তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, চলছে গণনা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৮:৩৪, মার্চ ১১, ২০১৯

সারাংশ

 সিলেটের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু। (ছবি: তুহিনুল হক, সিলেট প্রতিনিধি)

দেশের তিন সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট নেওয়া হয়। ভোট বর্জন ও বাতিলের দাবি এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। 

বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্য মেয়র প্রার্থীরা ভোট বর্জন ও স্থগিতের দাবি জানান। সিলেটে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী ভোট বাতিলের দাবি জানান। রাজশাহীতে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে দলটির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কেন্দ্রে অবস্থান নেন।

তিন সিটিতে মেয়র পদে ১৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে বরিশালে তিনজন সাধারণ কাউন্সিলর ও একজন নারী কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

১৫:৫৪, জুলাই ৩০, ২০১৮

ককটেল নিক্ষেপের পর জাল ভোটের চেষ্টা

সাইফুল ইসলাম, সিলেট থেকে

এই কেন্দ্রে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়

সিলেটে ১০৮ ওয়ার্ডের উপশহর ডি-ব্লকের শাহজালাল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ওই কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে কে বা কারা ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে অবশ্য কেউ আহত হয়নি।

ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য রমজান আলী বলেন, ‘ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার পর ভোটাররা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।’

ওই কেন্দ্রের নৌকার এজেন্ট শহীদুল আলম বলেন, ৫/৭টি ছেলে জাল ভোটার দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের পুলিশ তাড়িয়ে দেয়।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আমিনুর রশিদ বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে মোট ভোট ৩৩৬০টি। দুপুর ২টার দিকে একটা ককটেল ছুড়ে মারে কে বা কারা। এর কিছুক্ষণ পর কিছু লোক জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

১৫:৩৮, জুলাই ৩০, ২০১৮

ভোট দিলেন না বুলবুল

সিরাজুচ ছালেকিন, রাজশাহী থেকে

ভোটকেন্দ্রে বুলবুলের অবস্থানরাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ভোট দেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে দেশে গণতন্ত্র নেই সেখানে আমার ভোট দিয়ে কোনও লাভ নেই। কারও সঙ্গে কোনও ঝামেলাও করতে আমি রাজি নই।’

নিজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা ভোট বর্জন নয়, প্রতিবাদ।’ চারটায় ভোট শেষ হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাবেন বুলবুল।

ভোট শুরুর আগেই বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজে অবস্থান নেন মেয়র প্রার্থী বুলবুল। সোমবার সকাল ৮টার দিকে নগরীর স্যাটেলাইট কেন্দ্রে তার ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি একই স্থানে অবস্থান নেন। তিনি এই কেন্দ্রে ব্যালটের হিসাব দাবি করেছেন।

জানা গেছে, সোমবার (৩০ জুলাই) সকালে নগরীর বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ধানের শীষের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয় এমন অভিযোগ শুনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে পৌঁছান। পরে তার পোলিং এজেন্টদের পুনরায় প্রবেশ করার আদেশ দিলেও তারা বুথে প্রবেশ করেননি। পরবর্তীতে নিজ পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্রের বাইরেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।

বিএনপির এই প্রার্থীর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট শেষ হয়ে গেছে। তাই তিনি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালটের হিসাব চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যালটের হিসাব না পেলে তিনি সেখান থেকে যাবেন না।

আরও পড়ুন- রাজশাহীতে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ

১৫:৩৪, জুলাই ৩০, ২০১৮

সিলেটে দু’টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট সিটি নির্বাচনসিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই ও বিশৃঙ্খলার জন্য দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (৩০ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে এই দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। 

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহান বলেন, সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসা (১১৬নং কেন্দ্র) ও ২৭নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৪নং কেন্দ্র) কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, গাজী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২২১ জন ও হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৫৬৬ জন।

 

 

 

১৫:১২, জুলাই ৩০, ২০১৮

সিলেট বিএনপির পর ভোট বাতিলের দাবি জামায়াতেরও

তুহিনুল হক তুহিন ও মোগাম্মদ নূর উদ্দিন, সিলেট থেকে

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের মেয়র প্রার্থীবিএনপির পর এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাতিলের দাবি করেছে জামায়াতও। সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরের সাপ্লাই এলাকায় প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শিবিরের এক নেতার পায়ে গুলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘সিলেটে নির্বাচনের নামে হয়েছে ভোট ডাকাতির উৎসব। প্রতিটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে জাল ভোট দিয়ে ব্যালেট বাক্স ভরে রাখে। অথচ শতাধিক পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে জানিয়ে লাভ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নগরের ১৯নং ওয়ার্ডের বখতিয়ার বিভি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমাদের এজেন্টদের ওপর হামলা চালায় নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা আমাদের শিবির নেতা আব্দুল মুক্তাদির ফাহাদের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি করে। এছাড়াও ১৮নং ওয়ার্ডে ঝেরঝেরিপাড়ায় রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পার্টির এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ককটেল হামলা ও কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে জাল ভোট দেওয়া হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘সিলেট নগরের অধিকাংশ কেন্দ্রে যখন আমরা পরিদর্শনে যাই তখন ভোটাররা আমাদের জানিয়েছেন ভোট দিতে গেলে তাদের জানানো হয়েছে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও নগরের ৮নং ওয়ার্ড, ২১নং ওয়ার্ড, ২৪নং ওয়ার্ড, ২০নং ওয়ার্ড, ১১নং ওয়ার্ড, ১৩নং ওয়ার্ড, ১৫নং ওয়ার্ড, ২১নং ওয়ার্ড, ২৪নং ওয়ার্ড, ২৯নং ওয়ার্ড, ৭নং ওয়ার্ড, ২৬নং ওয়ার্ড, ২৭নং ওয়ার্ড, ১৭নং ওয়ার্ডের শতাধিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে জাল ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন কিনা এ প্রসঙ্গে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই আর কী কী ঘটে। এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নেইনি।’

তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে ৫০টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাল ভোটের মহোৎসব করেছে। একটি কেন্দ্রে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলে পুলিশ তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের স্বপ্ন ছিল প্রশাসন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করবে। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল। আমাদের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন- সিলেটে নির্বাচন বাতিলের দাবি আরিফের

১৫:০১, জুলাই ৩০, ২০১৮

'ডিজিটাল যুগের স্বাদ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও পেলাম'

মো. আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী থেকে

ইভিএম কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররারাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ১৩৮ কেন্দ্রের মধ্যে দুইটি কেন্দ্রে  ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে। রাসিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতিতে ভোট হয়েছে। তবে ইভিএম-এ ভোট দিতে কোনও ঝামেলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

নগরীর বোয়ালিয়া থানা সংলগ্ন বিবি হিন্দু একাডেমিতে ইভিএমের দুইটি কেন্দ্র। এরমধ্যে পুরুষ ১৬৩৭ ভোটারের মধ্যে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪০০ এবং নারী ১৭৪৮ ভোটারের মধ্যে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬২৫ জন ভোট দিয়েছেন।

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সচিব তরুণ সরকার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ইভিএম মাধ্যমে ভোট দিলাম। চমৎকার পদ্ধতি। ভুল হলেও বাতিল করার পদ্ধতি থাকছে। ডিজিটাল যুগের স্বাদটা আমরা ভোট প্রদান করার ক্ষেত্রেও পেলাম।’

রাজশাহী-১ আসনের (গোদাগাড়ী-তানোর) এমপি ফারুক চৌধুরীও এই কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, ‘এক কথায় চমৎকার এবং সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতিতে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

ইভিএম কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন ভোটারতিনি বলেন, ‘নতুন পদ্ধতি বুঝতে অসুবিধা হবে অনেকের। তাই ধাপে ধাপে এই পদ্ধতি চালুর পরিমাণ বাড়াতে হবে।’

প্রথম ইভিএমে ভোট দেওয়ার পর নারী ভোটার মৌলি ও পারুল পারভীন জানান, খুব সহজ মনে হয়েছে। আর বুঝতে না পারলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা সহযোগিতা করছে। আবার আগে গিয়ে আমাদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে লিফলেট প্রদান করেছেন।

জয় প্রকাশ নামে এক ভোটার বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার আগে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বুঝিয়ে দেওয়ার পর তা একেবারে সহজ মনে হয়েছে। আমি প্রথম এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। কারণ, সিল মারার প্রয়োজন পড়ছে না। আবার আমার ভোটটা অন্য কেউ দিতে পারবে না। ঠিকঠাকভাবে ব্যালটে সিল মারতে না পরলে আগে যেমন নষ্ট হয়ে যেতো। এই পদ্ধতিতে তা হচ্ছে না।’

ইভিএম কেন্দ্র

পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার অমিত কুমার প্রাং এবং নারী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ভোটের দুই দিন আগে এই কেন্দ্রে মক ভোটিংয়ের (মহড়া) ব্যবস্থা করেছিলাম। যেখানে এই এলাকার ভোটাররা অন্য প্রতীকে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। ফলে তাদের কোন সমস্যা হয়নি।’

আরও পড়ুন- 

রাজশাহীতে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ

 ভোটকেন্দ্রে বুলবুলের অবস্থান

 

১৪:২৬, জুলাই ৩০, ২০১৮

ভোটকেন্দ্রে বুলবুলের অবস্থান

রাজশাহী প্রতিনিধি

ভোটকেন্দ্রে বুলবুলের অবস্থানভোট শুরুর আগেই বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজে অবস্থান নেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সোমবার সকাল ৮টার দিকে নগরীর স্যাটেলাইট কেন্দ্রে তার ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিনি একই স্থানে অবস্থান নেন। তিনি এই কেন্দ্রে ব্যালটের হিসাব দাবি করেছেন।

জানা গেছে, সোমবার (৩০ জুলাই) সকালে নগরীর বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ধানের শীষের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়- এমন অভিযোগ শুনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে পৌঁছান। পরে তার পোলিং এজেন্টদের পুনরায় প্রবেশ করার আদেশ দিলেও তারা বুথে প্রবেশ করেননি। পরবর্তীতে নিজ পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।ভোটকেন্দ্রে বুলবুলের অবস্থান

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র প্রার্থী বুলবুল বলেন, ‘যে দেশে গণতন্ত্র নেই সেখানে আমার ভোট দিয়ে কোনও লাভ নেই। কারও সঙ্গে কোনও ঝামেলাও করতে আমি রাজি নই।’

বিএনপির এই প্রার্থীর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট শেষ হয়ে গেছে। তাই তিনি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালটের হিসাব চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যালটের হিসাব না পেলে তিনি সেখান থেকে যাবেন না।

এদিকে দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বিএনপির ছয়জন পোলিং এজেন্ট রোকনাসা বেগম, শারমীন আক্তার আম্বিয়া, চৌধুরী শারমীন রুনা, আলমগীর হোসেন, পারভীন খাতুন ও আনোয়ারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দেব দুলাল ঢালীকে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বের হন। কিন্তু প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেনি। তাদের অভিযোগ, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। ভোটার আসার আগে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে জানান। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই ছয়জন পোলিং এজেন্ট বের হয়ে আসেন।

আরও পড়ুন- রাজশাহীতে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ

১৪:২২, জুলাই ৩০, ২০১৮

ব্যালট সংকট, ভোট দিতে না পারার অভিযোগ ৩০ জনের

মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, সিলেট

ভোট দিতে না পারা দুইজনসিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ব্যালট সংকটের কারণে ৩০ জন ভোটার ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রিজাইডিং অফিসারের দাবি, কেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ করা হয়নি।

সোমবার দুপুর বেলা ১টায় নগরীর পাঠানটুলা এলাকার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা পশ্চিম কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটাররা এ অভিযোগ করেন।

একই এলাকার ভোটার অসিত পাল জানান, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পর কর্মকর্তারা জানান ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। একই অভিযোগ করেন নতুন ভোটার মাহবুবুল আলম, আব্দুর রহমান চৌধুরী, ফৌজিয়া আক্তার, ফায়েজা আক্তারসহ অনেকেই।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল আজাদ জানান, কেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে ৩০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। ব্যালট পেপার পর্যাপ্ত আছে।

জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এরই মধ্যে আরিফ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানান। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রার্থী আছেন ভোটের লড়াইয়ে।

নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, সিলেট সিটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

 আরও পড়ুন- 

সিলেটে নির্বাচন বাতিলের দাবি আরিফের

‘সিলেটে কী হবে, তা জয়ের জরিপে আছে’

 

১৪:০৬, জুলাই ৩০, ২০১৮

বরিশালে ইভিএমে ধীরগতির কারণে ভোটারদের লম্বা লাইন

আনিছুর রহমান স্বপন ও এস এম সামছুর রহমান, বরিশাল থেকে

বরিশালে ইভিএম কেন্দ্রবরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ২১ নং ওয়ার্ডে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তবে ধীরগতির কারণে এই কেন্দ্রে পুরুষ ও নারীদের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ ভোটারদের ইভিএম বিষয়ে জ্ঞান না থাকার কারণে এবং তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সময় লাগছে।বরিশালে ইভিএম কেন্দ্র

এদিকে নতুন এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। কলেজ এভিনিউর মাজহারুল ইসলাম (৬০) বলেন, ‘শেষ বয়ষে এসে নতুন এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’বরিশালে ইভিএম কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন

কলেজ এভিনিউর আরেক ভোটার কনিকা হালদার ( ৪০) বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে আনন্দ পেয়েছি। তবে অনেক সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।’ ভোটার মো. ইউছুপ আলী (৫০) বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’বরিশালে ইভিএম কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন

সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মু. ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ এখনও ইভিএম বোঝে না। তাদের বুঝিয়ে দেওয়া লাগে। সুতরাং দেরি হওয়াই স্বাভাবিক।’ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৮ ভাগ ভোট পড়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন- জাল ভোট ও বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে বিসিসি নির্বাচন চলছে


১৩:৫০, জুলাই ৩০, ২০১৮

সিলেটে নির্বাচন বাতিলের দাবি আরিফের

সিলেট প্রতিনিধি

নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোট বাতিলের দাবি জানান আরিফুল হক চৌধুরীসিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে গিয়ে সোমবার দুপুরে তিনি এই দাবি করেন। মহানগরী এলাকায় ভোট জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি।

সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসব অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারপরও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অফিসকে জানিয়েছি সকাল থেকে ১৯, ২০ ও ২১নং ওয়ার্ডসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে আমার ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও জাতীয় পার্টির এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কেন্দ্রে থেকে বের করে দিয়ে ব্যালেটে সিল দিয়ে বাক্সে ভরে রাখে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার দাবি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’

উল্লেখ্য, আজ সিলেটের পাশাপাশি বরিশাল ও রাজশাহীতেও সিটি নির্বাচন হচ্ছে। কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরিশালেও বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো, ব্যালটে জোর করে সিল মারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

আরও পড়ুন- ‘সিলেটে কী হবে, তা জয়ের জরিপে আছে’

১৩:৪৫, জুলাই ৩০, ২০১৮

নিজের ভোটার নম্বর জানেন না সরওয়ার!

বরিশাল প্রতিনিধি

ভোট দিচ্ছেন সরওয়ার

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ভোটার নম্বর নিজেই জানেন না। ভোটার নম্বর ছাড়াই তিনি কেন্দ্রে গিয়ে হট্টগোল করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৩০ জুলাই) ৮টা ৪০ মিনিটে নগরীর কাউনিয়া সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ভোট দিতে যান সরওয়ার। ভোট দিতে গিয়ে নিজের ভোটার নম্বর খুঁজতে থাকেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে নম্বর জানতে চান। কিন্তু কেউ জানাতে পারেনি। এসময় নেতাকর্মীদের ওপর চটে যান তিনি। তাতেও কাজ হয়নি। তারপর ফোন করে ভোটার নম্বর জেনে নেন। এতেই ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়।

ভোটকেন্দ্রে বেশি সময় নেওয়ায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ প্রার্থীর সমর্থকরা সরওয়ার একাধিক ভোট দিচ্ছেন বলে চিৎকার শুরু করে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেক ভোটার নিজের ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরেও কয়েক দফায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায় একই বিদ্যালয়ের দু’টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জয় রত্ন।

প্রিংজাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জয় রত্ন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কেন্দ্রে ঝামেলা হওয়ায় ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ৭৫০টির মতো ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খান সাহিনুল হক বলেন, একটু ঝামেলা হলেও ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল না।

ভোটদেওয়া শেষে সরওয়ার বলেন, ‘আমার ভোটার নম্বরটা খুঁজে পেতে দেরি হয়েছে। তাই ভোট দিতে দেরি হয়েছে। কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনের ফল যাই হোক মেনে নেবো। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে, কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সদস্যরা।

আরও পড়ুন-

বরিশালে এবার ভোট বর্জনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর 

 

বরিশালে ভোট বর্জনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর

ফল যাই হোক মেনে নেবো: সাদিক আবদুল্লাহ

১৩:০৫, জুলাই ৩০, ২০১৮

বরিশালে ম‌নীষার ওপর হামলার অভিযোগ (ভিডিও)

এস এম সামছুর রহমান, বরিশাল থেকে

হামলার অভিযোগ করেছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তীবরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৩০ জুলাই) সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মনীষা।

তিনি বলেন, ‘সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে এসে আমরা দেখলাম যে সমস্ত ব্যালটে মেয়রের সিল নৌকায় দেওয়া। আমরা যখন প্রিজাইডিং অফিসারকে জানালাম উনি কিছু করলেন না, উনি বসে থাকলেন। তারপরে যখন আমরা ব্যালট পেপারটা দেখতে গেলাম তখন আওয়ামী লীগের ব্যাজ পরা দুজন আমাকে ধাক্কা মেরে পেছন থেকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে এবং আমার হাত থেকে ব্যালট নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। একজন লাল পাঞ্জাবি এবং আরেকজন নীল শার্ট পরা ছিল। আমার কাছে তাদের ছবিও আছে। আমার নখ পর্যন্ত ভেঙে গেছে। একজন মেয়র ক্যান্ডিডেটকে যদি তারা এভাবে আঘাত করে তাহলে তারা নিজেদের কোথায় চিন্তা করছে। তাহলে তো এই নির্বাচন করার আর কোনও অর্থ থাকে না।’

বাসদ প্রার্থী মনীষা বলেন, ‘আপনারা এখনও অফিসারের কাছে ছেঁড়া ব্যালট দেখতে পাবেন এবং দুইজন অফিসারই ইলেকশন কমিশনারের কাছে বলেছেন তাদের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে সিল মেরে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হচ্ছে অবস্থা। সারা বরিশালের প্রত্যেকটা কেন্দ্র থেকে খবর আসছে। প্রায় ১০০টা কেন্দ্র থেকে খবর এসেছে, প্রত্যেকটা জায়গায় একই কাজ করছে। সদরগঞ্জ স্কুল বরিশালের একটি প্রাণকেন্দ্র, এ কে স্কুল বরিশালের একটা সেন্টার। সেখানে বসে যদি সিল ঠেকানোর মতো কাজ করতে পারে তাহলে এই নির্বাচন কমিশন আসলে কী কাজ করছে সেটা জাতির কাছে একটা প্রশ্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এখনও খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং আমাদের এজেন্টদেরও বিভিন্ন জায়গা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ব্যালট, সিল দেওয়া ব্যালট ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনে অনিয়ম, ভোট কারচুপি, অনিয়ম, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ব্যালট ছিনতাই ও জালভোটসহ বিভিন্ন অভিযোগে বরিশালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন- 

বরিশালে এবার ভোট বর্জনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর

বরিশালে ভোট বর্জনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর

ফল যাই হোক মেনে নেবো: সাদিক আবদুল্লাহ

১২:৩৭, জুলাই ৩০, ২০১৮

বরিশালে এবার ভোট বর্জনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর

জহিরুল ইসলাম, বরিশাল থেকে

সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ারবরিশাল সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, কারচুপি, এজেন্টদের মারধর ও জালভোটের অভিযোগ এনেছেন তিনি। সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

এর আগে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহবুব।
সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নগরীর কাউনিয়া সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান বিএনপি মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার। ভোট দিতে এসে নিজের ভোটার নম্বর খুঁজতে থাকেন তিনি। এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ভোটার নম্বর জানতে চান সরওয়ার। কিন্তু কেউ জানাতে পারেননি। এরপর ফোন করে ভোটার নম্বরটি তিনি জানতে পারেন। এতেই ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সদস্যরা। আমার ভোটার নম্বরটা খুঁজে পেতে দেরি হয়েছে। কারণ, আমার সমর্থকদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ারএদিকে সরওয়ার একাধিক ভোট দিচ্ছেন বলে চিৎকার শুরু করে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তখন আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেক ভোটার নিজের ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরও সেখানে কয়েক দফায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে একই বিদ্যালয়ে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জয় রত্ন। আধঘণ্টা পর ফের ভোট শুরু হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (৩০ জুলাই) বরিশাল টাউন হলের সামনে সাংবাদিকদের সামনে ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা প্রতীক) প্রার্থী ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনি এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ডিজিটাল কারচুপি, নৌকার পক্ষে সিল মারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন- 

বরিশালে ভোট বর্জনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর

ফল যাই হোক মেনে নেবো: সাদিক আবদুল্লাহ

১২:৩৫, জুলাই ৩০, ২০১৮

জাল ভোট ও বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে বিসিসি নির্বাচন চলছে

এস এম রেজাউল করিম, বরিশাল থেকে

বরিশালে ভোটার উপস্থিত কমজাল ভোট, বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।  মেয়র পদপ্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোট দিয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সকাল ৮টার আগেই বরিশাল কলেজ সেন্টারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন  আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ। ৮টা ৫ মিনিটে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। বিএনপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে।শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব উন্নয়নের কারণে ভোটাররা নৌকায় ভোট দেবেন। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সদস্যরা।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর কেন্দ্রের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন৮টা ৪০ মিনিটে নগরীর কাউনিয়া সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসেন সরওয়ার। ভোটার নম্বর সঙ্গে করে নিয়ে না আসায় খুঁজে পেতে ১৫ মিনিট সময় বেশি লাগে। এসময় সাদিকের সমর্থকরা সরওয়ার একাধিক ভোট দিচ্ছেন বলে চিৎকার করে কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা চালায়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। আবার অনেক ভোটার নিজের ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরেও কয়েক দফায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায় একই বিদ্যালয়ে দু’টি কেন্দ্রের  ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জয় রত্ন।

ভোট দেওয়ার পর কথা বলেন সাদিক আবদুল্লাহভোট দেওয়ার পর সরওয়ার বলেন, ‘আমার ভোটার নম্বরটা খুঁজে পেতে দেরি হয়েছে। সমর্থকদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জয় রত্ন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা হওয়ায় ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ৭৫০টির মতো ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে তিনি জানান।

সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২নং কেন্দ্রের নারী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খান শাহিনুল হক বলেন,  একটু ঝামেলা হলেও ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল না। তার ওই কেন্দ্রে ৮০০’র বেশি ভোট দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই দুই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৪০ জন।

হামলার শিকার মনীষাবাসদের মেয়র প্রার্থী মনীষার একান্ত সহকারী টুম্পা জানান, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডেও  ভোটকেন্দ্রে আসেন মনীষা। এসময় তিনি ব্যালট পেপারে নৌকার সিল মারা অবস্থায় দেখতে পেয়ে কারণ জানতে চাইলে এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মনীষার ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। এ ঘটনায় প্রায় আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রভাষ কুমার মণ্ডন্ডকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ফোন রিসিভ করে কেটে দেন। 

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে অক্সফোর্ড মিশন কেন্দ্রে নিজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন মনীষা চক্রবর্তী।

২৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ওয়াহেদ বালিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রুপাতলী জাগুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের শুরুতেই নৌকার পক্ষে ব্যাপক জাল ভোট পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার। এই দুই কেন্দ্র ১৪টি বুথ রয়েছে।

অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়া নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মেয়র প্রাথীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজন ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মাঠে রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী বশিরুল হক ঝুনু নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। আর ভোট বর্জন করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ওবাইদুর রহমান (মাহবুব)।

বরিশাল সিটিতে সাধারণ ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে ও একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৯১ জন ও নয়টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার।

আরও পড়ুন:

 বরিশালে ভোট বর্জনের ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর

 

১১:৫২, জুলাই ৩০, ২০১৮

‘সিলেটে কী হবে, তা জয়ের জরিপে আছে’

তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মেয়র প্রার্থী আরিফুল হকবিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফলাফল কী হবে তা জরিপ চালিয়ে বলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। এর মাধ্যমে বোঝা গেছে সিলেটে ভোট কারচুপি হবে। এই জরিপে কোনও সাধারণ মানুষ অংশ নেয়নি। এতে অংশ নেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাই এতে এগিয়ে রয়েছেন আমার বড় ভাই জনবিচ্ছিন্ন নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। যদি এই জরিপ যথাযথভাবে ভোটারদের সাথে কথা বলে করা হতো তাহলে তাদের প্রার্থীর আসল চেহারা ধরা পড়তো।

সোমবার (৩০ জুলাই) ঝেরঝেরিপাড়ার রায়নগর সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ভোট দেওয়ার পর এ কথা বলেন আরিফ। 

তিনি বলেন, ‘সিলেটের মানুষ জানে কামরান ভাই ১৮ বছর ক্ষমতায় থেকে কী করেছেন আর আমি কী করছি। আমাকে তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রায় ৩৩ মাস জনগণের সেবা দেওয়া থেকে বঞ্চিত করে রাখে। তবু তাদের লাভ হয়নি। সিলেটের উন্নয়নের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। আর জনগণ এবারও আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। আমি যা করেছি তা সবই দৃশ্যমান। আমার বিজয়ের চিহ্নটিতে জয় সাহেব দাগ দিয়ে দিয়েছেন। জনগণের ভোটের অধিকার অন্যরা কেড়ে নিলে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রয়োজনে আন্দোলনে যাবো।’ 

জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন,  ‘জরিপে দেখা গেছে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে সেখানে বলেছেন ৩৩ শতাংশ ভোটার। আর ধানের শীষে আমার পক্ষে বলেছেন ২৮.১ শতাংশ। অন্য দলের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ১.৩ শতাংশ। আর সিদ্ধান্তহীনতায় নাকি আছেন ২৩ শতাংশ।’ 

 

 

 

১১:৩৯, জুলাই ৩০, ২০১৮

সিলেটে খাসদবীর স্কুল ভোটকেন্দ্রে হামলা

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের খাসদবীর ভোট কেন্দ্রসিলেট নগরের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রিমাদ আহমদ রুবেলের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোকজন খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ভোট কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিত ছিল।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, অন্যান্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে রিমাদের সমর্থকরা রেডিও প্রতীকে সিল দিয়ে ব্যালেট বক্সে ভরে পালিয়ে যায়। 

সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পরে ওই কেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। 

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শুনেছি, খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক স্কুলে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন ঝামেলা করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 

ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রেজওয়ান আহমদ বলেন,  ‘রিমাদ আহমদের লোকজন কেন্দ্রে দখল করে জাল ভোট দিয়ে ব্যালেট বাক্স ভরে গেছে। এ বিষয়টি আমরা সিলেট নির্বাচনি কার্যালয়ে জানিয়েছি।’ 

আরও পড়ুন:

 সিলেটে পাঠানটুলায় সংঘর্ষ, কিছু সময় বন্ধ থাকার পর ফের ভোটগ্রহণ শুরু

১১:৩৯, জুলাই ৩০, ২০১৮

বরিশালে ভোট বর্জনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর

এস এম সামসুর রহমান, বরিশাল থেকে

বরিশালে ভোট বর্জনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান (মাঝখানে সাদা দাঁড়ি)বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহবুব ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি হাতপাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছিলেন। নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

সোমবার (৩০ জুলাই) বরিশাল টাউন হলের সামনে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা দেন ওবায়দুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনি এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ডিজিটাল কারচুপি, নৌকার পক্ষে সিল মারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি।’

এ সময় ওবায়দুর রহমান মাহবুবের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ নাসিরসহ দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে সাতজন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে বশিরুল হক ঝুনু নামের স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। বাকি ছয়জন মাঠে রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরোয়ার ও আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

বরিশাল সিটিতে সাধারণ ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে ও একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৯১ জন ও নয়টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১২টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ৫৫টি ভোটকেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন- ফল যাই হোক মেনে নেবো: সাদিক আবদুল্লাহ

১১:০৬, জুলাই ৩০, ২০১৮

ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম বরিশালে

জহিরুল ইসলাম খান, বরিশাল থেকে

বরিশালে ভোটার উপস্থিত কমবরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি তুলনা কম। বেলা ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। তবে কে‌ন্দ্রেগুলোয় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের উপ‌স্থিতি বেশি।

স‌রেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বরিশাল ‘ল’ কলেজ কেন্দ্র, বরিশাল কলেজ কেন্দ্র, সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি একেবারে নেই বললেই চলে। তবে এসব কেন্দ্রে নারী ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করছেন।

বরিশালের ‘ল’ ক‌লেজ কেন্দ্রে আসা স্থানীয় বা‌সিন্দা গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, ‘নারীরা সাধারণত সকাল সকাল ভোট দিতে আসেন। আর পুরুষরা একটু দেরিতে আসেন।’ বিভিন্ন কেন্দ্রে নারীদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও পুরুষ ভোটারদের বু‌থের সামনে তেমন লাইন ছিল না।

বরিশালে ভোটার উপস্থিত কম

২৩নং সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মালতি বেগম বলেন,  ‘এ কেন্দ্রে পুরুষদের কেন্দ্রে লাইন নাই। নারীদের অনেক ভিড়।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা এস এম নাসিরউদ্দিন বলেন,  অক্সফোর্ড মিশনার স্কুল কেন্দ্র, বিএম কলেজ কেন্দ্রসহ অনেকগুলো কেন্দ্র ঘুরেছি। ভোটাররা লাইন ধরে ভোট দিচ্ছেন। তবে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। 

তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় যেকোনও সময় বৃষ্টির আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। কারণ বৃষ্টি নামলে ভোট দিতে সমস্যায় পড়বেন তারা।

 

 

 

১০:৪৭, জুলাই ৩০, ২০১৮

সিলেটে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি

তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট

সিলেটে ভোটারদের লাইনসিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। আগেভাগে ভোট দেওয়ার জন্য সকাল ৮টা থেকে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।  

ভোট কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের চেয়ে নারীর ভোটারদের দীর্ঘ সারি। নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা সকালেই ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত হন। নারী ভোটাররা জানান,নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অধিকাংশ কেন্দ্রেই নারীদের সারি ছিল দীর্ঘ।   তবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। 

সিলেটে ভোটারদের লাইনএছাড়া মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী সমর্থকরা যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন সেজন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরছেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

উপশহরের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী আফিয়া সুলতানা বলেন,  ‘দলীয় প্রতিকে নির্বাচন হওয়ায় সংঘাত-সংঘর্ষ হবে বলে আশঙ্কা ছিল। তাই মা ও ছোট বোনকে নিয়েই সকাল সাড়ে ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ভোট দেয়ার সুযোগ পাই।’

 নারী ভোটারদের লাইনবুরহান উদ্দিন কেন্দ্রে ভোট দিকে আসা গৃহিণী রাশেদা খানম ও সেলিনা বেগম বলেন,  ৫ বছর পর ভোট এসেছে। তাই কোন ঝামেলা শুরু হওয়ার আগেই ভোট দিয়েছি। মেয়র পদে কাকে ভোট দিলেন এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, একজন দিয়েছি ধানের শীষে আরেকজন নৌকায়। কারণ প্রার্থীর চেয়ে আমাদের কাছে প্রতীক বেশি প্রধান্য পেয়েছে।

নারী ভোটারদের লাইন

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘সিলেটের মানুষ শান্তি প্রিয় তা আবারও প্রমাণ হয়েছে। এখানে অত্যন্ত সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিএনপির প্রার্থীর মিথ্যা অভিযোগ করেই যাচ্ছেন। তাকে এ সিলেটের মানুষ আর চায় না।’ 

নারী ভোটারদের লাইনবিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা শান্তিতে ভোট দিকে পারছেন না। কয়েকটি কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদেরকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে রবিবার (৩০ জুলাই) রাতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকায় ভোট দিয়ে ব্যালেট বাক্স ভরে রেখে দিয়েছে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে।’ 

নারী ভোটারদের লাইনসিসিকের ৯টি সংরক্ষিত নারী ও ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪ শত ৪৪ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার ২ শত ৮৮ জন নারী ভোটার।

জানা যায়, সিলেট নগরের ৪নং ওয়ার্ডের আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই বুথে  ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলছে। এই দুটি বুথে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৫ শত ৫৬ জন ও নারী ভোটার ১ হাজার ৯ শত ৫৭ জন। 

 

 

 

১০:৩৯, জুলাই ৩০, ২০১৮

তিন সিটিতেই ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সিলেটে ভোটারদের লাইনরাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে একযোগে তিন সিটিতে ভোট শুরু হয়। ভোট শুরুর আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও  বাড়ছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত তিন সিটির কোথাও বড় ধরনের কোনও অনিয়ম বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন — ‘সকাল থেকেই ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলোতে আমাদের ধানের শীষের এজেন্টদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এজেন্টদেরকে ধাওয়া করেছে।’  সিলেটে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব অভিযোগ করেছেন, তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ভোট দিচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে ফল মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মেয়র প্রার্থীরা।সিলেটে ভোটারদের লাইন

নির্বাচনের যেকোনও ধরনের ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় নগরীর উপশহর স্যাটেলাইট হাই স্কুল কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন। সারাদিন এমন পরিবেশে সবাই ভোট দেবেন এটাই আশা করি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। ফলাফল একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবে যেকোনও ফলাফল মেনে নেওয়ার মন মানসিকতা আছে।’ ভোট কারচুপির কোনও আশঙ্কা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ যেন ভালো থাকে এটাই আশা করি। তবে অতি উৎসাহী কেউ যেন এই সুষ্ঠু পরিবেশটাকে নষ্ট না করে।’সিলেটে ভোটারদের লাইন

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘নির্বাচ‌নের ফলাফল যাই হোক না কেন তা মে‌নে নেবো। নির্বাচ‌নে যেই জয়লাভ কর‌বে, তা‌কে সহায়তা কর‌বো।’ সোমবার (৩০ জুলাই) সরকারি ব‌রিশাল কলেজ কে‌ন্দ্রে ভোট প্রদান ক‌রেন। কেন্দ্রের প্রথম ভোটটি দেন তিনি। আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী ব‌লেন, ‘বর্তমান সরকা‌রের উন্নয়ন দে‌খে জনগণ আওয়ামী লীগ‌কে ভোট দে‌বে। জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হবে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। জনগণ উৎসবমুখর প‌রি‌বে‌শে ভোট দি‌চ্ছে।’সিলেটে ভোটারগ্রহণ চলছে

এদিকে সিলেটে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব অভিযোগ করেছেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ভোট দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার কারণে সিলেট সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা।’ বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে এই নেতা আরও জানান, ‘ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের সম্প্রীতির ইতিহাসে কলঙ্কের কালিমা লেপন করছে আওয়ামী লীগ। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এমসি কলেজ কেন্দ্র, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের লামাবাজার কেন্দ্র ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জালালাবাদ আবাসিক এলাকার দুটি কেন্দ্র ও কাজীরবাজার মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে টেবিল ঘড়ি মার্কার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে কক্ষগুলোর দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে।’সিলেটে ভোট দেন বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেটের বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলোতে আমাদের ধানের শীষের এজেন্টদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এজেন্টদেরকে ধাওয়া করেছে। জীবন বাঁচানোর ভয়ে আমার ধানের শীষের এজেন্টরা আর কেন্দ্রেই যায়নি।’রাজশাহীতে ভোট দেওয়ার পর কথা বলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নগরের কাজী জালালউদ্দিন একাডেমিতে রবিবার (২৯ জুলাই) রাতেই ব্যালেট বাক্স ভরে রেখেছে। এটা যদি তারা করতে পারে তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের ভূমিকাই কী ছিল?বরিশালে ভোটারদের লাইন

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, ‘আজকের সিটি নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নেবো। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাই জনগণের যেকোনও রায় মেনে নেয়।’ সোমবার (৩০ জুলাই) সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টায় ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অত্যন্ত সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। বিএনপির প্রার্থীর যেসব অভিযোগ রয়েছে তা মিথ্যা এবং অপপ্রচার।’ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান

প্রসঙ্গত, তিন সিটিতে মেয়র পদে ১৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বরিশালে তিন জন সাধারণ কাউন্সিলর ও একজন নারী কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে সিটি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তায় শনিবার (২৮ জুলাই) থেকেই সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে র‍্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুই ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে। এ হিসাবে তিন সিটিতে র‌্যাবের ৮৭ টিম ও ১১ প্লাটুন রিজার্ভসহ ৫৫ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনের পরদিন মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে তারা।

 

০৯:৫১, জুলাই ৩০, ২০১৮

সিলেটে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ

তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট

 

এহসানুল মাহবুবসিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব অভিযোগ করেছেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ভোট দিচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার কারণে সিলেট সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা।’

বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব এই কথা বলেন। সিলেট মহানগরীর আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোট দেন তিনি।  

জামায়াতের এই নেতা আরও জানান, ‘ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের সম্প্রীতির ইতিহাসে কলঙ্কের কালেমা লেপন করছে আওয়ামী লীগ। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ২০নং ওয়ার্ডের এমসি কলেজ কেন্দ্র, ১১নং ওয়ার্ডের লামাবাজার কেন্দ্র ও ৭নং ওয়ার্ডের জালালাবাদ আবাসিক এলাকার দুটি কেন্দ্র ও কাজীরবাজার মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে টেবিল ঘড়ি মার্কার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে কক্ষগুলোর দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। বাকি ছয়জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রথমবার প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আছেন।

এ সিটির ভোটার তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন, যা তিন সিটির মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিলেট সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ সিটিতে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্র ও ৯২৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সিটির ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারের ২৭টি মোবাইল টিম ও ১০টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে।

এ ছাড়া র‌্যাবের ২৭টি টিম ও ১৪ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। এর বাইরে ৩ প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন- ভোটের মাঠ ছাড়বো না: আরিফুল হক

 

০৯:১৫, জুলাই ৩০, ২০১৮

জনগণ যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নেবো: কামরান

মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, সিলেট থেকে

ভোট প্রদান শেষে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, ‘আজকের সিটি নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নেবো। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাই জনগণের যেকোনো রায় মেনে নেয়।’

সোমবার (৩০ জুলাই) সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টায় ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অত্যন্ত সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। বিএনপির প্রার্থীর যেসব অভিযোগ রয়েছে তা মিথ্যা এবং অপপ্রচার।’

ভোট প্রদান শেষে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।  

এর আগে সকাল ৮টা থেকে সিসিক নির্বাচনে সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। 

সকালের দিকে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিত বাড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে অত্যন্ত তৎপর। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেছে। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন প্লাটুন কমান্ডার ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটেলিয়ান। এছাড়াও ১৪ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ২৭টি টিম পুরো এলাকায় কাজ করছে। পাশাপাশি ছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম। 

জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এর বাইরেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত সমর্থিত অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (ঘড়ি), সিপিবি-বাসদ মনোনীতি প্রার্থী আবু জাফর (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের (হরিণ)। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম আরিফুল হককে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া সিলেট সিটি নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রার্থী আছেন ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। 

নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, সিলেট সিটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হলেন এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

০৮:৫৬, জুলাই ৩০, ২০১৮

ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা আছে: লিটন

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী

ভোট দেওয়ার পর খায়রুজ্জামান লিটননির্বাচনের যেকোনও ধরনের ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় নগরীর উপশহর স্যাটেলাইট হাই স্কুল কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।  

ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন,  ‘আমি লক্ষ্য করেছি যে, উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন। সারাদিন এমন পরিবেশে সবাই ভোট দেবে এটাই আশা করি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। ফলাফল একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবে যেকোনও ফলাফল মেনে নেওয়ার মন মানসিকতা আছে।’

ভোট কারচুপির কোনও আশঙ্কা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোট গ্রহণের কেবল আধা ঘণ্টা পার হয়েছে। এখনি কিছু বলা যাবে না। পরিবেশ যেন এমনই থাকে এটাই আশা করি। তবে অতি উৎসাহী কেউ এই সুষ্ঠু পরিবেশটাকে নষ্ট না করে।’

বিএনপি ভোট প্রত্যাখানের গুজব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করবো না। এটা তাদের রাজনৈতিক ও প্রার্থীর সিদ্ধান্ত। ভোট হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কোনও রাজনৈতিক দলের এ ধরনের আচরণ জনগণ প্রত্যাশা করে না।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে লিটন বলেন, ‘বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ না হলেও ৭০ ভাগ আশাবাদী। কারণ নির্বাচনি প্রচারের সময় আমি মানুষের যে উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখেছি তাতে মনে হয়েছে আমি বিজয়ী হবো।’

স্যাটেলাইট হাই স্কুল কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।

ভোট দেওয়ার পর খায়রুজ্জামান লিটনএছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেরখাদিয়ায় শহীদ কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ছোটবনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। আর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান নগরীর দড়িখরবোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ভোট প্রদান করবেন। 

রাজশাহীতে এবার মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি এবং বুথের সংখ্যা ১ হাজার ২০টি। নির্বাচন কমিশন ১১৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। রবিবার রাজশাহীর গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল মিলনায়তনে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এবার নগরীর বিবি হিন্দু একাডেমিতে দুইটি কেন্দ্রে (১০০,১০১) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এবার এ সিটির ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। মোট ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন দলীয় প্রতীকে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন। এছাড়া সাধারণ ১৬০ জন কাউন্সিলর ও ৫২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট করছেন।

আরও পড়ুন:

রাসিকের পাঁচ মেয়রপ্রার্থী কে কোথায় ভোট দেবেন

০৮:৫৩, জুলাই ৩০, ২০১৮

ফল যাই হোক মেনে নেবো: সাদিক আবদুল্লাহ

এস এম সামসুর রহমান, বরিশাল থেকে

বরিশাল সরকারি কলেজে কেন্দ্রে ভোট দেন সাদিক আবদুল্লাহবরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘নির্বাচ‌নের ফলাফল যাই হোক না কেন তা মে‌নে নেবো। নির্বাচ‌নে যেই জয়লাভ কর‌বে তা‌কে সহায়তা কর‌বো।’

সোমবার (৩০ জুলাই) সরকারি ব‌রিশাল কলেজ কে‌ন্দ্রে ভোট প্রদান ক‌রেন। কেন্দ্রের প্রথম ভোটটি দেন তিনি।

আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী ব‌লেন, ‘বর্তমান সরকা‌রের উন্নয়ন দে‌খে জনগণ আওয়ামী লীগ‌কে ভোট দে‌বে। জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হবে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। জনগণ উৎসবমুখর প‌রি‌বে‌শে ভোট দি‌চ্ছে।’

সাদিক আবদুল্লাহর বাবা বরিশাল ১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারি ব‌রিশাল ক‌লে‌জে ভোট দেন সকাল সোয়া ৯ টায়। তি‌নি আওয়ামী লীগ প্রাথীর জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ প্রকাশ করেন। 

উল্লেখ্য আজ বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীতে একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে সাত জন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে বশিরুল হক ঝুনু নামের স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। বাকি ছয়জন মাঠে রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরোয়ার ও আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।বরিশাল সরকারি কলেজে কেন্দ্রে ভোট দেন সাদিক আবদুল্লাহ

বরিশাল সিটিতে সাধারণ ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে ও একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৯১ জন ও নয়টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরিশাল সিটি বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১২টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৫৫টি ভোটকেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের ২৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া এ সিটির ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারের ৩০টি মোবাইল টিম ও ১০টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে।

এ ছাড়া র‌্যাবের ৩০টি টিম ও ১৫ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। এর বাইরে চার প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ সিটিতে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ ও নারী ভোটার এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

 

০৮:৪১, জুলাই ৩০, ২০১৮

ভোটের মাঠ ছাড়বো না: আরিফুল হক

মো. নূর উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম, সিলেট থেকে

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকিদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হকসিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রয়োজনে শাহাদাত বরণ করবো, কিন্তু ভোটের মাঠ ছাড়বো না।’ সোমবার (৩০ জুলাই) সিলেট নগরীর রায়নগর সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে জানান, ‘গতকাল রাতেই এমসি কলেজসহ অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় অবৈধভাবে ভোট দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু,অবাধ  এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিএনপি অবশ্যই জয়লাভ করবে।'

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে যারা বিশেষ এজেন্ট নিয়ে সিলেটে এসেছেন তাদের ষড়যন্ত্র সিলেটের মানুষেরা সফল হতে দিবে না।’  

ভোট প্রদান শেষে তিনি প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হাসানকে নির্বাচনে যেন কারচুপি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান। 

এর আগে সকাল ৮টা থেকে সিসিক নির্বাচনে সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। 

সকালের দিকে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিত বাড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে অত্যন্ত তৎপর। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেছে। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন প্লাটুন কমান্ডার ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটেলিয়ান। এছাড়াও ১৪ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ২৭টি টিম পুরো এলাকায় কাজ করছে। পাশাপাশি ছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম। 

জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এর বাইরেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত সমর্থিত অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (ঘড়ি), সিপিবি-বাসদ মনোনীতি প্রার্থী আবু জাফর (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের (হরিণ)। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম আরিফুল হককে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া সিলেট সিটি নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রার্থী আছেন ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। 

নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, সিলেট সিটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হলেন এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

০৮:০৪, জুলাই ৩০, ২০১৮

তিন সিটিতে ভোট চলছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তিন সিটি এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো চিহিৃত করে সেখানে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থাও রেখেছে প্রশাসন।এছাড়া প্রার্থীদের আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে মাঠে রয়েছেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
গত ১৯ দিন এ তিন সিটির মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা অবিরাম ছুটে চলেছেন ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে। প্রচার-প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে শনিবার (২৮ জুলাই)। প্রার্থীরা ভোটারদের দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি।এখন ভোটারদের পালা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
সিলেট
সিলেটের ১৩৪ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নগরের রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ, র্যা ব ও বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছে। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান জানান, ‘মহানগরী এলাকায় সাড়ে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।আড়াই হাজার আনসার ও ৩২০ জন র্যাব সদস্যও দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া মাঠে থাকছে ১৪ প্লাটুন বিজিবি।’ তিনি আরও জানান, ‘ভোটগ্রহণ উপলক্ষে থাকবে চারস্তরের নিরাপত্তা বলয়। ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা, কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা, দুইটি ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ছয়টি ওয়ার্ড নিয়ে আরও একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেট মহানগরীকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে সিলেট উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর (সেন্ট্রাল)।’কোনও প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন কিনা- তা দেখভাল করবেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, সিলেট সিটি করেপোরেশন ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। হালনাগাদ ভোটার তালিকায় এবার ৩০ হাজার ৬৮৬ জন ভোটার বেড়েছে। এ সিটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হলেন এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

বরিশাল
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ-র্যা ব ও বিজিবি সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছে। এছাড়া তৎপর রয়েছে র্যাবও। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছেন র্যাব সদস্যরা। নগরীতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য মোটরযানের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর তিনটি প্রবেশ মুখে পুলিশের স্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নগরীর ভেতরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে চালানো হচ্ছে তল্লাশি অভিযান।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২২ জন সদস্য। এর মধ্যে অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০ জন। আর ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৪ জন সদস্য। অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১২ জন। এছাড়া ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও তিনশ’ র্যাব সদস্য ভোটকেন্দ্র ও চারপাশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন। স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে বিজিবির আরও ৪ প্লাটুন ও র্যা বের ২০ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া আরও থাকছেন ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।’
এ সিটিতে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি, যার মধ্যে ১১২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজশাহী
রাসিক নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, রাজশাহীতে এবার মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি এবং বুথের সংখ্যা ১ হাজার ২০টি। নির্বাচন কমিশন ১১৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। রবিবার রাজশাহীর গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল মিলনায়তনে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এবার নগরীর বিবি হিন্দু একাডেমিতে দুইটি কেন্দ্রে (১০০,১০১) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এবার এ সিটির ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। মোট ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন দলীয় প্রতীকে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন। এছাড়া সাধারণ ১৬০ জন কাউন্সিলর ও ৫২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট করছেন।
জানা গেছে, একটি কেন্দ্রে ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।নির্বাচন পর্যবেক্ষরেণ ৯টি সংস্থার ১৯৯ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দুতাবাস থেকে তিনজন থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিদেশি।এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরীতে বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মাঠে রয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ প্লাটুন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। চার প্লাটুন রিজার্ভ রাখা হয়েছে। র্যা ব-৫ -এর লেফটেনেন্টে কর্নেল মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সাড়ে চারশ’ র্যা ব সদস্য মাঠে থাকবে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে র্যা বের একটি করে টিম অবস্থান করবে। সেই সঙ্গে বাকিরা টহল অবস্থায় থাকবে।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘জননিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রেখে তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নির্বাচনি মাঠে রয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১ হাজার ৯৫০ আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকছে। ’

সম্পর্কিত

 
 
 
 
টপ