behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ এর তৃতীয় দিনের বাংলা সেশন

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক০৬:৫৭, নভেম্বর ২১, ২০১৫

lit fest‘ঢাকা লিট ফেস্ট’-১৫ এর  সমাপ্তি দিনে তথা তৃতীয় দিনের বাংলা সেশন শুরু হয় ‘আদি কথা’ এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাংলা একাডেমির ‘কে কে টি’ স্টেজে অনুষ্ঠিত হয় এ সেশনটি। ‘বাংলাদেশ তথা বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুদ্রজাতি বা নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি যে অবহেলা, তাদের শিল্প-সাহিত্যের জগত সম্পর্কে বৃহৎ জাতিগোষ্ঠীর অনীহা আজকের দিনেও কী এর ব্যত্যয় ঘটেছে; আমাদের করণীয় কী?’ এসব বিষয় নিয়ে কবি কুমার চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অংশগ্রহণ করেন— মৃত্তিকা চাকমা এবং সুষ্মিতা চাকমা।

আলোচনায় সঞ্চালক কবি কুমার চক্রবর্তী বলেন— আমাদের অস্তিত্বকে এভাবে হুমকির মধ্যে ফেললে আমাদের সংস্কৃতিও থাকবে না। অনুষ্ঠানে তিনি ডাইভার্সিটি ইন ইউনিটির কথা বলেন। এছাড়াও তিনি সরকারের আদিবাসী উন্নয়নের সমালোচনা করেন।
সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে মৃত্তিকা চাকমা বলেন— তিনি আদিবাসী শব্দটাকে সাম্রাজ্যবাদীর চাপিয়ে দেওয়া বলে মনে করেন। তিনি বলেন, আমি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীও নই, আমি মানুষ জাতি, আমি চাকমা জাতি। তিনি চাকমা ভাষায় সাহিত্য রচনার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
অন্যদিকে, সুষ্মিতা চাকমা বলেন— সরকারের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী বা উপজাতি দিয়ে পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেকে আদিবাসী বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। তিনি আদিবাসী বলতে এই ভূ-খণ্ডে কে আগে এসেছে বা কে পরে এসেছে; এ দিয়ে আদিবাসী শব্দের ব্যাপ্তী বা সংজ্ঞা নির্ণয় করা যায় না। তিনি জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র উল্লেখ করে আদিবাসী সংজ্ঞা নির্ণয়ে বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেন।
তিনি বাঙালিকেও নৃ-গোষ্ঠী মনে করেন। তিনি বলেন, আমাদের জাতির সঙ্গে ‘ক্ষুদ্র’ শব্দটি যোগ করে হীন করা হয়েছে। আমরা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে চাই।

এছাড়াও তিনি বলেন, আদিবাসীরা ভূমিকে সম্পত্তি হিসেবে দেখেন না, তারা ভূমিকে জননী হিসেবে মনে করে। আদিবাসীরা পাহাড়ের সঙ্গে মিলে মিশে বাঁচে, পাহাড় কেটে নয়।   

‘ঢাকা লিট ফেস্ট’-১৫ এর তৃতীয় দিনে বাংলা ভাষা-ভাষীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘প্রথিতযশা কবিদের কবিতা পাঠ’। বাংলা একাডেমির ‘লন’ এ দুপুর একটায় এ সেশনটি শুরু হয়। সেশনটিতে মূলত বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই বাংলাদেশের কবিরা তাঁদের কবিতা পাঠ করেন। কবি শামীম রেজার সঞ্চালনায় কবিতা পাঠের এ আসরটিতে অংশগ্রহণ করেন—নির্মলেন্দু গুন, মুহম্মদ নুরুল হুদা, সাজ্জাদ শরীফ এবং পশ্চিম বাংলার কবি চিন্ময় গুহ।

ঠিক একই সময়ে বাংলা একাডেমির ‘কসমিক টেন্ট’ এ শুরু হয়ে আরেকটি বাংলা সেশন। এটির শিরোনাম ছিল ‘অনুবাদের অধিকার’। বিশেষ করে কবিতা যখন অনূদিত হয় এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় তখনই তার সূক্ষ্ম অনুভূতি হারিয়ে যায়, হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিই নাকি আসল কবিতা; তাহলে অন্য ভাষায় কবিতা কিংবা সাহিত্য পাঠের ভিন্ন কোনো পদ্ধতিও তো নেই; অনুবাদকের কী করা উচিৎ, তার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা উপস্থাপন করেন— ফরিদা হোসেন, মাসুদ আহমেদ এবং সৈয়দা আইরিন জামান।

দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’-১৫ এর প্রধান স্টেজে শুরু হয় ‘সাহিত্য যখন সবার’ এই সেশনটি। এখানে কালজয়ী অর্থাৎ ক্লাসিক বা জনপ্রিয় বিভিন্ন ঘরোনায় শ্রেণিকরণ করা হয় সাহিত্যকে; মূলত কোন ধরনের সাহিত্য সবার হয়ে ওঠে- এসব বিষয়ে ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের আতা সরকার, আনিসুল হক, আন্দালিব রাশদী এবং পশ্চিম বাংলার কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক এবং আনন্দ বাজার পত্রিকার সম্পাদক পৌলমী সেনগুপ্ত।
‘সাহিত্য যখন সবার’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতা সরকার বলেন— আমরা তো শিক্ষিত সমাজের কাছেই পৌঁছাতে পারিনি। এমনকি বাংলা সাহিত্যের যারা আছেন তাদের কাছেও না। তবে, একটি জিনিস সত্য যে, সবার কাছে পৌঁছাতে না পারলেও আমরা কিন্তু সবার জন্য লিখি। তিনি আবার শাহ আব্দুল করিম, লালন ফকিরের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা না লিখেও সবার কাছে পৌঁছে গেছেন।

আন্দালিব রাশদী বিভিন্ন ধরনের উদাহরণের মাধ্যমে তার বক্তব্য পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি  ‘এ টেল অফ টু সিটিজ’, ‘ওয়ার এ্যান্ড পিস’, আলবেয়ার কাম্যুর কথা বলেন। তিনি বলেন, এসব রচনা জনপ্রিয় কিন্তু সবাই কি এসব রচনার কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। যেমন আমার সবচেয়ে অপ্রিয় খাবার হল করলা। কিন্তু আমার পঞ্চান্ন বছর বয়সে এখন প্রিয় খাবার করলা। ঠিক সাহিত্যেরও অনুরূপ প্রকারভেদ আছে বলে তিনি মনে করন। সুতরাং সবার জন্য আবার লিখা সম্ভব না। কিন্তু সাহিত্য সবার জন্য নয়— একথার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন।

পশ্চিম বাংলার কবি পৌলমী সেনগুপ্ত বলেন— আমার মতে, সাহিত্য সবার জন্য, এটার মতো এতো সরলীকরণ করে বলা চলে না বা বলা যায় না। সবাই যে লালন ফকিরের মতো করে সব মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যাবে এমনটাও নয়। ক্লাসিক বা ধ্রুপদী সাহিত্যের জন্য মানসিক শিক্ষা লাগে, নিজেকে শিক্ষিত করতে হয়। সর্বোপরি, নিজেকে তৈরি করতে হয়।
‘সাহিত্য যখন সবার’ এর উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র গোপী গাইন বাঘা বাইন এর কথা। তিনি মনে করেন, এই ছবি যেমন বড়দের আকৃষ্ট করে তেমনি ছোটদেরও আনন্দ দেয়। এটা বড় ও ছোট উভয়ের ক্ষেত্রেই আবেদন রাখতে সক্ষম।
আলোচনার একপর্যায়ে তিনি  লেখক এবং পাঠক উভয়কেই সাহিত্যানুরাগী তথা সাহিত্যকে ভালোবাসার অনুরোধ জানান।
সঞ্চালক ইমদাদুল হক মিলন বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী লেখকের ধ্রুপদী রচনার নাম উল্লেখ করে ‘সাহিত্য যখন সবার’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তারাশঙ্কর, সমরেশ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের রচনার মাধ্যমে আলোচনাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক বলেন— সাহিত্য আসলে সবার জন্য না। তিনি রবীন্দ্রনাথের উল্লেখ করে বলেন, সবাই রবীন্দ্রনাথ হতে পারবে না। তবে, তিনি এও বিশ্বাস করেন যে, আমি যা লিখি তা অবশ্যই মহাকালের দাগ কাটুক। আমি বাংলাদেশের মানুষ, সমাজকেই নিয়েই আমার সাহিত্য চর্চা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কোন কিছইু সবার জন্য না। তিনি বলেন, লেখক দুই ধরনের। এক. পাগল লেখক। তিনি নামের জন্য লেখেন। দুই. ছাগল লেখক। ছাগল লেখক টাকার জন্য লেখেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মা আছে। একুশ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়াও তিনি স্কুল, কলেজ এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে সাহিত্য অনুরাগী হবার কথা বলেন। তিনি মনে করেন, সাহিত্য যদি কেউ পড়ে তাহলে তার হৃদয়টা বড় হয়ে যাবে।

‘ঢাকা লিট ফেস্ট’-১৫ এর সর্বশেষ বাংলা সেশন ছিল ‘নগর আমার হৃদয়ে’। হামীম কামরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন— সলিমুল্লাহ খান, তিলোত্তমা মজুমদার, ইমতিয়ার শামীম এবং শিমুল সালাহ্উদ্দিন।
নগর সভ্যতার বিকাশ সেই সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে, নগরকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠা— সংস্কৃতি ও সাহিত্য কী শুধুই নাগরিক সাহিত্য নাকি জন-মানুষের হৃদয়ের সাহিত্য হয়ে উঠেছে প্রায়শ এসব বিষয় নিয়ে আলোচলা করেছেন।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ