behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেলেন কবি আলোক সরকার

সাহিত্য ডেস্ক১৫:১৯, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৬




আলোক সরকারএ বছর ২০১৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেলেন কবি আলোক সরকার। অভিযান পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘শোনো জবাফুল’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি এই পুরস্কার পেলেন। এর আগে দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ রবীন্দ্র পুরস্কার পায় ২০০৬ সালে।
মাত্র এক বছরের সময়কালে (২০১০-২০১১) লেখা ‘শোনো জবাফুল’-এর কবিতাগুলির কোনো পৃথক নাম নেই। সংখ্যা দিয়ে তারা চিহ্নিত।
১ সংখ্যক কবিতাটি শুরু হচ্ছে এইভাবে, ‘শোনো জবাফুল/ তোমার মাটি সরস আছে তো/ তোমার গায়ে/ রোদ্দুরের কাপড় আছে তো/ তোমার জন্যে আমাদের খুব/ ভাবনা হয়’। কোনো সহৃদয় প্রতিবেশী যেন, এমনই সরল ভাষায় শুরু হয় অন্তরঙ্গ কথোপকথন। কবি আলোক সরকার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৩ সালে।

নিজের দর্পণে নিজের কবিতা || আলোক সরকার

যা আছে তা থাকার সঙ্গে আছে, স্মৃতির সঙ্গে থাকা, স্বপ্নের সঙ্গে থাকা। থাকা অর্থাৎ নির্বাচিত থাকা, যে নির্বাচন জীবনের, জীবনযাপনের প্রশ্নে সদর্থক, অভীপ্সা, স্বতঃস্ফূর্ত, তার দিকেই আমার সমর্থন, আমার পক্ষপাত- জীবনযাপন অর্থাৎ নানাবিধ অভিজ্ঞতা, তার এক অংশ বিরুদ্ধ শক্তি। তার দিকে আমার আগ্রহ অক্রিয় হয়, আমার টান তার দিকেই যা আমার জীবনকে রচনা করেছে, লালন করেছে। তা এমন একটা অনতিক্রম যাকে অতিক্রম করলেই আমার ভ্রমণ লক্ষ্যহীন অনাশ্রয়, ধুলোর সঙ্গে ধুলো, সাদার সঙ্গে সাদা। আমার চরাচর আমার থাকার অনিবার্যতার আনুকূল্যে নিশ্চিত হয়, ভাষা রচনা করে, ভাষা অর্থাৎ শব্দ-সঞ্চয়ন, ভাষা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক, ব্যক্তির সর্বস্ব, একটা শব্দের পাশে আর একটা শব্দের সচেতন সংস্থাপন- সঙ্গে সঙ্গে ধুলো অবারিত হলো, নদী নৃত্যবিহ্বল। কালবৈশাখী, পূর্ণিমা নিশি। যা আছে তাকে অতিক্রম করে, সেই অস্পর্শ, অবধারিত এখন, এখন আরো বিশুদ্ধ, সেই মাতৃভূমি যা দিন রচনা করেছে, লালন করেছে।
আমি আমার নিজের কবিতাকে সামনে রেখে কথা বলছি। সেই কবিতাগুলি নিয়ে যা আমার যতো চেনা তত অচেনা, সেই কবিতা রচনার আড়ালে আমার কোনো দুঃখ কষ্ট ছিল না, তাড়না ছিল না, কেবল একটা সখ, একটা ঝিমুনি আর একটানা থাকার কথা। না থাকাটাকেও আমি ঠিক চিনতে পারছি না, ওই একটা খেলা- একটা নিমগ্নতা।
অনেক দিন আগে, তা প্রায় ষাট বছর আগে, নিজের কবিতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লিখেছিলুম, আমার কবিতার সঙ্গে আমার জীবনের কোনো যোগ নেই- জীবন অর্থাৎ জীবনের ঘটনাবলী। তা দীর্ঘ আলোচনা চায়। ছোট করে জানাই, প্রাত্যহিক দুঃখকষ্ট, অভাব অনটন, সাফল্য অসাফল্য, এমনকী জননীর মৃত্যু, পিতার মৃত্যু, বিচ্ছেদ মিলন ইত্যাদিকে আমি কখনো আমার কবিতার বিষয় করতে প্রলুব্ধ হইনি। একইভাবে সমাজ-সংকট, মন্বন্তর, স্বদেশের পরাধীনতা-স্বাধীনতা। দেশবিভাগের বিষয়েও আমার কবিতা কখনো কৌতূহলী হয়নি। সমাজের রোগ-ব্যধিগুলিকেও অবান্তর করেছে। অতীব দারিদ্রের মধ্যে আজীবন যাপন করলেও আমার কবিতা তা নিয়ে আবেগ অভিযোগে বিহ্বল হয়নি। আমি খুব সহজেই কবিতা রচনার প্রথম শুরুর প্রভাত বেলা থেকেই নিশ্চিত বুঝেছি- কবিতার একমাত্র এবং অদ্বিতীয় লক্ষ্য একটা কবিতা হয়ে ওঠা, আর কিছুই নয়। এই সম্পূর্ণতাকে পাওয়ার অন্যতম সোপান একটা শব্দের পাশে আরেকটা শব্দের অভিক্ষেপ। শব্দের সঙ্গে দ্বিতীয় শব্দের সঠিক বিবাহ।

নিজের কবিতাকে সামনে রেখে এইসব কথা বলছি। সেই কবিতাগুলিকে নিয়ে যাদের প্রসঙ্গে আমার কোনো ক্ষোভ নেই, ব্যর্থতা বোধ নেই। মনে রাখতে হবে এই উক্তি কেবল নিজের কবিতাকে ঘিরে।

 

সূত্র : একরাম আলি, আজকাল এবং বাক

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ