তার ভাষায় “ভ্যান গাড়ি ৪/৫ জন প্যাসেঞ্জার ছাড়া যেতে চায়না। প্যাসেঞ্জারের জন্য অপেক্ষা করলে তো ক্লাস মিস হয়ে যাবে । বৃষ্টির দিনে ভ্যান পাওয়া যায়না। শীতের সকালেও একই অবস্থা। তাছাড়া প্রতিদিন ভ্যান ভাড়া হিসেবে ৩০/৪০ টাকা খরচ হয়ে যায়। তারচেয়ে একটা সাইকেল থাকলে কারও উপর নির্ভর করতে হয়না । সব কাজ সময় মতো করতে পারি। টাকাও বাঁচে”।

সাইকেল-৪

আঁখির মতো  এরকম আরও অনেকের  একই বক্তব্য। লাহিড়ী ডিগ্রি কলেজের সাবেক ছাত্রী  তাজমিন আক্তার চুমকি জানালেন, তিনি  বাড়ি থেকে কলেজে নিয়মিত সাইকেলেই যাতায়াত করতেন।  ডিগ্রি পাশও করেছেন। গ্রামের রক্ষণশীল পরিবেশে এভাবে  বাইরে  সাইকেল চালাতে গিয়ে কোন অসুবিধা হয় কিনা জানতে চাইলে বললেন, “প্রথম প্রথম  খুব সঙ্কোচ লাগত। আমার কাছে মানুষজন অবশ্য খুব একটা অসুবিধার কারণ ছিলনা। প্রয়োজনটাই যেখানে মুখ্য সেখানে  অন্য কারও কথা শোনার সময় কোথায় । তাছাড়া মেয়েরা যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ চালাচ্ছেন সেখানে এটা তো কোনও ব্যাপারই না”।

সাইকেল-৭

এই অঞ্চলের অনেক অভিভাবকও মেয়েদের বাইসাইকেলে করে যাতায়াতকে স্বনির্ভরতার  প্রতিচ্ছবি হিসেবেই মনে করেন।

গাঁয়ের লোকজনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মেয়েদের চলাচলের প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে দিয়েছে বলেই এখানকার মেয়েরা  শিক্ষালাভ করতে পারছে। উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে পারছে। কোনও প্রকার ভেদাভেদের বালাই না রেখে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও নিজেদের অবস্থান করে নিতে চেষ্টা করছে।

ছবি: লেখক। 

/এফএএন/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ