behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

অক্ষমতা

ওয়াজেদ মহান১৮:১০, মার্চ ০২, ২০১৬

সেরা দশ গল্প

- তোকে আমার ভাল লাগে...
- আমারও তোকে ভাল লাগে
- ভাবছি প্রপোজ ডে তে তোকে প্রপোজ করব
- করিস, অনেকদিন হল কেউ প্রপোজ করেনি...।
- আমি সিরিয়াস দোস্ত
- আমি ও সিরিয়াস, সিরিয়াস না হলে কি এভাবে পারমিশান দিয়ে দেই তোকে??? ( ফেইসবুকে চ্যাট করতে করতে)

অতঃপর প্রপোজ ডে...।। টিং টিং টিং

- দোস্ত কই তুই???
- বাসায়
- দ্রুত বের হ
- বের হবনা আজ, ফেব্রুয়ারির এই কয়েকটা দিন কাজ ছাড়া বাইরে যাইনা
- ফাজলামো রাখ, ঝটপট বের হয়ে আস, পারলে একটা পাঞ্জাবি পরিস
- মানে কি? ম্যাড ডগ কি আমাকে বাইট করছে যে এই অসময়ে আমি পাঞ্জাবি পরব???
- আচ্ছা ঠিক আছে, তুই দিগম্বর হয়েই চলে আয়, কুইক।

অতপর হেলতে দুলতে মিনিট বিশেক স্নেহা কে রাস্তায় দাড় করিয়ে রেখে বাসা থেকে বের হওয়া

- আরে দোস্ত, তোকে তো সাক্ষাত পরীর মত লাগছে। শাড়ি পরছিস কেন??? আর লাল শাড়ি কেন??? আজ কি ভ্যালেন্টাইন ডে???

- একটা রিকোয়েস্ট করি তোকে???
- এক ট্রিলিয়নটা কর...
- আমি না বলা পর্যন্ত তুই আর কোন কথা বলবিনা, স্রেফ চুপ করে থাকবি। প্লিজ???
- ঠিক আছে, বললামনা, এই ফাঁকে আয়ু টা একটু বাড়ুক, অলোয়েজ তো বকবক করি, কি বলিস?
- স্নেহা কথা বলেনা, লাল টকটকে লিপিস্টিক দেয়া দুই ঠোটের মাঝে লম্বালম্বি আঙ্গুল রেখে আমাকে চুপ থাকতে বলে...

কেএফসির মিষ্টি আলোয় স্নেহাকে সত্তিকারের পরীর মত দেখায়। আশেপাশের বেশ কিছু লোক হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। হালকা সাজে স্নেহাকে এত সুন্দর লাগে এই প্রথম দেখলাম। অথচ স্নেহা প্রায় ন্যাংটু কালের বন্ধু আমার...।

-       শালারা সব তোর দিকে তাকায় আছে, কি করুম ক না? জনে জনে গিয়ে চোখ আঙ্গুল দিয়া ট্যারা কইরা দিয়া আসি????


স্নেহা আবারও চুপ থাকার ভঙ্গি করে...।
আমি ও ও করে নিজের মুখে নিজেই তালা মারা চিহ্ন আকি...

পাশাপাশি বসতে গেলাম, হুট করেই স্নেহা গিয়ে মুখোমুখি বসে পড়ে...। আমি আবারও কথা বলা শুরু করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু উ আ করে চুপ হয়ে গেলাম

স্নেহাকে বেশ গম্ভীর লাগছে আজ। অবশ্য এত সুন্দর সাজে ওর স্বভাবসুলভ লাফালাফি আর চঞ্চলতা ওকে মানাত না একদম, ভাল হইছে, ভং ধরছে...। 

কিছুটা টিচার একটা ভাব নিয়ে স্নেহা লেকচার দিতে শুরু করে......
" দেখ, তোকে কিছু কথা সরাসরি বলে ফেলছি। তুই তো জানিস ন্যাকামি আমার অসহ্য। তুই আমার কথার মাঝে কোন কথা বলবিনা। আমার কথা শেষ হলে তারপর ঘড়িধরা দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পাবি। তারপর আমি উঠে যাব...... "

এই প্রথম স্নেহাকে আমার ভয় লাগে। ওর সামনে আমার নিজেকে হোম ওয়ার্ক না করে আসা স্টুডেন্ট মনে হয়... আমি অসহায় ভাব নিয়ে বসে থাকি। ওর এই চেহারা আমার একেবারেই অচেনা

স্নেহা বলতে শুরু করে

" তোর সাথে আমার অনেক বছরের বন্ধুত্ব। তুমি থেকে আমাদের সম্পর্কটা তুই তোকারিতে নেমে গেছে সেও অনেক বছর। বিশ্বাস কর, আমি জীবনেও ভাবিনি তোকে কোনদিন আমার এভাবে এই কথাগুলা বলতে হবে। কিন্তু এখন আর না বলেও উপায় নেই। আমি জানি আমি যা বলতে যাচ্ছি সেসব শুনতে তুই মোটেও পছন্দ করবিনা, তারপরও বলছি এই জন্য যে, সেদিন তুই আমাকে বলার জন্য পারমিশান দিয়েছিস, না হলে এই দুঃসাহসটা আমার কোন দিন হতো বলে মনে হয়না...।

এরই মাঝে ওয়েটার এসে মেন্যুবুক রেখে যায় টেবিলের উপর। স্নেহা কিছুক্ষণ নীরব থাকে ওয়েটার চলে যাওয়ার পরও।

তুই কি কষ্ট করে দুটো ড্রিংসের অর্ডার করে আসবি??... স্নেহা প্রশ্ন করে।

আমি উঠে যাই। দুটো মাউন্টেন ডিউর ক্যান হাতে করে ফিরে আসি নিজের জায়গায়।  ক্যানের মুখটা হালকা শব্দে খুলে তাতে চুমুক দেয় স্নেহা। কাঁপছে কেন ও???

স্নেহা হালকা কাশি তোলে, কথা বলার পূর্বপ্রস্তুতি, বুঝে নিতে আমার খুব একটা অসুবিধে হয়না। 

“দোস্ত, আমি তোকে খুব ভালবাসি, সেটা বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে গেছে বেশ আগেই। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে করতে আমি বেশ হাঁপিয়ে উঠেছি। আমি আর পারছিনা। এভাবে আর কিছুদিন চললে আমি দম আটকে মারা যাব, তুই আমাকে বাঁচা...।। আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারব না দোস্ত... কোনদিন পারব না...।।“

অনেকটা এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে শেষ করে স্নেহা। শেষের শব্দগুলো খুব অস্পষ্ট শোনায়, গলা ধরে আসে তার...।

শেষ কথাটি বলে স্নেহা আমার টেবিলের উপর রাখা হাত চেপে ধরে। চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রুতে কাজল মিলেমিশে একাকার।

আমি প্রাণহীন স্ট্যাচুর মত বসে থাকি, স্নেহা ওর দুই হাতে যে আমার হাতটি শক্ত করে ধরে বসে আছে, সেটি আমি অনুভব করতে পারিনা...। আমার শুধু এতটুকু বলতে ইচ্ছে করে ......তুই কেন এমন করলি। কেন এই আত্মার সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরিয়ে দিলি, তুই তো জানিস না, এ অসম্ভব। কিন্তু একটি শব্দ ও আমার মুখ দিয়ে বের হয়না...।

স্নেহা আমার কাছে তার বহু প্রতীক্ষিত প্রস্নের জবাব খুঁজে। মুখ দিয়ে শুধু একটি কথা আওয়াজ থাকে বারবার... দোস্ত, তুই কিছু বল... আমি তরে ছাড়া থাকতে পারব না... পারবনা...।

আমি সম্বিৎ ফিরে পাই ওর ঝাঁকুনিতে...। খেয়াল করিনি আমার চোখের কোণ কক্ষণ চিকচিক করে উঠেছে... মেন্যু পেপারের উপর টুপ করে এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়তে দেখেই সেটা বুঝে নিলাম।

স্নেহা আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে, আমি শক্ত করে ধরে থাকা ওর হাত থেকে আমার হাতটি আলতো  করে ছাড়িয়ে নেই...

স্নেহা শূন্য দৃষ্টিস্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে... আমি উঠে পড়ি ওর সামনে থেকে......চল বাসায় যাই...।

 

স্নেহা টেবিলে মাথা নোয়ায়...। নিজের হাতের উপর কপাল ঠেকিয়ে দিয়ে নুয়ে থাকে... আমি ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকি...।

স্নেহা থেমে থেমে কেঁপে উঠছে খুব। ওর নীরব কান্নার তীব্রতা আমি দাঁড়িয়ে থেকেই টের পাই। ইচ্ছে করে ওর মুখটা তুলে ধরে অন্য সময়ের মত বলতে... আরে দোস্ত, বিপদ??? আমি শালা থাকতে তোর সামনে আজরাইল ও আসবনা...।

স্নেহা উঠে দাঁড়ায়। হ্যান্ডব্যাগটা ছিনিয়ে নেয়ার ভঙ্গিতে কাঁধে তুলে নেয়। আমার দিকে না তাকিয়ে বলে তুই আমার সঙ্গে আসিস না, মিনিট পাঁচেক পরে বের হ.. দয়া করে এই কথাটা রাখ।

আমি মোমবাতির মতো দাঁড়িয়ে থাকি, টিস্যু পেপারে চোখ মুছে নিয়ে স্নেহা খুব দ্রুত চলে যায়...।

আশেপাশের মানুষগুলো আমার দিকে তীব্র ঘৃণা নিয়ে তাকিয়ে থাকে... আমার নিজেকে গিনিপিগ মনে হতে শুরু করে...।

আমি উপরে তাকাই ক্ষণিকের জন্য... উনাকে প্রশ্ন করি... আমাকে নিয়ে তোমার খেলাটা কবে শেষ হবে একটু বলবা??????? বলবা কবে??????

মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে  চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে আমার, স্নেহাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য না (আমার সাথে থাকলে স্নেহা এমন কষ্ট যে আজীবন ভর পেত), আমার কাঁদতে ইচ্ছে করে আমার অক্ষমতার জন্য... একটি অক্ষম মানুষ হয়ে জন্মানোর জন্য, ওকে তো বলতে পারব না আমি স্বাভাবিক মানুষ নয়। আমি তৃতীয় একজন...

হাঁটতে হাঁটতে কখন যে রেস্টুরেন্ট থেকে রাস্তায় নেমে এসেছি খেয়াল করিনি। রাত খুব বেশি না হলেও আশেপাশে মানুষজনের আনাগোনা অনেক কমে গেছে। “আঙ্কেল, সাইড দিয়া হাঁটেন” বলে চোদ্দ পনের বছরের এক কিশোর পাশ দিয়ে হুশ করে সাইকেল চালিয়ে চলে যায়। আমি নিজেকে রাস্তার ঠিক মাঝখানে আবিস্কার করি।

ঢাকা শহরের উজ্জল আলোয় রাতের আকাশের তারাগুলো স্পষ্ট দেখা যায়না। আমি উপরে তাকিয়ে তারা খোঁজার চেস্টা করি। কানের পাশে কে যেন করুন কন্ঠে আর্তি জানায় “আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারব না দোস্ত... কোনদিন পারব না...”।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ