মেলায় স্টল খুঁজে পাওয়া এক ঝক্কিই বটে : রাজু আলাউদ্দিন

Send

প্রকাশিত : ১২:১৮, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৮, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬

রাজু আলাউদ্দিনপ্রশ্ন : অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে আপনি কীভাবে দেখেন বা আপনার মতে এই মেলা কেমন হওয়া উচিৎ?
উত্তর : মেলা যেভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আমার কোনো ভিন্নমত নেই। কেবল একটু যোগ করার আছে: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবাবের স্টল থাকলে ভালো হতো। যারা বই কিনতে যাচ্ছেন তারা এত হাঁটাহাটি করে নিশ্চয় ক্লান্তি বোধ করেন। একটু হাল্কা খাবার-দাবারের ব্যবস্থা থাকলে তারা কিছু খেয়ে আবার দম নিয়ে হয়তো আরও কিছু বই দেখার বা কেনার আগ্রহ বোধ করবেন- এই ভাবনাটা মাথায় থাকলে তাদেরকে হয়তো আরও কিছুক্ষণ মেলামুখী করা যায়।
প্রশ্ন : মেলায় প্রকাশিত বই মার্চ মাসেই খুঁজে পাওয়া যায় না, এত বই কোথায় যায়? মানে একদিকে প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে অন্যদিকে বইয়ের দোকান কমে আসছে- এই স্ববিরোধ কেনো?
উত্তর : এর একটা কারণ হয়তো এই হতে পারে যে, বেশির ভাগ বিশুদ্ধ আবর্জনা বলে তা বিস্মৃতির ভাগারে চলে যায়। তবে এটাও তো যে, যে-সব ভালো বই বের হয় তার সবগুলোর আলোচনা কি দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে আলোচিত হচ্ছে? সেটাও বিস্মৃতির আরেক কারণ। বইয়ের দোকান কমে আসছে, হ্যাঁ, সেটাও আরেক কারণ অবশ্যই। এই কারণই আপনার কথিত ‘স্ববিরোধের’ জন্ম দিচ্ছে।

প্রশ্ন : গ্রন্থমেলা করে বাংলা একাডেমি তার সক্ষমতার অপচয় করছে কিনা? করে থাকলে এই মেলার দায়িত্ব কারা নিতে পারে?
উত্তর : সক্ষমতার অপচয় হবে কেনো, কিংবা কী অর্থে এই অপচয়? বাংলা একাডেমি বহু বছর যাবৎ এই মেলার আয়োজন করে আসছে- এই অর্থে তাদের একটা সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অন্য কারোর হাতে না দেয়ার কথা ভেবে বরং তাদের হাতে রাখারই পক্ষপাতী আমি।

প্রশ্ন : শোনা যায়, বেশির ভাগ প্রকাশক বই বিক্রি করে বইমেলার আনুষ্ঠানিক খরচই তুলতে পারেন না। বইমেলা বছর বছর এই আর্থিক ক্ষতিকে সম্প্রসারিত করছে কিনা?
উত্তর : দেখুন প্রকাশকরা যদি বইমেলায় বই বিক্রি করে আনুষ্ঠানিক খরচ তুলতে না পারেন তাহলে তারা কেনো ক্ষতি মেনে নিচ্ছেন? এরা তো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, তাদের না পোষালে তারা এতে অংশ নিচ্ছেন কেনো? এটাই যদি তাদের না পোষায় তাহলে নিশ্চয়ই তারা অন্য কোনোভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেই এতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন : মেলার স্টল বিন্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? যাতে পাঠক খুব সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত স্টলগুলো খুঁজে পেতে পারেন?
উত্তর : হ্যাঁ, মেলায় স্টল খুঁজে পাওয়া এক ঝক্কিই বটে। মেলায় স্টল-নির্দেশক কিছু থাকা উচিৎ কিংবা সহায়ক কোনো কেন্দ্র যেখানে ক্রেতাদেরকে স্টলের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

প্রশ্ন : ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারাদেশে কীভাবে সৃজনশীল বইয়ে মার্কেট গড়ে তোলা যায়?
উত্তর : ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারাদেশে সরকারী উদ্যোগে প্রতি মাসে মেলার ব্যবস্থা করা, এবং এজন্য স্টলের জন্য কোনো টাকা না নেয়া যাতে করে পুস্তক ব্যবসায়ী বা প্রকাশকরা উৎসাহিত হতে পারে।

প্রশ্ন : বাজার কাটতি লেখকের প্রভাব ও প্রচারে পাঠক বই সম্পর্কে ভুল বার্তা পায় কিনা?
উত্তর : আমার তা মনে হয় না। তবে আমার যেটা মনে হয়, তা হলো, বাজার কাটতি বইয়ের বাইরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো বের হয় তা নিয়ে পত্রপত্রিকায় গুরুত্বসহকারে আলোচনা হলে ভুল বার্তা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

প্রশ্ন : আপনার বই কত কপি ছাপা হয়, কত কপি বিক্রি হয়- তা জানেন কিনা?
উত্তর : আমার বই কত কপি ছাপা হয় তা জানি প্রকাশকের মারফত। কিন্তু এই জানার দ্বিতীয় কোনো মাধ্যম না থাকায় সেটা কতটা যথাযথ তা আমি বলতে পারবো না। বই বিক্রির ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য।


 

রাজু আলাউদ্দিন প্রাবন্ধিক, অনুবাদক

লাইভ

টপ