behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

কৌতুক-কার্টুনে নারীর প্রতিরূপ

রোখসানা চৌধুরী১১:৪৩, মার্চ ০৮, ২০১৬

ব্যঙ্গচিত্রের একটি ভয়াবহ দিক হল নারীশরীরকে বিশেষ ইমেজে উপস্থাপন করা। স্থুলকায়া নারীরা এখানে ‘দজ্জাল’ বা ‘কলহপ্রিয়’ ইমেজে উপস্থিত। আর যে মেয়েরা দৃষ্টিনন্দন তারা সাধারণত ‘ছলনাময়ী’ ‘মাথামোটা’ অথবা ‘শপিং-বিলাসী’ রূপে আবির্ভূত। অর্থাৎ নারী সর্বদাই রূপায়িত হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে...

নমুনা-১

ভদ্রলোক : স্যার আমার বউ হারিয়ে গেছে।
ডাক্তার : এটা হাসপাতাল, আপনি পুলিশ স্টেশনে কমপ্লেন করুন।
ভদ্রলোক : আসলে আনন্দের চোটে মাথাটা কাজ করছে না।

নমুনা-২

প্রেমিক : মাত্র পনের দিন হলো আমাদের পরিচয় হয়েছে। আমাকে কতটুকু জানো যে, বিয়ে করতে চাইছ?
প্রেমিকা : যা জানার ঠিকই জানি, আমি যে ব্যাংকে চাকরি করি, সেখানে তোমার ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে না!

নমুনা-৩
১ম বন্ধু : শুনলাম তোর বৌ নাকি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে, তা হয়েছিল কি?
২য় বন্ধু : আর বলিস না, রাগের মাথায় কী না বলেছিলাম, এতেই...। মেয়েরা এত ইমোশনাল হয়!
৩য় বন্ধু : ভালো করে মনে করে দেখ তো, আমার ঘরেও ট্রাই করে দেখবো, বড় জ্বালাচ্ছে। 

নমুনা-৪
ঈশ্বর মেয়েদের সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন যাতে পুরুষ তার প্রেমে পড়ে, আর মেয়েদের নির্বোধ করে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা পুরুষের প্রেমে পড়ে। 

নমুনা-৫
১ম বন্ধু : উফ্ বাজার করা, রান্না করা, কাপড়-চোপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার– এত কাজ একা করতে পারছিলাম না। তাই বিয়েটা করেই নিলাম।
২য় বন্ধু : এত কাজ আমিও একা করতে পারছিলাম না, তাই ডিভোর্সটা দিয়েই দিলাম। 

নমুনা-৬
পুত্র : মা, তুমি কি বিয়ের আগে ড্রিল মাস্টার ছিলে?
মা : কেন?
পুত্র : দাদা-দাদী আর ফুপু বলে যে, বাবা নাকি তোমার কথায় উঠ-বস করে? 

নমুনা-৭
দেবদূত : আপনি কি বিবাহিত?
১ম ব্যাক্তি : হ্যাঁ
দেবদূত : আপনাকে স্বর্গে পাঠানো হল। কারণ, পৃথিবীতে আপনি যথেষ্ট নরক ভোগ করে এসেছেন।
২য় ব্যাক্তি : হ্যাঁ, দুবার বিয়ে করেছিলাম।
দেবদূত : আপনাকে নরকে পাঠানো হবে। কারণ, আপনি নরকবাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। 

নমুনা-৮
চুম্বকের সাথে মেয়েদের পার্থক্য হল, চুম্বকের অন্তত একটা পজিটিভ দিক থাকে। 

নমুনা-৯
স্ত্রী : আমি মরে গেলে তোমার কেমন লাগবে?
স্বামী : আামি মনে হয় পাগলই হয়ে যাব।
স্ত্রী : আবার বিয়ে করবে নাতো?
স্বামী : পাগলে কী না করে। 

এক

পৃথিবীজুড়ে গত এক শতাব্দী ধরেই কৌতুক বা ব্যঙ্গচিত্র অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পথনাটকের মতোই এটি যে কোন সমকালীন বিষয়ের উপর আলোকপাত করে এবং পাঠকের মনে ইমেজ সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
কৌতুক সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য–‘কৌতুক জিনিসটা কিছু রহস্যময়। জন্তুরাও সুখ-দুঃখ অনুভব করে, কিন্তু কৌতুক অনুভব করে না।’
কথাটা খাঁটি বটে। তবে জন্তুর সাথে প্রাণীকুলশ্রেষ্ঠ মানুষের প্রভেদ আরো বিস্তর। ব্যাঙকে ঢেলা নিক্ষেপ করলে যখন তার জীবন-সংশয়, মানুষ সেই মুহূর্তেও অনুভব করে কৌতুক। ব্যাঙতো তবু ইতর প্রাণী। মানুষের হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া বিষয়টির অভ্যন্তরস্থ বেদনাকে ছাপিয়ে এর কৌতুককর দিকটি মনুষ্য সমাজে নির্মমভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ, কৌতুকের মাধ্যমে পরিবেশিত আনন্দের পশ্চাতে থাকে বেদনা আর ক্ষোভ যা আমাদের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়।

দুই
ছোটবেলায় রনবী অঙ্কিত সেই কার্টুন কে না দেখেছে। ক্ষীণকায়, ভীতসন্ত্রস্ত, গোবেচারা চেহারার স্বামী আতঙ্কিত দৃষ্টিতে মোকাবেলা করছে স্থুলাঙ্গী উদ্যতঝাঁটা-হস্ত রণরঙ্গিনী মুর্তি স্ত্রীকে। যা এতকাল (এবং এখনো) সাধারণ জনগণের মনে এক ধরনের কাঙ্খিত আমোদ সৃষ্টি করে এসেছে। এই দৃশ্যকল্প সম্পর্কে একটি মন্তব্যই করা যায়, আর তা হল স্ত্রীর হাতে স্বামীর নিগৃহীত হওয়া বড়জোর কৌতুকই করা যায়, কারণ বিপরীত দৃশ্যটি নির্মম ও ভয়াবহ।
সাহিত্য যদি মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকে, তবে গৃহের চার দেয়ালের মতো, কর্মক্ষেত্রের মতো বা রাস্তাঘাটের মতো সাহিত্যেও (এবং রম্য সাহিত্যেও) নারী অবদমিত অথবা উপহাসের প্রাত্রী হয়েছে দীর্ঘকাল। সেকারণেই রম্যসাহিত্য সষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই নারী যথারীতি বাঁধা পড়ে গেছে নির্দিষ্ট কিছু ইমেজের গণ্ডিতে। যেমন– নারীর মন বলতে কিছু নেই, অবিবাহিতদের প্রেমের ফাঁদ পাতা নিত্য অভ্যেস, ঈদে স্বামীর পকেট খসানেই বিবাহিতদের একমাত্র কাজ। জনসাধারণ্যে এইসব চিত্রকল্প সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাবান পুরুষ শ্রেণী। ক্ষমতায়নের এটাই সুবিধা যে, বৈষম্যের সূত্রগুলো নাগরিক শ্রেণীর মস্তিষ্কে এমনভাবে সাজিয়ে দেয় যে, বিকল্প চিন্তার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। যেমন– পাশ্চাত্যে গাত্রবর্ণ নিয়ে অথবা প্রাচ্যদেশীয়দের অমার্জিত, সভ্যতাবর্জিত স্বভাব নিয়ে সহজেই কৌতুকোপোযোগী চিত্রকল্প সৃষ্টি করা হয়। হয়তো সেজন্যই পৃথিবীতে নারী রম্য লেখকের সংখ্যা অতি নগণ্য। সাহিত্যেও অন্যান্য শাখার মতো রম্য রচনাও পুুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক স্বরে নির্মিত।
দেখা যাক সাধারণভাবে প্রচলিত কৌতুকগুলো আমাদের কী বলে? বলে যে, বিয়ে অতি ভয়ংকর এক শৃঙ্খলিত জীবন, যে শৃঙ্খল সৃষ্টি করে নারী। কিন্তু নারীর পক্ষে বিয়ে অতি আকর্ষণীয় বিষয় যদিও তা শাড়ি-গহনা-অর্থ প্রাপ্তির উপরে নির্ভরশীল। অর্থাৎ ব্যঙ্গ কৌতুকে বিবাহ নারীর সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা আর অসহায়ত্বকে দৃষ্টির আগোচরে রেখে পাঠকের মনোযোগকে আলোকপাত করছে নারীর অর্থ লোভের উপর। এমনকি পরিবারে বা সংসারে নারীর মূল ভূমিকা যে ঘরকন্না করার তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়। কর্তৃত্বপরায়ণ নারী হয় চুড়ান্ত বিদ্রুপের শিকার।
বউকে ভয় পাওয়া বিষয়ক প্রবঞ্চনামূলক প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘নারী বরের ঘরে গিয়ে যতোই দাপটের সঙ্গে চলুন, যতোই তিনি স্বামীর উপর চোটপাট করুন, যতোই তিনি বিলাসিতার মধ্যে গা ভাসান তাকে কী করে একজন স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা চলে? একজন পুরুষ স্বামী হিসেবে ‘বউকে ভয়’ পেতে পারেন, তার চাহিদা পুরণের জন্য অস্থির হতে পারেন, তাকে নানা মধুর বিশেষণে ভূষিত করতে পারেন, তাতে ঐ নারীর শৃঙ্খল কিছুতেই ঢাকা পড়ে না। এই নারীর দাপট অহংকার পুরোটাই ফাঁপা, কোনটাই তার অর্জিত নয়, কোনটাই তার নিজস্ব নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, মুহূর্তের মধ্যে একজন পুরুষ ডাকসাঁইটে বউকে চুপসে দিতে পারে, পুরুষের এই ক্ষমতা সমাজ নিশ্চিত করে রেখেছে।’’
রম্যব্যঙ্গ আমাদের আরো বলে যে, দাম্পত্য জীবনে নারীর ভূমিকা এতই অসহনীয় যে কখনো কখনো পুরুষ তার মৃত্যুকামনা করতে বাধ্য হয়। মেয়েদের বুদ্ধি নিয়ে সর্বত্রই আছে অবজ্ঞা আর উপহাস। মুদ্রণ শিল্পের জগতে ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন রম্যসাহিত্যের আরো একটি বিশিষ্ট রূপ। এইসব ব্যঙ্গচিত্রের একটি ভয়াবহ দিক হল নারীশরীরকে বিশেষ ইমেজে উপস্থাপন করা। স্থুলকায়া নারীরা এখানে ‘দজ্জাল’ বা ‘কলহপ্রিয়’ ইমেজে উপস্থিত। আর যে মেয়েরা দৃষ্টিনন্দন তারা সাধারণত ‘ছলনাময়ী’ ‘মাথামোটা’ অথবা ‘শপিং-বিলাসী’ রূপে আবির্ভূত। অর্থাৎ নারী সর্বদাই রূপায়িত হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে। অথচ এইসব মুখরা, কলহপ্রিয়, শপিং-বিলাসী, বহুগামিনী, অর্থলিপ্সু নারীর বিপরীতে যেসব দায়িত্বহীন বা কর্তৃত্বপরায়ণ অথবা সংসার উদাসীন স্বামীর সক্রিয় ভূমিকা বিদ্যমান তারা ইমেজবন্দী হয়ে থাকেন গোবেচারা চেহারা নিয়ে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বনামধন্য রম্যসাহিত্যিক আবদুস শাকুরের উক্তি স্মরণ করা যাক– ‘সাহিত্যে যাবতীয় দুঃসাহসিকতার একটা নিরাপদ পন্থা হল হাস্যরসের মধুলেপনে রচনাটাকে রম্য করে তোলা।’
তাহলে কি এটা বলা চলে যে, স্ত্রী জাতির প্রতি বিদ্বেষ-অবজ্ঞা প্রকাশের একটি নিরাপদ মাধ্যম হল কৌতুকরস বা রম্য সাহিত্য?
তিনি আরো বলেন– ‘চিত্তের বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না-পারা পর্যন্ত হাস্যরস সৃষ্টি করা যায় না। বাড়তি কাজ দিয়ে পাঠকের মনকে কর্মচঞ্চল রাখতে পারলেই রচনাটিকে রমনীয় বোধ হয়, রম্য ঠেকে গল্পটি।
বোঝাই যাচ্ছে, রম্যরসকে রমণীয় রাখতেই সম্ভবত রমণীকুলের প্রতি রমণীয় আক্রমণ কৌতুকরসের প্রায় অবশ্যম্ভাবী অঙ্গরূপে বিবেচ্য ছিল, আছে এবং থাকবে।
বিপরীতে, পুরুষের মাতলামো আর বহুগামিতা সর্বদাই ইতিবাচকভাবে পরিবেশিত হয়েছে। বিশিষ্ট রম্যসাহিত্যিক তারাপদ রায় হয়তো সেই দায় এড়াতেই বলেছিলেন, জগৎ সংসারের তাবৎ হাসির গল্প নাকি মদ আর মাতালকে নিয়ে। তাই তার রচনায় বিষয়টি বারংবার ঘুরে ফিরে এসেছে।
কেবল রম্যসাহিত্যেই নয়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্রের মতো বিখ্যাত লেখকগণ কমলাকান্ত বা নিমচাঁদের মতো বিজ্ঞ বিদূষক চরিত্রকে মাতালরূপে উপস্থাপন করেছেন। যেখানে তারা প্রজ্ঞার দিক থেকে নমস্য ব্যক্তি। রম্যসাহিত্যে মাতাল চরিত্রটি এসেছে হাস্যম্পদ রূপে বা তার চেয়ে অধিক শিল্পীর সহানুভূতি সঙ্গে করে। মাতলামির মত ভয়াবহ একটি অপরাধকে শিল্প-সাহিত্যে অত্যন্ত উদারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা কিনা যুগে যুগে পারিবারিক আর দাম্পত্য জীবনকে বিষময়ই করেছে শুধু। অথচ এই প্রসঙ্গে কোন নারীর মাতলামির চিত্রটি কি কল্পনা করাও সম্ভব? অথবা আজকের দিনেও কি ইতিবাচকরূপে চিত্রায়িত করা সম্ভব ‘পথের পাচাঁলীর’ হরিহর বা অপুর স্থলে কোন নায়িকাকে যে কিনা শিল্পের সন্ধানে সংসার প্রসঙ্গে চরম ঔদাসীন্য দেখায়। আর সংসার মানে কী? সংসার মানেই গৃহকর্মী, ডিটারজেন্ট, বাচ্চার স্কুল আর স্কুলের টিফিনের এক অচ্ছেদ্য চক্র। এই চক্র থেকে বাঁচতে নারীকে কে ক্ষমার চোখে দেখবে? তার চাইতে বরং ফ্যাশন ম্যাগাজিন আর শপিংয়ের তুচ্ছতা আর ক্ষুদ্রতায় ডুবে থাকলে সকল পক্ষের আপাত শান্তি। আপাত শান্তি মানে চিরকালীন শান্তি নয়, তাই অবদমিত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে প্রায়ই। তখনই তার মুখরা রূপটি নিয়ে বিদ্রুপ করে পরোক্ষভাবে পুরুষও তার অবদমিত ক্ষোভকে প্রকাশ করে শৈল্পিক উপায়ে।
বেগম রোকেয়ার আবরোধ আজ আর নেই। কিন্তু আজো আমরা আকাঙ্খা করি নারীর দশভূজা রূপ। নারীর কর্মক্ষেত্র এখনো তার আন্তরিক মানস বিকাশের জায়গা হয়ে উঠেনি। সাংসারিক পিছুটান আর কর্মক্ষেত্রের নিয়মানুবর্তিতা– এই উভয়ের দ্বন্দ্ব জটিল অবস্থানে নারী আজ আরো বেশি বিপদের সম্মুখীন। কোন পক্ষই তাকে ক্ষমার চোখে দেখছে না এবং জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে না। অথচ এই সমন্বয় কিন্তু পুরুষকে করতে হচ্ছে না। কোনোকালে করতেও হয়নি। তাই কঠোর দারিদ্র্যের ভেতরেও ‘পথের পাঁচালী’র’ অপু সংসারের পিছুটান ভুলে যাযাবর জীবন কাটাতে পারে শিল্পের নেশায়।
কেবল রম্যসাহিত্যেই নয়, রবীন্দ্র-শরৎ-বিভূতি-জীবনানন্দ প্রমুখ কিংবদন্তী লেখকের রচনাতেও সংস্কৃতিমনা, সুকুমারবৃত্তি সম্পন্ন, সংসারউদাসীন নায়কদের প্রাধান্য। এইসব নায়কেরা যুগে যুগে একতরফাভাবে নারীপুরুষ নির্বিশেষে পাঠকের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। বিপরীতে উপস্থাপিত ‘অপরপক্ষ’ অর্থাৎ কলহপ্রিয়, মুখরা, অর্থলোভী, স্থুলরুচি নারী চরিত্রদের ‘ডিসকোর্স’ বা ‘ভাষ্য’ আমাদের অজানাই থেকে গেছে।
মূলত এইসব দৃষ্টিভঙ্গিগত বৈষম্য সৃষ্টি হয় অর্ন্তগত অবচেতন অবজ্ঞা আর বিদ্বেষ থেকে। আর এই বৈষম্য আমাদের সমাজ কাঠামোতে এমনভাবে ঢুকে গেছে যে, অনেক সময় আমরা ধরতেই পারি না যে, বৈষম্যটা ঠিক কী ভাবে হচ্ছে। যেমন : বিজ্ঞাপনচিত্রে নারীকে সবসময় তুলে ধরা হয় মহিয়সী দশভূজারূপে যে কিনা দশ দিক এক হাতে সামলায়, আর যা দেখে নারী উদ্বুদ্ধ হয় best হওয়ার চাইতে better half হওয়ার জন্য।
অথবা নারীর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাকে তুলে ধরা হয় নারী স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে। অথচ নারী তার সচেতন স্বজ্ঞায় উপলব্ধি করছে না যে, এই প্রতিযোগিতা পণ্যসর্বস্ব পুঁজিবিশ্বের প্রসাধন সামগ্রীর বিপণন বিজ্ঞাপনের বৃহত্তম মঞ্চ। একদিকে পুরুষের নির্দেশে আফগানিস্তানের নারী অবরুদ্ধ হচ্ছে। আবার অন্যদিকে পুরুষেরই স্বার্থে পশ্চিমা নারী (এখন আমরাও) তার সৌন্দর্যকে উন্মোচন করছে। তবুও আশার কথা এই যে, পৃথিবীজুড়ে আজ পুরুষতান্ত্রিক ভাষ্যের বিপরীতে প্রস্তুুত হচ্ছে নারীবাদী বয়ান।
আমাদের দেশেও আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা তার বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছি। কিন্তু নারীর প্রতি অন্তরের অন্তস্থলে পুষে রাখা পুরুষের অবজ্ঞা-উদাসীনতা আর ঘৃণা এবং নারীর নিজের মনের মানসিক দাসত্ব অপসারিত না হলে কেবল শ্লোগান আর আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।


 

কার্টুন : ইন্টারনেট থেকে নেওয়া

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ