behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আদিবাসীর ভাষামাতৃভাষায় শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা০৯:০০, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬

বায়ান্নের মহান ভাষা আন্দোলন আপাতদৃষ্টে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলন হলেও সে আন্দোলনের অন্তর্নিহিত প্রেক্ষিত ছিল আরো ব্যাপক। এটি ছিল প্রভাবশালীর চাপিয়ে দেওয়া ভাষার বিপরীতে তৃণমূল জনগোষ্ঠি যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি। এটি কেবল উর্দুর বিপরীতে বাংলার আন্দোলন নয়, এটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মেহনতি মানুষের মানবিক আকাঙ্খারও প্রতিফলন। রক্তরাঙা একুশের পর বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অন্যান্য প্রান্তজনের ভাষাগুলোরও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার পথকে উন্মুক্ত করে দেয়। এই একুশের পথরেখা অনুসরণ করেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। 

বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লক্ষ আদিবাসী রয়েছে। এরা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ। দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে তারা বসবাস করে। তিন পার্বত্য জেলায় অধিকাংশ আদিবাসী জনগণের বসবাস হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার, বরগুনা, পটুয়াখালী, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়, বগুড়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, টাংগাইল, শেরপুর, জামালপুর, গাজীপুর, রাজবাড়ী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ ইত্যাদি অঞ্চলেও তাদের বসতি রয়েছে। বাংলাদেশের আদিবাসীরা মোটামুটি চারটি ভাষা-পরিবারেই কথা বলে; অস্ট্রো-এশিয়াটিক, সিনো-টিবেটান, ইন্দো-আর্য, দ্রাবির ইত্যাদি।

অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা পরিবারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: খাসি, কোদা, মুন্ডারি, প্নার, সান্তালি, ওয়ার-জৈন্তিয়া। সিনো-টিবেটান ভাষা পরিবারের মধ্যে আতং, চাক, আশো, বম, গারো, হালাম, হাকা, খুমি, কোচ, ককবরক, মারমা, মেগাম, মৈতৈ মণিপুরি, ম্রাে, পাংখোয়া, রাখাইন অন্যতম। ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারে অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে: অহমিয়া, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, চাকমা, হাজং(পূর্বে টিবেটো বর্মণ ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিল), সাদ্রি (ওরাং), তঞ্চঙ্গ্যা ইত্যাদি। দ্রাবির ভাষা পরিবারে অন্তর্ভূক্ত দু’টো ভাষা হলো: কুড়ুখ ও সাউরিয়া পাহাড়িয়া।

ভাষার অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশকে ১১টি অঞ্চলে বিভাজন করা যায়; (১) বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল: ময়মনসিংহ, টাংগাইল, নেত্রকোণা, জামালপুর, শেরপুর ইত্যাদি, (২) গাজীপুর, (৩) উপকূলীয় অঞ্চল: পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার, (৪) বৃহত্তর সিলেট: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ অঞ্চল, (৫) পার্বত্য চট্টগ্রাম: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, (৬) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল-যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, (৭) উত্তরবঙ্গ: রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, (৮) বৃহত্তর চট্টগ্রাম-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, (৯) বৃহত্তর কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা, (১০) রাজবাড়ি, (১১) ফরিদপুর।

বাংলাদেশের এসব আদিবাসী জাতিগুলোর অধিকাংশ ভাষারই নিজস্ব লিপি নেই। তবে অনেকটা সকলেরই রয়েছে নিজস্ব লিখিত রূপের প্রচলন। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, রাখাইন ইত্যাদি ভাষা নিজস্ব লিপিতে লেখা হয়। ককবরক (ত্রিপুরাদের ভাষা), বম, লুসাই, পাংখোয়া, গারোসহ কয়েকটি ভাষা রোমান লিপিতে লেখা হয়। বাংলায় লেখা হয় সাদ্রি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিসহ কয়েকটি ভাষা। লিপি বিতর্কের মধ্যে রয়েছে সাঁওতালদের ভাষা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা, রোমান ও অলচিকি লিপিতে সমান্তরালে লেখালেখির ব্যবস্থা প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি এই ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন করতে চাইলে এককভাবে বাংলা নাকি রোমান লিপিতে লেখা হবে, এ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষাগুলো মূলত মৌখিক সাহিত্যের উপরই বেশি নির্ভরশীল। লোকগীতি, গীতিকবিতা, লোকজ ছড়া, ধাঁধাঁ, নীতিকথা ইত্যাদির মাধ্যমে এসব ভাষার বিকাশ ঘটেছে, রচিত হয়েছে সেসব ভাষাভাষি মানুষের কালের ইতিহাস। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে আদিবাসী ভাষার উন্নয়ন ও বিকাশ লাভ সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই নানা ভাষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে অনেক ভাষা হারিয়ে ফেলতে থাকে তার নিজস্ব রূপ ও জৌলুস। অনুপ্রবেশ ঘটে অন্যান্য ভাষার অনুষঙ্গ। স্বাভাবিক বিকাশের ধারায় গ্রহণ-বর্জন প্রক্রিয়া ও মিথস্ক্রিয়া না হওয়ায় অনেক জাতিগোষ্ঠি তাদের ভাষাই হারিয়ে ফেলে। দীক্ষা নেয় ভিন্ন ভাষা পরিবারের নতুন মন্ত্রে। ভোট-বর্মী ভাষা পরিবারের অনেক জাতিগোষ্ঠি এখন রীতিমতো ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যে পরিণত হয়েছে। লিখিত চর্চার অনুপস্থিতি বা সীমিত সুযোগের কারণে অনেক ভাষার এই পরিণতি হয়ে থাকতে পারে।

আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ প্রকাশনা ও সাহিত্যকর্মই ব্যক্তিগত উদ্যোগ অথবা ক্লাব-সমিতি কেন্দ্রিক কার্যক্রমের অংশ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থেকেও আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকাশনা বের হয়। কিন্তু একাডেমিক শিক্ষায় এসব ভাষার ব্যবহার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। একাডেমিক শিক্ষায় আদিবাসী ভাষাগুলোর ব্যবহার বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ আমলেও প্রচলিত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা আজ ইতিহাসের অংশ।

১৮৬২ সালে ইংরেজ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সময় চাকমা ও মারমা ভাষায় পাঠদানের একটি বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল। এই ক্লাসগুলো ‘চাকমা ভাষা ক্লাস’ ও ‘মারমা ভাষা ক্লাস’ নামে পরিচিত ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন হেডকোয়ার্টার চন্দ্রঘোনায় শুরু হওয়া চাকমা ভাষা ক্লাসটি কয়েকদিন পর বন্ধ হয়ে যায় এবং মারমা ভাষা ১৯১০ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল। ১৮৬৯ সালে চন্দ্রঘোনা হতে বর্তমান রাঙ্গামাটিতে জেলা হেডকোয়ার্টার স্থানান্তরিত করার ফলে চাকমা ভাষা ক্লাস বন্ধ হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

১৯৪০ সালে মো. মিল্লাত নামে জেলা পর্যায়ের একজন স্কুল পরিদর্শক ‘চাকমা ভাষা শিক্ষা ক্লাস’ একটি বিশেষ ভাষা ক্লাস পুনরায় চালু করেন। এটিও কয়েক বছর চলার পর ঝিমিয়ে পড়ে। মিল্লাত সাহেব বাংলা বর্ণে ‘চাকমা প্রাইমার’ও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়, যেটি এখন দুষ্প্রাপ্য। সমসাময়িককালে নূয়ারাম চাকমা নিজ উদ্যোগে চাকমা ভাষায় প্রাইমার বই প্রকাশ করেছিলেন, বইটির নাম ছিল ‘চাকমা ফথথম শিক্ষা’। সেই বইটি বিভিন্ন স্কুলে পড়ানোর জন্য সরকার অনুমতি দিলেও নূয়ারাম চাকমা খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারি হওয়ায় বৃহত্তর চাকমা সমাজ বইটি গ্রহণ করেনি। তারপরও প্রকাশের পর বইটি কিছুদিন স্কুলে পড়ানো হয়।

পরে ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের প্রেক্ষিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা দিলে এই উদ্যোগ থমকে দাঁড়ায়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদিত হলে এই এলাকায় মাতৃভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হয়। চুক্তিতে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলন করা-সহ বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় যুক্ত করা হয়।

কিন্তু এসব ইতিবাচক নানামুখি পদক্ষেপ থাকা সত্বেও বাস্তব অবস্থা এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শতভাগ ভর্তির হার ও ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্যে টার্গেট করেছিল। গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক কালের কণ্ঠের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে গড় ভর্তির হার শতভাগের কাছাকাছি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু অন্যদিকে ঝরে পড়ার হার গড়ে এখনও ২০ শতাংশের উপরে রয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে এই হার আরও বেশি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তিতে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করলেও ঝরে পড়ার হার কমাতে বাংলাদেশ তেমন সন্তোষজনক অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এই তথ্য অনুসারে পার্বত্যাঞ্চলে ভর্তির হার মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ঝরে পড়ার হার গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের গড় ঝরে পড়ার হার ২৫ শতাংশ, তার মধ্যে বান্দরবানে ২৯ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ২৩ শতাংশ ও রাঙামাটিতে ২২ শতাংশ।

ঝরে পড়ার এই উচ্চ হারের অন্য অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হলো ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভাষাগত ব্যবধান, পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষার্থীর সমাজ, সংস্কৃতি, জীবন-জীবিকার অসামঞ্জস্যতা, মাতৃভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক ও সহপাঠক্রমিক সামগ্রীর অভাব ইত্যাদি কারণে আদিবাসী শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার চক্র সম্পন্ন করার আগেই ঝরে পড়ে।

জাতীয় শিক্ষানীতির অঙ্গীকার পূরণের লক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১২ সাল হতে দেশের আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ৩১ অক্টোবর ২০১২ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব এম এম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সভায় একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) জনাব সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে আহবায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠির প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একটি টেকনিক্যাল কমিটি, একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কমিটি এবং ভাষাভিত্তিক লেখক কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদ্রি ও সাঁওতাল ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ম্রো, মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া), মণিপুরী (মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি ও বম; তৃতীয় পর্যায়ে কোচ, কুড়ুক (ওঁরাও), হাজং, রাখাইন, খুমি ও খ্যাং ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ভাষার মাধ্যমেও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

এই পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম পর্যায়ের জন্যে নির্ধারিত ভাষাগুলোর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে শুরু করার টার্গেট করা হয়েছিল। এটি সম্ভব না হওয়ায় ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তা শুরু করার জন্য আবারও টার্গেট করা হয়। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ টার্গেট করা হয় এ বছরের জানুয়ারি মাসকে। এ বছর আশাবাদী হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ ছিল। কারণ, ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে জাতীয়ভাবে আয়োজিত কর্মশালার মাধ্যমে এমএলই ব্রিজিং প্লান প্রণয়ন সম্পন্ন করা হয়। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়কালে কয়েক দফায় পাঁচ আদিবাসী ভাষার লেখক-গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত লেখক প্যানেলের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিখন-শেখানো উপকরণ প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়। বাকি রয়েছে কেবল প্রণীত উপকরণসমূহের চূড়ান্তকরণ কর্মশালা, যৌক্তিকতা যাচাই কর্মশালা, উপকরণ প্রকাশ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে ছেড়ে দেওয়া বা স্কুল পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা।

আমরা এখনও আশায় বুক বেঁধে রয়েছে অন্তত এই বছরের যে কোন সময়ে শিখন-শেখানো সামগ্রীগুলোর পরীক্ষামূলক সংস্করণ আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারবো। আর এর মধ্য দিয়েই একুশের চেতনার কাঙ্ক্ষিত রূপায়ন সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।


 





মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা মুক্ত গবেষক ও জাবারাং-এর নির্বাহী পরিচালক 

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ