শহীদ কাদরীর স্মরণসভায় নীরা কাদরীর বক্তব্য || পর্ব-১

Send
.
প্রকাশিত : ২৩:০৬, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৮, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬

গত বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে কবি শহীদ কাদরীর স্ত্রী নীরা কাদরী দীর্ঘ বক্তব্যে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তার পূর্ণ বিবরণ এখানে প্রকাশ করা হলো। ধারণকৃত রেকর্ড থেকে শ্রুতিলিখন করেছেন মুহম্মদ আকবর।

বাম থেকে তৃতীয় নীরা কাদরী
আজকে যারা মঞ্চে আছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং আপনারা যারা অফিসে কাজ করেন, সময় নিয়ে এখানে এসেছেন সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি বলছি। আগের জন্মে এমন ভাগ্য (পূণ্য) না করলে এরকম একজন মানুষ শহীদ কাদরীকে পাওয়া যায় বলে আমার মনে হয় না। অনেক অনেক ভাগ্য (পূণ্য) করেছি বলে খুব অল্প সময়ের জন্য এ মানুষটিকে আমি দেখেছি। আমি আপনাদের কাছে বলতে চাই, সে আমাকে, কীভাবে আমাকে ঘিরে হিপনোটাইস করে রেখেছিলো; এখনো আমি হিপনোটাইস্ট। এখনো আমি শহীদকে দেখতে পাচ্ছি। প্রতিটা জায়গায় শহীদকে দেখতে পাচ্ছি। আমার কখনোই মনে হবে না যে, শহীদ কাদরী নেই। এটাই হয়তো আমাকে সামনে নিয়ে যাবে।

আমি আপনাদের ছোট্ট একটা গল্প বলে শুরু করছি। মজার একটা গল্প। আমরা বোস্টনে সারারাত আড্ডা দিতাম। ক্যামব্রিজ বলে একটা জায়গায়। সেটা একটা পার্ক। যখন হোমলেসরা ব্যাগ (স্লিপিং ব্যাগ) নিয়ে আসতো আমরা তখন জায়গা ছেড়ে দিতাম। তখন কয়টা বাজতো জানতাম না। আমরা ঘড়ি নিয়ে যেতাম না। হঠাৎ একবার সে ‘নীরা নীরা’ বলে চিৎকার করলো। আমি চমকে উঠলাম। চমকে দেবার প্রবৃত্তি তো তার সব সময় ছিলো। আর পার্কে যারা ছিলো তাদের সবাই চমকে গিয়ে আমাদের দিকে তাকালো। এরমধ্যে একটা ছেলে- তার সাথে একটি আমেরিকান মেয়ে ছিল- সেও অনেকটা দূরে গিয়ে পিছন থেকে ‘নীরা’ বলে চিৎকার করে উঠলো। আমি বললাম, শহীদ এটা কী হলো? তখন সে বললো, ‘কী জানি! আমার কখন যে কী হয় আমি তো বলতে পারবো না তোমাকে। তুমি কী ভয় পেলে?’ আমি বললাম, ‘ভয় পেলাম না কিন্তু আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আর কী।’ তখন সে বলল, ‘আবার করবো!’ আমি বললাম, ‘না। দ্যটস এনাফ!’ এই শহীদ কাদরী আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম, আমার তারুণ্য, সবকিছু। তারপরে আমার বেশি শহীদকে রাখা সম্ভব হয়নি। নিউইয়র্ক থেকে বোস্টনে যেতে হয়। তখন আমি বললাম, ‘শহীদ তোমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে।’ তো বলছে যে, ‘আমাকে বোস্টন থেকে যেতে হচ্ছে?’ আমি বললাম, ‘তুমি কী বোস্টন থেকে যেতে চাচ্ছ নাকি? নির্বাসনে তুমি যেভাবে থাকতে চাও সেটা চাইলেও সম্ভব হবে না।’ সে মন খরাপ করেই নিউইয়র্কে আসল। প্রথম দিন থেকেই বোস্টন ওর প্রিয় শহর, এখানে এমআইটি আছে,  হার্বার্ড আছে, বইয়ের দোকানগুলো খুব কাছাকাছি ছিলো, লাইব্রেরি আছে। এজন্য একটু সংশয় ছিলো। নতুন শহরে কী করে থাকবে। আমি বললাম, ‘তোমার যদি পছন্দ না হয় আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে নিয়ে আবার বোস্টনে ফিরে আসবো।’

তারপর আমরা চলে এলাম নিউইয়র্কে। আসতে আসতে শহীদকে আবিষ্কার করছি। আড্ডা, কথা বলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তখন সে আমাকে বলে, ‘দেখো, তুমি আমাকে নিয়ে যাচ্ছো নিউ ইয়র্কে- ভালো কথা, কিন্তু কথা দাও ঘরে এসে কোনো কাজ করতে পারবে না। আমাকে রেখে তোমার বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবে না।’ এমন শর্ত দিয়ে আসছিলো। তখন আমি বলি, ‘তোমাকে রেখে অন্যকোনো কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবো এটা তোমার ভাবনায় আসলো কী করে। আমার আর কাউকে লাগবে না। আমি শহীদকে নিয়ে ব্যস্ত হবো।’

আসার পর অনবরত ফোন আসছে। ছোট ছোট বাচ্চারা, তার বন্ধুরা, যারা তার সাথে আড্ডা দিতো, তার কবিতা পড়তো। সময় নাই, অসময় নাই। ডায়ালিসিস থেকে ফিরে ঘরে এসে বলে, ‘আমি ঘরে এসে ঘরের ফোনটা আর আমার ফোনটা যেন টেবিলে পাই।’ আর বলেকি, ‘দরজাটা কখনো বন্ধ করবে না। আমার বাড়ির দরজা কখনো বন্ধ থাকবে না।’ খোলা থাকতো। আনলক। আমি বললাম, ‘তোমার কী ভয় হচ্ছে।’ সে বলে, ‘না। আমার বাড়িতে চোর আসলে আগে শহীদ কাদরীকে নিতে হবে, তারপর বইগুলো নিতে হবে, এইগুলো তাকে চিন্তা করতে হবে। চোর আসলে চোরকে চিন্তা করতে হবে।’

শহীদ মাল্টিলেয়ার কেক খেতে ভীষণ পছন্দ করতো। আর চকলেট আইসক্রিম ছোট্ট বাচ্চার মতো খেতো। এজন্য ১৭/১৮ বছরের ছেলেরা তাকে ঘিরে থাকতো, আড্ডা দিতো, আর সবার হাতে থাকতো সিগারেট। শহীদ সিগেরেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলো। কিন্তু ওদের সাথে চোখে চোখে কথা হতো ওর, আমি বুঝতাম না। তো কেয়ারলেসলি ওরা সিগারেট রেখে চলে যেতো। খুব তাড়াতাড়ি, খুব স্মার্টলি এমনভাবে এগুলো উধাও হয়ে যেত। আমি কিছু বলতাম না। একদিন বালিশের কভারের ভেতরে সিগারেট পেলাম। সে বলল, ‘এখানে আমার কোনো প্রাইভেসি নাই।’ আমি বললাম, প্রাইভেসি নেই না, প্রাইভেসি তোমার আছে। কিন্তু এগুলো আসে কোথা থেকে।’ সে বলে, ‘তুমি সবকিছু আমার জানতে চাও? সব জানতে চাও এটা কিন্তু ভাল কথা না।’ শহীদ এম্বুলেন্সে চলাফেরা করতো। একবার জানলাম এম্বুলেন্সের ড্রাইভারের সাথে সে বন্ধুত্ব করে ফেললো। একবার জানলাম ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে বলতো, তুমি তোমার জন্য একটা স্যান্ডুইচ নিয়ে আসো আর আমার জন্য এক প্যাকেট সিগেরেট নিয়ে আসো। ড্রাইভারের তো পোয়া বারো। এইভাবে সে নিয়মিত ছিলো। আমার দিক থেকে কোনো বাধা ছিলো না। ডায়ালিসিসের একটা বাধা হলো ডিপ্রেশনে চলে যাওয়া। আমি কোনোভাবে চাইতাম না যে, শহীদ ডিপ্রেশনে চলে যাক। যার ৫৫-৬০ বছরের অভ্যাস সিগেরেট খাওয়ার- সেটা বন্ধ করবার কোনো কারণ নেই। এত দিনের অভ্যাস যেহেতু আছে যদি কিছু হয় তবে হবে। না হলে হবে না। কিন্তু আমি এত বড় রিস্ক নিতে পারবো না যে, আমি তাকে সিগারেট খেতে মানা করবো। যদি ডিপ্রেশনে যায় তবে তার ওইটাকে আমি হ্যান্ডেল করবো কিভাবে? একদিন আমাকে বলল, ‘আমি না ভয় পাই।’ আমি বললাম, ‘কী নিয়ে ভয় পাও, তোমার আবার ভয় লাগে নাকি?’ বলে, ‘হ্যাঁ ভয় লাগে। এই যে তুমি আমাকে সিগারেট খেতে মানা করো না। সেজন্য আমি সিগারেট খেতে পারি না।’ আমি বলতাম, ‘তাই? তবে এই নিয়ে চাপমুক্ত থেকো, যখন খেতে চাও, খেও। জানো তো আছে। যখন ইচ্ছে খেতে পারো। তাছাড়া ডাক্তার বলেছেন, একটা দু’টা সিগারেট খেলে কিছু হবে না।’ এই হলো শহীদ কাদরী।

কোনোদিন, কোনোভাবে কোনো শারীরিক কষ্টের কথা বলতে পছন্দ করতো না। শারীরিক কষ্টের কথা কাউকে বলতো না। খুব কষ্ট না হলে আমার বোঝার কোনো সাধ্য থাকতো না যে ওর কোনো অসুবিধা হচ্ছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে আমার জীবনটা ওর সাথে পার করে দিয়েছি। যেটা আরও হতো এতটাই দু’জন দু’জনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম, ও ব্যস্ত থাকতো- যেদিন ডায়ালিসিস এটা ভুলে যেতাম- ও ভুলে যেত। তখন বলতাম, ‘তাড়াতাড়ি রেডি হও।’ বলতো, ‘হ্যাঁ।’ তখন যাওয়ার পথে টুকটাক গল্প করতো, হাসতে হাসতে চলে যেতো।

শহীদের লেখালেখি অনেকদিন পর্যন্ত বন্ধ ছিলো। কিন্তু আমার ভেতরে একটা ব্যাপার হচ্ছিল- শহীদের সঙ্গে আলাপ হওয়ার বহু বহু আগে আমি ওর কবিতা পড়তাম- সব সময় মনে হতো ও যদি কিছু লিখে থাকে সেটা বাংলার মানুষের জানা দরকার। বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার। কখনো কোনো অবস্থাতেই শহীদকে রাগানোর চেষ্টা করতাম না। একদম না। হঠাৎ হঠাৎ বলতাম, ‘লেখা আসে? লিখতে ইচ্ছে করে?’ তখন বলতো, ‘নীরা এই দেশে না কিছু নাই! টিএস এলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড। কিছু নাই। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নাই। বাবা-মাকে দিনের পর দিন রাতের পর রাত নার্সিং হোমে ফেলে রাখে। একটা কল করে জানতে চায় না। বুঝতে চায় না। একেবারে নিজের কিছু ছাড়া এদেশে কিছু নাই নীরা। এদেশে লেখা আসবে কী করে।’ বুঝতাম কী করে লিখবে। আবার হঠাৎ করে দেখতাম সে একটা ঘোরের মধ্যে চলে যেতো। হঠাৎ করে আমাকে বলতো, ‘আজকে আমাকে টেবিলে নিয়ে যাবে। চেয়ারটা দাও।’ ওইদিন, মজার ব্যাপার যেটা হতো, আমি যা যা চাইতাম, সেদিন সব আদায় করে নিতে পারতাম। ঘোর এত বেশি কাজ করতো, তখন আর কিছু মাথায় থাকতো না। তখন আমি ওকে বসিয়ে আমাদের সাথে একটা মেয়ে থাকতো মেয়েটাকে বলতাম ফোনটোন বন্ধ করে রাখো, একটুও শব্দ করবে না। শহীদ না চাইলে চা দিবে না। আমি বাইরে চলে যেতাম। আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঘরে আসতাম না যতক্ষণ না সে আমাকে খুঁজতো। হুট করে বলতো, ‘কই গো তুমি? তুমি কই?’ আমি বলতাম, ‘কেনো?’ বলতো, ‘তোমাকে তো দেখছি না কোথাও।’ আমি বলতাম, ‘এই আসছি আমি।’ আমি কখনো বাইরে ঘুরে এসে আমাদের বিল্ডিংয়ের নিচে অপেক্ষা করতাম। নিচে দাঁড়িয়ে থাকতাম। যেন ডাকলে আমি চলে আসতে পারি। আসার পরে প্রথম দেখতাম তার লেখায় কোনো কাটাকুটি নাই। আমি বলতাম, ‘লেখা এটাই যাবে? কোনো কাটাকুটি নাই যে।’ সে বলতো, ‘কাটাকুটি তো মাথায় করে নিয়েছি। কাটাকুটি কেনো করবো? যত বাদ দেওয়া দরকার সে তা মাথায় করে নিয়েছে। এত আমার সময় নাই নীরা। আমার হাত তো ব্যথা করে। বাবা, নামিয়ে দিতে পেরে বাঁচলাম।’ এরকম করতে করতে কিছু লেখা জমা হতো। হাসনাত (আবুল হাসনাত) ভাই যখন চাইবে তখন তাকে দিতে বলা হতো। সে বলতো, ‘হাসনাত চাইলেই কালি ও কলমে আমার লেখা পাঠাবো। আমার লেখা কালি ও কলমে যাবে। আর কিছু দরকার নেই।’ এভাবেই চলছিলো।

হঠাৎ করে ২০০৮ সালে লাইফ সাপোর্টে চলে গেলো। অনেকদিন পরে আসবে আসবে করে ডিসেম্বরে শহীদ বাসায়ে এলো। জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত শহীদের ঘনিষ্ট বন্ধু। হঠাৎ করে বললো, ‘নীরা শহীদের পাণ্ডুলিপি রেডি করো, শহীদের কিন্তু বই বের করতে হবে।’ শহীদ বলতো, ‘না, আমি তো এখনো রেডি না।’ আমি বলতাম, ‘না, তোমার বই বের করতে হবে।’ সে বলতো, ‘আরে বই কে পড়বে? কেউ কবিতা-টবিতা পড়ে না।’ আর আমাকে প্রায় সময় বলতো, ‘যদি গান গাইতে পারতাম তবে কবিতা কে লেখে!’ আমি বললাম, ‘শহীদ তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। জ্যোতি দা বললো প্রকাশক অলরেডি আছেন আলমগীর রহমান। তুমি শুধু পাণ্ডুলিপি রেডি করে দাও।’ আমি জ্যোতি দাকে বললাম, শহীদ নার্সিংহোম ছেড়ে কবে বাড়ি যাবে এর ঠিক-ঠিকানা নেই। তিনি বলছেন, এগুলো নিয়ে চিন্তা করো না।

এরমধ্যে একটা গল্প আছে। শহীদ বললো, ‘কোথাও প্রবেশাধিকার  কবিতাটি যদি না পাই তবে আমার চুম্বনগুলো ফিরিয়ে দাও  কবিতার বই বের হচ্ছে না। কবিতাটা তোমাকে যোগাড় করতে হবে।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তোমার কাছে নাই তবে আমাকে তো তোমাকে সাহায্য করতে হবে মনা।’ আমরা এভাবে কথা বলতাম। তখন সে বললো, ‘সাজেদ কামালকে কল কর।’ সাজেদ বোস্টনে থাকে। ঠিক আছে সাজেদকে কল দিলাম। শহীদ বলল, সাজেদকে বলো রান্না ঘরে যেতে। আমি তো অবাক! সাজেদ ভাইকে বললাম, সাজেদ ভাই আপনি একটু রান্না ঘরে যান। ও বলে কী সাজেদকে জিজ্ঞেস করো, মাইক্রোওয়েবের উপরে যে একটা ছোট্ট বুকশেল্ফ ছিলো সেটা আছে কী না- তো আমি সাজেদ ভাইকে বললাম, সাজেদ ভাই আপনার মাইক্রোওয়েবের উপরে যে একটা ছোট্ট বুকশেল্ফ ছিলো সেটা আছে কী না? বললেন, আছে। শহীদ বললো, ১৯৮৭ সালে সেখানে গিয়েছিলাম, দেখেছি সেখানে এই কবিতাটি আছে, এখন ২০০৮ । আমি সাজেদ ভাইকে বললাম, ১৯৮৭ সালে শহীদ যে বুকশেল্ফটা দেখেছিল সেটা আছে? সাজেদ ভাই বললেন, একেবারে ওরকমই আছে। শহীদ বললো, তবে ঠিক আছে। মাঝখানের রোর বাঁদিক থেকে চার নাম্বার বইটা বের করতে বলো। উনি বইটা বের করলেন। একটা সংকলন। খুব সম্ভবত খুলনা থেকে বেরিয়েছিলো। ওর ভিতরে শহীদ কাদরীর কবিতা ‘কোথাও প্রবেশাধিকার’ প্রকাশিত হয়েছিল। সাজেদ ভাই বললেন, কবিতাটি আছে। আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমার বিস্ময় হলো, ১৯৮৭ সালে বইটা দেখেছে কাউকে কিচ্ছু বলে নাই। সাজেদ ভাইকেও কিচ্ছু বলে নাই। চুপচাপ। আমার আরেকটা বিস্ময় সৃষ্টি করলো যে, সাজেদ ভাইয়ের বাড়িতে একটা জিনিসও একটুও বদল হয়নি! শহীদের অনেক ভাগ্য ওনার জিনিসগুলো উলট-পালট হয়নি। হলে ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ কবিতার বইটি আপনাদের হাতে তুলে দিতে পারতাম না, তাতো বুঝতেই পারছেন। শহীদ অনেক কষ্ট করে বাড়িতে আসলো। ছেলেপেলেরা রাতদিন পরিশ্রম করেছে। এর মাঝখানে আবার হাসপাতালে চলে গেলো। আবার লাইফসাপোর্টে চলে গেলো। হাসপাতালে থাকতে থাকতেই আলমগীর ভাই তাড়া দিচ্ছেন। মাত্র পনের দিন আছে কীভাবে বই বের করবো? এভাবেই ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ বের হলো। (চলবে)

আরো পড়ুন-

শহীদ কাদরী : স্মৃতিই যেখানে নায়ক

লাইভ

টপ