পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন : শাহাদুজ্জামান

Send
.
প্রকাশিত : ১৭:০০, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০০, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৯

[কথাসাহিত্যিক। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ মিলিয়ে এযাবৎ তার ২৫ টি গ্রন্থ প্রকশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ক্রাচের কর্নেল, বিসর্গতে দুঃখ, গল্পগ্রন্থ পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ, অন্য এক গল্পকারের গল্প নিয়ে গল্প  ইত্যাদি। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।]

প্রশ্ন : মেলায় প্রকাশিত বই মার্চ মাসেই খুঁজে পাওয়া যায় না, এত বই কোথায় যায়? মানে একদিকে প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে অন্যদিকে বই পাওয়া যাচ্ছে না, বা বইয়ের দোকান কমে আসছে—এই স্ববিরোধ কেনো?

শাহাদুজ্জামান : কথাটা ঢালাওভাবে সম্ভবত বলা যাবে না। মেলাকেন্দ্রিক বই ছাপানোর ভেতরের চেহারা পুরোটা জানা নেই। শুনতে পাই বই মেলা এলে নিজেই খরচ বহন করে প্রকাশকদের মাধ্যমে বই প্রকাশ করেন কিছু লেখক। তারা হয়তো চুক্তি মোতাবেক নিজে নির্দিষ্ট সংখ্যক বই কিনে নেন, কিছু বই কেনেন তার বন্ধু-বান্ধব। তো সেই ধরনের বই মার্চ মাসে খুঁজে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।

প্রশ্ন : বইমেলা কি বাংলা একাডেমির করা উচিৎ নাকি প্রকাশক সমিতির?

শাহাদুজ্জামান :  বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলা একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশে। এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকলে আমি বিশেষ সমস্যা দেখি না।

প্রশ্ন : শোনা যায়, বেশির ভাগ প্রকাশক বই বিক্রি করে বইমেলার আনুষ্ঠানিক খরচই তুলতে পারেন না। বইমেলা বছর বছর এই আর্থিক ক্ষতিকে সম্প্রসারিত করছে কিনা? বইমেলা কি শুধু ‘উৎসব’ই থেকে যাচ্ছে?

শাহাদুজ্জামান : বইমেলা তো ঠিক পণ্যের কেনাবেচা না, ভাব-ভাবনার কেনাবেচার মেলা। বইমেলার ‘উৎসব’-এর মাত্রাটা গুরুত্বপূর্ণ। সার্বজনীনভাবে যোগ দেয়ার মতো উৎসব তো খুব বেশি নাই দেশে।  মেলার মতো এমন একটা সার্বজনীন উৎসবে যোগ দেয়ার সাথে আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাবটা হয়তো অতটা সোজা-সাপ্টা না। ভেবে দেখা দরকার এত আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হয়েও কেনো প্রকাশকরা এধরনের আয়োজনে যুক্ত হন বারবার?

প্রশ্ন : মেলার স্টল বিন্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? যাতে পাঠক খুব সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত স্টলগুলো খুঁজে পেতে পারেন?

শাহাদুজ্জামান : বই মেলায় স্টলগুলো খুঁজে পাওয়া বেশ সমস্যাই হয়। স্থপতি বা ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে যারা কাজ করেন তারা ভালো বলতে পারবেন স্পেস ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো পন্থা কী। আজকাল ডিজিটাল, ভার্চুয়াল নানা পদ্ধতি তো রয়েছে। মেলার প্রবেশমুখেই ভার্চুয়াল কোনো শোয়ের মাধ্যমে সহজভাবে মেলার স্টলবিন্যাসকে প্রদর্শন করা যায়। আমার কাছে প্যাভিলিয়ান ধাঁচের স্টল পছন্দ। আরো বেশি তেমন স্টল হলে ভালো। 

প্রশ্ন : ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারাদেশে কীভাবে সৃজনশীল বইয়ের দোকান গড়ে তোলা যায়?

শাহাদুজ্জামান : বইয়ের মার্কেট তৈরির সাথে সরাসরি সম্পর্ক বইয়ের পাঠকের। নানা অঞ্চলে মার্কেট তৈরির মাধ্যমে যেমন বইয়ের সহজ্যলভ্যতা নিশ্চিত করা দরকার, তেমনি নানা অঞ্চলে পাঠক তৈরিরও উদ্যোগ থাকা দরকার। চাহিদা না থাকলে সরবরাহ করে লাভ কী? দেশের নানা অঞ্চলে ব্যাপক পাঠক তৈরি হলেই বইয়ের বাজার গড়ে উঠবে। আজকাল অবশ্য অনলাইন কেনাকাটার সুবাদে বইয়ের মার্কেটের ধারনাও বদলেছে।

প্রশ্ন : বাজার কাটতি লেখকের প্রভাব ও প্রচারে বই সম্পর্কে পাঠক ভুল বার্তা পায় কিনা?

শাহাদুজ্জামান : হ্যাঁ, ভুল বার্তা পাবার সম্ভাবনা খুবই আছে। বাজার ব্যাপারটা তো বিপদজনক। পসরা সাজানোর দক্ষতা ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। লালনের একটা গানে আছে ‘জগত চটকে মেতেছে’। নানা চটকের ধুম্রজাল তৈরি করে একটা নিম্নমানের বইকেও রমরমা করে উপস্থাপন করা হতে পারে,  যাতে সরল মনের পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন।

প্রশ্ন : আপনার বই কত কপি ছাপা হয়, কত কপি বিক্রি হয়—তা জানেন কিনা?

শাহাদুজ্জামান : আমার বই কত কপি ছাপা হয়, কত কপি বিক্রি তা আমার প্রকাশকরা আমাকে জানান। তবে সেখানে কোনো স্বচ্ছ নিয়ম, ধারাবাহিকতা নাই। যাচাই করবারও কোনো উপায় নেই।

প্রশ্ন : গত বছর বইমেলায় পুলিশকে দেখা গেছে বইয়ের উপর নজরদারি করতে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

শাহাদুজ্জামান : বইয়ের উপর পুলিশের নাজরদারি কাম্য নয়।

//জেডএস//

লাইভ

টপ