ভালো বইগুলো প্রমোট করতে হবে : পাপড়ি রহমান

Send
.
প্রকাশিত : ১৩:০০, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০০, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৯

[লেখক, সম্পাদক, গবেষক এবং অনুবাদক। গল্পের বই : লখিন্দরের অদৃষ্ট যাত্রা (২০০০) হলুদ মেয়ের সীমান্ত (২০০১) অষ্টরম্ভা (২০০৭) ধূলি চিত্রিত দৃশ্যাবলি (২০১০) ইত্যাদি। উপন্যাস : পোড়া নদীর স্বপ্নপুরাণ (২০০৪) মহুয়া পাখির পালক (২০০৪) বয়ন (২০০৮) ইত্যাদি।]

 প্রশ্ন : মেলায় প্রকাশিত বই মার্চ মাসেই খুঁজে পাওয়া যায় না, এত বই কোথায় যায়? মানে একদিকে প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে অন্যদিকে বই পাওয়া যাচ্ছে না, বা বইয়ের দোকান কমে আসছে—এই স্ববিরোধ কেনো?

পাপড়ি রহমান : বই হাওয়া হয়ে যাওয়ার পেছনে আমার মনে হয় প্রকাশকদের কোনো ভূমিকা আছে, তারা হয়তো বইয়ের প্রকৃত হিসাব লেখকদের দেন না। ১০০/১৫০ কপি ছেপে দেন এবং মেলা শেষ না হতেই বইয়ের আকাল দেখা দেয়। তখন কেউ আর বই খুঁজে পান না।

আবার এত বই যে কেন ছাপা হয়—আমি এর রহস্য জানি না । সবারই কেনো লেখক হবার সখ! তা অবশ্য থাকতেই পারে। এতে আমি দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু লেখার মতো প্রচণ্ড কঠোর ও সংবেদনশীল কাজটি করতে আসার আগে নিজের কিছু প্রস্তুতির দরকার পড়ে। একজন লেখকের নিজের লেখা সম্পর্কেও সঠিক ধারণা থাকাও দরকার বলে মনে করি।

পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণেই হয়তো বইয়ের দোকান কমে যাচ্ছে, বা হতে পারে এটি হয়তো এখন আর তেমন লাভজনক ব্যবসা নয়।

প্রশ্ন : বইমেলা কি বাংলা একাডেমির করা উচিৎ নাকি প্রকাশক সমিতির?

পাপড়ি রহমান : নাহ্, বাংলা একাডেমিরই করা উচিত। প্রকাশক সমিতি করলে নিজেদের ঢোল একটু বেশি জোরে বাজিয়ে ফেলতে পারে।

প্রশ্ন : শোনা যায়, বেশির ভাগ প্রকাশক বই বিক্রি করে বইমেলার আনুষ্ঠানিক খরচই তুলতে পারেন না। বইমেলা বছর বছর এই আর্থিক ক্ষতিকে সম্প্রসারিত করছে কিনা? বইমেলা কি শুধু ‘উৎসব’ই থেকে যাচ্ছে?

পাপড়ি রহমান : কী জানি, আমি তা জানি না। অনেক প্রকাশককে তো দেখি লেখকদের কাছ থেকে খরচের চাইতে বেশি টাকা নিয়ে বই ছেপে দিচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন লেখকরাই এই ফাঁদে বেশি পড়ে। আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি একটু মনোযোগী হতে পারে। যারা ভুঁইফোঁড় প্রকাশক তাদের নামে স্টল বরাদ্দ না-দেয়া।

না, তা কেন? কিছু ক্রেতা তো দেখি বই কিনছেন। আর ‘বইয়ের উৎসব’ হলেও মন্দ কী? বই নিয়ে কিছু একটা হোক না, ক্ষতি তো নেই এতে।

প্রশ্ন : মেলার স্টল বিন্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? যাতে পাঠক খুব সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত স্টলগুলো খুঁজে পেতে পারেন?

পাপড়ি রহমান : হ্যাঁ, অবশ্যই। তবে বাংলা একাডেমি একটি কাজ করতে পারে, মেলার ভালো বইগুলোর হদিস পাঠককে জানিয়ে দিতে পারে। যেমন ‘এ সপ্তাহের ভালো বই’ নাম দিয়ে এই প্রচারের কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু এখানেও সত্যিকারের ভালো বইগুলো প্রমোট করতে হবে।

প্রশ্ন : ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারাদেশে কীভাবে সৃজনশীল বইয়ের দোকান গড়ে তোলা যায়?

পাপড়ি রহমান : ‘বইপড়া’ কর্মসূচি হতে পারে। যেমন পাড়া বা মহল্লায় ‘পাঠচক্র’ গড়ে তোলা। সব বয়সীদের জন্য হতে পারে এটা। বইয়ের প্রতি আগ্রহ না বাড়ালে, বইয়ের দোকান গড়ে উঠবে না, টিকেও থাকবে না।

প্রশ্ন : বাজার কাটতি লেখকের প্রভাব ও প্রচারে বই সম্পর্কে পাঠক ভুল বার্তা পায় কিনা?

পাপড়ি রহমান : অবশ্যই এটা ঘটে। অনেক আলতুফালতু বইও প্রচার মাধ্যম প্রমোট করে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ আমি চাই সত্যিকার অর্থেই একটা ভালো বই যেন পাঠকের হাতে পৌঁছায়।

প্রশ্ন : আপনার বই কত কপি ছাপা হয়, কত কপি বিক্রি হয়—তা জানেন কিনা?

পাপড়ি রহমান : একজন লেখক অনেকটা অন্ধের মতো। এখানে প্রকাশক যে হিসাব দেন, তাকে সেটাই বিশ্বাস করতে হয়, হবে। প্রকাশক যদি বাঘের বদলে বিড়াল এনে বলেন এটা বাঘ, লেখকের সেটা বিশ্বাস না করে উপায় থাকে না।

কিছু কিছু প্রকাশক জানান কত বই ছেপেছেন। কিন্তু বিক্রির সঠিক হিসাব দেন কিনা জানি না। তবে প্রায় প্রকাশকই বলেন—আপনার বই একদমই চলে না! কিন্তু বইটি আবার বাজারেও খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি আসলে লেখক-প্রকাশকের এই ইঁদুর-বিড়াল খেলার আসল লেজটি ধরতে পারি না।

প্রশ্ন : গত বছর বইমেলায় পুলিশকে দেখা গেছে বইয়ের উপর নজরদারি করতে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

পাপড়ি রহমান : পুলিশ থাকবে নিরাপত্তার জন্য, বইয়ের খবরদারি তারা কীভাবে করবে, বা করে আমি ঠিক জানি না। পুলিশ না দিয়ে বরং এখানে কিছু পাঠক থাকতে পারে। যারা বই পড়ে বলতে পারবে কোনো বইয়ে নিষিদ্ধ কিছু আছে কিনা। অবশ্য নিষিদ্ধ বলতে যদি শুধুমাত্র যৌনতা বোঝায়, তাতে করে এটা বলা যায়, আমাদের লেখকরা নিশ্চয়ই এখনো শুধুমাত্র চটিসাহিত্যের লেখক হয়ে উঠেননি! এছাড়া প্রকাশককে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।  

//জেডএস//

লাইভ

টপ