এলিয়টের ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ এবং পাউন্ডের সম্পাদনা প্রসঙ্গ

Send
মাসুদুল হক
প্রকাশিত : ০৬:০০, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০০, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ বিমানবিকীকরণের প্রতিবাদে টি. এস. এলিয়েট এক কেন্দ্রস্থিত শ্বাশত ঐতিহ্যের সন্ধানে এবং তৎকালীন আত্মসংকট থেকে উত্তরণের আকাঙ্ক্ষায় রচনা করেন তার দীর্ঘ কবিতা ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’।

লন্ডন শহরের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ ও দুর্বলতার কারণে কবি এলিয়ট ১৯১৪ সালে চলে আসেন ইংল্যান্ডে। স্থায়ী বসবাস, কর্মজীবন এবং বিয়েও করেন লন্ডনে। ১৯১১ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ডে ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃত ভাষা নিয়ে সমাপ্ত করেন গবেষণা।

আমেরিকার আরেক কবি এজরা পাউন্ড; যিনি ইমেজিস্ট কাব্যধারার প্রাণপুরুষ, কবি ও সমালোচক; তিনি টি. এস. এলিয়টের ‘দ্য লাভ সং অব জে আলফ্রেড প্রুফ্রক’ সম্পর্কে মন্তব্য করেন : ‘আমার দেখা কোনো আমেরিকানের লেখা মহত্তম কবিতা।’

টি. এস. এলিয়ট ও এজরা পাউন্ড এই দুই কবি যুগলবন্দী হয়েছিলেন ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতার হাড়, মেদ, মজ্জা থেকে পূর্ণাঙ্গ অবয়ব প্রাপ্তিকালীন সময়ে। এলিয়টের হাতে জন্ম নেয়া এ কবিতা পাউন্ডের রূপসজ্জায় পাঠকের মঞ্চে এসে দাঁড়ায় ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে।

কবিতার নাম এলিয়ট দিয়েছিলেন ‘হি ডু দ্য পুলিশ ইন ডিফরেন্ট ভয়েসেস’ (HE DO THE POLICE IN DIFFERENT VOICES)। রচনার কয়েকদিনের মধ্যেই এ কবিতাটি নিয়ে তিনি পাউন্ডের কাছে যান। পাউন্ড তখন ফ্রান্সে আর এলিয়ট সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসার ছুটিতে। পাউন্ডের ইচ্ছাতেই এলিয়ট দীর্ঘ এই কবিতাটি তার কাছে রেখে আবার চলে যান সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যনিবাসে। ততদিনে এজরা পাউন্ড কবিতাটির উপর সার্জারি চালিয়ে কাটছাঁট করে ৪৩৩ লাইনে নামিয়ে আনেন। সেই সঙ্গে কবিতার শিরোনাম পাল্টে রাখেন ‘The waste land’—এখন আমরা অনেকেই বাংলায় এই কবিতাটিকে ‘পড়ো জমি’ নামে অভিহিত করছি। এই ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’ই হয়ে উঠেছে বিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী কবিতার অন্যতম একটি।

বোদ্ধা, পাঠক ও সমালোচকদের মতে ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতাটি আলফ্রেড টেনিসনের ‘ইন মেমোরিয়াম’-এর আত্মিক পুনর্লিখন। কেউ কেউ বলেন ফরাসি কবিদের কণ্ঠ এসেছে; কারো মতে সিম্বোলিস্টদের দ্বারাও প্রভাবিত। শেক্সপিয়ারের সঙ্গে নৈতিক ও ধর্মবিষয়ক চেতনায় এলিয়ট এ কবিতায় অভিন্ন। এছাড়া কবি জনসনের প্রভাবের কথাও বলা হয়ে থাকে। এতো গেল সমালোচকদের কথা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ একক, নিরবলম্ব ও স্বকীয়। বিশ্বসাহিত্যে অনন্য।

‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতাটি প্রকাশের আগে এজরা পাউন্ড যেভাবে অস্ত্রোপচার করে একে পরিশীলিত ও পরিবিন্যস্ত করেছেন, তা এখন বিশ্বপাঠকের কাছে অনুসন্ধানের বিষয় হয়ে উঠেছে—বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর কবি, সমালোচক ও গবেষকদের কাছে।

‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে। সে মাসেই এলিয়ট তার এক বন্ধু আমেরিকান আইনজীবী ও শিল্পপৃষ্ঠপোষক জন কুইনের কাছে এজরা পাউন্ড সম্পাদিত ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর ৫৪টি পাতার পাণ্ডুলিপি ও তার ‘মার্চের খরগোশ আবিষ্কার’ নামক একটি নোটবই সামান্য দামে বিক্রি করে দেন। যদিও জন কুইন তার বাজার দর হিসেবে মূল্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এলিয়ট তা আমেরিকার পত্র-পত্রিকা ও প্রকাশনীর কাছে পৌঁছে দেবার শর্তে সামান্য মূল্যে উপহার হিসেবে জন কুইনের হাতে তুলে দেন। এর দু’বছর পর ১৯২৪ সালে জন কুইন অপ্রত্যাশিতভাবে মৃত্যুবরণ করলে পাণ্ডুলিপি দু’টির হদিস পাওয়া যায় না। আসলে এলিয়টের লেখা দু’টি পাণ্ডুলিপির পেটিকা তখন থেকেই জন কুইনের স্টোর রুমে পড়েছিল। ১৯৫০ সালের দিকে এই পাণ্ডুলিপির পেটিকা ‘নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি’ কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। কর্তৃপক্ষ এই তথ্য অপ্রকাশিত রাখেন দীর্ঘদিন। ১৯৬৮ সালে এলিয়টের মৃত্যুর তিন বছর পর নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি এই তথ্য প্রকাশ করে। তারপর ১৯৭১ সালে এলিয়টের দ্বিতীয় স্ত্রী ভ্যালেরি এলিয়টের সম্পাদনায় আবার ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ প্রকাশিত হয় নিউইর্কের হারকোর্ট প্রকাশনী থেকে।

আমরা দেখেছি কবিতাটির প্রাথমিক নাম ছিল ‘HE DO THE POLICE IN DIFFERENT VOICES’। এলিয়ট এই শিরোনামটি গ্রহণ করেছিলেন চার্লস ডিকেন্সের ‘Our Mutual Friend’ উপন্যাস থেকে। এজরা পাউন্ড কবিতাটি সম্পাদনা করে এর মর্মার্থ উপলব্ধি করেন এবং চার্লস ডিকেন্সের প্রভাব মুক্ত রাখতে কবিতার শিরোনাম পাল্টে দেন।

২.

দীর্ঘ এই কবিতাটি রচিত হতে থাকে ১৯২১ সালের শেষ দিকে লন্ডনের মার্গেট শহর এবং সুইজারল্যান্ডের লাউসান শহরের স্বাস্থ্যনিবাসে ভ্রমণকালে। যেখানে এলিয়ট নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস লন্ডনভিত্তিক লয়েড ব্যাংকে চাকুরিরত অবস্থায় চিকিৎসার ছুটিতে ছিলেন। এলিয়ট এই ছুটিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘স্মৃতিভ্রংশ, বিশৃংখল আবেগগত শুশ্রূষা’ হিসেবে। উল্লেখ্য স্বাস্থ্যনিবাসটি ছিল ‘জেনেভা হ্রদে’র কাছে। এই হ্রদের উল্লেখ কবিতার নামে ৩য় পরিচ্ছেদ ‘The Fire Sermon’-এ উঠে এসেছে। অবশ্য হ্রদটির নাম কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে ফ্রান্স ভাষায় ‘Lac Leman’ নামে। লক্ষণীয়:

By The water of Leman I sat down and wept...

Sweet Thames, run softly till I end my song,

Sweet Thames, run softly, for I speak not loud or long.

But at my back in a cold blast I hear

The rattle of the bones, and chuckle spread from ear to ear.

আনকোরা দীর্ঘ এই কবিতাটির পাণ্ডুলিপিতে কবিতার ১ম পরিচ্ছেদ ‘The Burial of The Dead’-এ এলিয়ট শুরু করেছিলেন একজন রাতের ফেরিওয়ালার স্বগত উক্তি দিয়ে। যার সঙ্গে ভাব ছিল কমিক চরিত্র ‘Silk Hat Harry’, সতী ও প্রাচীন নারীর প্রতীক ‘Old Jane’, হিজরা, ‘Trixie’ এবং ল্যাটিন নারীর প্রতিভূ ‘Stella’-র। এই চরিত্রদের কেন্দ্র করে ফেরিওয়ালার স্বগত উক্তি দিয়ে কবিতাটির সূচনা এলিয়ট এভাবে করেছিলেন:

First we had a couple of feelers down at Tom’s place,

There was old Tom, boiled to the eyes, blind,

(Don’t you remember that time after a dance?

Top hats and all, we and silk Hat Harry,

And old Tom took us behind, brought out a bottle of fizz,

With old Jane, Tom’s wife; and we got Joe to sing

“I’m proud of all the Irish blood that’s in me,

“There’s not a man can say a word again me”).

Then we had dinner in good form, and a couple of Bengal lights.

                                         [...]

Get me a woman, I said; you’re too drunk, she said,

But she gave me a bed, and a bath, and ham and eggs,

And now you go get a shave, she said; […]

We’d just gone up the alley, a fly cap come along,

Looking for trouble; committing a nuisance, he said,

You come on to the station. I’m sorry I said,

It’s no use being sorry, he said; let me get my hat, I said, 

                                       […]

The next I know the old cab was hauled up on the avenue

And the cabman and little Ben Levin he tailors,

The one who read George Meredith,

We’re running a hundred years on a bet,

And Mr. Donavan holding the watch.

So I got out to see the sunrise, and walked home.

কবিতায় এলিয়টের বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে এই ‘Tom’ চরিত্রের সঙ্গে উপরোক্ত চরিত্রগুলো একসময় মদ্যপান করে যাত্রাপালায় অভিনয় শেষে পতিতালয়ে গমন করে। সেখানে তারা ‘a fly cop’ মানে একজন সাধারণ পুলিশের হাতে বন্দী হয়। যা অনেকটাই জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ অনুসৃত। পাউন্ড এই অংশ কেটে এলিয়টের পাণ্ডুলিপির ৫৫তম লাইন থেকে কবিতাটি শুরু করেন। আর তা হচ্ছে:

April is the cruelest month, breeding

Lilacs out of the dead land, mixing

Memory and desire, stirring

Dull roots with spring rain

Winter kept us warm, covering

Earth in forgetful snow, feeding

A little life with dried tubers.

এভাবে অনেকটা নির্মম হাতে এজরা পাউন্ড ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতার সম্পাদনা করেছেন। যাতে করে কবিতাটির সুষমা, পরিণতি, বোধ ও সৌন্দর্য মহত্তে (Sublime) পৌঁছে গেছে। এখন আমাদের কাছে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ মানেই শুরু হয় ‘April is the cruelest month’ দিয়ে। এজন্য অবশ্য এজরা পাউন্ড প্রশংসার দাবিদার।

৩.

টি. এস. এলিয়টের টাইপ করা মূল পাণ্ডুলিপিতে সংশোধনের সময় পাতার মার্জিনে এজরা পাউন্ড ছোট ছোট মন্তব্য করেছেন। বাক্যের সংক্ষেপ রূপ হিসেবে তিনি যেমন লিখেছিলেন ‘echt’। এই শব্দটি জার্মান শব্দ। বাংলায় মানে খাঁটি বা আসল। ‘echt’ লিখছিলেন : ‘A rat crept softly trough the vegetation’ লাইনের বিপরীতে আর ‘And I Tiresias have fore suffered all/ Enacted on this same divan or bed’ এছাড়া তিনি এলিয়টের ‘the waste land’  পাণ্ডুলিপিতে ‘O.K; STET’ (মানে ‘Let it Stand’); ‘Too tum-pum at a stretch’; ‘too plenty’ [i.e. too much iambic pentameter; ‘Too loose’; ‘perhaps be demand’; ‘make up yr. mind’; ‘verse not interesting enough as verse to warrant so much of it’; ‘Too easy’ প্রভৃতি টার্মগুলো ব্যবহার করেছেন। এতে করে প্রমাণিত হয় যে অত্যন্ত যত্ন, নিষ্ঠা আর পরিশ্রম করে তিনি ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতাটি সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ করেছেন। যা বিশ্বসাহিত্যে সম্পাদনা রীতির একটি নতুন শিল্পকে উন্মেচিত করেছে।

একটি কবিতা শুধু যে কবির নিজস্ব সম্পদ তা নয়, তা হয়ে উঠতে পারে দেশ, জাতি বা কালাত্তীর্ণ। এই উত্তীর্ণ হবার প্রক্রিয়াকে সংহত, যৌক্তিক ও গঠনমূলক করে তুলতে পারে সম্পাদনা। তা হতে পারে কবির নিজের কিংবা যোগ্য সমালোচকের। এজরা পাউন্ড সে কাজটিই সম্পন্ন করেছেন এলিয়টের ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতার ক্ষেত্রে।

এলিয়টের প্রশংসা করতে হবে এই জন্যে যে, তার রচনাকর্মের ওপর যেভাবে সম্পাদনার কাঁচি চালিয়েছেন পাউন্ড, তা বিচক্ষণতার সঙ্গে মাথা পেতে নিয়েছিলেন তিনি। সে সঙ্গে পাউন্ডের অভিমত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন কবিতাটির শ্রীবৃদ্ধির ক্ষেত্রে। যেমন, পাউন্ড ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এ ব্যবহৃত এলিয়েটর অনেক শব্দগুচ্ছ, দৃশ্যচিত্র, চরিত্র ও ভাষার রূপ পরিবর্তন করে কবিতাটিকে টান টান করে তুলেছেন। যা এলিয়ট সানন্দে মেনে নিয়েছেন।

কিছু দৃশ্যচিত্র, ঘটনা ও চরিত্রের আবেগকে নিয়ন্ত্রণের জন্যে পাণ্ডুলিপির বাম পাশের সাদা অংশে সংক্ষিপ্ত মতামত দিয়েছিলেন এজরা পাউন্ড। বিশেষ করে টাইপিস্ট মহিলা আর ভগ্নস্বাস্থ্য যুবকের যৌনতার দৃশ্য প্রসঙ্গে। এ ক্ষেত্রে তিনি অতি যৌন-উত্তেজনাকে সংহত করার পরামর্শ দেন—যা এলিয়ট যৌক্তিক মনে করেছেন। এটা এজরা পাউন্ডের কৃতিত্ব যে তিনি ‘The Waste Land’-কে সংহত আর পরিণত কবিতা হিসেবে বিশ্বসাহিত্য-মোদীদের কাছে উপহার দিয়েছেন। তিনি মূল পাণ্ডুলিপির ১ম থেকে ৫৪তম লাইন যেমন বাদ দিয়েছেন; তেমনি ‘The Fire Sermon’ থেকে ৭২টি লাইন আর ‘Death by Water’ থেকে ৮৩ টি লাইন বাদ দিয়েছেন। এলিয়টও উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তার সৃজনের আবেগ এবং কবিতার শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমানো প্রয়োজন। যা এজরা পাউন্ড দক্ষ হাতে সম্পাদন করতে পেরেছেন। তাই বিনা বাক্যে পাউন্ডের পরামর্শ গ্রহণ করে নেন এলিয়ট।

পাউন্ডের সম্পাদনার পর এলিয়ট কবিতাটির ঘোর কাটিয়ে নির্মোহ উপলব্ধি দিয়ে অনুভব করতে পেরেছিলেন এই দীর্ঘ কবিতাটির কিছু কিছু অংশে কাঁচা আবেগ প্রকাশিত। যেমন:

Full fathom five your Bluestein lies

Under the flatfish and the squids.

Graves’ Disease in a dead Jew’s eyes!

উপরিউক্ত অংশটুকু তিনি পাউন্ডের পরামর্শে পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ দিয়ে গ্রন্থাকারে ‘The waste land’ প্রকাশ করেছিলেন।

৪.

এজরা পাউন্ড অনুভব করতে পেরেছিলেন কবিতায় টি. এস. এলিয়টের আধ্যাত্মিক ও কল্পনাপ্রবণ অবস্থানকে। এটাকে তিনি এলিয়টের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন। কবিতাটি সম্পাদনাকালে এ বিষয়কে মূলসূত্র হিসেবে গেঁথে দিয়েছেন কবিতার শরীর ও ভাবে। যা থেকে এলিয়টের কাব্য-বৈশিষ্ট্য একটা স্বতন্ত্র মাত্রা পেয়েছে।

টি. এস. এলিয়টের পুরাণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতার প্রতি যে অনুরাগ, তাকে পাউন্ড কবিতায় মিথোষ্ক্রিয়া করেছেন দক্ষ রসায়নবিদের মতো। যে কারণে এলিয়ট তার এই কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পাতায় এজরা পাউন্ড সম্পর্কে লেখেন : ‘il miglior Fabbro’। ইতালিয়ান এই বাক্যের অর্থাৎ ‘The better craftsman’ বা ‘দক্ষ কারিগর’ বা ‘দক্ষ কামার’।

এজরা পাউন্ড ‘The Waste land’ কবিতার ক্ষেত্রে দুটি বড় পরামর্শ দিয়েছিলেন টি. এস. এলিয়টকে। তা হচ্ছে:

এক. কবিতাটি থেকে দীর্ঘ অংশ ও দীর্ঘ বাক্য বাদ দিয়ে ঘন বিন্যাসে সাজানো।

দুই. কবিতার ছন্দ-বিন্যাসকে ভেঙে ফেলা।

এলিয়ট ত্রিকালদর্শীর মতো এ পরামর্শের গভীরতাকে উপলব্ধি করেছেন এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। পাউন্ডের সম্পাদনার এই আস্থার কারণে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ আজ বিশ্বসাহিত্যের অনন্য সংযোজন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বস্ত ইউরোপে আধুনিক সংস্কৃতির নামে যে অবক্ষয় নেমেছিল, তারই প্রতিচ্ছবি এই ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতাটি। পাউন্ড কর্তৃক বিশদ সম্পাদনার পর প্রকাশিত এই কবিতায় আবেগের চেয়ে বুদ্ধিদীপ্তির নির্মল ব্যবহার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিশ্বপাঠকের কাছে। এক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না যে, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় ছিলেন অবশ্যই এজরা পাউন্ড।

//জেডএস//

লাইভ

টপ