‘আগস্ট আবছায়া’ ইস্যু কী বার্তা দিলো!

Send
সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:১৯, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৫, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯


মাসরুর আরেফিনের ‘আগস্ট আবছায়া’র ব্যাক কভারে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের নামে যে মন্তব্য ছাপা হয়েছে তা হাসান আজিজুল হক বিবৃতি (২১ ফেব্রুয়ারি) দিয়ে অস্বীকার করায় সাহিত্যাঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আর এই ঝড়ের লীলাক্ষেত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক। সেখানেই মাসরুর আরেফিন এবং হাসান আজিজুল হকের কাছ থেকে মন্তব্য সংগ্রহকারী মারুফ রায়হান তাদের নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এই আলোচনায় যে বিষয়ে ডালপালা মেলতে পারে তা হলো—

প্রথমত. হাসান আজিজুল হক টেলিফোনে মন্তব্য করেছেন, লিখিত দেননি; আমরা জানি হাসান আজিজুল হক মিডিয়ায় নানা প্রসঙ্গে টেলিফোনে মতামত প্রকাশ করেন, যা শ্রুতিলিখন করে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এযাবতকালে তা নিয়ে কোনো সমালোচনা তৈরি হয়নি। ফলে ধরে নেয়া যায়, এবং তিনি বিবৃতিতে স্বীকারও করেছেন যে, উপন্যাসটি সম্পর্কে তিনি কিছু কথা বলেছেন; যদিও তার ভাষায় তা বিকৃতরূপে উপন্যাসের কভারে ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু আমাদের হাতে ফোনালাপের রেকর্ড নেই, ফলে এর সত্যাসত্য নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সেটা থাকলে সহজেই এই বিষয়টির সমাধান করা যেত।

দ্বিতীয়ত. হাসান আজিজুল হকের একাউন্টে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর প্রস্তাব। যা সম্পৃক্ত তিনজনই স্বীকার করেছেন। হাসান আজিজুল হক তার বিবৃতিতে টেলিফোনে প্রস্তাবের সময়ই টাকা নিতে অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন। অপর দু’জনের স্ট্যাটাসে জানা যায় “আগে কাজ, পরে পারিশ্রমিক…’ জাতীয় মন্তব্য করে নিজের একাউন্ট নাম্বার তিনি কোনো একসময় দেন, এবং টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখেন তাতে কোনো ডিজিট বাদ পড়েছে, টাকা পাঠানো যায়নি। এবং তাদের ভাষায় সাক্ষাতে টাকা নেবার কথা হাসান আজিজুল হক বলেওছেন, যে প্রসঙ্গে বিবৃতিতে তার বক্তব্য নেই, এবং মাসরুর-মারুফের স্ট্যাটাসের পরবর্তি প্রতিক্রিয়া হাসান আজিজুল হক দেননি। ফলে এটা অমিমাংসিত হয়েই রইল।

তবে ২৫ ফেব্রুয়ারি হাসান আজিজুল হক আরেকটি বিবৃতির ৩ নং পয়েন্টে বলেছেন, ‘মাসরুর আরেফিনের উপন্যাস নিয়ে আমার যে বক্তব্য শেষ প্রচ্ছদে উৎকীর্ণ হয়েছে, তা এই মেধাবী লেখকের প্রতি আমার প্রবল স্নেহের প্রকাশ। অগ্রজরা তরুণদের আর্শীবাদ করে দু’হাতে ভরেই দেবেন। এটাকে অন্যায় হিসেবে দেখবার কিছু আছে বলে মনে করি না।’

এবং ৬ নং পয়েন্টে আরো বলেছেন, ‘মাসরুর আরেফিনের ‘আগস্ট আবছায়া’ উপন্যাসে উৎকীর্ণ আমার বক্তব্য নিয়ে এখন আমার আর কোনো আপত্তি নেই। এই নিয়ে আর কোনো বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য হোক, তা আমি চাই না।’

হাসান আজিজুল হকের এই বিবৃতি প্রথম বিবৃতির বিরোধী। ফলে তিনি প্রথম বিবৃতিতে মাসরুরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু তাতে হাসান আজিজুল হকের স্ববিরোধীতাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে এই বিবৃতি, পাল্টা স্ট্যাটাস, আমাদের শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দিলো, সেটা নিরূপণ করা জরুরি—

উপন্যাসটি সম্পাদনা বা রিভিউ করে দেবার জন্য হাসান আজিজুল হককে টাকা দেবার প্রস্তাব করা যেতেই পারে, কিন্তু ফ্ল্যাপ বা শংসাবচন লেখানোর জন্য তা দৃষ্টিকটুই বটে। সাহিত্যিক নৈতিকতায় ফ্ল্যাপ সাধারণ সৌজন্যতার খাতিরেই লিখে দেয়া হয়। যার দৃষ্টান্ত রবীন্দ্রনাথ থেকে হাল আমলেও রয়েছে। এবং মাসরুর আরেফিনের ‘সামর্থের’ অযুহাতে পোস্টার-বিলবোর্ডের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করা দেখানেপনা বলেও ভাবতে পারেন পাঠক। শিল্প একদিকে যেমন পণ্য, অন্যদিকে পণ্য সভ্যতা এবং পণ্যায়নের বিরোধীও। সেটা আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।   

এবং হাসান আজিজুল হক একবার বিবৃতি দিয়ে বিকৃতির অভিযোগ তুলে পরের বিবৃতিতে তা স্বীকার করে নেয়ায় পাঠকের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হতে পারে। 
 

//জেডএস//

লাইভ

টপ