স্বাধীন দেশে পরাজিত জাতি || শামছুজ্জামান সেলিম

Send
.
প্রকাশিত : ১১:৫১, মার্চ ২৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫১, মার্চ ২৬, ২০১৬



দেখতে দেখতে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেল বাঙালি জাতি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সমগ্র বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল রাজনৈতিকভাবে। নগণ্য সংখ্যক দালাল ছিল যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। তাও আবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার পর দালালরা ওদের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়েছিল।
বাঙালি স্বাধীনতার জন্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল তাদের রাষ্ট্রের চরিত্র কেমন হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নিয়েই। মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’ পরিষ্কার করেছিল সেই রাষ্ট্রচিন্তা। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রণীত সংবিধানে সেই রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন যথার্থ ভাবেই ঘটেছিল। রাষ্ট্রীয় চার নীতি, যাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আধার বলা হয় তারই বাস্তব রূপ।
১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে জিয়াউর রহমান সামরিক ফরমান জারি করে ‘সংবিধান’ থেকে ‘চার মূল নীতি’কে কাটছাট করে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিক্ষেপ করলেন। পরে পঞ্চম সংশোধনী পাশ করিয়ে এই বিশ্বাস ঘাতকতাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। সামরিক স্বৈরাচারী এরশাদ ‘অষ্টম সংশোধনী’ দিয়ে (রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম) এই বিশ্বাস ঘাতকতাকে পরিপূর্ণ করেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারপতি খায়রুল হক ‘পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনী’ বাতিল করে বাংলাদেশকে ’৭২ সালে ফিরিয়ে আনেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর আইনমন্ত্রী সফিক আহমেদ বলেছিলেন, আজ থেকে বাংলাদেশে জামায়াতসহ সকল ধর্মীয় দল নিষিদ্ধ হয়ে গেল। কোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কয়েক কপি ‘সংবিধান’ ছাপানোও হয়েছিল। এরপর বাঙলির ভাগ্যাকাশে আবার অন্ধকার যুগের পুনরাবির্ভাব ঘটে গেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ‘ষোড়শ সংশোধনী’ পাশ করিয়ে পুনরায় জিয়া এবং এরশাদকে বৈধতা দিলেন।
ঠিক এই মহুর্তে ইসলামের নামে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতকে চোখ রাঙিয়ে ধমক দিচ্ছে উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি। ‘রাষ্ট্রধর্ম’ বাতিল করার আবেদন জানিয়ে যে কোনো নাগরিকের আদালতের স্মরণাপর্ণ হওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই অধিকার ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেয়ার অধিকার কারও থাকতে পারে না। সর্বোচ্চ আদালত যদি ‘পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনী’ বাতিল করতে পারে, তাহলে ‘ষোড়শ সংশোধনী’ও বাতিল করতে পারে।
২৬ মার্চ প্রচন্ড হৈচৈ করে পালন করবে সরকার এবং আওয়ামী লীগ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। স্বাধীনতার এই রূপ কী বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব কল্পনা করতে পেরেছিলেন? না, তাঁরা কল্পনা করতে পারেন নি। মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি ‘জয়বাংলা’ কী আজকের বাংলাদেশকে ধারণ করতে পারে? না, কখনই পারে না।
ক’য়েক দশক ধরে আলোচিত হয়ে আসছে, আধুনিক যুগে (বা কখনই) রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। এ বিষয়ে অনেক যুক্তিতর্ক দেয়া হয়েছে নিকট অতীতে। আজকের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি নিজেকে বিজয়ী ভাবতে পারে না। দেশটা স্বাধীন, কিন্তু জাতি পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে বেঁচে আছে।

লাইভ

টপ