behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

তারেক রেজার কবিতা

১৬:৪৮, জানুয়ারি ০৬, ২০১৬

কবি তারেক রেজা
[তারেক রেজা কবি, গবেষক ও নাট্যকার। জন্ম : ৯ নভেম্বর ১৯৭৮, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রাম। শিক্ষা : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ (সম্মান) ও এমএ (স্নাতকোত্তর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের চল্লিশের দশকের চারজন কবির কবিতা : বিষয় ও শিল্প (আহসান হাবীব, ফররুখ আহমদ, আবুল হোসেন, সৈয়দ আলী আহসান) বিষয়ে পিএইচডি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। পেশা : সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি কবিতা, গবেষণা-প্রবন্ধ, নাটক ও অনুবাদ নিয়ে কাজ করতে বেশি ভালোবাসেন। কাব্যগ্রন্থ : পিপাসার অপর চোখ (২০০৩), পুথির একাল (২০১১), জল-অন্তঃপ্রাণ (২০১৩) ও চতুর্দোলা (২০১৫)। প্রবন্ধ : সুভাষ মুখোপাধ্যায় : কবিমানস ও শিল্পরীতি (২০১০), রবীন্দ্রনাথ ও কজন আধুনিক কবি (২০১২), কবিতার মন-মর্জি (২০১২), আবুল হোসেন : কবি ও কবিতা (২০১৫)। অনুবাদ : কাঠের মানুষ পিনোকিও (ফাদার মারিনো রিগন সহযোগে, ২০০৯), ছন্দে ছন্দে পিনোকিও (২০১০)। নিজের লেখা ও নির্দেশনায় মঞ্চ নাটক : এবং তারপর (১৯৯৩), আজকের সমাজ (১৯৯৫), নদী ও নারীর কথা (১৯৯৬) এবং অনন্ত তৃষ্ণা (১৯৯৮)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১৪ টি।]

 

 

এসেছিলে তবু আসো নাই

 

যখন তখন বৃষ্টির সমৃদ্ধি থেকে
অনেক দূরের কোনো এক বিচ্ছিন্ন বিকেলে
‘মুখোমুখি বসিবার’ একটা ভালো নাম চেয়ে
চিঠি লিখেছিলে তুমি

 

মনে রাখার মতো বড়ো কোনো প্রলোভন দাও নি ছড়িয়ে
ভুলে থাকার মতো বিশেষ কোনো বৃক্ষের আড়ালে
দাঁড়াবার কথাও সেদিন ভাবি নি
এখনি বৃষ্টি এলে ‘রাশি রাশি ভারা ভারা’ ধান দেবো মেপে
অনেক পুরোনো এই গান
এখনো কি ভুল সুরে গেয়ে ওঠো তুমি
দু’পায়ে নাড়িয়ে দাও কি স্তব্ধতার বিন্দু বিন্দু জল

 

অস্বস্তির আঙুলে আগুন মেখে
গোলাপের গাল থেকে ঘ্রাণ উড়ে গেলে
একদিন কতো মেঘ এসেছিলো ধেয়ে
সন্ধ্যার মতো সেই এক চিলতে ভোর
চৈত্রের খোলা মাঠে ওষ্ঠের ভাঁজ ভেঙে উঠেছিল হেসে
কতোদিন পর সেই রৌদ্রদগ্ধ দুপুরের স্নান
আগন্তুক প্রশান্তির পুরোভূমে লেপ্টে দেয় আরামের যতি
রথের চাকায় বোনা পাঞ্জাবি সময়ের মাপে
খুব বেশি সেকেলে সঙ্গহীন দুঃসহ ধূসর
নাগরিক অবজ্ঞায় নদীগুলো ম্লান হয়ে এলে
নরম হ্রদের চোখ হয়ে ওঠে বিদেশ-বিভূই
জলের অভাব থেকে এইভাবে জন্ম নেয় ব্যর্থ কোলাহল
জগদ্দল পাথরের সহোদর স্মৃতিপুঞ্জ গড়িয়ে গড়িয়ে
ধুলোর কপালে শুধু লিখে দেয়
উৎসুক চায়ের কাপে আর নয় দুধ কিংবা চিনি

 

লাল আর সবুজের ভাব দেখে
হলুদ কিংবা নীলের ঠোঁট যাবে পুড়ে
বিকেলের বাম চোখে ধূপধুনো ঠিকানা হারালে
অনেক রাতের হাতে ছড়িয়েছি দুঃস্বপ্নের জুঁই
অনেক দিনের কাছে কায়মনে কুড়িয়েছি কষ্টের প্রণতি
কিশোর-হৃদয় থেকে রক্তকরবী কতো দূর জানে না নন্দিনী
এইভাবে মেঘ আর বৃষ্টির পথ যায় দুই দিকে বেঁকে

 

আমার হলো না তাই ভেঙে যায় শব্দের সিঁড়ি
তোমার হয়েছে কী-না মেঘ জানে— কিছুটা আমিও
হঠাৎ হঠাৎ কেনো ধাক্কা দাও হৃদয়ের পালে
কখনো হবে না বলা এই কথা খুব কাছে ডেকে

 

সাধ্যের আদিখ্যেতায় ওই দেখো চোখ টিপে হাসছে সঙ্গতি
চিঠির সম্মানে তাই লেখা থাক : ভালোবাসা নিও
ঘরের ঠিকানা যারা ভুলে যায় তারাও ফেরারি

 

 

 তুলো-ধুলো

 

তিল পরিমাণ জায়গা চেয়ে পেয়েছিলাম
ঢিলের ক্ষত
ভেবেছিলাম আমি তোমার দুঃখ হবো
অসঙ্গত?
এসব হিসেব কালের খাতায় লিখে রাখে
অশেষ ধুলো।
তোমার বাবার অট্টালিকায় খুঁজবে বাবুই
চাল কি চুলো?
মত্ত হাতির ক্ষুধার্ত চোখ ঝুলিয়ে রাখে
মুলো গাঁজর
অবিশ্বাসের ঝালর দিয়ে ঢাকা থাকুক
অস্থি পাঁজর।
তপ্ত রোদে হেলান দিয়ে মধ্যদুপুর
ঘুড়ির চিলে
উপত্যকার আড়াল থেকে উপচে পড়া
একটি তিলে
ছড়িয়েছিলাম অন্যরকম অসুখ-অভাব
মনে আছে?
সমুদ্রকে কাঁদতে শেখায় জলের স্বভাব
ঢেউ কি বাঁচে?
মালিকানা বদলে গেলে ভূমি-অফিস
বুক-পকেটে
বোঝাপড়ার অজুহাতে কয়েকটা দিন
তৃষ্ণা মেটে?
এমনি করে দিনের পরে দিন কেটে যায়
রাত কি থাকে?
কী ওষুধ ও আশীর্বাদে চুল গজাবে
স্মৃতির টাকে?
এসব কথার আঙুল এখন মধ্যপ্রদেশ
গল্পগুলো
এই অবেলায় কার বালিশে রোদ পোহাবে
শিমুল তুলো?

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ