কবির হৃদয় সে একটা মূল্য পেল : নুসরাত নুসিন

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : অনন্য মুশফিক
প্রকাশিত : ১৯:০০, নভেম্বর ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০০, নভেম্বর ১৬, ২০১৭

নুসরাত নুসিন এ বছর জেমকন তরুণ কবিতা পুরস্কার পেয়েছেন। তার জন্ম ২১ নভেম্বর, ১৯৯০ সালে। জন্মস্থান : পাবর্তীপুর, দিনাজপুর। বসবাস : রাজশাহী। লেখাপড়া : অনার্স ইকোনোমিক্স, রাজশাহী কলেজ।

 

প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই। জেমকন তরুণ কবিতা পুরস্কার পাবার সংবাদ শুনে কেমন লেগেছে?

ধন্যবাদ। এটা অবশ্যই একটা ভালো অভিজ্ঞতা। এটাকে ফেস করতে পেরে ভালো লাগছে। প্রত্যেক অভিজ্ঞতারই একটা মুহূর্তকালীন উদ্বেলতা থাকে, একটা বিশেষত্ব থাকে- সেই আবেগটা ভেতরে টের পাচ্ছি।

 

পুরস্কার পেয়ে কী বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে?

আমার অভিজ্ঞতা বলে, কবিতা লিখতে বসে কবি তার হৃদয়কে মূল্য দিয়ে ফেলেন। তারপর যখন কিছু একটা লেখা হয় তখন সে কবিতার সঙ্গে কেউ কেউ মিলিত হন। এরপরে কবির একটা মূল্যপ্রাপ্তি ঘটে। এ পুরস্কারটিকেও সেরকম মনে করছি। এই যে কবির হৃদয়, সে একটা মূল্য পেল।

 

‘দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস’ লিখতে শুরু করেছিলেন কবে?

দীর্ঘ স্বরের অনুপ্রাস- এই পাণ্ডুলিপিতে যে কয়টি কবিতা আছে তার রচনাকাল ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। আমি লিখতে শুরু করি দ্বিতীয় দশকের শুরুর দিকে।

 

আপনার কবিতায় বিষয় ও আঙ্গিকের দিকে নতুনত্ব আছে। এই বোধ ও নির্মাণ সম্পর্কে জানতে চাই।

কবিতা লিখতে বসে আমি হৃদয় ও অভিজ্ঞতাকে একটা চরম মূল্য দিয়ে থাকি। এছাড়া পড়াশোনাটা একধরণের ব্যাপ্তি যোগ করে। এ সমস্তই কবিতার নতুন বোধ নির্মাণে প্রভাব ফেলে হয়ত।

 

আপনি কীভাবে লেখেন? কখন লেখেন?

কোনো আবেগকে তৎক্ষণাৎ কবিতায় রূপ দিতে পারি না। অনুভূতির তরঙ্গকে কিছুটা ফেনায়িত ও ঘন করবার চেষ্টা থাকে আমার। সময় নিই। ভেতরে তিরতির অনুভূতিটাকে প্রলম্বিত করতে ভালো লাগে। এরপর সে ভালোলাগাকে প্রশস্ত করি। শেষমেষ অনুভূতিটা হয়ত স্থির বাক্যের মতো হয়- সে মুহূর্তে কবিতা লিখতে বসি।

 

কার কার কবিতা আপনার ভালো লাগে?

কবিতা পাঠের ব্যাপারে আমি সর্বভূক। এমনকি ফেসবুকের ছোট ছোট অনুভূতিও আমি মনোযোগ দিয়ে পাঠ করি- এটা একধরণের পাঠ। আবার দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমি কবিতা নিয়ে পড়াশোনা করি। তখন ক্লাসিক সাহিত্য থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনেক কবিতার বই পাঠ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তারপর দেখা যায় কিছু কবির কবিতার বিষয়, স্বর, ভাবের প্রগাঢ়তা একটা ভালো অনুভূতি দেয়।

 

আপনার কবিতা বিষয়ক ভাবনা কি?

কবিতার ব্যাপারে আমার অনুভূতি হচ্ছে, কবিতা হল সেই কোমলগান্ধার যা বাস্তবের থেকে বেশি কোমল, রূঢ়, পরিণত আর কল্পনার অধিক। মানুষের রক্তের ভেতরে যে নিমফল বেদনা তার ভেতরে একটা একান্ত অধিকারের জায়গা আছে। বিভিন্ন মাধুর্য পরিবাহী ঝোঁক আছে। এই অন্তর্রূপের স্বরূপ হলো কবিতা।

 

শুধু কবিতাই লেখেন, বা পড়েন?

কবিতার বাইরেও অন্যান্য লেখা লিখি। পড়াশোনাটাও।

 

আপনাকে জানিয়ে রাখি, এই পুরস্কারটি প্রথম (২০০০ সালে) পেয়েছিলেন সাকিরা পারভীন। এরপর এটি বন্ধ ছিলো। এবার আবার চালু হলো, আপনি পেলেন। ব্যাপারটা ভাবতে কেমন লাগছে? [আমার চন্দ্রাবতীর কথা মনে হচ্ছে।]

একটা দীর্ঘ সময় পরে এ পুরস্কার আমি পেলাম এটা জেনে ভালো লাগছে। তবে বাড়তি কোনো সংবেদন নেই। আর আপনার মুখে চন্দ্রাবতীর নামটা শুনে ভালো লাগল। এই নামের ভেতরে আদি রোমান্টিক লীলাময়তা আছে। কবি চন্দ্রাবতী আমাকে সংক্রমিত করল। হা, হা।

//জেডএস//

লাইভ

টপ