উন্মোচিত হলো কাজী শাহেদ আহমেদের চতুর্থ উপন্যাস ‘অপেক্ষা’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩০, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৪, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

উন্মাচিত হলো কাজী শাহেদ আহমেদের উপন্যাস ‘অপেক্ষা’‘ভৈরব', 'পাশা' এবং 'দাঁতে কাটা পেন্সিল' এর পর চতুর্থ উপন্যাস 'অপেক্ষা' নিয়ে আসলেন বিশিষ্ট লেখক ও জেমকন গ্রুপের চেয়ারম্যান কাজী শাহেদ আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকালে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও ফোকলোরবিদ অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

বক্তব্য রাখছেন ‘অপেক্ষা’ উপন্যাসের লেখক কাজী শাহেদ আহমেদঅনুষ্ঠান শুরু হয় বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাদি মোহাম্মদের সুরের মূর্ছনায়। তিনি একে একে কাজী শাহেদ আহমেদের প্রিয় রবীন্দ্রসংগীতগুলো গেয়ে শোনান।

এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেমকন গ্রুপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শীতের এই পড়ন্ত বিকলে জেমকন গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান কাজী শাহেদ আহমেদের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা। পাশাপাশি শ্রদ্ধা জানাই মঞ্চে উপবিষ্ট জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ফোকলোরবিদ অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে। শুভেচ্ছা জানাই কথা সাহিত্যিক ও প্রকাশক পারভেজ হোসেনকে। আপনারা জানেন আমার বাবা কাজী শাহেদ আহমেদ ৭৩ বছর বয়সে প্রথম উপন্যাস ‘ভৈরব’ রচনা করেন। এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট দেশভাগ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার উত্তরভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি এর আগে আজকের কাগজসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন। কিন্তু সৃজনশীলতার পূর্ণ প্রকাশ পায় তার আত্মজীবনী 'দাঁতে কাটা পেন্সিল' এর মাধ্যমে। চতুর্থ উপন্যাস 'অপেক্ষায়' এসে চিরায়ত মানব-মানবীর প্রেমের সম্পর্ক ও তার জটিলতাকে নিয়ে গিয়েছেন এক অন্য মাত্রায়।’

স্বাগত বক্তব্য রাখছেন কাজী এনাম আহমেদকথা সাহিত্যিক ও প্রকাশক পারভেজ হোসেন বলেন,  ‘বিষয় নয়, জীবনের একেবারে প্রতিটি জিনিস খুঁটিনাটিভাবে কাজী শাহেদ আহমেদের উপন্যাসে এর আগেও ছিল। সেই সঙ্গে বলতে চাই, একজন লেখক যা কিছুই রচনা করুক না কেন, নিজের বাইরে কোনও কিছু লেখেন না। কোনোটা আড়ালে থাকে, কোনোটা সামনে চলে আসে। কাজী শাহেদ আহমেদের বেলায় যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমি মনে করি, তার জীবনের যে অভিজ্ঞতা, তার চলার পথের সঞ্চয়, অনুভব, বিশ্লেষণ, অন্যকে বোঝা— এসব কিছুই ওনার উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে। সাহিত্যের মাপকাঠিতে যদি ফেলা হয়, তখন চুলচেরা বিশ্লেষণ এলে অনেক কিছুই আসবে, কিন্তু আমি মনে করি— এটা হচ্ছে সেই ধারার, যেখানে এমন অনেক কিছু আছে, আমরা যারা যারা লেখার চেষ্টা করি, তাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। কাজী শাহেদ সাহেব যদি আরও  আগে লিখতে বসতেন, উনি নিজেকে নিজে যদি আরও নাড়াচাড়া করার সুযোগ পেতেন, তাহলে অসাধারণ কিছু উপন্যাস হাজির হতে পারতো।’

বক্তব্য রাখছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীবাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও ফোকলোরবিদ অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘কাজী শাহেদ আহমেদ একজন বিস্ময়কর মানুষ। নিজের জীবনকে তিনি সৃষ্টি করতে জানেন, উদ্ভাবনাময়ভাবে, সৃষ্টি কৌশলে, নব নব পর্যায় অতিক্রম করে, এক অনন্য পন্থায় তিনি তাকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন আমরা প্রায় দিশেহারা, তখন আজকের কাগজে আমাদের প্রচুর লেখালেখির সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন তার বয়স প্রায় ৮০ ছুঁই ছুঁই করছে। এসময় একটা মানুষ যে তরুণ প্রেমের কথা বলেছেন, যে আঙ্গিকে বলছেন, যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, সেটি আমাদের অভিভূত করেছে। সত্যিকার অর্থে অভিভূত করার মতো তার লেখা। ত্রিকোণ একটি প্রেম সেখানে নানান জটিলতা আছে, অসাধারণ দক্ষতায় যেভাবে চরিত্রটিকে নির্মাণ করা হয়েছে, সেটা খুব পাকা জহুরী কিংবা উপন্যাসিক না হলে করা সম্ভব না। তিনি এ ক্ষেত্রে তার যে দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন, সেজন্য তাকে অভিনন্দন জানাই।’

জেমকন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও লেখক কাজী শাহেদ আহমেদ বলেন, ‘আমি প্ল্যান করেছি আরও ২০ বছর লিখবো। এই বইটি লিখেছি এবং এর জন্য অনেক জবাবদিহি করতে হয়েছে। তাই আমি বলবো বইটি আপনারাও পড়ে দেখেন। কারণ, আপনাদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে, যে এই বয়সে এরকম একটা বই লেখা। আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি, ২০৭০ সালের সময় দেশে কী হবে তার ওপর।’

অটোগ্রাফ দিচ্ছেন লেখকঅনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খুব বিস্মিত হলাম যখন তিনি সাহিত্য জগতে প্রবেশ করলেন। প্রত্যেকটা উপন্যাস অপেক্ষা ছাড়াই  প্রকাশের আগেই আমার পড়ার সুযোগ হয়েছে। তিনি যখন আমার কাছে উপন্যাসের বিষয়ে মতামত জানতে চান, তখন আমি বিস্মিত হলাম। যে মানুষেরা যে বয়সে জীবনের সব কর্ম থেকে অবসর গ্রহণ করে ইহলোকের পর কীভাবে পরলোকে গিয়ে পাপ মোচন করবেন, সেজন্য সদা ব্যস্ত থাকেন, সেই বয়সে কাজী শাহেদ আহমেদ উপন্যাস রচনায় অর্থাৎ জীবনের ভাষ্যকার হয়ে উঠেছেন। উপন্যাস মানুষের সামগ্রিক জীবন নিয়ে কথা বলে। কাজী শাহেদ সাহেব তার পরিণত বয়সে একটার পর একটা উপন্যাস আমাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন গদ্য রচনা যা-ও হয়, তার মধ্যে গল্প বেশি উপন্যাস কম। উপন্যাস যা-ই হয়, তাতে আমরা জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, জীবনের যে যন্ত্রনা, মানুষের জীবন-সংগ্রাম, মানুষের যে সুখ-দুঃখ উপন্যাসে পাই, কিছু কাল্পনিক কাহিনী আমরা সেসব উপন্যাসে দেখি। কাজী শাহেদ আহমেদের উপন্যাসের  ব্যতিক্রম হলো তিনি তার অভিজ্ঞতালব্ধ যে জীবন, সেটাই তিনি তার উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।’

সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি শামীম রেজা। আরও উপস্থিত ছিলেন— জেমকন গ্রুপের পরিচালক ও সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উপাচার্য প্রফেসর এইচ এম জহিরুল হক, ইউল্যাবের ট্রাস্টি বোর্ডের বিশেষ উপদেষ্টা প্রফেসর ইমরান রহমানসহ ইউল্যাব ও জেমকন গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এসও/এপিএইচ/

লাইভ

টপ