বুকার জয়ী মার্গারেট অ্যাটউডের সাক্ষাৎকার

Send
ভাষান্তর : মোজাফফর হোসেন
প্রকাশিত : ০৭:০০, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৫, অক্টোবর ২০, ২০১৯

কানাডার কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য-সমালোচক মার্গারেট অ্যাটউড (জন্ম : ১৯৩৯) বিংশ শতকের আলোচিত নারীবাদী উপন্যাস ‘দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেল-এর সিক্যুয়েল ‘দ্য টেস্টামেন্টস : দ্য সিকুয়েল টু দ্য হ্যান্ডমেড’স টেল’-এর জন্য এ বছর বুকার পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার পেলেন। তার সঙ্গে নিয়ম ভেঙে যৌথভাবে ‘গার্ল, উইমেন, আদার’ উপন্যাসের জন্য পুরস্কারটি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ব্রিটিশ লেখক বার্নারডাইন এভারিস্টো। গত কয়েক বছর ধরে অ্যাটউডের নাম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য উচ্চারিত হয়ে আসছে।

অ্যাটউডের এই সাক্ষাৎকারটি প্যারিস রিভিউইয়ের সৌজন্যে আমেরিকান কথাসাহিত্যিক ম্যারি মরিস গ্রহণ করেছিলেন।

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিষয়টি সবসময় আপনার লেখার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে এসেছে। কারণ কী?

আমি কানাডার উত্তর-বনাঞ্চলের ভেতর বেড়ে উঠেছি। সেখানে টিকে থাকতে হলে কিছু বিষয়ে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন। আমি যখন বেড়ে উঠছিলাম। জনহীন প্রান্তরে কিংবা জঙ্গলের ভেতরে টিকে থাকার জন্যে যে ধরনের প্রশিক্ষণ-ব্যবস্থা এখন চালু হয়েছে, তখন তা ছিল না। তবে আমাকে অল্পবিস্তর শেখানো হয়েছিল—আমি যদি জঙ্গলে পথঘাট হারিয়ে ফেলি, কীভাবে তা খুঁজে পাওয়া যাবে সেসব বিষয়। কাজেই অস্তিত্বের সংগ্রামটি শুরু থেকেই আমার জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল।

 

অস্তিত্বরক্ষার বিষয়টি শারীরিক কৌশল থেকে কখন বুদ্ধিবৃত্তিক বা রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ হয়ে দাঁড়ালো?

যখন আমি কানাডাকে একটি দেশ হিসেবে ভাবতে শুরু করলাম, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম শুধু ব্যক্তিক না, জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ষাটের দশকে যখন আমি যুক্তরাষ্ট্রে আসলাম, দেখলাম, কেউ ভালোভাবে জানে না, কানাডা কোথায় অবস্থিত। কারো ভাই হয়ত সেখানে মাছ ধরতে বা অন্য কোনো কাজে গেছে। আমি যখন হার্ভাডে ছিলাম, আমাকে এক নারী ‘বহিরাগত ছাত্র’ হিসেবে তার বাসায় দাওয়াত করেছিল। আমাকে বলা হয়েছিল, আমার স্থানীয় সাজে যেতে। দুঃখের বিষয়, আমার পোশাকগুলো বাড়িতে রেখে এসেছিলাম।

 

নারীদের বই প্রকাশের ঝামেলা কি পুরুষদের থেকে বেশি?

এই প্রশ্নের ব্যপ্তিটা অনেক। যেমন, তুমি কি উত্তর আমেরিকা, আয়ারল্যান্ড বা আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটা করছ? নারী-পুরুষ এই লিঙ্গভেদ ছাড়াও আরো অনেক প্রসঙ্গ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যেমন: বয়স, শ্রেণি, বর্ণ, অঞ্চল, জাতীয়তা, পূর্বোক্ত প্রকাশনা, যৌনপ্রবণতা। আমার মনে হয়, প্রশ্নটা আমরা সাজিয়ে এভাবে করতে পারি—কোনো নারী লেখকের জন্যে তার সমগোত্রীয় অপর একজন পুরুষ লেখকের প্রথম উপন্যাস প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য থাকে কি না? উত্তর হল—থাকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই নারীরা প্রকাশক খুঁজে পান না, যেমন মধ্যপ্রাচ্যের নারী লেখকদের কথা ধরো, কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার কালো নারী লেখকদের কথা ধরো। আমি তো বলবো, তাদের জন্যে লিখে যাওয়াটাই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের।

তবে যদি উত্তর আমেরিকার প্রকাশকদের কথা বলি, এখানে যা দিয়ে তারা ব্যবসা করতে পারবে, তাই তারা প্রকাশ করবেন। সেটা নারী-পুরুষ বা কচ্ছপের লেখা হলেও চলবে। এখানে নারী পুরুষ বলে আলাদা করে কোনো পলিসি থাকে বলে আমি মনে করি না। তবে হ্যাঁ, এখনো যে পরিমাণ বই বের হয়, তার অধিক সংখ্যক পুরুষদেরই লেখা, আলোচকরাও পুরুষ। আলোচকদের বিষয়ে কথা হতে পারে। এখানে এসেই ঝামেলাটা তৈরি হয়।

 

একজন নারী লেখকের জন্য পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা কতটা কঠিন?

আমার বইয়ের বেশিরভাগ বর্ণনাভঙ্গি বা দৃষ্টিভঙ্গি নারীর। তবে আমি কখনো কখনো এমন চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও লিখেছি যে পুরুষ। লক্ষ করো, আমি সরাসরি ‘পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি’ বললাম না। আমি নিজে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করি না। আমার বিশ্বাস নারীর দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমি তখনই কেবল পুরুষ বর্ণনাকারীর আশ্রয় নিই, যখন তার খুব দরকার পড়ে।

 

কেবল মাত্র বই পড়েই আপনি কি বলে দিতে পারেন, সেটা নারী না পুরুষ লেখকের লেখা?

কখনো কখনো অবশ্যই, তবে সবসময় না। একসময় তো মনেই করা হত, নারীরা পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখতে পারেন না, লেখা উচিতও না। পুরুষরা নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে উপস্থাপন করতে চায় না। অথচ এটা প্রমাণসিদ্ধ যে, কথাসাহিত্যে বা মঞ্চের বেশিরভাগ বদমেজাজী, বাজে স্বভাবের পুরুষ চরিত্রগুলো পুরুষ লেখকদেরই সৃষ্টি। একজন পুরুষের পা দিয়ে গন্ধ বের হচ্ছে, সে টেবিলে বসে খেতে জানে না, তার কোনো মূল্যবোধ নেই, এটা যদি কোনো পুরুষ লেখক লেখেন তো ঠিক আছে; কিন্তু যদি কোনো নারী লেখক একই কথা লেখেন, তাহলে বলা হবে যে সেই নারী লেখক পুরুষবিদ্বেষী। পুরুষের আত্মমর্যাদায় তখন বাধে। আবার নারী লেখক যদি আদর্শ কোনো পুরুষ চরিত্রের কথা তুলে ধরেন, অন্য পুরুষরা তাকে ‘দুর্বল’ বলে চিহ্নিত করবেন;—যদিও একজন পুরুষ লেখক যখন একজন পুরুষ চরিত্রকে দিয়ে রান্নাঘরের কাজ করিয়ে নেন, তখন সেটি হয়ে ওঠে ‘বাস্তবসম্মত’ বিষয়।

 

কবিতা এবং কথাসাহিত্য লেখার বিষয়টা আপনার কাছে কীভাবে আলাদা হয়ে ধরা দেয়?

আমার তত্ত্ব হল, কবিতা এবং কথাসাহিত্য মোটামুটি সহাবস্থানে থেকে মস্তিষ্কে আলাদাভাবে অবস্থান করে। যখন আমি একটি উপন্যাস লিখি, আমি মনে করি তখন আমি অনেক বেশি সুসংগঠিত, হিসেবি থাকি। উপন্যাস লিখতে গেলে তা হতেই হবে। কিন্তু কবিতা আসে মুক্ত প্রবাহের মতো, তখন অতো হিসেব কষলে চলে না।

 

আমার মনে হয়, আপনি কবিতায় সমস্যার সমাধান বের করে আনেন, আর সেটাকে আরো নাটকীয় করে উপন্যাস করে তোলেন। 

আমার কাছে কবিতার সৃষ্টিতত্ত্ব হল একগুচ্ছ শব্দ। আমি মনে করি না যে, আমি কবিতায় সমস্যার সমাধান বাতলে দিই। আমি সমস্যাগুলোকে উন্মোচন করি মাত্র। তারপর উপন্যাসে সমস্যাগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে একটা গন্তব্যে আসার চেষ্টা করি। তবে কবিতা লেখার সময় সেই চিন্তাটা করি না। আমি তখনও জানিই না যে, এই কবিতায় হয়ত আমাকে পরবর্তী উপন্যাসের দোরগোড়ায় নিয়ে যাবে। কেবলমাত্র কবিতা শেষ করার পরেই আমি বলতে পারি—ঠিক আছে, এখান থেকে আরো এগুনো যায়।

 

আপনি কি কখনো শব্দ-সংকটে ভোগেন?

প্রত্যেক লেখকই শব্দ-সংকটে ভোগেন, বিশেষ করে সিরিয়াস লেখকরা।

 

আপনার লেখায় এত বেশি সহিংসতা কেন? বিশেষ করে শারীরিক নিপীড়ন

মানুষজন খুব আশ্চর্য হয়, একজন নারী লেখক সহিংসতা নিয়ে লিখছে দেখে। ধারণা করা হয়, নৃশংসতা, বিশেষ করে শারীরিক নিপীড়ন, পুরুষ মানুষের জগৎ। এটা নিয়ে নারীরা ভাববেন না বা নারীরা স্বভাবগতভাবেই এড়িয়ে যাবেন। অবশ্যই জেন অস্টিন বা জর্জ এলিয়টের চেয়ে আমি অনেক বেশি নৃশংসতা নিয়ে লিখি। তারা সেই সময় এ নিয়ে লেখেননি। চার্লস ডিকেন্স রক্তপাত নিয়ে লিখেছেন, সেটি তারা লিখলে কেউ প্রকাশ করতো না। এটা ঠিক, আমি নৃশংসতার মধ্যে বেড়ে উঠিনি। আমার চারপাশের মানুষজন ছিল অনেক সভ্য ও ভদ্র। যখন আমি বিশ্বের ব্যাপক অংশে পা রাখলাম, লক্ষ করলাম, যারা নৃশংসতার মাঝে বাস করে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের চেয়ে যারা তার বাইরে আছে তাদের জন্যে এটা অনেক বেশি ভীতিকর এবং সাংঘাতিক। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, যদিও আমাদের নিকটে কোনো যুদ্ধ হয়নি, তবুও যুদ্ধের সেই উৎকণ্ঠা-ভয়াবহতা এখনো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কানাডা ১৯৩৯ সালে যুদ্ধে অংশ নেয়, আমার জন্মের দুমাস আগে। মাথাপিছু মৃত্যুহার অনেক বেশি ছিল।

 

তারপরও আপনি এমন করে লেখেন যেন, আপনি নৃশংসতার মাঝে বেড়ে উঠেছেন।

আমি তো অনেক কিছুই এমনভাবে লিখি যেন আমি তার মধ্যে দিয়ে গেছি—আমি তো ক্যান্সারের সঙ্গে বাস করিনি। আমি কখনো মোটা-স্বাস্থ্যবান ছিলাম না। আমার ভিন্ন ভিন্ন অনুভব-শক্তি আছে। আগে থেকে ঠিক করা যায় না, কোন লেখায় কী ধরনের বিষয়বস্তু আসবে।

 

সেক্স নিয়ে লেখা সহজ কি-না?

সেক্স বলতে আপনি যদি কেবলই যৌনক্রিয়া বোঝান, তাহলে বলতে হয়, আমি ঐ বিষয়ে তেমন একটা লিখি না। তার স্তন ছিল আপেলের মতো—এভাবে বললে সবকিছু কেমন খেলো হয়ে যায়। সেক্স মানে তো কেবলই শরীরের বর্ণনা নয়, এর সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদেরও একটা সম্পর্ক আছে। তাই ঘরের আসবাব, অথবা গাছের পাতা— এসবের কথাও চলে আসে। সবকিছু মিলেই রোমান্সের একটি দৃশ্যপট তৈরি হয়।

 

মাতৃত্ব আপনাকে কতখানি পরিবর্তন করেছে?

আমি যখন লিখতে শুরু করি, তখন নারী লেখকদের অবস্থান নিয়ে আমি ভাবতাম—ভার্জিনিয়া উলফ আত্মহত্যা করেছেন, এমিলি ডিকিনসন এবং ক্রিস্টিনা রসেট্টির মতো লেখক একান্তবাসী হলেন, ব্রন্টিরা দুই বোন অল্পবয়সে মারা যান। তুমি আবার হ্যারিয়েট বেচার স্ট্রো বা মিসেস গাসকেল-এর ব্যাপারে ভাবতে পারো—তারা দীর্ঘজীবন বেঁচেছিলেন। জর্জ এলিয়ট কিংবা জেন অস্টেনের কোনো সন্তান ছিল না। এই সকল নারী লেখকের দিকে তাকিয়ে মনে হল, নারী লেখকদের জন্যে একইসাথে লেখালেখি এবং স্বামী-সন্তান-সংসার সামলানো কঠিন। কিছুদিন আমি ভাবলাম, সন্তান এবং লেখালেখি-এর মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেবো। পরে আমি একটা সুযোগ নিলাম।

 

আপনার বেশিরভাগ লেখায় ভালোবাসা এবং ক্ষমতা সম্পর্কযুক্তভালোবাসা ক্ষমতার রাজনীতিতে একটিশক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। আপনি কি নারী-পুরুষের সম্পর্ককে এর বাইরে আনা সম্ভব বলে মনে করেন না?

নারী-পুরুষের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ক্ষমতার স্তম্ভের অংশ বলেই আমি মনে করি। কারণ এই সমাজে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি ক্ষমতাধর। প্রেমের সম্পর্কে নারীকে তার সততা টিকিয়ে রাখার কথা ভাবতে হয়, পাশাপাশি তাকে তার নিজস্ব শক্তিও টিকিয়ে রাখতে হয়। ভালোবাসায় অহংবোধটা কমে যায়। ইতিবাচক দিক হল, এ থেকে মহাজাগতিক বোধের সৃষ্টি হয়। আর নেতিবাচক দিক হল, আত্মসত্তার শক্তি লোপ পায়।

নিজে ব্যক্তি হিসেবে কী ভাবি তা ভিন্ন কথা। আমি একজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম। কিন্তু উপন্যাস তো কেবলই আত্মপ্রকাশ নয়। আমি উপন্যাসকে দেখি সমাজের ভেতর প্রবেশ করার পরিবহন হিসেবে। এটা হল ভাষা এবং বাস্তবতার একটা যোগসাধন। আমি যখন কোনো উপন্যাসের চরিত্র নির্মাণ করি, সেই চরিত্র আমার নিজের জীবনের কথা বলতে আসে না। তাকে আমি সামগ্রিকতার মধ্যে তৈরি করি। 

 

আমি দেখেছিআপনার চিন্তার ক্ষেত্রে অর্থ একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে চলে আসে। আপনি কিএভাবেই সবকিছু দেখেন?

তুমি যখন অর্থকষ্টে থাকবে তখন তোমাকে সেটা করতে হবে। আমি একটা সময় এতটা সচ্ছল ছিলাম না। তবে আমার দারিদ্র তথাকথিত দরিদ্রতার মতো ছিল না। কারণ, আমার পরিবার বনের মধ্যে বাস করতো, সেখানে বোঝা মুশকিল তুমি ধনী না গরিব। আমাদের বেঁচে থাকার জন্যে যা যা দরকার তার সবই ছিল। আমরা নিজেরা সবজি উৎপাদন করে আমাদের চাহিদা মেটাতাম। আমরা এমন এক সামাজিক কাঠামোর মধ্যে ছিলাম যে, এটা তখন ধর্তব্যে আনার মতো বিষয় ছিল না। এরপর আমি যখন বাইরের জগতে পা রাখলাম, আমাকে নিজের ভরণ-পোষণের দিকে গুরুত্ব দিতে হল। আমাকে আর্থিকভাবে স্বাধীন করে তোলা হল। অর্থ নারীদের জন্যে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তুমি ভাবতেই পারবে না অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতার বিষয়টি তোমার চিন্তা-চেতনার জায়গাটা কতটা বদলে দিতে পারে।

 

আপনি কি সবসময় প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন?

আমি বেড়ে উঠেছি জঙ্গলে—পরিবার ছাড়া সব ধরনের সামাজিক-রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে। যেভাবে অন্য ছেলে-মেয়েরা শিশুকাল থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক বোধের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠে, সেভাবে প্রতিষ্ঠানকে বুঝে ওঠার বা মানিয়ে নেয়ার সুযোগ আমার হয়নি।

 

আপনার একান্ত কোনো অনুভূতির কথা জানতে চাচ্ছিলাম?

আচ্ছা, আমি তখন কোপেনহেগেনে ছিলাম। রাস্তায় একা একা হেঁটে যাচ্ছিলাম। ডেনামার্কের সঙ্গে গ্রীনল্যান্ডের একটা ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এখানে ইনুইট জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশের বাস। সেদিন রাজপথে ইনুইটরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নাচানাচি হৈহুল্লোড় করছিল। তারা মুখে আঁকাআকি করে পুরাণের দৈত্য-দানবের মুখোশ পরেছিল। হঠাৎ করে এক প্রেতাত্মা আমার দিকে এগিয়ে এসে মুখের মুখোশ তুলে বলল, আপনি কি মার্গারেট অ্যাটউড? আমি হ্যাঁ বললে সে বলল, আমি আপনার লেখা পছন্দ করি। এটা বলেই সে তার মুখোশ পরে উল্লাস করতে করতে জনসমুদ্রে হারিয়ে গেল।

//জেডএস//

লাইভ

টপ