behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

রণজিৎ দাশের সঙ্গে দেখা হয়েছিল

টোকন ঠাকুর১১:৩৬, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৬

রণজিৎ দাশসুবোধচন্দ্র দাস, যার বউ স্বপ্নারানী দাস, তারা দুজন ১৯৬৪ সালে ভাড়াটে হয়ে এসেছিল ভূতের গলির যে বাড়িতে, অামি এখন সেই বাড়ির খোঁজে পুরান ঢাকা, ধামরাই, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জের দিকে তল্লাশি চালাচ্ছি অামার একজন সহকারি, অালোকচিত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। অামি জানি, সেই বাড়ির উঠোনে অাছে একটি পাতকুয়ো। কুয়োর অদূরে, পাঁচিলের কাছে একটি তুলশি গাছ, স্বপ্নাই লাগিয়েছে। তো তদানীন্তন পাকিস্তানি শাসন ব্যবস্থায় তখন ঢাকার কোথাও কোথাও হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘটিত হয়, দেশে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তখন, বর্ষাপ্লাবিত এক ঘোর পূর্ণিমা রাতে সুবোধ-স্বপ্না কুয়োর জলে ঠিকরে পড়া গোলাকার চাঁদ ধরতে গিয়ে ডুবে মরে। তারও কয়েকবছর পর, ১৯৭১ সালে যে দম্পতি ভাড়াটিয়া হয়ে ছিল এই বাড়িতে, তাদের নামও সুবোধচন্দ্র দাস-স্বপ্নারানী দাস। পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে বাঁচবার জন্যে তারাও একদিন কুয়োয় ডুবে মরে এবং শেষমেষ ১৯৮৯ সালে, যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েও অারো সতেরো বছর অতিক্রম করছে, তখনও অারেকজোড়া দম্পতি এই মুসলমান অধ্যুষিত মহল্লা ভূতের গলির সেই একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে এলো, এদের নামও যথারীতি সুবোধচন্দ্র দাস এবং স্বপ্নরানী দাস। এবং ভারতের বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় তৃতীয় জোড়া সুবোধ-স্বপ্নাকেও উঠোনের কুয়োয় ফেলে মারা হলো। এরকম একটা গল্প, গল্পের নাম, 'কাঁটা'। গল্পের লেখক শহীদুল জহির (১৯৫৩- ২০০৮)। বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত সচিব, পার্বত্য মন্ত্রণালয়) ছিলেন, হুট করেই চলে গেলেন বাংলা কথাসাহিত্যের অাড়াশো বছরের ইতিহাসেের অন্যতম স্বতন্ত্র কত্থক, লেখক শহীদুল জহির। জানি, বাংলা সাহিত্যের সাধারণ পাঠক তাকে অাবিষ্কার করবেন হয়তো অারও কিছু পরে, কারণ, সমকালের বাংলাভাষার অন্যান্য লেখকেরাই তো তাকে এখনো প্রায় জানেন না, হয়তো তাদের পড়া হয়নি তার উপন্যাস, 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা', 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' কিংবা গল্পগ্রন্থ 'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প', 'ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যন্য গল্প'। অারো তিনচারখানা পুস্তক তার অাছে বটে! সমকালীন সাহিত্যপাড়ার কারোর সঙ্গেই অামৃত্যু প্রায় সংশ্লিষ্ঠ না হওয়া, একদমই কোনো যোগাযোগে না থাকা বা কোথাও কখনো তুমুল বা ছোটখোটা 'সাহিত্য অাড্ডা'তেও না-যাওয়া একপ্রকারের বিরল লেখক, বাংলা কথাসাহিত্যের 'জাদুবাস্তবতা'র সফল চাষা শহীদুল জহির, অামি তার 'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প'গ্রন্থ থেকে 'কাঁটা' গল্পটি চিত্রনাট্য করে সরকারি অনুদানের জন্যে প্রতিযোগিতা বিভাগে পাঠাই এবং চিত্রনাট্য মনোনীত হয়। সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অামি এখন অতিরিক্ত সময় খরচ করছি। সরকারি গ্রান্ড কমিশনের টাকা তো পয়ত্রিশ লাখ, বাকিটা কোথায়? 'কাঁটা' চিত্রনাট্য পড়ে নির্মাণাধীন এ ছবির অার্ট ডিরেক্টর, দেশের গ্রন্থ-প্রচ্ছদের সবচেয়ে ব্যস্ত শিল্পী ধ্রুব এষ বললেন, 'দেড় কোটি লাগে।' কিন্তু পয়ত্রিশ লাখ টাকার ওপর অার পয়ত্রিশ লাখ ঢালতেই অামার জেরবার দশা। তবু চলছে। 'কাঁটা' টিমে কনভেনশনাল ফোর্স যেমন অাছে, গেরিলা যোদ্ধাও অাছে। 'কাঁটা'র কাজ চলছে। উপস্থিতি কিংবা অন্তর্ধান প্রক্রিয়া চলছে। কার?
স্বপ্নারানী দাসের, সুবোধচন্দ্র দাসের। অামারও। কেননা, নির্মাণকালীন ছবির নির্মাতার কী যেন একটা হয়, কাউকে বোঝানো যাবে না, এই এক চাপ। এই এক জ্বালা। হয়তো জ্বালাও ভাল্লাগে। অামি সিনেমা নির্মাণের ভাল্লাগা-জ্বালায় জ্বলছি...

সুবোধচন্দ্র দাস বা স্বপ্নারানী দাসের সিনে-কলে অামি অাটকে গেলেও, অামার মনে অাছে, রণজিৎ দাশ বলে পৃথিবীতে একজন মানুষ অাছেন। জীবনানন্দ দাশের মতো এই দাশেরও নামের বানানে তালব্য ‘শ’ দেখি। অনেক অাগেই অামি জানতাম, তিনি শিলচরের দিকের মানুষ, কোলকাতায় থাকেন। প্রয়াত শহীদুল জহিরের জীবদ্দশার 'জব-মার্কা' জীবন কাটান। সরকারি ক্যাডার। এরকম ক্যাডারুদের ব্যাপারে অামার খুব এলার্জি (ব্যক্তিগত অসহ্যবোধ) অাছে। ভাগ্যিস, শহীদুল জহির বা রণজিৎ দাশকে অামার ক্যাডার হিসেবে চিনতে হয়নি। শহীদুল জহিরকে চিনেছি তার লেখায়, গল্প-উপন্যাসে। রণজিৎ দাশকে চিনেছি তার লেখায়, শব্দ-বাক্য ব্যবহারে, কবিতায়। কবে থেকে? অামি তখন কোথায় থাকতাম, কী কী ভাবতাম?

গঙ্গার তীরে কোলকাতা, বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা কিন্তু সেই ছোট্ট শহরটা ছিল নবগঙ্গার তীরে। সেই শহর ঝিনাইদহ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শহর যশোর, যশোরের সাবেক মহকুমা ঝিনেদা। ঝিনেদার বুক চিরে নবগঙ্গা বয়ে গেছে। গৌরকিশোর ঘোষের 'প্রেম নেই' বা 'প্রতিবেশী'তে গতশতকের চল্লিশের দশকের ঝিনেদাটা ধরা অাছে। অবশ্য অামি বলছি, গত শতকের অাশির দশকের শেষদিকের কথা। কলেজে উঠে পড়েছি। বাড়ির শাসন থেকে বেরিয়ে হস্টেলের স্বাধীন জীবন অর্জন করেছি। সারাক্ষণ কবিতার সঙ্গেই থাকি, ঘুমোয়, জাগি, জাগি না, কবিতার মধ্যেই ঘুমিয়ে থাকি। অবশ্য কলেজে ওঠার অাগেই যখন মাধ্যমিকের দিন পাড়ি দিচ্ছিলাম, হয়তো তখনই বাংলা 'কবিতার অসুখ' অামাকে ধরেছে এবং এই অসুখ যেহেতু স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে কোনো কোনো 'জীবনের প্রতি কম বিবেচনাকারী', অামিও তাদের দলের, ফলে, অসুখে পড়লাম।

সম্ভবত ১৯৮৭ সালেই ঢাকা থেকে ফরিদ কবিরের সম্পাদনায় 'দুই বাংলার কবিতা' ধরনের একটি সৃদৃশ্য সংকলন প্রকাশিত হয়। সেই সংকলনে নির্বাচিত কবিদের ছবিসহ পরিচিতি ছিল, ছিল একটি করে কবিতা। সেখানেই প্রথম দেখি, কবির মুখচ্ছবি। রণজিৎ দাশের একটি ফটো। সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। সেখানেই অামি প্রথম পড়ি রণজিৎ দাশের কবিতা, 'ঘামে যে রয়েছে নুন, তার অর্থ সমুদ্রে ছিলাম...'। তারপর অামি খুলনা চলে যাই এবং বাংলা কবিতার মধ্যে অারো হাঁটু গেঁড়ে বসি। উড়নচণ্ডি হয়েও অামি কবিতার মধ্যে- উন্মুল সংসার শুরু করি। অার্ট কলেজের ছাত্র হয়ে খুলনাতে বছর তিনেক কাটিয়ে চলে অাসি ঢাকায়, হয়তো অামার সঙ্গে চলে অাসে বাংলা কবিতাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্র হই, হলে থাকি, কবিতা লিখি, কবিতা খাই, কবিতা পয়দা করি। ঘোরের ভেতের দিয়ে কবিতাতেই সর্বোচ্চ সময় অামার, তিনটি দশক কাটিয়ে দিলাম।

ঢাকার শাহবাগ অামাদের তর্ক-বিতর্কের উঠোনবাড়ি। নব্বুইয়ের দশক থেকেই। শাহবাগই অামাদের তরুণ কবিতা। মনে হয়, শাহবাগই একদিন ঘর থেকে অামাদের ফুঁসলিয়ে ডেকে নিয়ে এসেছে, তারপর তো অার ঘরে ফেরা হয়নি। ঘরে অামরা ফিরতেও চাইনি। যদিও, 'সব পাখি ঘরে ফেরে..' কিন্তু অামরা তো অার 'সব পাখি না', অামরা হলাম 'কোনো কোনো পাখি'। একথায়, মহাসমুদ্রের পাখি। মহাসমুদ্রের পাখি ঘরে ফেরে না।

একদিন, শাহবাগ নতুন বইপাড়া অাজিজ মার্কেটের বইয়ের দোকানে পেয়ে গেলাম রণজিৎ দাশের 'নির্বাচিত কবিতা'। তার মধ্যেই রয়েছে 'অামাদের লাজুক লিরিক' বন্দরের কথ্যভাষা', 'ঈশ্বরের চোখ'...পরে একদিন পেলাম রণজিৎ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা। রণজিৎ দাশের কবিতার অাবার 'শ্রেষ্ঠ-নির্বাচিত' কী? একটি ঢাউস কাব্য সংকলনে হয়তো একশো কবির কবিতা অাছে, শুধু রণজিৎ দাশের একটি কবিতা থাকলেও অামি সংকলনটা কিনে নিয়েছি। বইপাড়ায় এখনো খুঁজি রণজিৎকে, যেভাবে বালক তার তার হারানা ঘুড়িটা খোঁজে, অাকাশের দিকে, লাটিমটা খোঁজে দিগন্তের দিকে। রণজিৎ দাশের কবিতা নিয়ে সারারাত তখা বলতে পারি অামি, অামার বন্ধুরা শুনেছে। কতজনকে অামি কবি রণজিৎ দাশ এর কবিতার বই কিনে দিয়েছি পড়ার জন্যে? অন্তত বিশ কপি তো কিনেছিই, প্রিয়জনকে দেওয়ার জন্যে।

অামার প্রথম ছবি 'ব্ল্যাকঅাউট' বা 'মনে নেই' সাতানব্বুই মিনিটের প্রডাকশন। বিষাদে অাক্রান্ত একজন তরুণ কবি ও ঘোড়ায় পাওয়া তার তরুণ বন্ধু, অার্টিস্টের ঘরে-বাইরের জীবন-যাপন, যৌন-অবদমনের ছাপচিত্র 'ব্ল্যাকঅাউট'। 'ব্ল্যাকঅাউট' এর এন্ড টাইটেলে একটি গান দেওয়া হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ডে। গানের কথা নেওয়া হয়েছে রণজিৎ দাশের একটি কবিতার প্রথম পাঁচ বাক্য, 'সময়, সবুজ ডাইনি/ পৃথিবীর উপকণ্ঠে থাকো/ নাবিকের হাড় দিয়ে/ সন্ধ্যার উঠোনে তুমি/ ভাঙা জাহাজের ছবি অাঁকো।' মানুষের নিওলিথিক স্মৃতির হাহাকার থেকে গানের সুর নির্মাণ করেছেন ও অার্তনাদের এক নাদ থেকে গেয়েছেন শিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব। অর্ণব যথার্থই দিয়েছেন গানটিতে, অামার যা দরকার ছিল ছবিতে। তখনো অর্ণব এবং শিল্পী সাহানা বাজপেয়ী দম্পতি। মনে অাছে, ২০০৬ সালে 'ব্ল্যাকঅাউট' বানানোর সময় ছবির নির্ধারিত বাজেট তিন তিনবার ছাড়াল। অামি ফতুর। অাবারও অারো টাকা লাগবে। মনে যা অাসছিল, তাই সংযোজন করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু কবিতা লেখা জীবনে ছবি বানাতে গিয়ে অামি এত টাকা পাব কোথায়? সে সময় শ্যামল-সবুজ বাংলাদেশকেই মনে হচ্ছিল অারব্য মরুভূমি। খালি রোদ, ছায়া নেই। ফলে ছবির পোস্ট-প্রডাকশন পর্বের কয়েকজন মেজর অফিসারকে নির্ধারিত সম্মানীও দিতে পারিনি। 'ব্ল্যাকঅাউট' এর অফিসাররা হচ্ছেন সম্পাদক সামির অাহমেদ, অার্ট-টাইটেল-গ্রাফিক্স ডিরেক্টর অাহা চঞ্চল, অ্যানিমেটর চিন্ময় দেবর্ষি এবং ছবির মিউজিক ডিরেকটর অর্ণব। নির্ধারিত টাকার অালাপ হয়ে থাকলেও যাদের জন্যে কোনো অর্থ দেবার বাজেট 'ব্ল্যাকঅাউট' প্রকল্পে তখন অার ছিলই না। তো, অর্ণব অার সাহানার জন্যে অামি একটি কবিতার সংকলন উপহার দিয়েছিলাম, কারণ, প্রথম পাঁচলাইন গানের জন্যে ব্যবহার করা হলেও অর্ণব ও সাহানা দুজনেই খুব পছন্দ করেছিলেন 'সময়, সবুজ ডাইনি' সম্পূর্ণ কবিতাটি। তাই ওদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে অামি অামার তখনকার দিনের ফটোগ্রাফার রিচার্ড রোজারিও হাতে পাঠিয়েছিলাম 'রণজিৎ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা'। সম্ভবত দে.জ. থেকে প্রকাশিত।

 

কবি বললেন, পেয়েছি। চিঠি যে লিখেছেন, ওইটাই তো অনুমতি হয়ে গেল...'।

 

তারপর এই ২০১৪ বা ১৫ তে, ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির এক মিলনায়তনে কবিতা পড়তে এসেছিলেন কবি রণজিৎ দাশ, অামিও অামন্ত্রিত ছিলাম কবিতা পাঠের জন্যে। অবশেষে সেই শিলচরের মানুষ কোলকাতায় থাকেন কবির সঙ্গে দেখা হলো, খুব ভালো লাগল প্রিয় কবি রণজিৎ দাশকে মুখোমুখি বসে। যদিও সেদিন কোনো অাড্ডা দেবার সুযোগ পাইনি। কবিতা পড়ার অানুষ্ঠানিক রীতি নিয়ে অায়োজকরা অামার কথা রাখেনি, অামিও কবিতা না পড়েই চলে এসেছি। রাগ হয়েছিল সেই কবিতা অায়োজকদের ওপর। সেই রাগে তাদের অারেকটা অনুষ্ঠানেও অামি যাইনি। না যাওয়াতেই ভালো লেগেছে। তবে কবিতা পাঠ অনুষ্ঠানের অাযোজকদের ওপর রাগ থাকলেও বসে ছিলাম, রণজিৎ দাশের সঙ্গে দেখা হলো; এটাই অানন্দ অামার। অনুষ্ঠান বয়কট করে অাসবার সময় রণজিৎ দাশকে বলেছি, 'সময়. সবুজ ডাইনি' গান করবার অনুমতি চেয়ে অাপনার নামে অানন্দবাজার পাবলিকেশন্সে একটি চিঠি লিখেছিলাম, পেয়েছিলেন?'
কবি বললেন, পেয়েছি। চিঠি যে লিখেছেন, ওইটাই তো অনুমতি হয়ে গেল...'।

অাপাতত অামি কবিতার রাজ্যপাট থেকে নির্বাসনে অাছি। নির্বাসন! কবিতা থেকে! সম্ভব? কবিতা ও ছবির মধ্যের একটা অান্তঃসম্পর্ক খুঁজেই দেখছি না হয়। পরিষ্কার, ক্রমশ সিনেমা নির্মাণের জ্বালা-যন্ত্রণায় ঢুকে পড়েছি। লিখতে অার সময়ই পাই না। স্বীকার করছি, লিখতে অার ইচ্ছেটাও কমেছে খানিক। তবু ভালো কবিতা পড়ার অানন্দ থেকে অামি কখনোই বিরতি চাই না। সে কারণেই রণজিৎ দাশকে খুঁজি, খুঁজব।

কবিতার পাড়াপ্রতিবেশীও মনে হয় অামি নই। তাছাড়া অামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করিনি না শেষ পরীক্ষা দিইনি। মাস্টার্স অফ ফাইন অার্টের শেষ পরীক্ষা দিলাম না। তাই একাডেমিশিয়ানদের মতো অামি লিখতে পারি না, চাইও না। এখন ছবি বানাচ্ছি। ছবির নাম, 'কাঁটা'। মনোজগতের কাঁটা। অাছি 'ছুবোধচন্দ্র দাছ ও হের বউ ছ্বপ্নারানী দাছের লগে। মহল্লার বেকতে জানে, হেরা কুয়ার মইদ্যে গিয়া হান্দাইব।'

তিনজোড়া সুবেধ-স্বপ্নাকে ডোবানোর নির্মাণ কাজটি করছি এখন। তাই রণজিৎ দাশের কবিতা নিয়ে যা লেখার কথা অামার, অামি তার বাইরেই থাকলাম এ যাত্রায়। ফিরতি যাত্রায় বিস্তারিত লিখব নিশ্চয়ই। ততদিনে অামার 'কাঁটা'র জ্বালা শেষ করে। কারণ, 'সমস্ত জীবন জুড়ে পথের দুধারে শুধু কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুঠে অাছে।'
অামারও।

২৫ জানুয়ারি, ২০১৬, ঢাকা

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ