ডাচ থেকে বাংলায় কেইস নোটেবোমের কবিতা

Send
অনুবাদ : তানবীরা তালুকদার
প্রকাশিত : ১০:০০, নভেম্বর ০২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২, নভেম্বর ০২, ২০১৮

কবি পরিচিতি : কেইস নোটেবোম উনিশশো তেত্রিশ সালের একত্রিশে জুলাই নেদারল্যান্ডসের ডেনহাগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম 'কর্নেলেইস ইয়োহানেস ইয়াকোবুস মারিয়া কেইস নোটেবোম' [Cornelis Johannes Jacobus Maria Cees Nooteboom]। কেইস নোটেবোম একজন সাংবাদিক, কবি ও উপন্যাসিক। ১৯৮০ সালে তার উপন্যাস 'রিচুয়েলস' পেগাসাস পুরস্কার পেলে তিনি পুরো বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হন। ১৯৮৩ সালে আমেরিকার লুইসিয়ানা স্টেইট ইউনিভার্সিটি তার উপন্যাস প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশ করে, এরপর থেকে তার প্রায় প্রতিটি বইই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। নোটেবোম দেশে বিদেশে অসংখ্য বিখ্যাত সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্যে তার নাম সুপারিশ করা হয়।


 জোয়ারভাটা

এ তামাদি সব আমি নিজেই ভেবেছি

এই নৃত্য এই জল

গাড়ি, আইসক্রীম

 

কেবল তুমি আলাদা, তোমাকে ভাবতে পারিনি। 

একদিন স্বচ্ছ সময়ে তোমার আগমন ছিল ধ্বনি,

হয়তো যেমন আমি চেয়েছিলাম, হয়তো অন্যরকম।

লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীকে তুমি

ডিমের খোলসের মতো পেছনে ফেলে গিয়েছিলে

আর এখন!

আদি পৃথিবীর ওপরে দাঁড়িয়ে আছো,

দাঁড়িয়ে আছো।

 

শীতকালের প্রজাপতি তুমি।

 

এখন মুহূর্ত অব্দি ভাঙছে, বিরতি নিচ্ছে লাজুক

আর আমাদের খাচ্ছে

আরো নিজেকে পরিপাক করে ফেলছে মেঘ-সমান

যেন এটি সবকিছুর চেয়েও বড়।

 

আসলে কোনো কিছুর চেয়েই বড় নয়।

কাব্যগ্রন্থ : কবিতা পড়ার টেবিল

 

প্রণয়িনী হেমন্ত

ছায়াময় কুয়াশা ঘিরে আছে আজকের সন্ধ্যা

শরীর শিরশির করা মরা গাছগুলোর পেছনে চাঁদ ডুবে গেছে

এখন তো বড় রাজা এসে গেছে

একটি হেমন্ত, একটি মৃত্যু, একটি অমানবিক বিলাপন

 

শোনো, এই পৃথিবী ঘুরছে নিঃশ্বাস নিচ্ছে হারানোর বেদনা নিয়ে

বুকে নিঃশ্বাস আর বেদনা নিয়ে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখছে 

গরুগুলো যেনো আরো তাজা আরো শব্দহীন হয়ে যায়

যেমন ঝিনুকগুলো, সমুদ্রের শরীরে দ্রুত বড় হয়ে ওঠে

কিংবা জীবন্মৃত হয়ে থাকা সেই মানুষগুলো,

একই সাথে বাঁচতো, একই সাথে বলতো।

কাব্যগ্রন্থ : মৃতরা চলেছে বাড়ির খোঁজে

 

প্রলোভন

পুঁজি কখনো আমায় ভোলেনি,

ভুলিনি আমিও পুঁজিকে,

নিঃসঙ্গ আমি, নিঃসঙ্গ কবিতাটিও,

আর সব পোকায় কাটা,

শব্দরা যেখানে মানে খুঁজে পায় সেখানে দাঁড়িয়ে আছি আমি,

বই, চিঠি, বার্তা,

আর অপেক্ষা।

অপেক্ষা করেছি আমি সারাবেলা।

 

আলো ও অন্ধকারের শব্দেরা,

বদলে দিয়েছে আমাকেও—আলো ও অন্ধকারে।

কবিতারা আমাকে ছুঁয়ে চলে গেছে

আর নিজেকে চিনেছি আমি।

দেখে যাই শুধুই দেখে যাই আমি।

 

কোনো পরিত্রাণ নেই এই আসক্তির।

এস্কাদারের কবিতারা আজও তাদের কবিকে খুঁজে বেড়ায়।

কারো পথ দেখানোর অপেক্ষায় তারা ঘুরে বেড়ায় অভিজাত

শব্দের মহলে

আর প্রত্যাশার প্রলোভন তাদের নির্ভুল।

মিলিত, কবিতা, সৃষ্টি করে

এবং অলঙ্ঘনীয় আকৃতি।

 

বৃষ্টির মত

বৃষ্টির স্বভাব হলো সারাবেলা গলে যেতে চাওয়া

আর চারাগুলো মাটিকে জোরে চেপে ধরে থাকতে চায়

 

এভাবেই ভেসে আসে সমুদ্রের নরম বাতাস

সাথে কুহেলিকা তুমি বয়ে যাও আমার তীর ধরে,

তোমার বিষণ্নতা প্রতিনিয়ত আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে

ওই সেই বৃষ্টির স্বভাবমতো সারাবেলা গলে যেতে চায়।

 

এখন খুব আস্তে আস্তে তিক্ততা আসে, কিন্তু আসে, এবং

অবাক করা চাঁদের খেলার সাথে তারা শোভিত—

এটা আমার প্রতিদিনের মৃত্যু সুধা হয়ে আছে,

তুমি এবং আমি যেনো মৃত নাকি তারও বেশি অবসন্ন।  

কাব্যগ্রন্থ : উদাসীন কবিতাগুলো 

 

এমনও তো হতে পারে

এমনও তো হতে পারে

এই সকালে চাই অশ্লীল কিছু চাই কিছু নোংরামো,

 

ওই যে আঁকা গোলাপ

ইচ্ছের ম্যাগনাম ওপাস।

 

ছোটটির ইচ্ছে করে এখনও

আরো ছোট রাস্তায় বেরিয়ে পড়তে।

 

বড়টিকে সবাই কিনে নিতে চায়

অঢেল সব জিনিসের সাথে।

 

নিজেকে আটকে রাখা খুব কঠিন,

প্রজাপতি দেখলেই, বড় হয়ে যাবে আবার,

 

ফুলেরা যেভাবে মাটিকে উস্কানি দেয়,

আর পোকারা সাপকে।

 

এটাই তো ভর

থালার সমতা রক্ষা করে।

 

সেখানেই সকলের অস্ত্বিত্ব

সময়ের সাথে কেশ-বিন্যাস

ঈশ্বরের তৈরি করা যেনো এক ভঙ্গুর বিশ্ব।

 

এটাই প্রিয় বন্ধু, এটাই জীবন।

আর এই ছিলো এবং এই আছে।

//জেডএস//

লাইভ

টপ