চার পর্বে বাংলা চলচ্চিত্রের সুবর্ণ সময়

Send
রহমান মতি
প্রকাশিত : ১০:০০, নভেম্বর ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০, নভেম্বর ২৩, ২০১৮

নব্বইয়ের দশক

নব্বই দশক দেশের গোটা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আশীর্বাদ ছিল। তারুণ্যের নবজাগরণ যেমন ছিল, প্রবীণদের অবদানও ছিল। দুটির সংমিশ্রণে এ দশকটির কথা স্মরণীয়। যারা ঐ সময়টিকে বেড়ে উঠেছেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছে তারা মন থেকে সবকিছু খুব সাধারনভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন। দেশের চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, নাটক, বিজ্ঞাপন বিনোদন মাধ্যমের সব কটি ধারাতেই মানসম্মত কাজের জোয়ার ছিল নব্বই দশকে। যেন একটা নীরব বিপ্লব বয়ে গিয়েছে বাংলা সিনেমার সেলুলয়েডে।

চলচ্চিত্রে নব্বই দশক পূর্ববর্তী আশির দশকের সাফল্যকে ধারণ করেছে পরিপূর্ণভাবে। বাণিজ্যিক ও অফট্র্যাক ছবি নির্মিত হয়েছে সমান্তরালে যদিও বাণিজ্যিক ছবির জোয়ার ছিলো এ দশকে। বাণিজ্যিক ছবির মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট ছিল। নির্মাতারা মন খুলে মানসম্মত ছবি যেমন নির্মাণ করেছেন দর্শকও তেমনি তাদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বহু ছবি ব্যবসাসফল হয়েছে, সুপারহিট হয়েছে। এ দশকে বাণিজ্যিক ছবিই ইন্ডাস্ট্রিকে টিকিয়ে রেখেছেন আর এসবের মাঝে অফট্র্যাকের সিনেমা চলেছে।

নব্বই দশকে বাণিজ্যিকের রাজত্ব ছিল সবথেকে বেশি। ঢালিউডের বেশকিছু ছবি টলিউডে রিমেক হয়েছিল, যার ফলে টলিউডের বাণিজ্যিক ছবির ধারা পরিবর্তন হয়েছিল। আমাদের বাংলাদেশের 'বাবা কেন চাকর’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘প্রেমের প্রতিদান’, ‘স্নেহের প্রতিদান’, ‘মায়ের দোয়া’, ‘ঝিনুক মালা’, ‘নয়নের আলো’, ‘মায়ের অধিকার' ছবিগুলো একই নামে টলিউডে রিমেক হয়েছিল। আরো কিছু ছবি যেমন— ‘আমাদের প্রেমের সমাধি’ টলিউডের রিমেক হয়েছিলো 'বকুল প্রিয়া' নামে। 'এই ঘর এই সংসার' রিমেক হয়েছিলো 'ঘর সংসার' নামে। এরকম হয়েছে যে, আমাদের কিছু সফল বাণিজ্যিক ছবির স্বত্ব কিনে নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এফডিসিতে বসে থেকেছেন টলিউডের প্রযোজকরা। এ গল্পগুলো সিনেমা সংশ্লিষ্ট প্রায় সবারই জানা।

টলিউডের বাণিজ্যিক ছবির ভাষা বদলে দিতে আমাদের ঢালিউডের বাণিজ্যিক ছবির অবদান আছে। আমাদের সে সময় অনেক প্রতিষ্ঠিত নায়ক ছিল আর টলিউডে প্রসেনজিৎ ছাড়া বলার মতো তেমন বলার মতো নায়ক টলিউডে ছিলো না। প্রসেনজিৎ এপারে এসে 'প্রিয়শত্রু' ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন আমাদের দিতির বিপরীতে।

পরিবার নিয়ে ছবি দেখার যে প্রচলন সত্তর দশকে বেড়ে ওঠা দর্শকরা সেই ধারাবাহিকতা নব্বই দশকেও বজায় রেখেছিলেন। সে সময় ছবি দেখে বাস্তবসম্মত কিছু শেখার প্রবণতা ছিল দর্শকের মধ্যে। ফ্যামিলি ড্রামা ছবি তাই অবধারিত ছিল দর্শক রুচির মধ্যে। নব্বই দশকের উল্লেখযোগ্য ফ্যামিলি ড্রামা সিনেমা বলতে— আজহারুল ইসলাম খানের 'মরণের পরে', কামাল আহমেদের 'গরিবের বউ', নারায়ণ ঘোষ মিতার 'সাজানো বাগান', সোহানুর রহমান সোহানের 'বিশ্বাস অবিশ্বাস’, ‘অগ্নিস্বাক্ষী', এ জে মিন্টুর 'পিতা মাতা সন্তান’, ‘বাংলার বধূ’, ‘বাপের টাকা', সাইফুল আজম কাশেমের 'স্বামীর আদেশ', রায়হান মুজিবের 'কাজের বেটি রহিমা', মতিন রহমানের 'অন্ধ বিশ্বাস, স্নেহের বাঁধন', বেলাল আহমেদের 'বন্ধন', মোতালেব হোসেনের 'হিংসা, ভালোবাসার ঘর, শাসন', কবীর আনোয়ারের 'বেয়াদব', আমজাদ হোসেনের 'গোলাপি এখন ঢাকায়’, ‘আদরের সন্তান', সৈয়দ হারুনের 'চরম আঘাত, আত্মত্যাগ', দেলোয়ার জাহান ঝন্টু-র 'চাকরানী’, ‘গরিবের সংসার’, ‘রাগ অনুরাগ', রায়হান মুজিবের 'হিংসার আগুন', নূর হোসেন বলাই’র 'শেষ খেলা', মনোয়ার খোকনের 'সংসারের সুখ দুঃখ’, ‘ঘাত-প্রতিঘাত’, ‘স্বামী কেন আসামী', মোস্তফা আনোয়ারের 'বাংলার মা', দীলিপ বিশ্বাসের 'অজান্তে', ছটকু আহমেদের 'সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মিথ্যার মৃত্যু', শিবলি সাদিকের 'বদসুরত’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘অনুতপ্ত', জাকির হোসেন রাজুর 'জীবন সংসার’, আজিজ আহমেদ বাবুলের 'স্নেহের প্রতিদান', ইফতেখার জাহানের 'নিষ্ঠুর', মালেক আফসারীর 'দুর্জয়', এম এম সরকারের 'চাওয়া থেকে পাওয়া', ইস্পাহানি আরিফ জাহানের 'লাট সাহেবের মেয়ে', রাজ্জাকের 'বাবা কেন চাকর’, ‘সন্তান যখন শত্রু', মুশফিকুর রহমান গুলজারের 'সুখের ঘরে দুখের আগুন', ‘মোখলেসুর রহমান গোলাপের 'শেষ প্রতীক্ষা', গাজী মাজহারুল আনোয়ারের 'স্নেহ’, ‘পরাধীন', মহম্মদ হান্নানের 'ভালোবাসি তোমাকে', শহীদুল ইসলাম খোকনের 'গৃহযুদ্ধ’, ‘ম্যাডাম ফুলি' ইত্যাদি ছবি বেশ আলোচিত ছিলো। পরিবারের ভেতরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্পর্কের টানাপড়েন, মান-অভিমান, বিচ্ছেদ, মিলন  প্রভৃতি বিষয়ই ছিলো এসব সিনেমার গল্পের মূলে।

এ দশকে রোমিন্টিক বা রোমান্টিক ড্রামা বিষয়ক ছবির ভক্ত অনেক দর্শকই ছিলো। ফ্যামিলি ড্রামা যেমন নির্মাণ করা হতো তেমনি রোমান্টিক ড্রামাও নির্মিত হয়েছে প্রচুর। নব্বই দশকে এ ধরনের ছবির অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি চাহিদা ছিল প্রচুর। দর্শকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নির্মিতও হত অনেক। রোম্যান্টিক ড্রামা বললে যে সিনেমাগুলোর নাম আসবে তাদের মধ্যে— সি বি জামানের 'কুসুমকলি', এহতেশামের 'চাঁদনী’, ‘চাঁদনী রাতে', শেখ নিয়ামত আলীর 'চাঁদের আলো', ফজল আহমেদ বেনজিরের 'প্রেমের প্রতিদান', নাজমুল হুদা মিন্টুর 'মৌসুমী', মোহাম্মদ হোসেনের 'আবুঝ দুটি মন', তোজাম্মেল হক বকুলের 'পাগল মন’, ‘বালিকা হলো বধূ', দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর 'প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘প্রেম', দিলীপ সোমের 'দোলা’, ‘মহামিলন’, ‘হৃদয় আমার', আওকাত হোসেনের 'আশিক প্রিয়া', জহিরুল হকের 'তুমি আমার', শিবলি সাদিকের 'অন্তরে অন্তরে’, ‘আনন্দ অশ্রু', শাহ আলম কিরণের 'রঙিন সুজন সখি', মতিন রহমানের 'আগুন জ্বলে', কাজী হায়াতের 'লাভ স্টোরি', শাহাদাত খানের 'হৃদয় থেকে হৃদয়', এ জে মিন্টুর 'প্রথম প্রেম', এম এ খালেকের 'স্বপ্নের ঠিকানা', তমিজ উদ্দিন রিজভীর 'আশা ভালোবাসা', হাফিজ উদ্দিনের 'প্রিয় তুমি', আজিজুর রহমানের 'লজ্জা', সোহানুর রহমান সোহানের 'স্বজন', রানা নাসেরের 'প্রিয়জন', মতিন রহমানের 'তোমাকে চাই, আগুন জ্বলে, বিয়ের ফুল', মনোয়ার খোকনের 'গরিবের রাণী', ইফতেখার জাহানের 'প্রেমের সমাধি', এম এম সরকারের 'চাওয়া থেকে পাওয়া', মোতালেব হোসেনের 'মিথ্যা অহংকার', রেজা হাসমতের 'প্রেম পিয়াসী', মনতাজুর রহমান আকবরের 'কুলি', শাহ আলম কিরণের 'শেষ ঠিকানা', নাসির খানের 'স্বপ্নের নায়ক', উত্তম আকাশের 'কে অপরাধী', মোখলেসুর রহমানের 'হৃদয়ের আয়না', শিল্পী চক্রবর্তীর 'রঙিন উজান ভাটি', মহম্মদ হান্নানের 'প্রাণের চেয়ে প্রিয়', হাছিবুল ইসলাম মিজানের 'প্রেমের কসম', ইস্পাহানি আরিফ জাহানের 'তুমি সুন্দর', বাদল খন্দকারের 'পৃথিবী তোমার আমার, মধুর মিলন, সাগরিকা', জাকির হোসেন রাজুর 'এ জীবন তোমার আমার', বাসু চ্যাটার্জীর 'হঠাৎ বৃষ্টি', ওয়াকিল আহমেদের 'ভুলোনা আমায়', ছটকু আহমেদের 'বুক ভরা ভালোবাসা', সোহানুর রহমান সোহানের 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত, অনন্ত ভালোবাসা', আজাদী হাসনাত ফিরোজের কাজের মেয়ে' ইত্যাদি। রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার ছবিগুলো দেশীয় ছবিকে নব্বই দশকে গর্বিত কিছু জুটিকে উপহার দিয়েছে। যেমন: ইলিয়াস কাঞ্চন-দিতি, সোহেল চৌধুরী-দিতি, নাঈম-শাবনাজ, সালমান শাহ-শাবনূর, সালমান শাহ-মৌসুমী, মৌসুমী-ওমর সানী, মৌসুমী-ইলিয়াস কাঞ্চন, রিয়াজ-শাবনূর, শাবনূর-শাকিল খান ইত্যাদি।

অ্যাকশন ছবির কথা বলতে গেলেও নব্বই দশককে অগ্রগণ্য বলতে হয়। মার্শাল আর্টভিত্তিক ছবি, যা রুবেলের মাধ্যমে আশির দশকে শুরু হয়েছিল তার পূর্ণতা আসে নব্বই দশকে। এছাড়া জসিমের প্রতিষ্ঠিত 'জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ' এবং ‘আরমান ফাইটিং গ্রুপ’ এই ধারায় বিশেষ অবদান রেখেছিল। নব্বই দশকে অ্যাকশন সিনেমায় সবথেকে বেশি অভিনয় করেছেন জসিম, মান্না ও রুবেল। অ্যাকশন ছবির নির্মাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিলেন শহীদুল ইসলাম খোকন। তার অ্যাকশনধর্মী সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, 'সন্ত্রাস’, ‘বিপ্লব’, ‘উত্থান পতন’, ‘অপহরণ’, ‘ঘাতক’, ‘সতর্ক শয়তান’, ‘কমান্ডার’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘রাক্ষস’, ‘লম্পট’, ‘চারিদিকে শত্রু’, ‘নরপিশাচ’, ‘পাগলা ঘণ্টা' ইত্যাদি। এর মধ্যে 'অপহরণ' ছবিতে অ্যাকশনের পাশাপাশি কমেডিও ছিল। খোকনের বেশিরভাগ ছবির নায়ক ছিলেন রুবেল। রুবেলের মার্শাল আর্টের ফাইটিং দেখতে দর্শকের উপচে পড়া ভিড় থাকত সিনেমাহলে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য থেকে নির্মিত ছবির মধ্যে নব্বই দশকের সেরা দুটি ছবি হলো 'আগুনের পরশমনি' ও 'হাঙর নদী গ্রেনেড।' বলা হয় এই সিনেমা দুটি মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত আদর্শ ছবি। সাহিত্যভিত্তিক অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি ছিল 'শঙ্খনীল কারাগার।' এ দশকে নির্মিত গৌতম ঘোষের 'পদ্মানদীর মাঝি'কে বলা হয় মাস্টারপিস, এছাড়া মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর সাহিত্য থেকে নির্মিত 'দীপু নাম্বার টু'কে বলা হয় নব্বই দশকের অন্যতম ক্লাসিক ছবি।

জীবনমুখী ছবির মধ্যে ভিন্নধর্মী নির্মাণে কিছু কাজ হয়েছে নব্বই দশকে। 'মরণের পরে' বাণিজ্যিক ছবির মধ্যে সেরা জীবনমুখী ছবি। শাবানা-আলমগীরের অসাধারণ অভিনয়ে সন্তান দত্তক দেয়া আর জীবনের নির্মম বাস্তবতা মেনে নেয়ার ছবি ছিলো এটি, কাঁদিয়েছিলোও দর্শককে।

মালেক আফসারী নির্মিত 'এই ঘর এই সংসার' একান্নবর্তী পরিবারের সহজ, সাধারণ, বাস্তব গল্পের ছবি। সালমান শাহর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি এটি। আখতারুজ্জামান পরিচালিত 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' সমালোচকের কাছে প্রশংসিত আরেকটি জীবনমুখী ছবি। নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় 'বাবা কেন চাকর' সিনেমায় বাবাদের শেষ বয়সের করুণ বাস্তবতার অনবদ্য উপস্থাপনা দেখা যায়। এছাড়া মোরশোদুল ইসলামের 'দুখাই' প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার অসামান্য দলিল, যেখানে রাইসুল ইসলাম আসাদের জীবনমুখী অভিনয় প্রচুর প্রশংসিত হয়েছিলো।

নব্বই দশকে কমেডি ছবিও দারুণভাবে হয়েছে। দর্শকের পছন্দের শীর্ষে থাকার মতো কাজ হয়েছে তখন। কমেডি ছবিগুলোর মধ্যে ছিল-'জিনের বাদশা’, ‘লম্পট’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘ভণ্ড’, ‘লঙ্কাকাণ্ড' ইত্যাদি। 'ভণ্ড' ছবিটি সুপার ডুপার হিট হয়েছিলো।

ফোক-ফ্যান্টাসি ঘরানার ছবিরও বেশ ভালো কাজ হয়েছে নব্বই দশকে। সবসময়ই এ ছবিগুলোর টার্গেট অডিয়েন্স ছিল। তারা এসব ছবি দেখত। বিশেষত মহিলা দর্শক খুব পছন্দ করত এ ছবিগুলো। কল্পনা আর বাস্তবের মিশ্রণে বিনোদনধর্মী এ ছবিগুলোর মধ্যে নব্বয়ের অন্যতম ছিলো—'আয়না বিবির পালা’, ‘বনের রাজা টারজান’, ‘সুপারম্যান’, ‘কাল নাগিনীর প্রেম’, ‘কান্দো ক্যানে মন’, ‘শক্তির লড়াই’, ‘বাহরাম বাদশা’, ‘গরিবের রাজা রবিনহুড’। এ ধরনের সিনেমায় নব্বই দশকের দক্ষ নির্মাতা ছিলেন ইফতেখার জাহান।

কমেডিয়ান দিলদারকে নায়ক করে 'আব্দুল্লাহ' নামে একটি ছবি নির্মিত হয়েছিলো এ দশকে। বাংলা সিনেমায় এটিকে বলা হয় ব্যতিক্রমী ঘটনা।

নব্বই দশকে নায়কের পাশাপাশি নায়িকারাও অ্যাকশনে পর্দা কাঁপিয়ে দর্শককে বিনোদিত করেছিলেন। দিতি, শাবনাজ, মৌসুমী, শাবনূর এ নায়িকারা অ্যাকশন নির্ভর সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দিতি’র 'পাপী শত্রু’, ‘প্রিয়শত্রু’, ‘লেডি ইন্সপেক্টর', দিতি ও শাবনাজের 'আজকের হাঙ্গামা', মৌসুমীর 'বাঘিনী কন্যা’, ‘বিদ্রোহী বধূ’, ‘মিস ডায়না', শাবনূরের 'মৌমাছি’, ‘জীবন সংসার' উল্লেখযোগ্য।

নব্বই দশকে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা ছিলেন সালমান শাহ। ক্ষণজন্মা এ অভিনয়শিল্পী মাত্র ২৭ টি ছবির মধ্য দিয়ে ঢালিউডে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। নব্বই দশকের শেষের দিকে অভিনয়ে আসেন রিয়াজ, শাকিল খান, ফেরদৌস ও শাকিব খান। তারা একুশ শতকে এসে নিজেদের মেলে ধরেছেন। এদের মধ্যে শাকিব খান এখন ধারাবাহিক কাজ করছেন। তবে তাদের সবারই যাত্রা শুরু হয়েছিলো ওই নব্বই দশকে। (সমাপ্ত)

//জেডএস//

লাইভ

টপ