জীবনানন্দের আশা ও আশঙ্কায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ || পর্ব-শেষ

Send
ফিরোজ আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:৪৪, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১০, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬

আট.

তৃতীয় আরেকটি অনুসিদ্ধান্তও জীবনানন্দ দাশের ছিল, সেটি ভিন্ন দিক দিয়ে দেখা— সাহিত্যের কোন নতুন যুগ বাংলায় সৃষ্টি হচ্ছে কি না :

“কেউ কেউ অনেকদিন থেকে বলছেন, বাংলা-সাহিত্যে অবক্ষয় চলছে। আমার মনে হয়, এইবারে অবক্ষয়ের ছায়া এসে পড়েছে আমাদের সাহিত্যে। দু-তিন দশক আগের প্রায় সব বড় পুরনো সাহিত্যিকই বেঁচে আছেন, কিন্তু তাদের সাহিত্য-কাজের সময় ফুরিয়ে এল; কারো কারো ইতিমধ্যেই ফুরিয়ে গেছে; দু-একজন বড় জোর আর দেড় দু-দশক চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তাঁদের যা দেবার প্রায় সবই দেওয়া হয়েছে হয়তো... নতুন লেখকদের কারো কারো কোনো কোনো লেখা খুব ভালো হলেও নতুন সাহিত্যসিদ্ধির দেশ-কালের ভেতর এসে পড়েছি বলে মনে হচ্ছে না। লেখকেরা দল বেঁধে সাহিত্য-আন্দোলন সৃষ্টি করবেন কিংবা সংকল্প এঁটে সাহিত্য রচনা করবেন, এমন কোন উদ্দেশ্য সৎ লেখকদের মনে প্রায়ই থাকে না। তবুও একই সময় একই দেশে কয়েকজন বড় লেখকের সাহিত্য-কাজের নানা স্বাতন্ত্রের ভেতরেও সমগোত্রীয় চেহারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এঁরা যুগ বা শাখাযুগ সৃষ্টি করতে পারেন; শুধু একজন লেখকও স্বকালীন সাহিত্য-যুগের মুখপাত্র হয়ে দাঁড়াতে পারেন— যেমন ওয়ার্ডওয়ার্থ হয়েছিলেন কিংবা এর চেয়েও বেশি কিছু গোটা যুগের মোটামুটি সমস্ত বড় তাৎপর্যের শিল্পফল নিজের সাহিত্যে লাভ করে যুগকে বহন করতে পারেন— যেমন রবীন্দ্রনাথ পেরেছিলেন।’’

রবীন্দ্রনাথ কিংবা স্বয়ং জীবনানন্দ দাশের মত প্রতিভাধর কবির দেখা বাংলা সাহিত্য হয়তো পায়নি, সাহিত্য প্রতিদিন মনের নতুন নতুন যে অভাবগুলো পূরণ করে, তার পুরোটা মোচনও হয়তো হয়নি। কিন্তু বাংলা সাহিত্য দুর্বলতর হয়েছে, এমনটাও বোধ হয় বলা যাবে না। শঙ্খ ঘোষ, শামসুর রাহমানের মত কবি কিংবা ওয়ালীউল্লাহ ও ইলিয়াসের মত উপন্যাসিকেরা এসেছেন। জনপ্রিয় ধারাতেও সুনীল কিংবা হুমায়ূনের মত সফলদের অভাব ঘটেনি। জনপ্রিয় সাহিত্য বাজারটির টিকে থাকার লক্ষণ, লক্ষণ চাহিদা অক্ষুণ্ন থাকার। ভবিষ্যতেও এরা যে আসবেন নিয়মিত বিরতিতে, সেই ভরসায় ঘাটতির কারণ দেখি না। 

ফলে ভবিষ্যতের সাহিত্যকের জন্য জীবনানন্দ যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন এই বলে “একশো-সোয়াশো বছর পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সব চেয়ে বিপদের সময় এসে পড়েছে এবার। যে বিশেষ সাহিত্যিকদের আগামি পঁচিশ-ত্রিশ বছর নিয়ে কাজ, তাঁরা সংখ্যায় (যে রকম আশঙ্কা করা যাচ্ছে) খুব কম হয়ে পড়লেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে যথাসম্ভব তার বড় ধারাবাহিকতায় বাঁচিয়ে রাখবার মত প্রায় ও মনের বিশেষ শক্তি দেখাতে পারলে (দেখাতে পারা যাবে কি?), ভবিষ্যৎ যতটা খারাপ মনে হচ্ছে তা না-ও হতে পারে।”— সেই রকম কোন মনের জোর ওয়ালা সাহিত্যিক কিংবা দলবদ্ধ সাহিত্য-আন্দোলনও বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে পারতো না, যদি এই ভাষার বাস্তব প্রয়োজন ফুরাতো, এই জনগোষ্ঠীর মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম অন্য কোন ভাষা দখল করে নিতে পারতো। যেমন উচ্চবিত্ত সমাজে বাংলার সাহিত্যিক প্রয়োজন অনেকটাই ফুরিয়েছে, কারণ সেখানে বাংলা বাস্তব জীবন থেকেও অনেকটাই বিদায় নিয়েছে।

 

নয়.

বাংলা ভাষার আশার জায়গাটা তাহলে কী? জীবনানন্দ দাশের এই প্রবন্ধটিতে ভাষা বিষয়ে সুক্ষ্মতম অনুভূতির বিস্তার সত্ত্বেও এই সমালোচনা না করে পারা যায়নি যে, পূর্ব বাংলায় দ্রুত মৃত্যুর আশঙ্কা তিনি করেছিলেন। পূর্ব বাঙলার ওপর ভরসার নিতান্তই অভাব তুলনামূলক বেশি বলেই বোধ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বেলায় তার আশঙ্কাটি ছিল ধীর অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে সাহিত্যিকের মধ্য দিয়ে কাজ ফুরিয়ে যাবার। এই ক্ষয়ের সম্ভাবনা অন্তত বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে নিরর্থক প্রমাণিত হয়েছে। বিরূপ সময়ের অর্থ নিশ্চিত পরাজয় নয়, বরং সাহিত্যিকের সামনে তা নতুন যুদ্ধক্ষেত্রই হাজির করে, আর সাহিত্যের জন্য সবচেয়ে উর্বর রসদ তো যুদ্ধের এই লিপ্ততাই।

দ্বিতীয় যে সমালোচনাটি করতেই হয়, সেটি হলো সাহিত্য ও ভাষা টিকে থাকার প্রায় সমুদয় দায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সাহিত্যিকদের একার ঘাড়েই। সন্দেহ নেই, সাহিত্যিকদের মুখ দিয়েই ভাষার প্রকাশ ঘটে, তারা ভাষার অবতার-স্বরূপ। কিন্তু যাদের ভাব প্রকাশের দায় সাহিত্যিকের, সেই জনগোষ্ঠীর বাস্তব অবস্থাই তো শেষ পর্যন্ত নির্ধারক ভূমিকা পালন করে। তাদের মাঝে যদি জ্ঞান ও সাহিত্যের বাস্তব চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তবেই দেখা যাবে মাতৃভাষায় মুদ্র্রিত গ্রন্থের চাহিদার বৃদ্ধি। তাদের এই চাহিদা যদি হ্রাস পায় কিংবা অন্য কোন  সূত্র থেকে সেই চাহিদার নিবৃত্তি ঘটে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমনটা ইতিহাসে ঘটেছে— তখনই কেবল ভাষার এই অবক্ষয়ের সম্ভাবনা থাকে।

আধুনিক বাঙালি হিন্দু সাহিত্যিকদের স্বর্ণযুগ মূলত নির্ভর করেছিল ঊনিশ শতকের কলকাতাভিত্তিক বিকাশকে কেন্দ্র করে, তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল জমিদারি। উপনিবেশের অভিজ্ঞতায় সেই সাহিত্যিকরা নতুন যে সামাজিক, দার্শনিক, ধর্মীয় ও নৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, তা বহুদিক দিয়েই উপমহাদেশে অদৃষ্টপূর্ব : শিল্পসভ্যতা, নগরায়ন, খ্রিস্ট ধর্ম এবং বাণিজ্যের বিস্তার তাদেরকে নুতন কতগুলো প্রশ্নের মাঝে ফেলেছিল। নৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, পারিবারিক এবং আইনগত দিক দিয়ে যে নতুন সমাজ সম্পর্কে তারা উত্তরিত হলেন, তারই সাহিত্যিক বহিঃপ্রকাশ ঊনিশ শতকের গল্প-কবিতা-সাহিত্যের বিষয়বস্তু। যে ক্ষয় জীবনানন্দ দাশ দেখছেন ৫০ এর দশকে, যার সূচনা আরও আগেই হয়েছিল বলে তাঁর অনুমান, সেটা আসলে এই জমিদারি ব্যবস্থারই ক্ষয়, ক্ষয় তার সাথে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রবণ হিন্দু মধ্যবিত্তের জীবনের। বাংলার অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতার।

বাঙালী মুসলমান এই মুদ্রনশিল্পের যুগে, চাকরি ও শিক্ষার আধুনিক প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করেছে বেশ খানিকটা পরে— যদিও বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য নির্মাণের ইতিহাসও ইতিমধ্যেই কয়েকশ বছর পেরিয়েছে। এই আগমন সূচনাতেই যে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল, তার স্মৃতিও আমাদের মনে পড়ে যায়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জবানিতে আমরা জানতে পারি, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কেন্দ্রিক পণ্ডিত সমাজ ফারসি-আরবি সমুদয় শব্দকে ঝেটিয়ে বিদায় করে এবং নতুন নতুন সংস্কৃত শব্দের প্রচলন ঘটিয়ে বাংলাকে সংস্কৃতগণ্ধী করার প্রচলন চলে, তারই পালটা প্রতিক্রিয়াতে দেখা গেল আরবি-ফারসিকে কণ্টকিত বাংলা রচনার হুমকি। বাংলাকে নিজ নিজ ধর্মের আবহে রাঙিয়ে হিন্দু বাংলা ও মুসলমানি বাংলা করার উভয় চেষ্টাকেই সামান্যই আমলে নিয়ে বাংলা তার স্বতন্ত্র নিয়মেই অগ্রসর হয়েছে। হিন্দি এবং উর্দুর মত এক যাত্রায় ভিন্ন ফলের দুর্ভোগ তাকে পোহাতে হয়নি।

কিন্তু ‘মহৎ সাহিত্য’ পদবাচ্য কিছু তৈরি না করে, মানে একক রবীন্দ্রনাথ মাপের কোন মহৎ ব্যক্তিকে তৈরি না করেও সাহিত্য তার নিজস্ব প্রয়োজন নিষ্পন্ন করতে পারে। ভাষার গতিশীলতা বজায় থাকতে পারে। গ্রিক সাহিত্যের অনুকরণই প্রধানত হয়েছিল রোমান নাটক আর দর্শনশাস্ত্রে, কিন্তু প্রবল প্রতাপশালী ভাষা রূপে শত শত বছর রাজত্ব করতে তার সমস্যা হয়নি।

বাংলা সাহিত্য আর ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সেই হরপ্রসাদ শাস্ত্র থেকে শুরু করে যে সব মহাজনরা এর আগে কথা বলেছেন, প্রত্যেকেই এক জায়গায় স্থির ছিলেন, সেটি হলো শুধু মানুষের দৈনন্দিনকতায় ভাষা হিসেবে ভাষার সম্ভাবনা পুরোটা বিকশিত হতে পারে না। তাকে রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের ভাষা হতে হয়, তাকে শিক্ষার ভাষা হতে হয়, তাকে চাকরি পাবার ভাষা হয়ে উঠতে হয়। তবেই ভাষা হয়ে ওঠে উচ্চতর জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চার মাধ্যম, ভাষার চর্চা তখন সকলের বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আমরা আগেই দেখেছি, ভারত এবং পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রেই বাংলা তো নয়ই, এমনকি হিন্দি বা উর্দুও আসলে রাষ্ট্রভাষা হয়নি। বরং যে ইংরেজি আপাতকালের জন্য থাকবে বলে ভেবেছিলেন রাষ্ট্রীয় সংহতি ওয়ালারা, স্থায়ী রাজত্বটা হয়েছে সেই ইংরেজি ভাষারই।

পূর্ব বা পশ্চিমবঙ্গে বাংলা তাহলে কি করে টিকেছে? টিকেছে নিজের শক্তিতে, বলা যায় জমানো পুঁজির অনেকটা ভাঙিয়ে; অনেকটা সেই শক্তির বলে, যে শক্তিতে প্রায় কোন রাজশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই এই ভাষাটি এই অঞ্চলের মানুষের সাহিত্যচর্চা-ধর্ম প্রচার-জগতবোধের মাধ্যম হয়েছে। বাংলা ভাষার এই অন্তর্গত শক্তিটি এই অঞ্চলের বিকাশমান জীবন তৎপরতারই সাক্ষ্য দেয়। অরণ্য-জলাভূমি-দুর্গমতাকে জয় করে পললময় বদ্বীপটির আবাদী ­জনপদে বিকাশের প্রক্রিয়ায়, অজস্র রফতানিমুখী কৃষি আর শিল্পসম্ভারের— যার চরম নির্দশন মসলিন— উৎসস্থলে পরিণত হবার প্রক্রিয়ায়; অনেকগুলো ভাবান্দোলন আর সমাজ সংস্কারের আন্দোলনের দার্শনিক লীলাভূমি হিসেবে চিহ্নিত হবার প্রক্রিয়ায় বাংলা জনগোষ্ঠীর ভাবের অধিষ্ঠানে পর্যবসিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা সে যা পেয়েছে, সেটুকুর গুরুত্ব যাই থাকুক, সেটা তার এই অর্জনের স্বীকৃতিমাত্র। কিন্তু রাজভাষা সর্বদাই ছিল ভিন্ন: সংস্কৃত, প্রাকৃত, ফারসি কিংবা ইংরেজি। আজকেও বাংলা যে টিকে আছে, বাংলায় সাহিত্য কিংবা গান কিংবা বিজ্ঞানের যে সব গ্রন্থ লেখা হয়, তার সামান্য অংশই রাষ্ট্রের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা পায়। বরং বাংলাভাষী শ্রোতার চাহিদা মেটাবার জন্যই, জ্ঞানতৃষ্ণার পানীয় হবার জন্যই তা উৎসরিত। এমনকি বহুজাতিকেরাও বাংলার কাছেই আসতে বাধ্য হয় তাদের পণ্য বিক্রির জন্যও। বলা যায়, বাংলার সরগরম একটা বাজার এখানে আছে। কিন্তু বাজারী চাহিদার বাইরে উচ্চবিত্তের যে ভাবচর্চা, তার বাহন বাংলা নয়। যে বইটি তারা কেনেন, তা সাধারণত বাংলা নয়। তাদের কাছে ঘেষতে যাওয়া মধ্যবিত্তও প্রাণপণে তারই রুচির অনুকরণ করে চলে।

পশ্চিমবঙ্গে এখনো বাংলা ভাষার অধিক সংখ্যক পাঠক উপস্থিত, শুনতে পাই সেটা ক্রমহ্রাসমান। বোঝা যায় রাষ্ট্রনীতি খুবই শ্লথগতিতে হলেও চেপে বসতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনৈতিক শক্তিতে সেখানকার বাংলা ভাষীরা দুর্বল, ৪৭ সালে কোলকাতায় একজন পুঁজিপতিও ছিলেন না বাংলাভাষী। আজও তাদের খুব বিশাল কোন উপস্থিতি সেখানে নাকি নেই।  ৪৭ সালে বাঙালি মুসলমানকূলের কাছেও একজনও পুঁজিপতি ছিলেন না। আজ নানান উপায়ে পূর্ব বাংলায় শত শত কোটিপতির বিস্তার। তাদের বাদেও উচ্চবিত্ত যারা আছেন, তারাও পারিবারিক চর্চায় ইংরেজিকেই উৎসাহিত করেন বৃহদাংশে। কিন্তু এরপরও বাকি যে বিপুল জনসাধারণ, তাদের নড়াচড়া, শিক্ষায় অংশগ্রহণ, মাতৃভাষায় কোন কিছুকে বুঝে উঠবার চাহিদা— এই সব কিছুই বাংলাদেশে ক্রমাগত বাংলার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলছে; অন্তত রাষ্ট্রের মতলবের প্রতিকূলে অনেকখানি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তার শিক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই প্রসারও আরও বাড়বে ভবিষ্যতে, কমবে না। বাণিজ্যের লক্ষ্যেই বাংলাভাষীকে ছুঁতে হচ্ছে বনিককে, সেটাই বাংলার চাহিদার প্রমাণ।

হয়তো, কতই না ভাল হতো, যদি রাষ্ট্র এই চাহিদার পরিপূরক হয়ে একে আরও উচ্চস্তরের বাহনে রূপান্তরিত করতো, এর যা কিছু সম্ভাবনা তার সত্যিকারের প্রকাশ দেখতে পেতাম আমরা। বাংলাদেশের যে কোন ভবিষ্যৎ সমাজবিপ্লবেরা অন্যতম একটা কর্মসূচি হবে বাংলাকে মুখের ভাষা থেকে আরও একধাপ উঁচুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত করা। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত প্রতিকূল বলেই, আজও আমরা দেখতে পাই, বাংলা ভাষার ও সাহিত্যের আপাতত যা কিছু আশা— তা এই জনগণের জীবনের চাহিদাকে কেন্দ্র করেই।

 

জীবনানন্দের আশা ও আশঙ্কায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ || পর্ব-১
জীবনানন্দের আশা ও আশঙ্কায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ || পর্ব-২

 

ফিরোজ আহমেদ কেন্দ্রীয় সদস্য, গণসংহতি আন্দোলন। সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। 

লাইভ

টপ