জীবনানন্দ দাশ : ধরা যাক দু’একটি ইঁদুর এবার

Send
মোস্তফা তারিকুল আহসান
প্রকাশিত : ১৬:০০, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৫, অক্টোবর ২২, ২০১৯

জীবনানন্দ দাশের নাম এখন বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে যেভাবে, যেমন সমীহ সহকারে উচ্চারিত হয় তার কিয়দংশ যদি তিনি জীবদ্দশায় পেতেন তাহলে হয়ত তার জীবনে কিছুটা সরসতা জমা হত। মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে যে শোরগোল হয়েছে বাংলা ভাষার অন্য কোনো কবির বেলায় সেটি হয়নি। এটা বোধহয় শুধু বাঙালিরাই করতে পারে। মনে করা যায় জীবনটা বাজি রেখেই তিনি লিখে গেছেন। কবিতার বাইরে তার যে অজস্র গদ্য রচনা ছিল তা তিনি বেঁচে থাকতে প্রকাশ করেননি, কাউকে পড়তেও দেননি। সেই সব রচনার পরিমাণও বিপুল যদিও তার মান নিয়ে নানা সংশয়বাদী কথাবার্তা বলা হচ্ছে বা হয়। জীবন ছেনে-নিংড়ে রস বা অম্লধারা বের করে তিনি যা লিখেছেন তা কখনো তার জীবনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া নয় (যা তার কথাসাহিত্যে কিছুটা আছে বলে ধারনা করা হয়) বরং তাকে শিল্প করে তুলেছেন। আপাতভাবে অগোছালো বা জীবনে ব্যর্থ মানুষটি সারা পৃথিবীর সাহিত্য সংস্কৃতি-সমাজ-বিজ্ঞান নিয়ে রীতিমত আপ-টু-ডেট ছিলেন। ভাবতে বিস্ময় লাগে যে জীবনে হতাশা ও দারিদ্র্য তাকে নাস্তানাবুদ করলেও তার কবিতা এসব থেকে মুক্ত ছিল। তবে জীবনের গ্লানি বা হাহাকারকে তিনি বিকারে পরিণত না করে তাকে শিল্প করে তুলেছেন সেটাও বোধহয় তার সবচেয়ে বড় সফলতা।

কবি মারা যাওয়ার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়: যারা তাকে জীবদ্দশায় পাত্তা দেননি তারাও তাকে সম্মান দেখানোর চেষ্টা করেন। এর অনেক অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ একরকম হতে পারে, তার সমসাময়িক কবি বা লেখকেরা তার ক্ষমতা সম্পর্কে জানতেন, তার কবিতার নতুনত্ব, শক্তি ও সম্ভাবনার কথা জানতেন বলে আমাদের ধারণা এবং অনেকটা অসূয়াবশত তার প্রতি তারা বিরূপ আচরণ করেছেন বা তাকে আলোর পাদপীঠে না আনার আয়োজন করেছেন। অথবা তার সমসাময়িক লেখকেরা তাকে বুঝতে পারেননি বা তাকে বোঝার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। বাংলা কবিতার বাইরে সারা বিশ্বের কবিতা সম্পর্কে তার ধারণা ছিল বেশ গভীর এবং এর সাথে নিজের অভিজ্ঞতাকে মণ্ড করে কবিতার নতুন একটি গঠনগত আকল্প তিনি তৈরি করতে পেরেছিলেন যা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে দীপ্ত। তবু কবির দ্বিধার অন্ত ছিল না। তিনি অবিরাম চালু রেখেছেন তার কাব্য পরিক্রমার নানা পর্যায়।

আমরা ভূমেন্দ্র গুহ’র সম্পাদনায় যে কবিতা সংকলন পাই সেখানে কবির অজস্র অপ্রকাশিত লেখা যা প্রকাশিত লেখার চেয়ে বেশি মনে হয়। কবি এসব ছাপেননি। তার ডায়েরিতে এগুলো লেখা ছিল। কেন ছাপেননি তার একাধিক ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। দুর্জনদের মনে হতে পারে কবি গল্প-উপন্যাসের মতো এগুলোকে দুর্বল ভাবতেন, তাই সংকোচে বা দ্বিধায় হয়ত তিনি এই রচনা ছাপতে দেননি। আমাদের ধারণা, এসব মূল্যবান এবং প্রচুর লেখা তিনি ছাপতে দেননি কারণ তার কবি স্বভাবের মধ্যে একটি স্ব-বিরোধীতা হয়ত ছিল। নিজের যাপিত জীবন নিয়ে তিনি বেশিরভাগ সময় অসন্তুষ্ট ছিলেন; চাকরিহীন বা স্বাচ্ছন্দ্যহীন সাংসারিক জীবনে তিনি খানিকটা নিজের মধ্যে গুটিয়ে ছিলেন সবসময়। একটি লেখক-সত্তা, বিশেষত কবি-সত্তাকে বাইরে থেকে বোঝা সব সময় সম্ভব নয়—অনবরত কবি-সত্তা চঞ্চল এক বোধের দ্বারা তাড়িত হতে থাকে, সেই তাড়নারও সবটা ব্যাখ্যাযোগ্য নয়। তবে জগৎ সংসার সভ্যতা ও মানবকুলের মানবিক পরম্পরা কবিকে স্পর্শ করে। এই সংবেদনাজাত অভিপ্সাই তাকে তাড়িত করে। সময় ইতিহাস মানবসম্পর্ক আনুভূতিক নানা বাঙময় প্রপঞ্চ কবি উপলব্ধি করেন। সবটাকে মণ্ড ক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কাব্যের রসায়ন তৈরি করেন। বাস্তবের সঙ্গে বা সামাজিক নানা ঘটনাবর্তের সঙ্গে তিনি এই গভীর সঞ্চারমান সত্তাকে মেলাতে গিয়ে গলদঘর্ম হন কখনো। জীবনানন্দ দাশ সেই কারণে বোধ করি নিজের কবিতাকে আর কারো সামনে নিতে চাননি। তার অভিমান-রাগ-ক্ষোভ থাকার কথা। কারণ এ সময়ের লেখকেরা তাকে খুব ভালভাবে নেননি। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তার ওপর নিস্পৃহ ছিলেন।

এখন তার এত গুরুত্বপূর্ণ রচনা বের হওয়ার পর বাংলা ভাষার কবিরা কি খুব প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন? নতুন করে জীবনানন্দ নিয়ে উৎসাহে মেতেছে? মাতামাতি হচ্ছে সেটা ঠিক। তাকে নানা উপাধি দিয়ে (অন্ধকার যুগের বিমূঢ় কবি, এই রকম আরো কত সম্বোধন) তার ওপর নানা গ্রন্থ এমনকি তাকে নিয়ে উপন্যাসও লেখা হল। তবু আমাদের ধারণা এই কবির প্রতিভার সামগ্রিক পরিচয় আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়নি। প্রেম-প্রকৃতি-সংসার-পৃথিবী-সভ্যতা এবং মানবিক বোধের চূড়ান্ত মর্মবাণী আমরা দেখেছি তার কবিতায়; দেখেছি অপাঙক্তেয় নানা বিষয় বা বস্তুনিচয়কে কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা। জগতের সমগ্র ভাববস্তুকে তিনি আশ্লেষে গেঁথে ফেলতে পেরেছিলেন। বাস্তব জীবনের টানাপড়েন বা গ্লানিকে অনেকবার মিথিকাল আবহে বর্ণনা করেছেন। বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কার, পৌরাণিক অজস্র প্রসঙ্গকে তিনি বর্তমানের সাথে মিলিয়েছিলেন খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে। তিনি নিজের হৃল্লেখবীজের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছেন। আপন সত্তার কাছে সমর্পিত থেকেছেন। গভীর নিস্তব্ধ নিস্পৃহ এক জনপদ ও মানবিক বিশ্ব তিনি তৈরি করেছিলেন। মরণ-পরজন্ম-পুনর্জন্ম কিংবা পৃথিবীর জন্ম গভীর আততিসহ তাকে স্পর্শ করে এবং এর দ্বারা জারিত কাব্যবোধের নানা ডালপালা আমাদের ইন্দ্রিয়কে উত্তেজিত করে। এই বোধজাত অধীরতা সবাইকে সংশ্লিষ্ট করে, সংযুক্ত করে। প্রাণের গঙ্গায় ভেসে যায় সবাই—সবটাই যে উপলব্ধির জানালা স্পর্শ এমন নয় তবে এর আস্বাদন ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, চারদিকে। বিস্তারিত হয়ে পড়ে মানবিক জগতের প্রতিটি কণায় কণায়। মূর্ত হয়ে যায় বিমূর্ত, বিমূর্ত হয়ে পড়ে মূর্ত। সত্য-অসত্য বলে কিছু থাকেনা; সব প্রপঞ্চ হয়ে পড়ে অনিবার্য। এভাবে কবির চিন্তাবিভূতিকে পাঠকের কাছে বা আলোকিত মানবপৃথিবীর কাছে অনিবার্য করে তোলাই বোধহয় একজন শক্তিশালী কবির কাজ। সেই কাজ, কে কতটুকু করতে পারে তার ওপর নির্ভর করে কবির কাব্যসফলতা। শব্দ বা বাক্যের চাতুর্য বা কারুকাজ দিয়ে পঙক্তি তৈরি করলে আপাতভাবে যে পদ্য রচিত হয় তাকে কবিতা বলা যে সম্ভব নয় তা কবি জীবনানন্দ দাশ খুব ভালভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। সে কারণে সে পথে তিনি হাঁটেননি। বরং জীবনকে সেই উপলব্ধির প্রাখর্যে তিনি নিতে পেরেছিলেন, জীবনের নানাবিধ অধীরতাকে শিল্পময় করে তুলতে পেরেছিলেন। এভাবে অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির নির্যাস নিয়ে অপূর্ব অনপনেয় এক কাব্যজগত তিনি তৈরি করেছিলেন যা শাশ্বত ও শক্তিমান হয়ে উঠেছিল। মহাসময় মহাবিশ্ব বা মহাবোধকে তিনি যেমন সহজ ভঙ্গিতে গেঁথে ফেলেন তেমনি পারিবারিক সংসর্গ স্নেহ মমতাকে তিনি স্পর্শ করেছিলেন। এই বৈচিত্র্য তার কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ‘মেয়ে’ নামের কবিতায় তিনি লিখেছেন: আমার এ-ছোট মেয়ে—সব শেষ মেয়ে এই/ শুয়ে আছে বিছানার পাশে—/, শুয়ে থাকে—উঠে বসে—পাখির মতন কথা কয়/ হামাগুড়ি দিয়ে ফেরে/ মাঠে -মাঠে আকাশে- আকাশে/ ভুলে যাই ওর কথা—আমার প্রথম মেয়ে সেই/ মেঘ দিয়ে ভেসে আসে যেন/ বলে এসে: বাবা,তুমি ভালো আছ?—ভালোবাস?/ হাতখানি ধরি তার: ধোঁয়া শুধু/ কাপড়ের মতো সাদা মুখখানা কেন!

এই কবিই আবার জীবনের অন্য বাস্তবতার কথা বলেন ভিন্নভাবে, সেখানেও তাকে বেশ সপ্রতিভ মনে হয়ে যায় অর্থাৎ সবকিছু তার অভিজ্ঞানে ছিল; সেখান থেকে তিনি টুকরো টুকরো করে নিয়ে ব্যবহার করছেন কবিতায়, যেন অজস্র গল্পের ডালপালা তিনি জড়ো করে রেখেছেন। হতে পারে কবি নিজে এসব পাওয়ার জন্য এক অন্যরকম সংযোগ রচনা করে নিয়েছেন নিজের মতো করে। তাহলে তিনি কি বিশেষকে নির্বিশেষ করে স্বতঃসিদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করছেন? সবটা কী কল্পনার বিস্তারিত জটাজাল? আগেই বলেছি অভিজ্ঞানই কবির প্রকৃত শক্তি এবং এর সাথে যুক্ত হয় কবির নিজস্ব বুদ্ধির শাণিত বাতাবরণ। শব্দের সাথে বুদ্ধি-যুক্তি-ভাব আর অভিজ্ঞানের সংমিশ্রণে যে আলোকিত প্রসবণ তৈরি হয় তার মৃত্যু নেই। কারণ মানবসত্তা ও তার বৈচিত্র্যময় প্রকাশের নানা প্রকরন্ত কবি বেশ অনায়াসে আয়ত্ব করে ফেলেন। কবি জীবনানন্দ দাশ এই সংশ্লেষ তৈরি করার অভিনব শক্তি পেয়েছিলেন। যেহেতু পৃথিবী সভ্যতা জীবন জীবনযাপনের সত্য ও তার বিবিধ পরাক্রমকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন নিজের রঙে সেকারণে সেই অফুরন্ত রঙের বর্ণচ্ছটা তার কবিতার পঙক্তিতে মিশে যেত। এই সংশ্লেষাত্মক ও সংবেদনশীল কথামালার এমনই প্রক্ষেপ অন্য মানবের ওপর পড়ে যে, সে মোহিত হয়ে যায়। ‘পৃথিবীলোক’ নামে একটি কবিতায় কবি লিখছেন: দূরে আছে কেবলই নগর, ঘর ভাঙে/ গ্রামপতনের শব্দ হয়;/ মানুষেরা ঢের যুগ কাটিয়ে দিয়েছে পৃথিবীতে,/ দেয়ালে  তাদের ছায়া তবু/ ক্ষতি,মৃত্যু,ভয়,/এসব শূন্যতা ছাড়া কোনো দিকে আজ/ কিছু নেই সময়ের তীরে।’

তার সময়ের প্রায় সমস্ত বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল; ভারতবর্ষ তো বটেই গোটা পৃথিবীর ইতিহাস, রাজনৈতিক উত্তাপ, মানবিক বিপর্যয় তাকে বিমোহিত করত। তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন তবে কখনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। তবে রাজনৈতিক কারণে যে মহা মহা মানাবিক দূর্যোগ এসেছিল পৃথিবীতে, তাকে তিনি কবিতার বিষয় করে তোলার সময় খুব সচেতন ছিলেন, যা সে সময়কার অন্য কবিদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি। শিল্প ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য ও অন্বয়কে তিনি খুব ভাল করে জানতেন। দ’দুটো বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্কর তাপে তিনি পুড়েছেন, উপলব্ধি করেছেন মানুষের করুণ পরিণতি, সামূহিক মানবিক বিনাশ। ‘মহাযুদ্ধ শেষ হয়েছে’ নামক একটি কবিতায় তিনি লিখেছেন:  এসো রাত্রি,অজানার সহোদরা তুমি/ মুমূর্ষু আলোর ভীষণতাকে তোমার শান্তি-নিঃশব্দতার ভিতর গ্রহণ করবার জন্য/শোনো পৃথিবী,এই রাত্রির শীত, সফল বিসরণ, /এসো মৃত্যু,রাত্রির সহোদরা তুমি,/ সময়ের এই অসৎ স্বাক্ষরিত অস্পষ্টতাকে নিঃশেষ করবার জন্য।/ যে আদি আচ্ছন্নতার থেকে এসেছিল—/ মিশে যাক সে অনাদির বাষ্পলোকে;/ যে জীবন নয়, সে মৃত্যুর নিস্তব্ধ অন্ধকারে/ নির্মম পবিত্রতায় লীন হোক, নিত্য হোক, অনিমেষ হয়ে উঠুক।

যে পৃথিবীর বা যে জীবনের তিনি ছবি আঁকতে চেয়েছিলেন তা প্রায়শ অন্ধকারে ঢাকা; বিপুল আঁধারের মধ্য তিনি জীবনকে চিনে নিতে চেয়েছিলেন। কষ্ট-দুঃখ-বেদনা আর মানবিক বিপর্যের নরক বিস্তারকে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন তবে এ থেকে তিনি কবিতা বা শিল্পের বর্ণবিভক্তি সনাক্ত করতে পেরেছিলেন। কখনো এই ক্রুর উপলব্ধি উপস্থাপন করার জন্য স্যাটায়ারের আশ্রয় নিয়েছেন। কবিতাকে চিরন্তন অনুভূতির কেন্দ্রে রাখতে পেরেছিলেন বিচিত্রভাবে। এখানেই কবি জীবনানন্দের শক্তি ও সম্ভাবনাকে শনাক্ত করা যায়। ইঁদুর বা অন্য প্রাণীকে কবিতায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কবির এই স্যাটায়ারধর্মিতার ছবি আমাদের এই মনে করিয়ে দেয় যে, তিনি সমসাময়িক বাস্তবতাকে সহ্য করতে পারেন না; সে কারণে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভতে এভাবে কবিতায় ব্যবহার করেন। তার এই শ্লেষধর্মী বয়ান আমরা প্রথম থেকেই শেষ পর্যন্ত লক্ষ করি। ১৯৩৯ সালে রচিত অপ্রকাশিত একটি কবিতায় কবি লিখেছেন; চারিদিকে রয়েছে বিলোল নৃশংসতা/ মৃত্যু: এই সত্তার গাঢ় অপমান/ তবু যদি বলা যেত—কোনও দিন পৃথিবীতে/ ছাগল’রা পেয়েছে সম্মান/ অথবা আগামী কাল অর্থ-ছাগ—সিংহ-রূপ/ কোনও এক পূর্ণতর পদ-বিক্ষেপে/ ছাগল সিংহকে যাবে চেপে/ প্রয়োজন র’বে না’ক মেঘ-গর্জনের/ কুটিল ব্যাখ্যার থেকে দার্শনিক পাবে পরিত্রাণ।’

বর্তমান কালে জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে যে আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে তার একটি বড় অংশে দেখা যাচ্ছে কবির কবিতার চেয়ে তার জীবনকে আগ্রহের বিষয় করে তোলা হচ্ছে। একদা অজনপ্রিয় কবি মৃত্যুপরবর্তীকালে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। তার পরের প্রজন্মের বেশি কবিকে তিনি তার দিকে দৃষ্টি দিতে বাধ্য করলেন। কবি হিসেবে এটি নিশ্চয় অনেক বড় সফলতা। তবে এখন তার জীবনীকে বা সোজা  কথায় তার জীবনের কিছূ দুর্বল দিককে সামনে আনা হচ্ছে। এভাবে কী এই কবি আবার আমাদের আগ্রহের বাইরে চলে যাবেন? যেতে পারেন কারণ সাহিত্যে কোনো কিছু স্থির হয়ে থাকে না। তার শক্তি-সামর্থ-প্রভাবের বলয় কিছুটা হলেও পরিবর্তন হওয়া খুবই সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে। তবে কবিতার ক্লাসিক ভঙ্গি, চিন্তাবিভূতি ও অভিজ্ঞতার সারাৎসার নিয়ে তিনি যে নতুন ধারার কবিতা লিখেছেন তার সমমানের কবিতা লেখা সত্যি দুরুহ। নতুন জীবনযাপন, সমাজ-সংস্কৃতি, সভ্যতা ও প্রবহমান মানবিক বোধের বৈচিত্র্য নিয়ে নতুন কবিরা কবিতা লিখবেন তবে তা কতদূর জীবনমুখীন ও গভীর হবে তা নিয়ে সন্দেহ বাড়তে থাকবে।

//জেডএস//

লাইভ

টপ