behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

কেকের কারিগর ‘সুগারক্যাসল’

লাইফস্টাইল রিপোর্ট১৭:২০, মার্চ ২৩, ২০১৬

সুগার ক্যাসল কেক

কেক! এইতো কিছুদিন আগে আমরা শুধু জন্মদিনে কেক কাটা দেখতাম। এখন প্রায় প্রতি আয়োজনেই একটা কেক থাকে। প্রেমের প্রস্তাব, বিয়ে গায়ে হলুদ, গৃহপ্রবেশ, পদোন্নতিসহ নানা আয়োজনে কেক থাকে। সেই কেকের থাকে নানা থিম। কেক নিয়ে যে কত কি হচ্ছে সেটি না শুনলে জানতেই পারবেন না। আজকে পড়ুন সুগারক্যাসলের গল্প।শাওন আখতার নামে একজন হুট করেই শুরু করেছিলেন কেক বানানো। তারপর তার থিমেটিক কেক রীতিমতো ইতিহাস। সম্প্রতি কেক বানানোর ওপর প্রশিক্ষণের আয়োজনও করেছেন শাওন। কেক নিয়েই তার দিনকাল চলছে।

তিনি জানালেন, কেক বানাবার কোনরকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই তার। পুরোটাই প্যাশন থেকে শুরু। দেশে যেহেতু সুগারক্র্যাফটিং এর কোনও ইন্সটিটিউট নেই, অন্তত আমার শুরুর সময়ে ছিলনা, তাই ইচ্ছে থাকলেও শেখা সম্ভব হয়নি।   কিন্তু তিনি শেখাতে চান নিজে যতটুকু জানেন।

তার প্রতিষ্ঠান থেকে আমড়া, শিউলিফুল, বকুল ফুল, হাতে লেখা চিঠি কী না তৈরি হয়েছে।এমনসব ডিজাইনের কেক কি করে মাথায় আসে জিজ্ঞাসা করলে বলেন,  ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রথমত কাস্টমারের পছন্দ প্রাধান্য দেন তিনি। তারা যেভাবে চান সেভাবে করে দেয়ার চেষ্টা করি। কিছু ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমত কাজ করার সুযোগ থাকলে সেখানে নিজের পছন্দমত যেটা যথাযথ মনে হয়, সেরকম করে  কাজ করি।

সব কেক আর্টিস্ট এরই কিছু কেক লিস্ট থাকে যেগুলো নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা করে। সেরকম কিছু কাজ করার স্কোপ পেলে সেটাও করে ফেলেন বলে জানালেন শাওন।

আর থিম গুলো কিভাবে এত নজর কাড়া হয়, তা নিয়ে শাওন বলেন, ‘আমার সবসময়েই দেশি থিম নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। এজন্যে রেগুলার কাজের পাশাপাশি দেশি থিমের ওপর একটা সিরিজ কাজ করছি। এই সিরিজেই শিউলি, বকুল, আমড়া, সোনাঝুরি এসব মৌলিক কাজ এসেছে। এই কাজগুলো যেহেতু পুরোপুরি এক্সপেরিমেন্টাল, এগুলোর কোথাও কোন টিউটোরিয়াল বা ইউজফুল টুলস কিছুই নেই, ফলে কাজগুলো খুব কঠিন আর চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। তারপরও এগুলোর ওপর কাজ করছি। সামনে আরও কিছু ডিজাইন আনতে পারব আশা করি’।

সুগার ক্যাসল-২

শাওন আরও জানান, কাস্টমাইজড কেক প্রত্যেকটাই একেকটা পরিপূর্ণ প্রজেক্ট, আর আমি যেহেতু এখনও শিখছি, তাই আমার জন্য প্রত্যেকটাই চ্যালেঞ্জিং। প্রায় কম্পিউটার গেমের মত একটার পর একটা চ্যালেঞ্জিং লেভেল পার করার মত। এজন্যে যখনি কোনও কাজ শেষ করার পর কাস্টমারের কাছ থেকে একটা পজিটিভ রিভিউ পাই, প্রত্যেকবারই আমি একইরকম করে শিশুর মত আনন্দিত হয়ে উঠি।

কেক নিয়ে শাওন আর সুগারক্যাসলের যাত্রা গতবছর ফেব্রুয়ারিতে। ব্যবসা করার বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র আপনজনদের উৎসাহে আর নিজের শখে এই কাজ শুরু করা। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এক বছর পার হয়েছে। আরও সামনে যাবার ইচ্ছেটা অটুট আছে এখনো।

সুগারক্যাসল

বড় পরিকল্পনাও আছে, তবে সেটা সময় নিয়ে। হুটহাট যেমন খুশি একটা বিজনেস নামিয়ে ফেলার ইচ্ছে নেই। কোয়ালিটির সঙ্গে আপোষ করবেন না কোনও অবস্থাতেই। এটাই শাওনের প্রতিজ্ঞা।

কেকের দামের বিষয়টি শাওন ঠিক করেন কাস্টোমাইজেশনের ধরনের ওপর। অনেকে কেকেই অনেক বেশি কাজ করতে হয়।দোকানের মতো পার কেজি বা পাউন্ড হিসেবে ফ্ল্যাট রেট দেওয়া সম্ভ হয়না। একেকটা কাজ করতে যেরকম খরচ বা পরিশ্রম সময় ইত্যাদি যায় সে হিসেবে মূল্য নির্ধারিত হয়।

একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছেন শাওন ।ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি  আন্তর্জাতিক মানের সুগারক্র্যাফটিং স্কুল তৈরির পরিকল্পনা আছে। এখানে কেক আর্টিস্টদের যে তিক্ত অভিজ্ঞতার এবং হতাশার মধ্যে দিয়ে কাজ শিখতে হয় সেই অবস্থাটুকু বদলাতে চান তিনি। কেক নিয়েই থাকতে চান প্রতিটা আয়োজনে।

সুগার ক্যাসল-৪

সুগার ক্যাসল.

বকুল ফুল

সুগার ক্যাসল-৫

/এফএএন/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ