behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

কর্কটবরণের ফুল

মামুন অর রশীদ১২:১২, মার্চ ১৫, ২০১৭


রোগীর জন্যে হাঁসের মাংস আনে নাকি আবার কেউ। ডাক্তার না করেছিল। হাঁসের মাংস অসুখ বাড়াবে। যে স্যুপটা খেতে দেয়া হয়, সেটা দেখতে দারুণ, কিন্তু মনে হয় সাফ করা পুরাতন একটা ডাস্টবিনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। সিটি কর্পোরেশনের লোকেরা এই বিশ্বাসে সাফ করেনি, আগামীকাল তো আবার ভরেই যাবে। স্যুপে আমার অভক্তি। হাঁসের মাংস দেখে আমার এয়ারগানের কথা মনে হচ্ছে। এয়ারগান নিয়ে গ্রামের ছেলেদের পেছনে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম শুকনো বিল, মরা নদীর ধার, শর্ষের হলুদ মাড়িয়ে মনে আরো দূরে সবচেয়ে বোকা আর তেলতেলে পাখির বাস। পাখির জন্যে আমার এখন দারুণ মায়া। পাখিদের নির্ভাবনার জগত আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিছু পাখি সারাদিন দার্শনিকের মতো নির্লিপ্ত থাকে, বাকিরা চঞ্চল। এরা ডাল-পাতা বদলাতে বদলাতে সূর্যের ক্ষমতা বদলে দেয়। এই ডাল বদলানো পাখিদের আমার ভালো লাগে। বদলানো মানুষদেরও আমার ভালো লাগে। এরাই স্বাভাবিক। আর যারা এক সঙ্গী নিয়ে জীবন পার করে দেয়, তাদের আমার বিশ্বাস হয় না। আমি জানি তাদের অনেক গোপন রাত্রি রয়েছে। যাদের ক্যালেন্ডারে গোপন রাত্রির দাগ নেই, তারা সারস হয়ে যায়। এক কাপ চা বা একটা বোতল সামনে রেখে তারা সূর্য পার করে দেয়। আমাকে প্রথম মদ খাইয়েছিলেন আমার শিক্ষক, তবে তিনি নামাজি ছিলেন। ধবধবে সাদা শার্ট পড়তেন। দেখে মনে হতো দেবদূত।
মনে হয় দেবদূতরা দূরে নেই। গত পনের দিন এই হাসপাতালের সাদা পর্দায় ঘেরা ঘরে বসে সূর্য পার করছি। আমি জানি সূর্যকে ধরে রাখা যায় না। কেবল ক্ষুধার সময়টা আমার দ্রুত কাটে। স্যুপের বাটির সামনে সময় কাটে না। আরেকটা সময় মনে হয় ঘড়ির কাঁটাকে আটকে রেখেছে কোনো নির্বোধ জল্লাদ। অথবা সূর্যকে থামিয়ে দিয়েছে রহিম নামের ঈশ্বর। পিঠের ব্যাথায় মনে হয় মৃত্যু অনেক ভাল। আমি শরীরের সবকটা অরগানকে টের পাই। আর রক্ত যে আছে—বুঝতে পারি যখন মনে হয়, এই তরল আমাকে অযথা ঘুমাতে দেরি করাচ্ছে। আমি যে একটা গভীর অসুখ নিয়ে আছি এটা আমি জানি। না হলে অফিস আমাকে কীভাবে এক মাস ধরে ছুটি দিয়ে রাখে। ব্যাংকে আমার দায়িত্ব অনেক। বিশেষ লোন ডিভিশন পুরোটাই আমি ছাড়া অচল। প্রথম ফোনে কাজ চালিয়েছি। এখন ডাক্তারের নিষেধ। ডাক্তারাও কেমন জানি, এখনতো কলকাতা-মাদ্রাজের ডাক্তারও দুধভাত হয়ে গেছে। খালি নিষেধ আর টেস্ট। রোগ সারার কোনে লক্ষণ নেই। ঢাকার হাসপাতালগুলোও হোটেলের মতো। সুন্দর-ছিমছাম। দেয়ালে পেইন্টিংস- লাইটিং। ব্যবহারও কেমন—এসেছেন যখন থাকুন, ভালো লাগবে—এমন একটা ভাব। চেক আউটের আগে বিল দিয়ে যাবেন—এই নিয়ম। একটা নার্স আছে, আমার বড় মেয়ের বয়সী। নার্স মনে হয় দু’রকম। কর্কশ আর কোমল। সিনিয়র নার্সরা কর্কশ, রোগীর জীবনটাকে কোনোরকমে টিকিয়ে রাখার কৃতিত্বটাকে তাকে কেউ দেয় না, ঈশ্বরের বিপক্ষে সেই আসলে ইনজেকশন দিয়ে যাচ্ছে। কম বয়সী নার্সরা ভয়েই কোমল হয়ে থাকে, মনে হয় থার্মোমিটার মাপা ছাড়া কোনো কাজ নাই। একই অবস্থা নতুন ডাক্তারদেরও, রোগীরাও তাদের বিশ্বাস করে না, যত বয়স, তত আস্থা, প্রেসক্রিপশনেরও দাম তত বেশি। আমার মেয়েটারে ডাক্তারি পড়ানোর শখ ছিল। টিকল না। কত মানুষরে আমি ব্যাংকে চাকরি দেই, পড়ল ইতিহাস। অফিসে ক্যাশে একটা নতুন মেয়ে এসেছে, কী সুন্দর ইংরেজি বলে। তবে এই হাসপাতালের নার্সরাও ইংরেজি ভালো বলে। কী সুন্দর করে বলল, ‘স্যার, আপনার ডাকরোস্ট খাওয়া নিষেধ, সাজেস্টেড ডায়েটের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না।’ সাজেস্টেড ডায়েট আবার কী! পেঁপের তরকারি দিয়ে নরম ভাত, শোল মাছের ঝোল পেয়েছি গত পনের দিনে একবার, সারাক্ষণ স্যুপ আর স্যুপ। এই চাইনিজ ফর্মুলা এই দেশের শিক্ষিত গর্দভদের মাথায় ঢুকল কীভাবে? খালি স্যুপ না, ইউনানি হারবালও চাইনিজ। বুক-পিঠের ব্যথার জন্য সবজাতের ডাক্তার-কবিরাজের কাছে গিয়েছি। আমার আসলে কিছু হয়নি।
গত পরশু একটা টেস্ট দিয়েছিল ডাক্তার। আজকে রিপোর্ট দেয়ার কথা। শিমুর রিপোর্ট নিয়ে আসার কথা সকালেই। সন্ধ্যা হয়ে গেল, হাঁসের মাংসের বাটিটা আনল কে? এই যে আমি একটা গভীর অজানা অসুখে পড়েছি, পরিবারের কোনো খবর নাই, মাঝে মাঝে করল্লা ভাজি নিয়া আসে। তাদের ধারণা, আমি সর্দি-কাশি বাঁধিয়ে হাসপাতালের বিল বাড়াচ্ছি। আরে আমার তো অ্যালিকোর ইন্সুরেন্স আছে, আলাদা করে হেলথও আছে। আমি মরলে কারো কিছুই হবে না, ফিক্সড ডিপোজিট, নমিনি সব ঠিক আছে। যত চিন্তা ছোটমেয়েটারে নিয়ে। শিমুতো দাঁড়িয়ে গেছে। অনার্স শেষ করে ফেলছে। মাস্টার্সের ক্লাশ নাকি শুরু হইছে, মাস্টার্সে পড়লে কি হবে, ঘুরে একটা গর্দভের সাথে। হাসপাতাল থেকে ফিরে গিয়েই বিয়ে দিতে হবে, আমার অফিসেও আজকাল সব গাধা অফিসার জয়েন করতেছে, ইংরেজি ভালো তো, টাই বাঁধতে পারে না, টাই বাঁধতে পারে তো, এক্সেল জানে না। মেয়ে দুটার জন্যে সুপাত্র যে কোথায় পাই? না হলে, কোনো গর্দভেরা মাথা খেয়ে দেবে।
জীবনে কত মানুষের উপকার করলাম, কত মানুষেরে লোনের ব্যবস্থা করে দিলাম, কত ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলাম। আমার জন্যে কেউ ভাবছে না। সবাই ভাবছে আমি অফিস থেকে রিলাক্স হতে হাসপাতালে বসে আছি। খালি শিমুর মা আমাকে ঠিক চিনতে পেরেছে। পঁচিশ বছর সংসার করতেছি কোনোদিনও অবিশ্বাস করল না। যা বললাম তাই বিশ্বাস করত। শাড়ির দাম অত, আজ রফিক সাহেবের বাসায় দাওয়াত ছিল, খুলনায় আমাদের নতুন ব্রাঞ্চ খুলবে—খুলনা যেতে হবে, পকেটে টাকা নেই—কাল ব্যাংক থেকে তুলে গরুর মাংস কিনব। কোনো কিছুতেই অবিশ্বাস নেই। কিন্তু এই বয়সে এসে, আমাকে বড় একটা অসুখের ভান করতে হচ্ছে। আমি আসলে কাউকে বোঝাতে পারছি না, আমার বুক চিরে পিঠ দিয়ে বের হওয়া ব্যথাটা কত কষ্টের, ব্যথাটা আবার নড়ে, এক জায়গায় না। অ্যাপোলোর ইন্ডিয়ান ডাক্তারতো বললো, কিছুই না, গ্যাস্ট্রিক। ফুসফুসে পানি হওয়ার যে সম্ভাবনা আছে, সেটা অ্যান্টিবায়োটিকেই সেরে যাবে।
কেবল শিমু আর তার গর্ভদ বন্ধুটাই আমাকে সিরিয়াসলি নিল। ছেলেটা গাঁজা খায় কিনা জিজ্ঞেস করব ভাবছি। এমন ভাঙা একটা চশমা পড়ে, আমার মায়াই লাগে, শিমুকে বোঝাতে পারিনি এখনও যে, সম্পর্কটা বন্ধুত্ব পর্যন্তই রেখো। যদি ভালো একটা সাবজেক্টে পড়তো তাহলে ভেবে দেখতাম, আবার বাড়ি উত্তরবঙ্গে না। উত্তরবঙ্গের মানুষ ছাড়া কাউকে আমার বিশ্বাস হয় না। তবে এই ছেলেটার ওপর আস্থা রাখা যায়, কেমন নিরলস আমার জন্যে ওষুধপাতির দোকানে দৌঁড়াদৌঁড়ি করছে। ছেলের অভাব আমি চিরকালই করছি। যদিও শিমু নিজেই ছেলের অভাব অনুভূত হতে দেয়নি, শিমুকে আমি ছেলেই ভাবি, এ নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই। মেয়ে হয়েও কেমন ম্যানেজারিয়াল ক্ষমতা রাখে। মেয়েটা আমার ভালো থাকুক।
হাসপাতালে একলা থাকলে বোধ হয়, রুগীরা একটু অন্যরকম হয়ে যায়, পাগলা পাগলা, মনে হয় আমার বড় ধরনের কোনো অসুখ নেই, তাই নানা চিন্তা মাথায় এসে বাসা বেঁধেছে। অসুখ বেশি হলে ভাববার সময় কই। একটু আগে শিমু দেখলাম চোখ লাল করে রেখেছে। রিপোর্টে কি কোনো খারাপ এসেছে? আমাকে কিছু বলেনি। সমস্যা নেই। সিঙ্গাপুর যাওয়ার মতো যথেষ্ট টাকা রাখা আছে। হাঁসের মাংস দিয়ে ছিটরুটি নিয়ে এসেছে। শিমুর নানাবাড়ির খাবার এটা। আমি যখন নতুন জামাই তখন সকালে এ দিয়ে আপ্যায়ন করতো। আমার খুব প্রিয়। আর হাঁসের মাংস পৃথিবীর সেরা খাবার। কেবল অভিজাত জমিদাররাই এর স্বাদ জানে। কিন্তু আমিতো জমিদার নই। এই দুনিয়ায় জমিদার কী আর ফকির কী—সবাই মরবে। এখানে একটা টিভি থাকলে ভালো হতো, এমন আবোলতাবোল ভাবতাম না। নিজেকে ভুলে থাকতে পারতাম। ব্যথাটা যখন বুকি চিরে পিঠে গিয়ে লাগে তখন মনে হয় মরে যাই। দ্রুত সুস্থ হওয়ার দরকার। ব্যাংকে অনেকগুলো ফাইল আটকে আছে। আমার ক্লায়েন্টরা ফোন দেয়, শুভ কামনা জানায়। আমি জানি এই শুভ কামনার মানে, স্যার, তাড়াতাড়ি হাসপাতাল ছেড়ে ফাইলগুলো সই করে দিয়ে যান, আমরা বেঁচে যাই, আপনিও বেঁচে যান। মানুষ আসলে বর্বর, শার্ট-প্যান্টের ভিতর বর্বরতা লুকিয়ে রাখছে। আমি কেমন সব দেখতে পাই। মনে হয়, ছোটবেলার আইসক্রিমঅলার মতো একটা পেশা বেছে লই। গ্রামে গ্রামে ঘুরব, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমার পিছে ঘুরবে। আমি হ্যামিলনের বাঁশিঅলার মতো তাদের নিয়া আকাশটা যেখান গিয়া নেমে গেছে সেখানে লুকিয়ে পড়ব। ওখানে কোনো যন্ত্রণা নাই, অসুখ নাই, হাসপাতাল নাই।
আমাদের আরো একটা জগত আছে, জেগে ওঠে। জেগে ওঠে একলা থাকলে। ওটা কি ফেরেশতাদের দেশ? ওখানে যেতে এত ভয় কেন? আমি জানি আমার যে ব্যথা, এই ব্যথা আমাকে সে দেশে নিয়ে যাবে। ওখানে সব পায়রা খেলা করে। সব পায়রার রং সাদা। ওখানের প্রাচীন নদীরা বয়ে যাচ্ছে। সব নদীর জল সাদা। ওখানে সব দোলনচাঁপা ফোটে। সব দোলনচাঁপার রং সাদা।
দুই.
হলদে সোনালু ফুলে ভরা ঝোপের নিচে মায়ের মাথার উঁকুন বাছার ফাঁকে সিগন্যাল পড়লে ছোটমেয়েরা বেরিয়ে পড়ে, তাদের একহাতে দোলনচাঁপা, একহাতে হামাগুড়ির বয়স পেরোনো ভাইয়ের আঙুল। ফুলবেচায় চোখ থেকে এত করুণা ঝরে পড়ে যে, এসময় ভিক্ষা ও বেসাতির তফাত করা কঠিন, তাই গাড়িতে বসে ভেবে দরদাম করে ফুল কিনতে গেলে সিগন্যাল ছেড়ে দিতে পারে, কেনা হবে না, বেচাও না। ফলে চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে মলিনমুখে বের হওয়া প্রেমিকারাই দোলনচাঁপা বিকানোর প্রধান উপলক্ষ। শিমুর এক মনখারাপের দিনে এখান থেকেই আমি ফুলকিনে দিয়েছিলাম, শিমু সত্যিই ভুলে গিয়েছিল দুঃখের দিনলিপি। কিন্তু আজকের দিনটা শিমু ভুলবে না কোনোদিন। বাবার লাশের অ্যাম্বুলেন্সে বসে আছে দেড় ঘণ্টা ধরে একই জায়গায়। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে অফিসের গাড়ির কাচের ভেতর থেকে আমি মানুষের মলিন ও মুখরিত মুখ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হলেও রোকেয়া সরনির ভাঙা বিমানটির নিচে দাঁড়ানো ট্রাফিকের কোনো ক্লান্তি নেই, ভিআইপি আসবে তাই সবাই চুপ, কোথাও কোনো অস্থিরতা নেই, সবার প্রতিবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে গ্যাছে, অনন্ত প্রতীক্ষায় অভ্যস্ত সবাই, কেবল মিরপুরগামী একটা লোকাল বাস থেকে একটা শিশু অনাগরিকসুলভ আচরণে কেঁদে উঠছে কিছুক্ষণ পরপর; বাকিরা নেটওয়ার্ক জ্যামারসহ পাজারো দেখতে অপেক্ষমাণ। শিশুটির চেয়ে বেশি চিৎকার করে উঠেছে শিমুদের অ্যাম্বুলেন্সটি। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে শিমুর কাকার মাথায় ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধ করা হাসপাতালের বিলের হিসাব, তবে চিন্তার কিছু নেই, বড়ভাইয়ের শেষচিকিৎসায় বকেয়া পরিশোধের ফলে সম্পত্তি ভাগাভাগিতে সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্তত উত্তরায় একটা ফ্লাটতো পাওয়া যাবেই। ক্যামোথেরাপি সময়মতো দিলে হয়তো জীবন আরো দীর্ঘ হতো, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে শিমু সম্ভবত বাবার দেহের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছে, কিন্তু ফোঁপানোর আওয়াজে ট্রাফিক সিগন্যাল বদলাবে না, এই ভেবেই হয়তো অ্যাম্বুলেন্সটা চিৎকার করে যাচ্ছে।
জানাজার বেশি দেরি নেই, বাদ আসর জানাজা। উত্তরা পৌঁছুতে হবে চারটার মধ্যে। জোহরের পর মসজিদে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল কিন্তু সেকশন দশের বাসিন্দা ব্যাংকার মতিন সাহেবকে কজন চিনতে পেরেছেন। আমি হয়তো হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সের পেছন পেছন যাচ্ছি অফিসে বলে-কয়ে গাড়ি নিয়ে, কজন আসবেন বসকে ম্যানেজ করে—লোকজন হবে তো জানাযায়? মানুষ কোনো দিনই শুরু করে না জানাজা পড়ার প্রত্যাশায়। ইটিং-আউট, মুভি-টাইমের শিডিউলে কখনো মৃত্যুকে জায়গা দেয়না। আঙ্কেলের মৃত্যু হয়তো প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু আমিও ভেবেছিলাম, সুস্থ হয়ে গেছেন। ডাক্তার গত পরশু সেরকমই বলেছিলেন। সুস্থ হয়ে যাবেন ভেবেই শাহবাগ থেকে একতোড়া ফুল কিনেছিলাম। ফুল শিমুর প্রিয়। শিমু ফুল দিয়েছি অনেক কিন্তু ভালোবাসাবাসিতে যেমন করে দেয়, তেমন করে নয় কখনোই। ফেসবুকে তাই এখনো আমাদের সম্পর্ক কম্প্লিকেটেড, আধা বন্ধু, আধা প্রেমিক। আমি সত্যি ক্রমাগত বন্ধুত্ব আর প্রেমিকের মাঝের দেয়ালটি ধরার চেষ্টা করেছি, পারিনি কখনোই। আঙ্কেলের মৃত্যুর ফলে শিমুর প্রতি আমার কোনো দায় থাকল না, তার এই বিপর্যয়—জীবন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত দেয়, আমার বোধহয় তাকেই অভিবাদন জানানো উচিত।
চারটার আগেই মসজিদে পৌঁছে দেখি পরিচিত মুখের তেমন কেউ নেই। অ্যাম্বুলেন্স থেকে লাশ নামানোর সময় আধাশুকনো কিছু ফুলের তোড়া, ঘড়ি, ওষুধ আর হাসপাতালে লেখা ডায়েরিটি নিয়ে আমি শিমুর স্থির-ম্লান মুখ মনে করার চেষ্টা করছি। মেয়েটার বয়স হুট করে বেড়ে গেছে আমার চেয়ে। জানাজা নিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার আর আমি ছাড়া কারো আগ্রহ চোখে পড়ছে না। নিয়মিত প্রার্থনাসভায় যোগ দিতে আসা মানুষেরা কিছু বাড়তি পুণ্যের আশায় অ্যাটেন্ড করে যাবে। শিমুর বাবার অফিসের সহকর্মিদের বহন করা গাড়িটি এখনও এসে পৌঁছায়নি। জানাজার লোক বাড়াতে প্রার্থনা করে যাচ্ছি।


 

 অলঙ্করণ ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ