থেরাপি || লিডিয়া ডেভিস

Send
অনুবাদ : মেহেদী হাসান
প্রকাশিত : ১৫:০৮, জুলাই ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৫, জুলাই ১৪, ২০১৯

লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালের ১৫ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নরদাম্পটনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদক। লিডিয়া ডেভিসের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ছয়, এর মধ্যে দ্য থারটিন উম্যান এন্ড আদার স্টোরিজ (১৯৭৬) এবং ব্রেক ইট ডাউন (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য। ব্রেক ইট ডাউন গল্পগ্রন্থটি পেন/হেমিংওয়ে অ্যাওয়ার্ড (PEN/Hemingway Award)-এর চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত তার ভ্যারাইটিজ অব ডিস্টারবেন্স (২০০৭) গল্পগ্রন্থটি ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড-এর চূড়ান্ত তালিকায় স্থান লাভ করে ।

লিডিয়া ডেভিস ৬৫ বছর বয়সে ২০১৩ সালে ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরষ্কার লাভ করেন।

বড় দিনের ঠিক আগে আমি শহরে চলে আসি। এখানে আমি একা ছিলাম এবং এটা ছিল একটা নতুন অভিজ্ঞতা। আমার স্বামী কোথায় চলে গিয়েছিল? সে গুদামে ভরা একটা জেলায় নদীর পাশে একটা ছোট্ট বাড়িতে বসবাস করত।

আমি এখানে এসেছি গ্রাম থেকে যেখানে নীরস আর নির্বোধ লোকজন আমার দিকে অপরিচিত মানুষের মতো তাকাত এবং কারো সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তেমন কোনো লাভ হত না।

বড় দিনের পর পর তুষারে ফুটপাত ঢেকে যায়। এরপর তুষার গলে যায়। তারপরও, আমার হাঁটতে কষ্ট হত, এরপর অবশ্য কয়েক দিনের মধ্যে হাঁটাটা আমার জন্য সহজ হয়ে ওঠে। আমার স্বামী আমার পাশের বাসায় এসে ওঠে যাতে সে প্রায়ই আমাদের ছেলেটাকে দেখতে আসতে পারে।

এই শহরেও দীর্ঘদিন আমার কোনো বন্ধু ছিল না।  প্রথমদিকে, আমি চেয়ারে বসে আমার পরনের কাপড়-চোপড় থেকে চুল এবং ধুলো ঝাড়তাম এবং এরপর উঠে দাঁড়িয়ে হাত-পা ঝেড়ে আবার বসে পড়তাম। সকাল বেলায় আমি কফি খেতাম আর ধূমপান করতাম। সন্ধ্যায়ও ধূমপান করতাম ও চা খেতাম এবং জানালার কাছে যেতাম ও ফিরে আসতাম এবং এক রুম থেকে আরেক রুমে পায়চারি করতাম।

মাঝে মাঝে একমুহূর্তের জন্য আমার মনে হত আমি কিছু একটা করতে পারব। সেই মুহূর্তটি চলে যাওয়ার পর আমি নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলতাম।

গ্রামের বাড়িতে আমি একদিন নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলি। প্রথমে আমি নিজেকে বাড়ির কাছাকাছি পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাই এবং এরপর দেউড়ি থেকে উঠান এবং তারপর গ্যারেজের ভেতরে, যেখানে আমার মস্তিষ্ক অবশেষে মাছির মতো ঘুরতে শুরু করে। আমি সেখানে তেলে পিচ্ছিল হয়ে ওঠা একটা জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি। গ্যারেজ ছেড়ে আসতে আমি নিজের সামনে কিছু যুক্তি তুলে ধরি, তবে কোনো যুক্তিই যথেষ্ট পরিমাণ শক্তিশালী ছিল না।

রাত এল, পাখিরা নিঝুম হয়ে গেল, পাশের রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট কার চলা বন্ধ হল, সবকিছু আঁধারে নিমগ্ন হল, এবং এরপর আমি চলে এলাম।

ঐদিনের ঘটনা থেকে আমি এই সিদ্ধান্ত উপনীত হই যে, আমার সাথে যা ঘটেছে তা বিশেষ কাউকে বলব না। অবশ্য সাথে সাথেই একজনকে বলি। তবে সে আগ্রহ দেখায়নি। তখন আমার কোনো ব্যাপারেই তার মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। আর আমার ঝামেলার ব্যাপারে তো অবশ্যই নয়।

শহরে এসে ভাবি আবার পড়তে শুরু করব। নিজেকে বিব্রত করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। যখন পড়া শুরু করি, তখন একটা নয় বরঞ্চ একসাথে অনেকগুলো বই পড়তে শুরু করি—এ লাইফ অব মোজার্ট, এ স্টাডি অব দ্যা চেঞ্জিং সি, এবং আরো অন্যান্য বই যেগুলোর নাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।

আমার সক্রিয় হয়ে ওঠার এসব লক্ষণ দেখে আমার স্বামী আশান্বিত হয়ে উঠে। সে আমার পাশে বসে মুখের উপর নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে আমার সাথে গল্প করে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি অবসন্ন হয়ে পড়ি। আমার জীবন যে কত কঠিন তা আমি তার কাছে গোপন রাখতে চেয়েছিলাম।

যেহেতু আমি যা পড়েছিলাম তা সাথে সাথে ভুলে যাই নি, ফলে আমার মনে হয় যে আমার মন ধীরে ধীরে শক্ত হচ্ছে। আমি সেই সব জিনিস লেখে রাখি যেগুলোকে আমার কাছে ঘটনা বলে মনে হয় এবং যেগুলো আমার ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমি এক নাগাড়ে ছয় সপ্তাহ পড়ি এবং তারপর পড়া বন্ধ করে দেই।

গ্রীষ্মের মাঝামাঝি, আমি আবার আমার মনোবল হারিয়ে ফেলি। আমি একজন পুরুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। তবে সে আমাকে আশ্বস্ত করতে পারে নি। ফলে আমি আরেকজন চিকিৎসকের, নারী চিকিৎসক, এপয়েন্টমেন্ট নেই, যদিও আমি আগের জনকে বাদ দেই না।

নারী চিকিৎসকটির চেম্বার ছিল গ্রামারসি পার্কের কাছাকাছি একটা দামী স্ট্রীটে। আমি তার ডোরবেল বাজাই।  নারী চিকিৎসকটি নয়, আমাকে অবাক করে দিয়ে দরজা খোলে বো-টাই পরা একজন পুরুষ। ডোরবেল বাজানোর কারনে লোকটা আমার উপর প্রচণ্ড ক্ষেপে যায়।

নারী চিকিৎসকটি সাথে সাথে তার চেম্বার থেকে বের হয়ে আসে এবং এই দুই চিকিৎসক তর্কাতর্কি শুরু করে দেয়। লোকটি প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিল কারন এই নারীটির রোগীরা সবসময় তার ডোরবেল বাজায়। তাদের তর্কাতর্কির মাঝখানে আমি দাঁড়িয়ে থাকি। সেই দিনের পর আমি আর কখনও ওখানে ফিরে যাই নি।

কয়েক সপ্তাহ আমি আমার চিকিৎসককে বলিনি যে, আমি অন্য একজন চিকিৎসকও দেখিয়েছি। আমার মনে হয়েছিল এটা হয়ত তার অনুভূতিতে আঘাত করবে। তবে আমার ধারণা ছিল ভুল। সে নিজেকে প্রচুর অবদমিত ও অপমানিত হতে দিত যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার ফি পরিশোধ করে যেতাম এবং এই বিষয়টা আমাকে বিরক্ত করত। তবে সে প্রতিবাদের সুরে জানায়, ‘আমি নিজেকে কেবল একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত অপমানিত হতে দেই।’

তার সাথে প্রতিটি সাক্ষাতের পর আমি ভাবতাম যে আমি এখানে আর আসব না। এর পেছনে অবশ্য বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। তার চেম্বার ছিল স্ট্রীট থেকে কয়েক বাড়ি আড়ালে একটি পুরাতন বাড়িতে যা একটা বাগানের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। বাগানটি ছিল ছোট ছোট পথ, গেট এবং কেয়ারী দিয়ে ভরা।

বাড়িটাতে ঢোকা বা বের হয়ে আসার সময় মাঝে মাঝে আমি এক পলকে একটি অপরিচিত লোককে সিঁড়ি দিয়ে নামতে বা একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে যেতে দেখতাম। লোকটা ছিল খাটো এবং গাট্টাগোট্টা। লোকটির ছিল এক মাথা কালো চুল এবং তার পরনের সাদা শার্টটি কলার পর্যন্ত আটসাটভাবে বোতাম লাগানো থাকত। পাশ কেটে যাওয়ার সময় সে আমার দিকে তাকাত, তবে তার মুখে কোন অভিব্যক্তি প্রকাশ পেত না, এমনকি যদিও আমি নিশ্চিতভাবেই সেখানে ছিলাম, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলাম। লোকটির দ্বারা আমি আরো বেশী বিরক্ত হতাম কারন আমার চিকিৎসকের সাথে তার সম্পর্কের ধরণটি বুঝতে পারতাম না। প্রতিটি সাক্ষাতের মাঝখানে আমি শুনতে পেতাম একটা পুরুষকন্ঠ সিঁড়ির নীচ থেকে ‘গর্ডন’ বলে ডাকছে। 

আমার চিকিৎসকের কাছে আর যেতে না চাওয়ার আরেকটা কারন হল সে নোট নিত না। আমি ভাবতাম তার নোট নেয়া এবং আমার পরিবার সংক্রান্ত তথ্য স্মরণ রাখা উচিত : আমার ভাই এই শহরে একটি বাসায় একা থাকে, আমার বোন দুই মেয়ে সহ বিধবা, আমার বাবা ছিল একজন অতি আবেগপ্রবণ, অভিমানী ও কর্তৃত্ববাদী এবং মা এমনকি বাবার চেয়েও আমাকে বেশী বকুনি দিত। আমার মনে হত চিকিৎসকের উচিত প্রতিটি সাক্ষাতের পর তার নেয়া নোট নিয়ে গবেষণা করা। এর পরিবর্তে, সে রান্না ঘরে এসে এক কাপ কফি বানানোর জন্য আমার পেছন পেছন সিঁড়ি বেয়ে নামত। আমার মনে হত যে তার আচরণে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।

আমার বলা গুরুতর বিষয়ে সে হো হো করে হেসে উঠত এবং এতে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতাম। তবে আমি যখন তাকে এমন কিছু বলতাম, যেগুলো আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়, সেগুলো শুনে সে এমনকি মুচকিও হাসত না। সে আমার মা সমন্ধে রূঢ় কথা বলত এবং এতে মায়ের কথা এবং শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তের কথা মনে করে আমার কান্না পেত। সবচেয়ে খারাপ হল, সে প্রায়ই তার হাতলওয়ালা চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়ত, দীর্ঘশ্বাস ফেলত এবং তার চিত্ত বিক্ষিপ্ত মনে হত।

অবিশ্বাস্য ব্যাপার হল, যখনই তাকে আমি বলতাম সে আমাকে কী পরিমাণ অস্বস্তিতে ফেলে এবং কষ্ট দেয়, তাকে আমার ভালো লাগত। কয়েক মাস পর, তাকে এটা বলার আর প্রয়োজন পড়ে নি।

আমার মনে হল সাক্ষাতের পর অনেক সময় চলে গেছে এবং তার সাথে আবার দেখা করলাম। যদিও সময়টা ছিল এক সপ্তাহ মাত্র, তবে এক সপ্তাহের মধ্যেই সবসময় অনেক কিছু ঘটে যেত। যেমন, একদিন আমার সাথে আমার ছেলের ঝগড়া হয় এবং বাড়িওয়ালী তার পরের দিনই আমাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দেয়। এবং সেই  বিকেলে আমার স্বামী এবং আমি নিরাশায় ভরা একটা দীর্ঘ আলোচনা চালাই এবং এই সিদ্ধান্তে আসি যে, আমরা আর কখনও সংসার জীবনে ফিরে যেতে পারব না।

এখন চিকিৎসকের সাথে প্রতিটি সাক্ষাতে আমার বলতে চাওয়া কথাগুলোর জন্য খুবই অল্প সময় নির্ধারিত থাকে। আমার চিকিৎসককে বলতে চেয়েছিলাম যে আমার জীবনকে আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। আমি তাকে জানিয়েছিলাম কিভাবে বাড়িওয়ালী আমাকে প্রতারিত করে এবং আমার স্বামীর দুইজন প্রেমিকা আছে এবং কিভাবে ঐ দুজন পরস্পরের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করলেও আমার প্রতি করে না, কিভাবে আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে ফোনে অপমান করে, কিভাবে আমার স্বামীর বন্ধুরা আমাকে অবজ্ঞা করে, কিভাবে আমি রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই এবং হাঁটতে হাঁটতে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খাই। যা কিছু তাকে বললাম তার সবকিছুতেই আমার হাসির উদ্রেক হল। তবে সাক্ষাতের শেষ দিকে এসে আমি তাকে আরো বলি যে কারো মুখোমুখি হয়ে আমি কথা বলতে পারি না। সবসময় মাঝখানে একটা দেয়াল থাকে। ‘তোমার আর আমার মাঝখানে কি এখন কোন দেয়াল আছে?’ সে আমাকে জিজ্ঞেস করে। না, তার আর আমার মাঝখানে আর কোন দেয়াল ছিল না।

আমার চিকিৎসক আমাকে দেখল এবং আমাকে ছাড়িয়ে দূরে তাকাল। সে আমার কথা শুনল এবং ঠিক একই সময় অন্য কথাও শুনল। সে আমার তীব্র সমালোচনা করল এবং বুঝিয়ে বলে আমার ধারণা পাল্টে দিল এবং আমাকে একটা কাগজ পড়তে দিল। সেখানে ছিল আমি কি করেছি এবং সেখানে ছিল কেন সে মনে করে আমি এটা করেছি। সত্যটি আর সুস্পষ্ট ছিল না। এই লোকটির কারনে আমার অনুভূতির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। এক ঝাঁক চিন্তা আমার মাথার ভেতরে ভনভন করে উড়তে লাগল। তারা আমার কানে তালা লাগিয়ে দিল এবং আমি সবসময় বিভ্রান্ত ছিলাম।

শরতের শেষে আমি নির্জীব হয়ে উঠলাম এবং কথা বলা বন্ধ করে দিলাম এবং নতুন বছরের প্রথম দিকে চিন্তা করার প্রায় সকল ক্ষমতা হারিয়ে ফেললাম। আমি আরও নির্জীব হয়ে যেতে লাগলাম যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি নড়াচড়ার ক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলি। আমার চিকিৎসক সিঁড়িতে আমার পা ফেলার মৃদু শব্দ শুনে আমাকে জানাল যে, সে ভাবছে সিঁড়ি বেয়ে উঠার মত শক্তি আমার মধ্যে আছে কিনা।

সেই দিনগুলোতে, আমি সবকিছুর কেবল অন্ধকার দিকটা দেখতাম। আমি ধনী ব্যক্তিদের ঘৃণা করতাম এবং গরীবদের দেখলে আমার বিতৃষ্ণা জাগত। শিশুদের খেলাধুলার শব্দ আমাকে বিরক্ত করত এবং বয়স্ক লোকদের নীরবতা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলত। এই পৃথিবীকে ঘৃণা করে আমি টাকার নিরাপত্তা চাইতাম, তবে আমার কোন টাকা ছিল না। আমার চারপাশে নারীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করত। আমি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে একটু শান্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখতাম।

আমি এই পৃথিবীকে নিরীক্ষণ করে যেতে থাকি। আমার একজোড়া চোখ ছিল, তবে তেমন কোন বোঝাপড়া ছিল না এবং আমার কোন বক্তব্যও ছিল না। ধীরে ধীরে আমার অনুভব করার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছিল। আমার ভেতরে আর কোন আনন্দ অবশিষ্ট ছিল না, ছিল না কোন ভালবাসাও।  

এরপর এল বসন্ত। আমি শীতের সাথে এতই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে গাছে পাতা দেখে বিস্মিত হয়ে যেতাম।

এই চিকিৎসকের কারণে, আমার বিষয়গুলো পরিবর্তিত হতে শুরু করে। আমি আগের চেয়ে অনতিক্রম্য হয়ে উঠি। এখন আর সবসময় মনে হয় না যে কিছু মানুষ আমাকে অপদস্থ করতে যাচ্ছে।

হাস্যকর জিনিস দেখে আমি আবারও হাসতে শুরু করি। আমি হাসতাম এবং থেমে ভাবতাম : পুরো শীতকাল সত্যি আমি হাসি নি। আসলে পুরো একবছর আমি হাসি নি। পুরো বছর আমি এত আস্তে আস্তে কথা বলেছি যে লোকজন আমার কথা বুঝতেই পারে নি। এখন টেলিফোনে আমার কণ্ঠ শুনে পরিচিত লোকজন খুব বেশী অসুখী হয় বলে মনে হয় না।

তখনও আমি শঙ্কিত ছিলাম এটা মনে করে যে, একটা ভুল পদক্ষেপ আমাকে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারে। তবে আমি আনন্দ ফিরে পেতে আরম্ভ করি। বিকেল বেলাটা আমি একলা কাটাতাম। আমি পুনরায় বই পড়তে এবং কিছু কিছু জিনিস লিখে রাখতে শুরু করি। আঁধার নামার পর, আমি রাস্তায় নামি এবং দোকানের জানালার দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকি এবং এরপর জানালার দিক থেকে ঘুরে দাঁড়াই এবং উত্তেজনা বশত আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের সাথে ধাক্কা লাগে, সবসময় ধাক্কা লাগে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাপড়-চোপড় দেখতে থাকা নারীদের সাথে। পুনরায় হাঁটতে গিয়ে আমি রাস্তার পাশের প্রস্তরের সাথে হোঁচট খাই। 

আমি ভাবতাম যে, যেহেতু আমি আগের চেয়ে ভাল আছি, সুতরাং শীঘ্রই আমার থেরাপি বন্ধ করে দেয়া উচিত। আমি অধৈর্য হয়ে উঠি এবং অবাক হয়ে ভাবি যে : কীভাবে এই থেরাপি শেষ হতে পারে? আমার আরও কিছু জানার ছিল : যেমন, আমার নিজেকে একদিন থেকে আরেক দিনে টেনে নিয়ে যেতে আর কতদিন আমার সকল শক্তি খাটানোর প্রয়োজন হবে? এই প্রশ্নের কোন উত্তর জানতাম না। হয়ত এই থেরাপি কোনদিন শেষ হবে না, অথবা আমি এমন কেউ হব না যে, এই থেরাপিটা শেষ করতে চাইবে।

//জেডএস//

লাইভ

টপ