মান্টো’র পরিচালক নন্দিতা দাস

Send
.
প্রকাশিত : ০৮:১২, নভেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৪, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী অষ্টম ঢাকা লিট ফেস্ট। এবারের ফেস্টে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মান্টো’ সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও সিনেমাটির পরিচালক নন্দিতা দাস। তাকে নিয়ে লিখেছেন সিফাত আরা বাঁধন।

১৯৪৬ সাল। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইংরেজদের সূর্য প্রায় অস্তমিত। ইন্দো-পাকিস্তানী এক উর্দূ লেখক বম্বের ঝলমলে সিনেমা জগৎ আর লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত। ব্যক্তিটির নাম সাদাত হাসান মান্টো। মান্টোর প্রগতিবাদী লেখকদের সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক। বন্ধুদের মধ্যে আছে নারীবাদী লেখকও। গল্প চলছে...সময় ১৯৪৭। ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলো। মানুষের জীবনে পরিবর্তন এলো। পরিবর্তনের স্পর্শ থেকে বাদ যায় না মান্টোর জীবনও। পরিবর্তনের সূত্র ধরে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দে লিপ্ত হয় স্বাভাবিক জীবন... এমনই এক গল্প দেখা যায় বিখ্যাত চিত্রপরিচালক নন্দিতা দাসের এ বছরে মুক্তি পাওয়া বহুল প্রশংসিত সিনেমা ‘মান্টো’-তে। 

নন্দিতা দাসের সমাজ ও রাজনীতি-সচেতনতা তার সিনেমায় স্পষ্ট। পরিচালনা বা অভিনয়ের ক্ষেত্রে খুব বাছাই করে কাজ করেন তিনি। তার অভিনীত ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ভাষার সিনেমা ‘১৯৪৭ আর্থ’, যে সিনেমায় অভিনয়ের কারণে ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিষেক অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেছিলেন এবং  ২০০৭ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত মালায়ালাম-ইংরেজি সিনেমা ‘বিফোর দ্য রেইন’ মূলত ভারতের ইংরেজ শাসন এবং এর প্রভাব-কেন্দ্রীক; যেমন ‘মান্টো’ সিনেমায় আমরা দেখি। ‘মান্টো’-তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শক্তিমান অভিনেতা নাওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি। আরো আছেন তাহির রাজ বাসিন, রাসিকা দুগাল, রাজশ্রী দেশ পান্ডে সহ অনেকেই। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নন্দিতা দাস নিজেই।

নন্দিতা দাস প্রথমত অভিনেত্রী তারপর পরিচালক। এ পর্যন্ত দশটি ভাষার চল্লিশটির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সফলতা পেয়েছেন পরিচালক হিসেবেও। পরিচালক হিসেবে ‘মান্টো’ তার তৃতীয় সিনেমা (পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার হিসেবে ২য়)।

নন্দিতা দাস পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘ফিরাক’ একই সাথে হিন্দি, উর্দু এবং গুজরাটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছিলো ২০০৮ সালে। ‘ফিল্মফেয়ার স্পেশাল এ্যাওয়ার্ড’ সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছিলো সিনেমাটি। প্রশংসিত হয়েছিলো সমালোচক মহলেও। আর ‘মান্টো’র কথা তো সবার জানা।

পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে নন্দিতা কখনো কোন কিছুকেই বাধা মনে করেননি। সিনেমায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল অফ ফার্স্ট ফিল্ম পুরস্কার’, ‘নন্দী পুরস্কার’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ কেরালা পুরস্কার’ সহ অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন। সিনেমায় অবদানের কারণে ২০০৯ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে ‘অড্রে দেস আর্টস এট দেস লেটারস’ পদক প্রদান করে। এছাড়া তিনি দুইবার কান চলচ্চিত্র উৎসবের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লিট ফেস্টের প্রথম দিন অর্থাৎ আজ বিকাল ৪.১৫ মিনিটে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলায়তনে নন্দিতা দাস নির্মিত ‘মান্টো’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হবেপ্রদর্শনী শেষে সিনেমাটির উপর আলোচনায় অংশ নেবেন নন্দিতা দাস। 

//জেডএস//

লাইভ

টপ