সাক্ষাতকারে বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত করতে চাই

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০০:০১, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২৬, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে যোগদান করেছেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। হাবীবুল্লাহ সিরাজী একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বিষ্ণু দে পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। মহাপরিচালক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তিনি আগামীদিনের পরিকল্পনাসহ বাংলা একাডেমি নিয়ে নিজের কিছু স্বপ্নের কথা যেমন কথা বলেছেন, তেমনই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এখনই সবটা বলতে পারবেন না, প্রতিমাসে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি তার কাজের কথা বলবেন, থাকবে মতবিনিময়ের ব্যবস্থা।

যোগদানের পরপরই তাকে প্রশ্ন করা হয়, কেমন লাগছে এমন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে। তিনি বলেন,দায়িত্ব নেওয়ার পরের অনুভূতি মিশ্র। মিশ্র এই কারণে যে, এর আগে যারা মহাপরিচালক হিসেবে এসেছিলেন তারা মহাপরিচালক হওয়ার আগে কেউ অধ্যাপক ছিলেন, কেউ সাংবাদিক ছিলেন কেউ রাজনীতিবিদ ছিলেন কেউ অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারপর তারা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে সরকারিভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আমি পেশা হিসেবে একদম ভিন্ন পেশার লোক। আমার একমাত্র কাজই একটু সাহিত্যকর্ম করা কিংবা দুচারলাইন কবিতা লেখা। এর বাইরে কিছু না। এইজন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদ সরকার আমার ওপরে ন্যস্ত করে আমার ওপরে বিশ্বাস রেখে যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। আমার কাজ হবে তার সেই সাহসকে সম্পন্ন করা এবং তার সেই কর্মফলকে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা।

সাহিত্যিক হাবিবুল্লাহ সিরাজী এতদিন দূর থেকে একাডেমিকে দেখেছেন, এখন বাংলা একাডেমির দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই কোন জায়গাটি নিয়ে কাজ করতে চান জানার আগ্রহ দেখালে তিনি বলেন, কোন জায়গাটা নিয়ে কাজ করা দরকার এটা প্রথমেই বলতে চাই না। একজনের বদলে যখন আরেকজন আসে, ভেতরে না ঢুকলে এর জঙ্গলের কোন অংশটুকু সাফ করার দরকার তা বোঝা যায় না। প্রতিটি মহাপরিচালক, প্রতিজন সেক্রেটারি ভালো করার চেষ্টাটা করেন অন্তত যাতে কাজগুলো করে সুনামের সঙ্গে যেতে পারেন সেজন্য হলেও। অনেকের হয়ে ওঠে অনেকের হয়ে ওঠে না। আপনারা দোয়া করবেন। আমিও চেষ্টা করবো যাতে সবাইকে নিয়ে সবাই যেরকম বিশ্বাস করে, যেমন স্বপ্ন দেখে তেমন একটা সুন্দর বাংলা একাডেমি করার কাজ করতে পারি। আপনাদের মতামত অনুপ্রেরণা আমার পাথেয়।

কথাগুলো বলেই তিনি আরও যোগ করেন,এই যে অনুপ্রেরণা পাথেয় এভাবে শুধু বলার জন্য বলছি এমন না। এগুলো খুব ভেক টার্ম মনে হতে পারে। কী করছি, কী করতে চাই এমন যদি সুনির্দিষ্ট জানতে চান, কিছু যদি করতে পারি একমাস পরে আসবেন। জানতে পারবেন। আমি কী ভাবি, আমার সহকর্মীরা কী ভাবেন, বাংলা একাডেমি বলতে আমাদের কী ধারণা ছিল আমরা কোন ধারণায় যাবো আপনাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে পারবো। আমি বিশ্বাস করি, আমি প্রতি মাসে একটা করে সংবাদ সম্মেলন করবো যাতে করে আপনাদের সঙ্গে আমাদের সহমর্মিতা, সহযোগিতা এবং কর্মফলের যোগবিয়োগ হয়।

এ তো গেল দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে এগুবেন তার প্রাথমিক ভাবনা নিয়ে কথা, কিন্তু যে বাংলা ভাষা, সাহিত্যকে ঘিরে এই আয়োজন সেই বাংলা সাহিত্যকে তিনি এখন এই সময়ে এসে কোন জায়গায় দেখতে পান প্রশ্নে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া এই মহাপরিচালক বলেন, বাংলা সাহিত্যকে আমি সবসময় সাফল্যের জায়গায় দেখি। গত একশ বছর থেকে শুরু করে সামনের দিকে যতটা এগিয়েছি আমাদের দুর্বলতার জায়গা এটুকুনুই যে, আমাদের সাহিত্যের প্রকৃত অনুবাদ আমরা বিদেশি ভাষাভাষির কাছে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে বিশেষ করে বাংলা ভাষায় যারা সাহিত্য করেন মানিক থেকে বিভূতি, আমাদের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সেই সাহিত্যগুলোকে আমরা ফ্রেঞ্চ কিংবা ইংলিশ কী জার্মান কী আরবি কোনও ভাষায় সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি। আমাদের প্রথম কাজ হবে আমাদের ভাষাটিকে আধুনিক ভাষার সঙ্গে আধুনিক ভাষামানের সঙ্গে যুক্ত করে পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আমি বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। তাতেই এই ভাষার প্রকৃত উন্নতি এবং প্রকৃত ফসল আমরা পাবো। কারণ, আমরা ভালো কাজ করছি কিন্তু ভালো কাজটিকে দেখাতে পারছি না। গত দশবছর যাবত আমার নিজস্ব একটি আন্দোলন অনুবাদ একাডেমি করা। যে করেই হোক সেটি করবো। একবার যদি সুযোগ হয়, আমি সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবো।

/ইউআই/টিএন/

লাইভ

টপ