ভোট গণনা শেষ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্টে
প্রকাশিত : ১৭:৩৬, মার্চ ১৮, ২০১৯

সারাংশ

দেশজুড়ে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, সংঘর্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোট বর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম অভিযোগের মধ্যেই আজ রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এখন সব কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনা। এর আগে সকাল ৮টা থেকে সারাদেশের সব আসনের সব ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিকে, বিভিন্ন জেলায় ভোট গ্রহণের আগের রাত থেকে ভোট চলাকালে নির্বাচনি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও নোয়াখালীতে একজন আনসার সদস্য প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন।

ভোট দেওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু্ ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা আমিও শুনেছি। তবে নির্বাচন শেষ হলে বলা যাবে অংশগ্রহণমূলক হয়েছে কিনা।’ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া আছে তারা কেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে ওই সব কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দিতে বলা আছে। পরে এসব কেন্দ্রে আবারও ভোট হবে। ঢাকায় বসে তো আর পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আই অ্যাম অলওয়েজ কনফিডেন্ট। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমার বিশ্বাস, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শক্তির জয় হবে। স্বাধীনতার পক্ষের জয় হবে। উন্নয়ন অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য নৌকা মার্কার ভোট দেবে। আমি জানি বাংলার জনগণ আমাদের বেছে নেবে। নৌকার জয় হবেই হবে।’

নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কাল সারারাত পরিস্থিতি মনিটর করেছি। কয়েকটি জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে। এগুলো খুবই দুঃখজনক। আমাদের চারজনকে হত্যা করেছে। হত্যা করার ধরন একই রকম। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমাদের মোট ১০ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। আমরা সহিংসতা চাই না। শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ ভোট দেবে। যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করবে।’

এদিকে, ঠাকুরগাঁও-এ নিজে এলাকায় ভোট দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছি এখানের ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। এই কেন্দ্রে ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। কিন্তু আমি ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি বেগুনবাড়ি এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে কেন্দ্র দখল করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।’

এদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে এদিন দুপুরেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামি। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় একই অভিযোগে ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী। তবে জোটগতভাবে এ ব্যাপারে কোনও বিবৃতি আসেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। আজ সন্ধ্যা ৬টায় ঐক্যফ্রন্ট সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান জানাবে।

 

২৩:২৪, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বিপুল ভোটে মাশরাফির জয়

নড়াইল প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জিতলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নড়াইল-২ আসনে বেসরকারি ফলে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের পক্ষে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রাজু আহম্মেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নৌকা প্রতীক থেকে মাশরাফি পেয়েছেন ২ লাখ ৭১ হাজার ২১০ ভোট। মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে আড়াই লাখেরও বেশি ভোট পড়েছে তার ঘরে। 

একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী এনপিপি একাংশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮৩ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে এসেছিলেন তিনি।

নড়াইল পৌরসভা ও সদরের ৮টি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া পৌরসভা ও উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২ আসন। এখানে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪০টি। সবক’টির ফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন সচিবালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ জন।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, নির্বাচনে কোথাও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৮৭৮ জন র‌্যাব, ২ হাজার ৯০৪ জন পুলিশ সদস্যসহ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

২৩:০৪, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে পুনর্নির্বাচন দাবি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের গোডাউন রোডে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি তার দাবির কথা জানান।

তার ভাষ্য, অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবির বিষয়ে তিনি রিটার্নিং অফিসার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। পত্রের একটি অনুলিপি তিনি সাংবাদিকদেরও দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জিম্মি করার মতো কাণ্ড ঘটিয়ে রাতেই ৫০- ৬০ শতাংশ ব্যালটে নৌকা মার্কায় সিল দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২২:৫৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

মৌলভীবাজার-২ আসনে জিতলেন গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সিলেটের মৌলভীবাজার-২ আসনে বেসরকারি ফলে বিজয়ী হলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। গণফোরামের এই রাজনীতিবিদ ধানের শীষ প্রতীক থেকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের শরীক যুক্তফ্রন্টের প্রধান দল বিকল্পধারার প্রার্থী এম এম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট।

মৌলভীবাজার-২ আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৩টি। সবক’টির ফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন সচিবালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২২:২২, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

শেষ মুহূর্তে ভোট বর্জন করলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের ডাবলু

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ-১ নির্বাচনি আসনের (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) বিএনপি প্রার্থী খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু কারচুপি ও এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধাদানের অভিযোগে ভোট গণনা চালাকালেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে লিখিতভাবে নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এ সংক্রান্ত কোনও পত্র পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

খোন্দকার আব্দুল হামিদের পক্ষ থেকে বিকাল পাঁচটার দিকে নির্বচন বর্জনের কথা জানিয়ে লেখা পত্রটির অনুলিপি সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বেলা ২টার দিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, নির্বাচনি আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে তার নিয়োজিত পোলিং এজেন্টেদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। ভোট কারচুপিও হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেছেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর নির্বাচন বর্জন সংক্রান্ত কোনও পত্র তিনি পাননি।

২১:৪৫, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

গোপালগঞ্জ-১ ও ২ আসনে নৌকা বিজয়ী

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, গোপালগঞ্জ

লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান গোপালগঞ্জ-১ ও ২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেসরকারি ফলে বিজয়ী হয়েছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি এই ফল ঘোষণা করেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অপর এক প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩ লাখ ৩ হাজার ১৬২ ভোট। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৭০২ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ৫৭ ভোট।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম গোপালগঞ্জ-২ আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বেসরকারি ফলে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৯০৯ ভোট। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী তসলিম সিকদার পেয়েছেন ৬০৮ ভোট। জেলা বিএনপি সভাপতি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ পেয়েছেন ২৮৬ ভোট।

 

 

২১:২৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

খুলনায় ধানের শীষের ৫ জনসহ ৬ প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনায় ধানের শীষের ৫ জন ও লাঙ্গল প্রতীকের একজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এরা হলেন, খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং খুলনা-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনিল শুভ রায়। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার পর থেকে এ সব প্রার্থী একে একে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

খুলনা ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভোট গ্রহণের ১ ঘণ্টার ভেতরে তার নির্বাচনি এলাকা খুলনা-৫ আসনে সকল ভোটকেন্দ্রের ভোটকক্ষের দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়া হয়। ভোট গ্রহণের পর ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সব কারণে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষের কারাবন্দি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের প্রধান নির্বাচনি  এজেন্ট অ্যাভোকেট লিয়াকত আলী প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি,  তিনি নিজেও ভোট প্রদান করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন।

খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রশাসনের সহায়তায় পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট ডাকাতি এবং জাল ভোট প্রদানের ঘটনা ঘটায় তিনি নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হয়েছেন।

খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের ভাষ্য, পুলিশ ও সরকারি কর্মী-সমর্থকরা তাকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। কর্মীরা ভয়ে আতঙ্কিত রয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করছেন।

খুলনা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেছেন, কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছেন না। সাধারণ ভোটাররাও ভোট প্রদানের সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। জাল ভোটের এ নির্বাচন তিনি বর্জন করেছেন।

খুলনা-১ আসনের আরেক প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের সুনীল শুভ রায়ের ভাষ্য, ‘বটিয়াঘাটার ১০৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রই নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা দখল করে নিয়ে জাল ভোট দেয়। এ রকম কলঙ্কিত ভোট আমি আগে দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে গাছের সাথে বেধেও রাখা হয়েছে। ভোটারদের ব্যালট পেপার টেবিলের ওপর রেখে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে।’

২১:০৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

গাজীপুর-৪ আসনে সিমিন হোসেন রিমি বিজয়ী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 

সিমিন হোসেন রিমি গাজীপুর-৪ আসনে সিমিন হোসেন রিমি বেসরকারি ফলে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২,০৩,২৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ১৮,৫৮২ ভোট। মোট ১১৯ কেন্দ্রের সবক’টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন সচিবালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

২০:১৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

নির্দলীয় সরকারের অধীনে আবারও নির্বাচনের দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল প্রেসক্লাবে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আবুল হোসেন খানের সাংবাদিক সম্মেলনএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভুয়া, প্রহসন ও জবরদস্তিমূলক উল্লেখ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আবারও নির্বাচনের দাবি জানান তিনি। বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী ছিলেন এই রাজনীতিবিদ।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আজ সকাল থেকে সদর আসনের ২২টি কেন্দ্র ঘুরেছেন ও নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অন্যান্য কেন্দ্রের খবর সংগ্রহ করেছেন অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ক্ষমতাসীনরা বিরোধী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপি করেছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জোটের সিনিয়র নেতারা।

ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একই অভিযোগ তোলেন বরিশাল-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন খান। বরিশাল প্রেসক্লাবে বসে তার দাবি, ‘বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কোথাও থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা কোথাও দাঁড়াতে পারেনি। তাদের কোথাও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ভোটের মাঠে থাকা না থাকা একই কথা।’

রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী অভিযোগ করেন, ‘গতকাল গভীর রাত থেকে আজ ভোর ৫টা পর্যন্ত বাকেরগঞ্জের ১০৯টি কেন্দ্রে অর্ধেকের বেশি ভোট কাটা (জমা) হয়েছে। এতেও তারা নিশ্চিন্ত হতে না পেরে আজও পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোটের মহোৎসব করেছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতারা।

২০:১৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ঝিনাইদহের ৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের ৩টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এ্যাড. আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তাদের নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা, এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়ার মতো বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

পোলিং এজেন্টদের ভোটকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের মারধর করা ও পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া ঝিনাইদহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, সকাল থেকেই ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এছাড়াও, বিএনপির কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এসব অভিযোগ পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেনি। মোবাইল ফোনে কথোপকথনে তিনি বলেছেন, ‘ভোটের কোনও পরিবেশ শৈলকুপাতে নেই। তাই ভোট বর্জন করলাম।’

ঝিনাইদহ-৩ আসনের মাওলানা মতিয়ার রহমানের নির্বাচনি এজেন্ট ফারুক আহাম্মেদ রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রার্থীর সাংবাদিকদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া,ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বাধা দেওয়া ও নির্বাচনি পরিবেশ না থাকার অভিযোগে প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তবে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোজ কুমার নাথের ভাষ্য, কোনও প্রার্থীর ভোট বর্জনের খবর তার জানা নেই। কেউ তাকে কিছু বলেনি।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ভোট বর্জন করেছেন। ভোট কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিত হতে না দেওয়া, দুপুরের আগেই সব ভোট ‘পুল’ হয়ে যাওয়া, পুলিশের অসযোগিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে রোববার দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে ভোট বর্জন করেন। সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেছেন, কোনও পরিবেশ না থাকায় তিনি নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হয়েছেন।

২০:০৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনা বিজয়ী

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, গোপালগঞ্জ

শেখ হাসিনাএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়েছেন। গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বেসরকারি এই ফল ঘোষণা করেন।

ভোটের ফলআওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবারসহ মোট ৭ বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম জিলানী পেয়েছেন ১২৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মারুফ শেখ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৭১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ১০ ভোট ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী উজির ফকির সিংহ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৪ ভোট।

 

২০:০০, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বগুড়া-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন

বগুড়া প্রতিনিধি

 

অনিয়ম ও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধার অভিযোগ এনে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীবগুড়া-৩ আসন বিএনপি প্রার্থী মাছুদা মোমিনের ভোট বর্জন করেছেন। রবিবার বিকালে রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান তিনি।

লিখিতভাবে মাছুদা মোমিন বলেন, তিনি বগুড়া-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। তার আসনে মহাজোট প্রার্থী লাঙ্গল মার্কার সমর্থকরা কেন্দ্র দখল ও বুথে ঢুকে পোলিং এজেন্টদের বাধা দেয়। এছাড়া শনিবার রাতে ব্যালটে লাঙ্গল মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। রবিবার ধানের শীষের সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা ও মারপিটের পর বের করে দেয়। তাই আমি ভোট বর্জন করলাম।

বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার কর্মকর্তারা মাছুদা মোমিনের ভোট বর্জনের চিঠি পাবার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

১৯:৫০, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

এটাকে নির্বাচন বলে না: কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

কাদের সিদ্দিকীমানুষের নির্বাচনের প্রতি যতটা আস্থা ছিল, তা নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘এই রকম নির্বাচন বাংলাদেশে কখনোই হয়নি। সারা বাংলাদেশে যেভাবে শুনেছি, সখীপুর-বাসাইলের নির্বাচন আমি নিজে দেখলাম, এটাকে কোনও নির্বাচন বলে না।’

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার নিজ বাসভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনোভাবেই মানুষের আস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিততে পারবে না। যতদিন তারা চুরি করতে পারবে, ততদিনই তারা নির্বাচনে জিততে পারবে। মানুষের আস্থা নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার তাদের কোনও সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে। জনগণকে যে তারা বিশ্বাস করেন না, জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই; এটা তারা দিবালোকের মতো প্রমাণ করে দিয়েছে।’ 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

 

১৯:৪৮, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

নেত্রকোনায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন: বিএনপির ২ প্রার্থীর নিবার্চন বর্জন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা

বড় কোনও সহিংসতা ছাড়াই নেত্রকোনার ৫টি আসনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগ এনে নেত্রকোনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী ও নেত্রকোনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার নির্বাচন বর্জন করেছেন। রবিবার বিকাল ৩টার দিকে তারা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাররা ভোট প্রদান করেন। সকালে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। জেলা শহরের কাটলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কাকলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেদনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটপাড়ার আইমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহনগঞ্জের পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা সদর ও কয়েকটি উপজেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটলেও পরিস্থিতি ছিলো শান্তিপূর্ণ। জেলা শহরের নাগড়া পথকুলি বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় কিছু যুবকের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশ খালিয়াজুরী উপজেলার পাঁচহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিএনপি কর্মী আবদুল মোমেন ও বুলবুল মিয়াকে জাল ভোটগ্রহণের অভিযোগে আটক করেছে।

অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের উপস্থিতি ছিল কম। নেত্রকোনা- ৪ (মদন- মোহনগঞ্জ- খালিয়াজুরী) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী তাহমিনা জামান শ্রাবনী সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার খালিয়াজুরীর পাঁচহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল দুর্বৃত্ত বিএনপি দলীয় প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এ সময় ভোটকেন্দ্রে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রউফ স্বাধীনের ভাই আবদুল মোমেন ও এজেন্ট বুলবুল মিয়াকে আটক করে নিয়ে যায়।

খালিয়াজুরি থানার ওসি হযরত আলী আটকের ঘটনা অস্বীকার করেন। মদনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট ছিল। পরে তাদেরকে সব কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীতে সকাল ৯টার দিকে সকল এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জব্বার কেন্দ্র থেকে বিএনপি দলীয় এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১০ বছর ভোটাররা ভোট দিতে পারে নাই। তরুণ প্রজন্মরা এবার নতুন ভোটার হয়েছে। বিএনপি যে সব অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

জেলা শহরের নাগড়া পথকুলি বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সাতপাই ও নাগড়া এলাকার কিছু যুবকের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে নেত্রকোনা পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, ছাত্রদল নেতা দুলন, হৃদয়, সুমন, সুজন, আবদুন নূরসহ কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে নেত্রকোনা- ১ (কলমাকান্দা- দুর্গাপুর) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, ওই আসনে ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের জোর বের করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কলি আক্তার এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে পুলিশ আটক করে।

নেত্রকোনা- ৩ (আটপাড়া- কেন্দুয়া) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, জেলার সর্বত্র সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিছু কিছু কেন্দ্র থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেসব কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

১৯:১৮, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

হিলি প্রতিনিধি

দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দিনাজপুর  জামায়াতের এই আমির আজ (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় বিরামপুরে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। আমরা আশা করেছিলাম, এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু আমরা দেখেছি, শুরু থেকেই আমাদের নির্বাচনে  প্রচার প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি। আমাদের পোষ্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের মাইক ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এরপরেও আমরা নির্বাচনে ছিলাম।’

‘আমাদের বিশ্বাস ছিল, জনগণ আমাদের ভোট দেবেই এবং তারা ভোটকেন্দ্রে আসবে। সে মোতাবেক ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদেরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যারাও বা ঢুকতে পেরেছিলেন, তাদের মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ঢোকানো হয়েছে।’

‘সেই সংবাদগুলো প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও  তারা মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেছেন শুধু। কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। উল্টো আমাদের অনেক পোলিং এজেন্টকে গতকাল রাতে আটক করা হয়েছে। এমনকি আজকেও আটক করা হয়েছে। অপরাপর এজেন্টদেরকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বেশ কয়েকদিন ধরে ভোটারদেরকে ভীতির মধ্যে রাখতে যা যা করা যায় তার সবই করেছেন তারা। 
‘আমি জেলা প্রশাসক ও চার উপজেলার প্রশাসনসহ পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীকে জানানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা যখন দেখছি, জনগণ ভোট দিতেই যেতে পারছে না, তখন এই অন্যায়-জুলম-নিপীড়ন এবং জনগণকে মতামত দিতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা নির্বাচন বর্জন করলাম।’

১৯:১৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বগুড়া-৫ আসনে পুনর্নির্বাচন দাবি বিএনপি প্রার্থীর

বগুড়া প্রতিনিধি

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভোট বাতিল ও পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে শেরপুর উপজেলার ধনকুন্ডি এলাকায় তার হোটেল ফুড ভিলেজে সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অভিযোগ করেন, ‘তার আসনে দুটি উপজেলায় মোট ১৭৯টি কেন্দ্র। তার নিয়োজিত এজেন্টরা সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তারা দেখতে পান শনিবার রাতেই প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে নৌকার সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। এজেন্টরা প্রতিবাদ করলে তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অভিযোগ করেন, ‘শনিবার রাতে ১৫০ কেন্দ্রে ব্যালটে নৌকা মার্কায় সিল দিয়ে বাক্স ভর্তি করে। পোলিং এজেন্টরা দেখতে পেয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এরপর পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ২৯ কেন্দ্রে লোক দেখানো ভোট শুরু হয়। সেখানেও পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মারা হয়। এসব কেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সহায়তা করে। এরমধ্যে শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এছাড়া পুলিশও ফাঁকা গুলি করে বলে শোনা যায়।’

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ আরও অভিযোগ করেন,  ‘সকাল ১১টার মধ্যে সব কেন্দ্র ভোটার শূন্য হয়ে যায়।’

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘তাই এই প্রহসনমূলক ভোট জালিয়াতির নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। যেখানে আমার সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারলো না, সেখানে আমিও আমার ভোটটি না দিয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়ালাম। আমি প্রহসনের এই ভোট প্রত্যাখ্যান ও পুনরায় নির্বাচন দাবি করছি।’

 

 

১৯:১৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

খুলনা-৫ আসনে ৪৬ কেন্দ্রে এগিয়ে নারায়ণ চন্দ্র

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

খুলনা-৫ আসনের ৩০টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ৬৫ হাজার ৯০৮ ভোট পেয়েছেন। 
ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৮৪ ভোট।

১৯:১০, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে শাহ মোয়াজ্জেমের ভোট প্রত্যাখ্যান

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে শাহ মোয়াজ্জেমের ভোট প্রত্যাখ্যান

মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে ঐক্যজোট প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। রবিবার দুপুর ২টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি দোগাছিতে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি। তিনি দাবি করেন, ‘ভোট নয় লুট হয়েছে। আমি আমার নিজের ভোট দিতে যাইনি।’

দক্ষিণ পাইকসা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বহু কেন্দ্রে তার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যে কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্ট ছিল তাদেরকেও বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটের নামে লুট মেনে নেওয়া যায় না।’

সাংবাদিক সম্মেলন শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হলে তার বাড়ির কাছেই পুলিশ ও বিজিবি 'যথেষ্ট নিরাপত্তা নেই' জানিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা তার গাড়ি আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন শহ মোয়াজ্জেম।

তবে এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে মহাজোট প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরী বলেন, ‘৩৪ টি কেন্দ্রে তিনি এজেন্ট দিতে পারেননি। এর দায় কার? তাকে দেখাতে বলুন কোন কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’ নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

১৯:০৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

খুলনা-১ আসনে ৭৮ কেন্দ্রে এগিয়ে আওয়ামী লীগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

খুলনা-১ আসনের ৭৮টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশ পেয়েছে। এতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস ১ লাখ ২৬ হাজার ৭১০ ভোট পেয়েছেন। 
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমীর এজাজ খান পেয়েছেন ২০ হাজার ৬৯৬ ভোট।

১৮:৫১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

কুমিল্লায় বিএনপির ৩ প্রার্থীর পুনর্নির্বাচন দাবি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৫,৬ ও ৯ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছেন বিএনপির তিন প্রার্থী। ভোট কেন্দ্র দখল, হামলা, প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করাসহ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদানের মতো নানান অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তারা। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইউনুস, কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন এবং কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী কর্নেল (অব:) আনোয়ারুল আজিম নির্বাচন স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইউনুসের অভিযোগ, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার ১২৮টি কেন্দ্র রাতেই দখল করে নিয়েছে। সকাল ৯টার মধ্যেই প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা ৭০-৮০ ভাগ ব্যালটে ভোট দিয়ে বাক্স ভরে ফেলেছে। ভাটকেন্দ্র দখল ছাড়াও প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর ও ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমি আমার ভোট প্রয়োগ করিনি। আমি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরের কাছে লিখিত আহ্বান জানিয়েছি, এই আসনে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণার জন্য।

কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনী যেভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা, গ্রেফতার, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং হয়রানি করে আসছিল তার ব্যতিক্রম ছিল না নির্বাচনের দিনও। সদর আসনের ১২৭ কেন্দ্রের প্রায় সবগুলি কেন্দ্র থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকার পক্ষে প্রকাশ্য সিল মারা হয়েছে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সামনেই। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেও কোনও কাজ হয়নি।’ তাই নির্বাচনি এলাকার ১২৭টি কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তিনি। হাজী ইয়াছিন উল্লেখ করেছেন, এই আবেদনের অনুলিপি তিনি সিইসি ও ইসি সচিবকেও দিয়েছেন।

অপর দিকে, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিম রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনি এলাকার ১২৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এরকম প্রহসনের নির্বাচন তিনি আর কোনওদিন দেখেননি।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমাদের ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টি কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন রাতেই ৬০ ভাগ ভোট আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা নির্বাচনি কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যালট বাক্সে পুরে রেখেছে। বাকি ৪০ ভাগ ভোটও আজ (রোববার) ভোটাররা দিতে পারেননি। কেন্দ্রের সামনে সশস্ত্র অবস্থায় মহড়া দিয়ে কেন্দ্রের ভেতর ইচ্ছে মতো সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলছে। ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি বর্তমান নির্বাচন বাতিল করে এই ১২০টি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে তার মত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আপনি রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।’ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

১৮:৪৪, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে ভোট দেননি কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস।

কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে ভোট দেননি কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস। রবিবার দুপুরে তার বুড়িচংয়ের গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। 

তিনি দাবি করেন, শনিবার সন্ধ্যা রাত থেকে ১২৮টি কেন্দ্রে প্রশাসনের সহায়তায় জালভোট দেয়া হয়। রাতেই ৭০ ভাগ ভোট দেওয়া হয়ে যায়। সকালে কেন্দ্র দখল করে বাকি ভোট দেয়া হয়। ফোনে চেষ্টা করেও রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার কাউকে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে তার প্রতিকার হয়নি। হরিণ মঙ্গল স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টায় ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। তার বাড়ির পাশের কণ্ঠনগর কেন্দ্রটিও দখল করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জন করেন। তিনি এই আসনে পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ড. নাজমুল হাসান শাহীন, বিএনপি নেতা হাজী মাজেদুল ইসলাম ও সারোয়ার হোসেন।

 

১৮:৪৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

খুলনা-৩ আসনে ৩৬টি কেন্দ্রে এগিয়ে নৌকার মুন্নুজান সুফিয়ান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

খুলনা-৩ আসনের ১৪টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান পেয়েছেন ৪০ হাজার ভোট।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম ৫ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়েছেন।

১৮:৪০, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

সাতক্ষীরা-২ আসনে এগিয়ে নৌকা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীসাতক্ষীরা-২ আসনে ইভিএম প্রদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। ১৩৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২ কেন্দ্রের ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ৩৬ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০৩ ভোট।

আসনের নাম: সাতক্ষীরা-২

মোট ভোটকেন্দ্র:

স্থগিত কেন্দ্রের সংখ্যা:

পাওয়া গেছে:

 

১৩৭

 

৩২

ক্রমিক

প্রার্থীর নাম

জোট ও দল

প্রতীক

প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যা

১.

নিত্যানন্দ সরকার

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ

মই

 

২.

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি

আওয়ামী লীগ

নৌকা

৩৬,৯৯৯

৩.

মুফতী রবীউল ইসলাম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

হাতপাখা

 

৪.

মুহাম্মদ আব্দুল খালেক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি

ধানের শীষ

৫,৪০৩

৫.

মো. জুলফিকার রহমান

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি

আম

 

৬.

শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন

জাতীয় পাটি

লাঙ্গল

 

 

নির্বাচন অফিস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

 

১৮:৩৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

প্রথমবারের মতো ভোট দিলেন বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলেন পঞ্চগড়ের দুটি আসনের বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশিরা। কিভাবে ভোট দিতে হয় প্রথমবারের মতো সেই অভিজ্ঞতা হলো তাদের। নিরাপদে নিবিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আনন্দিত উচ্ছসিত বিলুপ্ত ছিটমহলের নারী-পুরুষ ভোটাররা।

অনেকেই রবিবার সকাল সকাল পুরো পরিবার সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যান। তারা জানান, ভোট দিতে পারা তাদের জীবনে পরম পাওয়া। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক বিলুপ্ত ছিটমহলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের বিলুপ্ত পুটিমারী ছিটমহলের ভোটাররা ধনিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন। তারা বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশি হিসেবে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

পুটিমারী ছিটমহলের নাগরিক সহিদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, ‘কোনদিন ভোট দেইনি। জীবনের প্রথমবার ভোট দেয়া শিখলাম।’  তছলিমউদ্দিন নামের এক ছিটমহলবাসী বলেন, সকাল সকাল পরিবার পরিজন নিয়ে এসে ভোট দিয়েছি। নিবিঘ্নে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি।’

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোকাররম হোসেন বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলের ভোটার হওয়ায় সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি অনেক বেশি ছিল। নারী-পুরুষ ভোটাররা সকালে একযোগে এসে ভোট দিয়ে যান।

পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, পঞ্চগড়ের দুইটি নির্বাচনী এলাকার ২৮৬টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

পঞ্চগড়-১ আসনের সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ও হাড়িভাসা ইউনিয়নের ৭টি ছিটমহলের মোট ভোটার ১ হাজার ২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫২৭ জন এবং নারী ভোটার ৪৯৮ জন। পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা উপজেলায় ময়দানদিঘী, কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ, বড়শশী ও মাড়েয়া ইউনিয়নে ও দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীগঞ্জ, টেপ্রিগঞ্জ ও চিলাহাটি ইউনিয়নের ২৯টি ছিটমহলে মোট ভোটার ৭ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ১৪৭ জন নারী ভোটার ৩ হাজার ৭৬৩ জন।

১৮:২৮, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

চাঁদপুরের ৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন

চাঁদপুর প্রতিনিধি

জেলার ৫টি আসনের মধ্যে রবিবার দুপুর ২টা নাগাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন ও চাঁদপুর-৪ আসনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জালভোট দিয়ে বাক্স পূর্ণ করা হয়েছে এবং যারাওবা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন তাদের ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের সামনে নৌকা মার্কায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, ‘এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ।’

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘সকালে আমি কেন্দ্রে গিয়ে দেখি ভোটের বাক্স প্রায় পুরে গেছে। আমি তখন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাইরে কোনও ভোটার নেই, এই বাক্সে এত ভোট কোথা থেকে এলো?’ তখন তিনি বললেন, ‘স্যার, আমাদের প্রশ্ন করে লাভ নেই, আপনি তো সবই জানেন।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটারও ছিলেন না। সেখানে গিয়ে দেখি দুটি বুথে বাক্সের প্রায় ৭৫% ভরে গেছে। সেখানকার কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করলে তারাও কোনও জবাব দিতে পারেননি।’

ড. জালাল উদ্দিনের দাবি, ‘রাতে তারা ভোট কাস্ট করে ফেলেছে। আমার কোনও এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে চাইলে তাদের মারধর দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তল্লাশি করে আমার যারা এজেন্ট তাদের আটক করেছে। যারা টাকা দিতে পেরেছে তারা ছাড়া পেয়েছে। আর যারা টাকা দিতে পারেনি, তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। এরকম অবস্থা গত ২০ দিন আমার নির্বাচনি এলাকায় চলেছে। গত ১৬ দিন তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আজকেই আমি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে ভোটকেন্দ্রে যাই।’

‘ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কেউ যদি ভোট দিতে যায় তাহলে তাদের সামনে নৌকায় ভোট দিতে হয়, না দিলে তাদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে’ উল্লেখ করে ড. জালাল উদ্দিন  বলেছেন, ‘এ অবস্থায় নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে আমি নির্বাচন বর্জন করলাম।’

এদিকে চাঁদপুর-১ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন বলেছেন, ‘গত কয়েকদিন অবরুদ্ধ থাকার পর আজ সকাল ৮টায় প্রথম ঘর থেকে বের হতে পেরেছি। ভোটের আগের দিন রাতেই ১০৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০টি কেন্দ্রের ব্যালটে সিল মেরে রেখেছে। আজ সকাল থেকেই বাকি কেন্দ্রগুলোতে তারা সিল দিয়েছে। ১১-১২টার মধ্যেই ভোট শেষ। নির্বাচনের আগেই আমাদের এজেন্ট এবং তাদের স্বজনদের ভয়ভীতি ও হামলা-মামলা শিকার হতে পেরেছে। সার্বিকভাবে আজ যে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে তাতে কোনও প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই নির্বাচন বর্জন করলাম। এমন নির্বাচন আর কখনওই কোথাও দেখিনি। এটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন।’

১৮:১৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ফলাফল পক্ষে এলে তা জনগণকে উৎসর্গ করবে আ. লীগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আব্দুর রহমাননেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেছেন, আমাদের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল আমাদের পক্ষে যদি আসে, তা বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করবো।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে এবং দলীয় সূত্র থেকে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার ফলাফল আসতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়—বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ মহাজোট বিপুল ভোটের ব্যবধানে অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করবে।’

এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা জাতির সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনে, এই স্বাধীন-সার্বভৌম নির্বাচন কমিশনের অধীনে তা সম্পন্ন হয়েছে। এর সব কৃতিত্বের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সরকার প্রধান হয়েও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হয়, তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমাদের নেতাকর্মী-সমর্থকদের, ভোটারদের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সব কেন্দ্রে অবস্থান গ্রহণ করে, জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

আব্দুর রহমান আরও বলেন, ‘অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। একই সঙ্গে আজকে অনুষ্ঠিত ২৯৯টি নির্বাচনি আসনের ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২টি আসনের মাত্র ১৬টি ভোটকেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে। এমনকি নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল আশাব্যঞ্জক।’

এ সময় তিনি নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সেনাল প্রমুখ।

১৭:৫৫, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বালাগঞ্জে গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত

সিলেট প্রতিনিধি

সায়েম আহমদ সোহেলসিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জে গুলিতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিহত হয়েছেন। তার নাম সায়েম আহমদ সোহেল। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মাহবুবুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোট শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে এক দল লোক ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসে। এই সময় আরেকটি দল তাদের বাধা দেয়। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এতে উপজেলা ছাত্রদল নেতা সোহেল নিহত হয়েছেন বলে খবর পেয়েছি।

 

১৭:৩৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

খুলনা-২ আসনে এগিয়ে আওয়ামী লীগ

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা-২ আসনের ২৭টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩৯১ ভোট।
বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট।

১৭:২৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

দলীয় সরকারের অধীনে আর নির্বাচন না করার ঘোষণা বরিশাল-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীর

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল প্রেসক্লাবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করছেন বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুললেন বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, শনিবার রাতেই বরিশাল সদর আসনের ১৭৪ কেন্দ্রের বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোট কাটা (জমা) হয়েছে। এরপরও রবিবার সকালে সুষ্ঠু ভোটের আশা ছিল তার। কিন্তু বেশিরভাগ কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘কোনও কোনও কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। সদর আসনে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী ক্ষমতাসীনদের হামলায় আহত হয়েছে।’
আন্দোলন না করে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই উচিত হয়নি মন্তব্য বিএনপির এই রাজনীতিবিদের। দলীয় সরকারের অধীনে জীবনে আর কোনও নির্বাচনে অংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার মন্তব্য, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জনগণ কখনও ভোট দিতে পারবে না।’

এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন অভিযোগ করেন, বরিশাল সদরসহ বিভাগের ২১ আসনের সর্বত্র একই চিত্র। ক্ষমতাসীনরা সব আসনের প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপির উৎসব করছে বলে দাবি তার।
এদিকে ভোট কারচুপিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল-৪ আসনে (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর। রবিবার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে সাংবাদিকদের সামনে এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। তার দাবি, ‘বেশিরভাগ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গতকাল রাতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কারচুপি হয়েছে। আজ বিএনপির বহু ভোটার মারধরের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা একান্ত কর্তব্য।’

একই আসনের খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম দুলাল রবিবার দুপুর পৌনে ২টায় কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করেন।

১৭:১৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

আনফ্রেলের বিবৃতি পক্ষপাতদুষ্ট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল)-এর ২৯ ডিসেম্বরের বিবৃতিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচনের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বাধীন, সুষ্ঠু, উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রেক্ষাপটে আনফ্রেল ও এর সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর নির্বাচনি পরিবেশকে ‘সীমাবদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করাটা ভুল তথ্য এবং আগে থেকে ধারণাপ্রসূত। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং গত পাঁচ বছরে (২০১২-১৭) তারা ৬ হাজার ৯৩৭টি নির্বাচন আয়োজন করেছে।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১৭৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন কাভার করতে ৬৫ জন বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেন। এছাড়া, ২৫ হাজার ৯০০ স্থানীয় পর্যবেক্ষক এবং সাত-আট হাজার সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।

আনফ্রেলের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, তাদের ৩২ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ১৩ জনকে ভিসা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— তারা যখন এই ঘোষণা দেয়, তখন বাকিদের ভিসা প্রক্রিয়া চলছিল।

১৬:৫৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

রংপুর-৩ আসনে দুটি কেন্দ্রে এগিয়ে এরশাদ

রংপুর প্রতিনিধি





হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রিটা রহমানইভিএমে ভোট নেওয়া রংপুর-৩ আসনের রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পেয়েছেন ৭১২ ভোট ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী পিপিবি’র রিটা রহমান পেয়েছেন ৩৯৩ ভোট। রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৭০২ জন। ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ২৮০ জন ভোটার।

এদিকে, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এরশাদ পেয়েছেন ৭০৪ ভোট ও ধানের শীষের প্রার্থী রিটা রহমান পেয়েছেন ৩২০ ভোট।

এই আসনে মোট ১৭৫টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।




১৬:১৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

পুলিশ-র‌্যাবের পাহারায় ভোট ডাকাতির অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতারাপুলিশ ও র‌্যাবের পাহারায় ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে, যা দেশের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে পল্টনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন। তবে ভোট নিয়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লাঙ্গল মার্কায় সিল দেওয়া দুটি ব্যালট পেপার দেখিয়ে মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী দাবি করে— ১টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্যামপুরের বাকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার দলীয় লোকজন শতাধিক কেন্দ্র দখল করে সিল মারতে থাকে। সেখানে থাকা প্রিজা্ইডিং অফিসার, পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। আমি সেখানে দুটি ব্যালেট কুড়িয়ে পেয়েছি, যেখানে  দেখা যাচ্ছে  লাঙ্গলে ভোট দেওয়া। এ কারণে আমি  নির্বাচন বর্জন করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন অভিযোগ করেন—সারাদেশে নির্বাচনের নামে যে তামাশা হচ্ছে, তাতে আমরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন। অধিকাংশ আসনে ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর থেকেই আমাদের সব এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। এরপর সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে একতরফা সিল মারা হয়। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ভোটার শেষ পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এতে প্রমাণিত হয় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট শুরুর আগেই সরকার দলীয় লোকেরা ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সভর্তি করে রেখেছেন। কোথাও কোথাও এই ভোট ডাকাতি প্রতিহত করতে গেলে আমাদের এজেন্ট ও ভোটারদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়।

এটিএম হেমায়েতউদ্দীন অভিযোগ করেন— সরকারের অধীনে সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের হুমকি, ধমকি, হামলা, পিস্তল ঠেকানো, অফিস ভাঙচুর, অফিসে আগুন দেওয়া ও নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানির ঘটনা উৎসবের নির্বাচনকে আতঙ্কের নির্বাচনে পরিণত করেছে। আর আজ নির্বাচনের নামে যা হচ্ছে, তা ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এ সময় নির্বাচনে বিভিন্ন জেলার অনিয়ম তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন। তিনি দাবি করেন, হাতপাখার অধিকাংশ এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। হাতপাখার ভোটারকে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—ব্যালট পেপার অনেক জায়গায় ১১টার আগেই শেষ হয়ে যাওয়া, হাতপাখার ভোটারসহ সব ভোটারকে নখে কালি মাখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ব্যালটে নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ফেলা, হাতপাখার প্রার্থীদের সব অভিযোগ গ্রহণ না করা/অস্বীকার করা, হাতপাখার এজেন্টদের ওপর হামলা ও ঢাকা-৬ আসনসহ দেশের কয়েকটি আসনে হাতপাখার কর্মী গুম।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদপুর-১ আসনে হাতপাখার প্রার্থীর ওপর হামলা করা হয়। তার গাড়ি ভাঙচুর করে সহযোগীদেরও আহত করা হয়। দিনাজপুর-৪ আসনে রশিদুল নামের এক এজেন্টকে পুলিশ আটক করেছে। নীলফামারী-৪ আসনে বেলা ১১টায় হাতপাখার সব এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশি প্রহরায় সরকার দলীয় লোকজন লাঙ্গল মার্কায় সিল মারে। বগুড়া-৩ আসনে ইউএনও’র সামনে পৌর মেয়র বেলালের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রার্থীর গাড়ি নিয়ে যায়। নাটোর-১ আসনে ১নং লালপুর ইউনিয়ন, ৫নং ওয়ার্ড বালিতিতা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার না দিয়ে ভোটারদের হাতে কালি লাগিয়ে বের করে দেওয়া হয়। নোয়াখালী-২ আসনে ১০৩ কেন্দ্রের সবক’টি  দখল করে নৌকায় প্রকাশ্যে সিল মারা হয়। চাঁদপুর-৩ আসনে ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগের হামলায় হাতপাখার পাঁচ কর্মী আহত হন। শেরপুর-১ আসনে সব এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার এ ব্যাপারে অভিযোগ গ্রহণ করেননি। ময়মনসিংহ-১০ আসনে সকাল ৯টার মধ্যে হাতপাখার সব এজেন্টকে বের করে দিয়ে আওয়ামী এজেন্টরা নৌকায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।

ঢাকা-৬ আসনে দক্ষিণ মহসিন গার্লস স্কুল থেকে ইমরান নামে হাতপাখার এক এজেন্টকে গুম করা হয়। ঢাকা-১৬ আসনে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বোমা ফাটিয়ে কেন্দ্র দখল করা হয় এবং ভোটারদের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। কুষ্টিয়া-২ আসনে ভেড়ামারা বামুনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাতপাখা প্রতীকে সিল মারার পরে নৌকার লোকেরা অনেক ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলে দেয়।

কুমিল্লা-৬ ও ৯ আসনে সকাল ৯টার মধ্যেই হাতপাখার সব এজেন্টকে বের করে দিয়ে আওয়ামী এজেন্টরা নৌকায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আনন্দলোক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে হাতপাখা প্রতীকে সিল মারার পরে নৌকার লোকেরা অনেক ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলে দেয়। চট্টগ্রাম-৯ আসনে প্রার্থীর গাড়ির ড্রাইভারকে সরকার দলীয় কর্মীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং রক্তাক্ত করে। ঢাকা- ১৩ আসনে (ইভিএম) ইলেক্ট্রনিক্স ভোট মেশিনে ভোটগ্রহণ এলাকাতে জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩৪নং ওয়ার্ড),  ব্লুমিং চাইল্ড স্কুল (৩৪নং ওয়ার্ড), রায়েরবাজার কমিউনিটি সেন্টারসহ অন্যান্য সেন্টারে লাইন থেকে বের করে দেওয়া, ক্যাম্প ভেঙে ফেলা, ভোটের মেশিন নষ্ট ও মেশিনে সমস্যা দেখিয়ে ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে লিখিত অভিযোগ নিতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার অস্বীকার করেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বেলা ১২টায় ব্যালট পেপার শেষ এবং বিভিন্ন আসনে নৌকা ও লাঙ্গলে জোরপূর্বক সিল মারা হয়। জয়পুরহাট-২ আসনে গোবিনাথপুর কেন্দ্র, গার্লস উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে জোরপূর্বক সিল মারা হয়। বগুড়া-৭ আসনে রামেরশাপুর,সোনারায় দক্ষিণপাড়া কানৈল, নেপালীতলাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ১২টার আগেই ব্যালট পেপার শেষ বলে জানানো হয় এবং দেশের সব আসনের একই চিত্র।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি  ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আবুল কাশেম, গণমাধ্যম সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম কবির প্রমুখ।

১৫:৫৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

জয়পুরহাটে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জয়পুরহাটের দুটি আসনের প্রার্থীরা। তারা হলেন জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আ.স.ম মোক্তাদির তিতাস ও জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আবু ইউছুফ মো. খলিলুর রহমান।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আ.স.ম মোক্তাদির তিতাস। এ সময় তিনি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত জানান।

জয়পুরহাট শহরের থানা সংলগ্ন নিজস্ব ভবনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান।

পৃথকভাবে আয়োজিত দুটি সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

১৫:৫১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর আব্দুল হাকিম নির্বাচন বর্জন করেছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন। কারারুদ্ধ থাকায় তার পক্ষে স্ত্রী জাকিয়া জাবীন রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় এই ঘোষণা দেন।

জাকিয়া জাবীনের দাবি, তিনি নিজেও একটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। তার অভিযোগ, তাদের সব পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

‘ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্রে না যেতে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল দেয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী দবিরুল ইসলামের লোকজন’— অভিযোগে এসব বলেন বিএনপির আব্দুল হাকিমের স্ত্রী।

জাকিয়ার কথায়, ‘সার্বিকভাবে এমন অবস্থায় নির্বাচনে থাকা একটা আত্মসম্মানের ব্যাপার। আমরা ঘৃণাভরে নির্বাচনের নামে এই ষড়যন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করছি।’

১৫:৪৪, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

৪৭ বছরের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন সংঘাতহীন: আ. লীগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন সংঘাতহীন হয়েছে। যদিও কিছু কিছু জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তকে সেগুলো খুবই নগণ্য। তৃতীয় বিশ্বের যেকোনও দেশে সাধারণ নির্বাচনে এর চেয়ে অনেক বেশি সংঘাত হয়। হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা মনে করি এবারের নির্বাচন যেকোনও সময়ের চেয়ে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। যে ১০ জনের প্রাণ গেছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আমরা এটা অনেক আগে থেকেই আশঙ্কা করেছিলাম যে, বিএনপি-জামায়াত তাদের শেষরক্ষার জন্য যেকোনও ধরনের অপতৎপরতা চালাতে পারে। আমরা এজন্য দেশবাসীকে বারবার সতর্ক করেছি। দেশবাসী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে তারা বড় ধরনের কোনও নাশকতা চালাতে পারেনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটের উৎসব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সকাল আটটা থেকে সারা দেশে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে প্রায় ৬ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সর্বত্রই ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, ভোটগ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অতীতের যেকোনও নির্বাচনে থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতা কম হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নিশ্চিত পরাজয় জেনে ভোটের আগের রাত থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সারাদেশে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে। প্রতি মুহূর্তেই সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সহিংসতা যা ঘটছে তার মধ্যে শুধু এখন পর্যন্ত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে, ৫৫ জন আহত হয়েছে। ছয়টি জায়গায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে, ১০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সাতজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। চাঁদপুরের ম্যাজিস্ট্রেট হাসানের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম, যাকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে, তার পক্ষে ভোট কেনার সময় ২৩ জন আটক হয়েছে। নেত্রকোনা ৪ আসনে ভোট কেনার সময় জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আটক হয়েছে। এভাবে সারা দেশে তারা সহিংসতা ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অপচেষ্টা চালিয়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পথ অবরুদ্ধ করেছে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বর্জনের নাটক শুরু করেছে বলে দাবি করেন নানক। তিনি বলেন, তাদের অনেকেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ভয় থেকেই তারা ভোট বর্জনের খেলা শুরু করেছে। বিএনপি-জামায়াতের নীতি হলো নির্বাচনে জিতলে আছি, হারলে নাই। এখন পর্যন্ত বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে। সার্কভিত্তিক পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

নানক বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পুরনো কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ভোট ডাকাতির ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিএনপি নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখলেই ভোট কারচুপির অভিযোগ করে। এখন ড. কামাল হোসেন নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের নামে জনগণের রায় ডাকাতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমরা হুঁশিয়ার করে বলে দিতে চাই, জনগণের ভোট ডাকাতির অধিকার কারও নেই। জনগণের রায় নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রব্বানী চিনু এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

১৫:৩৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ভোটের সহিংসতায় সারাদেশে নিহত ১৭

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক

নির্বাচনি সহিংসতাএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ জনগণও রয়েছেন।

চট্টগ্রামে নিহত ৩

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বরইতলির প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহমেদ কবীর (৪৫) নামে একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আহমেদ কবীর কাথারিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার ওসি কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোরে ওই কেন্দ্রের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে গুলিবিদ্ধ কবীরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এদিকে পটিয়ায় ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবু সাদেক (১৮) নামের একজন নিহত ও দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ওই উপজেলার জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ মালিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পটিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত আবু সাদেক দক্ষিণ মালিয়ারা এলাকার আবুল কাশেম মেম্বারের ছেলে। আহতরা হলেন মো. মুন্না (২৮) ও মো. ইলিয়াস (৪০)।

সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে ধানের শীষ ও নৌকার প্রার্থীরা সংঘর্ষে জড়ান। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে আবু সাদেক নিহত হন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এক ঘণ্টার মতো ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে ও বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।’

এর আগে চট্টগ্রাম-১২ আসনের পটিয়া এলাকায় দ্বীন মোহাম্মদ (৩৫) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নিহত দ্বীন মোহাম্মদ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্থানীয় মৃত ইউসুফ কমান্ডারের ছেলে। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

কুমিল্লায় নিহত ২

কুমিল্লার নাঙলকোট ও চান্দিনায় নির্বাচনি সহিংসতায় দুই জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোট শুরুর পর এই ঘটনা ঘটে।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাঙলকোটে মুরগাও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পথে বাচ্চু মিয়া (৪৫) নামে এক ভোটারকে মারধর করে কিছু দুর্বৃত্ত। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। স্থানীয়রা জানান, তিনি বিএনপি সমর্থক। তার বাবার নাম ইদরিস মিয়া। বাড়ি নাঙলকোটের সুন্দাইল গ্রামে। তিনি পেশায় বর্গা চাষি।

এদিকে চান্দিনায় পশ্চিম বেলাসার সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। পশ্চিম বেলাসারের প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির দাবি করেন, ‘কেন্দ্র থেকে ভোটের বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়।’ নিহত ব্যক্তির নাম মুজিব (৩৫)। তার বাবার নাম সুজাদ আলী। চান্দিনা থানার ওসি আবু ফয়সাল তার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহীতে নিহত ১

রাজশাহী-৩ আসনের মনপুর উপজেলায় বাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেরাজ আলী (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, নিহত মেরাজ আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। তবে বিএনপির দাবি, মেরাজ তাদের দলীয় কর্মী ছিল।  নিহত মেরাজ আলী জাহানাবাদ ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। 

জানা গেছে, বাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিপক্ষের হাসুয়ার আঘাতে মেরাজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

টাঙ্গাইলে নিহত ১

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হাজী আব্দুল আজিজ (৬৫) নামের এক বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইশখাইল এলাকা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। আব্দুল আজিজ ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজন নগদা শিমলা বাইশখাইল এলাকায় আব্দুল আজিজের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তার লাশটি উদ্ধার করে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও এই আসনের প্রার্থী সুলতাল সালাউদ্দিন টুকুর বড় ভাই কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা অভিযোগ করেন, ‘সকালে ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ ভোটার লিস্ট নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় নৌকার সমর্থকরা তাকে হত্যা করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। এঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কক্সবাজারে নিহত ১

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষে এক যুবলীগকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আবদুল্লাহ আল ফারুক (২৫)। তিনি রাজাক আলী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

কক্সবাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থকদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

পেকুয়া থানার ওসি জাকের হোসেন ভূঁইয়া জানান, তিনি ঘটনা জানতে পেরে ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি।

রাঙামাটিতে নিহত ১

রাঙামাটি জেলোর কাউখালি উপজেলায় ঘাগড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোটগ্রহণের আগে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কাউখালি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে ইউনিয়নের রাঙ্গিপাড়া এলাকায় নৌকা ও ধানের শীষের দু’দল সমর্থকের মধ্যে হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় বাছির উদ্দীনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতের মধ্যে গুরুতর বাছির উদ্দীনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসব তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোটগ্রহণের আগে দু’দলের সংঘর্ষে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে এক যুবলীগের নেতার মৃত্যু হয়েছে।'

নরসিংদীতে নিহত ১

নরসিংদী-৩ আসনের শিবপুরে মো. মিলন মিয়া (৪৫) নামে আওয়ামী লীগের এক নির্বাচনি এজেন্টকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নরসীংদী-৩ শিবপুর কুন্দারপাড়া কেন্দ্রে অদূরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, ‘রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নরসীংদী-৩ শিবপুর কুন্দারপাড়ার ভোট কেন্দ্রের অদূরে গণ্ডগোল দেখা দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে মো. মিলন মিয়ার (৪৫) গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করা হচ্ছে।’

নাটোরে নিহত ১

নাটোরে ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডায় ভাতিজার হাতে চাচা খুন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম হোসেন আলি (৫০) এবং তার ভাতিজার নাম রতন (৩০)। রবিবার সকালে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সমসখলসী গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলডাঙ্গা থানার ওসি সফিকুর রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাতিজা বউ ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় চাচা হোসেন আলি তাকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে তার ভাতিজার বউ প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় রতন এসে স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে চাচার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করে। এর এক পর্যায়ে রতন ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচা রতনকে আঘাত করে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হোসেন আলি বিপ্র বেলঘরিয়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসাদ্দেকুল ইসলাম বাদশা।

বগুড়ায় নিহত ১

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের বাগইল গ্রামে আজিজুল ইসলাম (৩০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত এবং নাজমুল হুদা ডুয়েল নামে এক ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন। বগুড়ার কাহালু থানার ওসি শওকত কবির ও পাইকড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিঠু চৌধুরী এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ধানের শীষের কর্মীদের হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

নোয়াখালীতে নিহত ১

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের তুলারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে কর্তব্যরত আনসার সদস্য নুরন্নবী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। জেলা পুলিশ সুপার ইলয়াস শরিফ একথা জানান। রবিবার ভোট চলার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।

গাজীপুরে নিহত ১

গাজীপুর মহানগরের কাজী আজিমউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি লিয়াকত হোসেনকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মহানগরির হাড়িনাল এলাকায় এ  ঘটনা ঘটে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ওসি সমীর সূত্র ধর জানান, ‘হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। কারা তার ওপর হামলা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।’ লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাটে নিহত ১

লালমনিরহাট-৩ আসনের (সদর) রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার পথে তোজাম্মেল হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

২ নং ইউনিয়নের সদস্য শাহজাহান আলী জানান, দুপুর ১টার দিকে তোজামম্মেল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে মারা যান তিনি। 

পেশায় দিনমজুর তোজাম্মেল ২ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। তার চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে।

ইউপি সদস্য শাহজাহান আলীর দাবি, ভোটকেন্দ্রে যেতে মানা করার পরও তোজাম্মেল হোসেন যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

লালমনিরহাট-৩ আসনের (সদর) রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার পথে তোজাম্মেল হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।২ নং ইউনিয়নের সদস্য শাহজাহান আলী জানান, দুপুর ১টার দিকে তোজামম্মেল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে মারা যান তিনি। পেশায় দিনমজুর তোজাম্মেল ২ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। তার চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে।ইউপি সদস্য শাহজাহান আলীর দাবি, ভোটকেন্দ্রে যেতে মানা করার পরও তোজাম্মেল হোসেন যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর-৩ আসনে সদর উপজেলার রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইসরাইল মিয়া (১৮) নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শওকত হোসেন জানান, আহতাবস্থায় তিন জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসে। এদের মধ্যে ইসরাইল মিয়া নামের এক যুবক পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছিল। সে হাসপাতালে আসার আগেই মারা যায়।

 যশোরে নিহত  ১

আমাদের যশোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে মারধরের শিকার হয়ে যশোরের অভয়নগরে শামসুর রহমান মোল্যা (৭৫) নামে ধানের শীষের এক এজেন্ট মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের বর্নি গ্রামে নৌকা মার্কার লোকজন তাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করে বলে অভিযোগ করেন নিহত ব্যক্তির স্বজনরা

ময়নাতদন্তের জন্যে পুলিশ শামসুর রহমানের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে  জানিয়েছে পুলিশ।

যোগাযোগ করা হলে অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘নিহতের দুই হাতে জখমের চিহ্ন পেয়েছি। বয়স্ক মানুষ এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, হয়তো সেকারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

ময়নাতদন্তের জন্যে তার মরদেহ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

 

 

 

১৫:৩৮, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

জনগণ আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। ফাইল ছবি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ঢাকা-৩ আসনের সর্বত্রই আনন্দ-উল্লাসময় পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জনগণ আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে কেরানীগঞ্জে যে উন্নয়ন হয়েছে সেটার সুফলভোগী মানুষ স্বতস্ফুর্ত ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন।

সকাল ১১টায় ধলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী উন্নত কেরানীগঞ্জ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

১৫:২১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সন্তোষ প্রকাশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এক বিদেশি পর্যবেক্ষক

ভোটের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ ও ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয় কিনা, তা দেখার জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের কাছে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ভারতের পর্যবেক্ষক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ভোট দিচ্ছে। জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছে এবং প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘চারদিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে এবং আমি মনে করি, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচনের মধ্যে কোনও মিল আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একই জিনিস দেখতে পাচ্ছি। সেখানেও জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয় এবং এখানেও একই ঘটনা ঘটছে। এখানে শান্তি বিরাজ করছে।’

কানাডা থেকে আগত একজন পর্যবেক্ষক বলেন, ‘আমরা কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং দেখেছি ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে যেতে পারছে।’

নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মকর্তারা অত্যন্ত ভালো কাজ করছে।’

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) নির্বাচন সম্পর্কে  সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষণ প্রতিক্রিয়া জানাবেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক ঢাকায় এসে পৌঁছান। পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৃথক দুটি মিডিয়া সেন্টার খোলা হয়েছে। এই সেন্টারে তারা ২৪ ঘণ্টা সুবিধা পাবেন এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা থাকবে।

নয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ১২টি বিদেশি মিশনের ১৮৮ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য নিবন্ধন করেন।
সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ, ওআইসি, ফোরাম অফ ইলেকশন কমিশন ম্যানাজমেন্ট অফ সাউথ এশিয়া, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, দ্বিপেন্দ্র ক্যান্ডেল ইনিশিয়েটিভ এবং সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা আছে।
এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, কানাডা, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নাইজেরিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, প্যালেস্টাইন, ফিলিপিন্সসহ অন্যান্য দেশ থেকে পর্যবেক্ষকরা এসেছেন

 

 

১৫:১৮, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ গয়েশ্বরের

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ফাইল ছবি

ঢাকা-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেছেন,  তার আসনের সবগুলো ভোটকেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের পুলিশের সহযোগিতায় বের করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে জিঞ্জিরাস্থ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,  আমার আসনে ১০৭ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিয়েছিলাম। মাত্র দুটি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারিনি। এজন্য কেন্দ্রে গতরাত থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জালভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখে। ছাত্রলীগ, যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী আনসারের পোশাক পরে কেন্দ্রে ঢুকে ভোট দিয়ে চলে আসে।

গয়েশ্বর আরও বলেন, আমার এলাকায় ৩০০ নকল পুলিশ ঘোরাফেরা করে বিএনপি নেতাকর্মীদের আতঙ্কিত করে। জালভোটের বিষয়ে ডিসি, ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি, আমার অভিযোগ শুনেনি। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ আমাদের ভোট দিত, ৭০ শতাংশ ভোট আমরা পেতাম।

এদিকে সকাল সাড়ে দশটায় আড়াকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তবে তিনি ভোট না দিয়ে বের হয়ে আসেন।

কেন ভোট দেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, এই কেন্দ্রে আমার কোনও এজেন্ট নাই। তাই ভোট না দিয়ে বের হয়ে এলাম। দেশে ভুয়া ভোট হচ্ছে, কারচুপি হচ্ছে এটার নায়ক হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে তা আমি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলে আসছিলাম।

 

১৫:১১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

২২১ আসনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের অভিযোগ, ‘দেড়শতাধিক আসনে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর ২২১ আসনে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’ রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ জানান তিনি।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‌‌‘আমরা আগেই বলেছিলাম, দলীয় সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। এবারের নির্বাচন সেটাই প্রমাণ করলো। ২২১টি আসনের প্রতিটি কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের মারধরের পর বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় পোলিং এজেন্টকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিএনপির অভিযোগের কপি প্রদান করা হয় সাংবাদিকদের কাছে।

ইসিকে দেওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম খানের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দেড়শতাধিক আসনে প্রশাসনের সহায়তায় নৌকা মার্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। ধানের শীষের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেক ভোটকেন্দ্রে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারছে না। নৌকা প্রতীকের এজেন্টরা তাদের (বিএনপির এজেন্ট) কাছ থেকে ব্যালট পেপার জোর করে কেড়ে নিচ্ছে। নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী লীগের এজেন্টরা। ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে। কোনও কোনও ভোটকেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।’

১৫:০০, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

লাঙলে ভোট দিলেন সাঈদ খোকন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের মহাজোট প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদকে লাঙল মার্কায় ভোট দিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। তার আশা, চতুর্থবারের মতো শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার নাজিরা বাজার ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘জীবনে এবারই প্রথম ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট দিয়ে ভালো লেগেছে। আমার কাছে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) মনে হয়েছে। ’

সাঈদ খোকন আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের সমস্যার খবর পাইনি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করছে। এবারের নির্বাচন নতুনত্ব সৃষ্টি করবে। নতুন ভোটার ও জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ভোট দিতে পারছে। তবে এই এলাকায় ভোটার বেশি, কেন্দ্র কম। এজন্য কেন্দ্র বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করছি।’

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে মেয়রের উত্তর, ‘নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে তাহলে ইভিএম ব্যবহার করতে পারে। আমি এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ মনে করছি।’

সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, ‘নির্বাচন যখন আসবে তখন দেখা যাবে।’

১৪:৪৫, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

আমরা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবো: ড. কামাল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ব্রিফ করছেন ড. কামাল হোসেন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবো। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন আমি। সারাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত যতগুলো খবর পেয়েছি একজনও বলেনি যে, তার এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। আমি আশা করেছিলাম যে, ৩০-৪০ জন প্রার্থীর কল এসেছে। তাদের মধ্য থেকে অন্তত একজন হলেও বলবে—সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, এই সুখবরটি আপনাকে দিলাম। কিন্তু কেউই বলেনি যে, তার এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের মাঠে থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো।’ তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর ভোটের এই চিত্র দেখবো আশা করিনি। ভোটের মাঠে যে আনন্দ-উল্লাস করার দরকার ছিল, সেটি আমরা পাচ্ছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ‘আমরা ভোটের যুদ্ধ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছি। গতকাল (শনিবার) খবর পেয়েছিলাম, রাত ৩-৪টার মধ্যে নৌকার পক্ষে ৩০-৪০ শতাংশ ভোট কেটে নেওয়া হবে। কিন্তু আমরা এটাকে বিশ্বাস করতে চাইনি। মনে করেছিলাম অবান্তর কথা। কিন্তু সকালে আমাদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের পুলিশের সহায়তায় মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পাশে দাঁড়ানো থাকলেও কিছু বলেনি। এখন কোনও কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্ট পাবেন না।’

মন্টু বলেন, ‘একটি কেন্দ্রে আমার পাঁচজন মহিলা পোলিং এজেন্ট ছিলেন। তাদের মারধর করার পরও কিছুক্ষণ থাকেন তারা। এরপর তাদের যখন বের কের দেওয়া হয়, তারা র‍্যাবের কাছে সহযোগিতা চান। র‍্যাব তাদের ভোটকেন্দ্রে না নিয়ে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। এক বিভীষিকাময় নির্বাচন অতিক্রম করছি আমরা। আমরা অসহায় জনগণের কাছে ক্ষমা চাই।'

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমার এলাকায় নির্বাচনের পরিবেশ ভয়াবহ। লাঠিয়াল বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। কিছু কিছু প্রিজাইডিং অফিসার পোলিং এজেন্টদের নিয়োগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই আসনে যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে—আমরা ভেবেছিলাম সেখানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তা পরিচালিত হবে, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। কিন্তু ভোটারদের কাউকে কাউকে ইভিএম কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও ভোটার ইভিএম মেশিনের সামনে পৌঁছাতে পারলেও মেশিন ওপেন হওয়ার পর লাঠিয়াল বাহিনী তাদের বের করে দিয়েছে। বলেছে, আপনাদের আর কষ্ট করতে হবে না। বিভিন্ন কেন্দ্রে বলা হচ্ছে—এখানে শুধু একটি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকবে, সেটি হচ্ছে নৌকা। অন্য কোনও প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকতে পারবে না বলে সবাইকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

১৪:৩৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বাগেরহাট ৩, ৪ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর ভোট বর্জন

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটবাগেরহাট ৩ (রামপাল-মংলা) ও  ৪ (মোড়লগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে তারা এ ঘোষণা দেন। জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাগেরহাট ৩ (রামপাল-মংলা) ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুত ভোট বর্জন করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবীবুর নাহারসহ অপর চার প্রার্থী নির্বাচনে রয়েছেন।

অপরদিকে, বাগেরহাট ৪ (মোড়লগঞ্জ-শরনখোলা) ঐক্যফ্রন্টের আব্দুল আলীম নির্বাচন বর্জন করেছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মোজাম্মেল হোসেনসহ ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

 

 

১৪:২৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জয়ের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ভোট দিচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়

দেশের মানুষকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিটি কলেজে নিজের ভোট প্রদানের পর দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীরা মিলে একটা কন্ট্রোভার্সিয়াল নির্বাচন করার জন্য লেগে আছে। তারা বিদেশে প্রচুর লবিং করছে। তারা জানে সব জরিপে আমরা এগিয়ে। বিএনপি-জায়ামাতের কোনও উপায় নেই। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে— আমাদের লোকজনকে হত্যা করে, লম্বা লিস্ট বানিয়ে হতাহতদের তাদের নিজেদেরর লোক বলে দাবি করছে।’ তিনি বলেন, ‘যখন পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে, তারা নালিশ করছে যে, তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে, আমাকে (বিএনপি) গ্রেফতার করা হচ্ছে।’ তারা মানুষ হত্যা করবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে, আর তাদের গ্রেফতার করতে পারবে না—এটা কেমন কথা!’

নির্বাচনের ফলাফল আওয়ামী লীগ মেনে নেবে বলে জানিয়ে জয় বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। মানুষ যাকে ভোট দেবে, তারাই ক্ষমতায় আসবে। আমার অনুরোধ বাংলার মানুষের প্রতি একটাই— যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাদেরকে ভোট দেবেন না। যারা আমাদের দেশের ৩০ লাখ ভাইবোনদেরকে হত্যা করেছে ১৯৭১ সালে, তাদের নিয়ে যারা রাজনীতি করে, তাদের ভোট দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের উদ্দেশে বলবো, যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। যে দল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যে দল দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে, যে দল দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ করেছে, যে দল দেশকে উন্নয়নশীল করেছে, সেই দলের প্রতীক নৌকায় ভোট দেবেন।’

১৪:২৫, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

‘জয় নিশ্চিত করতে প্রহসন ও কারচুপির বলয় তৈরি করা হয়েছে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। রবিবার রাজধানীর পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে ভোট প্রদান শেষে কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

তিনি বলেছেন, ‘ভুয়া বিজয় নিশ্চিত করতে ৩/৪ ধরনের প্রহসন ও কারচুপির বলয় আগেই তৈরি করেছিল শাসক দল। এর মধ্যদিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ন্যূনতম ভিত্তিকে এভাবে বলি দেওয়া হবে। নির্বাচনের নামে যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে একটি ভুয়া নির্বাচন। যাদের এভাবে নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হবে তারা নিজেদের কোনও মতেই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি বলে দাবি করতে পারবে না। জনগণ তাদের ভুয়া প্রতিনিধি বলেই বিবেচনা করবে। ভুয়া প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদও জনপ্রতিনিধিদের সংসদের মর্যাদা দাবি করতে পারবে না। সেটিকে জনগণ ভুয়া সংসদ হিসেবেই গণ্য করবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ন্যূনতম ভিত্তিকে এভাবে বলি দেওয়া হবে।’

 

১৩:৫৪, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদের। তার অভিযোগ, নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মারছে। আহমদ আবদুল কাদেরের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট জেলা খেলাফত মজিলসের সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে তার নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহমদ আবদুল কাদেরমোহাম্মদ আবদুল করিম জানান, তিনি রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদকেও নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি জানিয়েছেন।

এ আসেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগের মাহবুব আলী। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।

১৩:৫৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ভোটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে: অর্থমন্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি

২০০৮ সালের পর এবার ভোটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় উৎসবের আমেজ ছিল না। তবে, ভোটের মাঠে কিছুটা উত্তেজনা থাকবেই এটা স্বাভাবিক।’ রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় নগরের বন্দরবাজারস্থ দুর্গাকুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সবসময় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হয়। কিন্তু এবার মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে প্রবণতা দেখছি আমার মনে হয় ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে।’

১৩:৪৫, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

রাতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা, দিনে কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ ভোট

নুরুজ্জামান লাবু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে সারাদেশের কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা জানা গেছে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নোয়াখালীর একটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের ওপর হামলা করে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লক্ষীপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। এসবের বাইরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সারাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। কোথাও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালালে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’

রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মানিক মিয়া এভিনিউর রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছে। সবখানে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোনও ধরনের শঙ্কা বা হুমকি নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য সর্বত্র মোতায়েন রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, শীতের কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম রয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে ভোটার বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

সারাদেশের কয়েকটি ঘটনা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মন্তব্য, ‘মতবিরোধ হতে পারে। সারাদেশে নির্বাচন হচ্ছে। দু’একটি ঘটনা ঘটতেই পারে। এগুলো তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছি আমরা।’

জানা গেছে, নির্বাচনের আগের রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় যুবলীগকর্মী দ্বীন মোহাম্মদ নিহত হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নোয়াখালী-২ আসনের সোনাইমুড়ি উপজেলার নাটেশ্বরী ইউনিয়নের ইবতেদায়ি নুরানি মাদ্রাসা কেন্দ্রে হামলা করেছিল বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

একই জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নে পূর্ব বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে রবিবার ভোরে দুর্বৃত্তরা নির্বাচনি সরাঞ্জামাদি লুট করার কারণে সেখানকার ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

এদিকে পোস্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ক্যাম্প আর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ভোটগ্রহণ শুরুর আগে রাঙামাটি জেলার কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় যুবদলের নেতাকর্মীরা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে সাইফুল ইসলাম নামে নিজেদের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগের।

সকালে ঢাকার বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নুন স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালী, ভৈরব, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের কয়েকটি কেন্দ্রে গণ্ডগোলের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। নোয়াখালীর দুটি কেন্দ্রে গণ্ডগোল করে ব্যালট ও নির্বাচনি সরাঞ্জাম লুট করা হয়েছে। আমরা সেসব উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এর বাইরে নির্বাচন উৎসবমুখর হচ্ছে।’

কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইজিপির মন্তব্য, এ ধরনের ঘটনা হওয়ার কথা নয়। যদি ঘটেও তাহলে স্থানীয় পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। ১ হাজার ১১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্য যেমন আনসার, গ্রামপুলিশসহ প্রায় সাত লাখ সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে। সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনা করে সেসব এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। রাজধানীতে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য ও ২৫ হাজার আনসার সদস্য মাঠে আছে। র‌্যাবের ১০ হাজার সদস্য ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগের রাতে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও ভোট শুরুর পর সারাদেশের কোথাও বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারি আছে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত।

রাজধানীর বনানীর বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুব ভালো পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। গতকাল রাতে দুটি কেন্দ্র ও আজ সকালে পাঁচটি ভোটকেন্দ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে তা সফল হয়নি। ফলে ভোটাররা সকাল থেকে ভোট প্রদান শুরু করেছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘নির্বাচন এলেই একটি গোষ্ঠী গাড়িতে পেট্রোল বোমা ও আগুন দেয়। এসব বিষয় ভেবে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরদিন র‌্যাবের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ও ভোটারদের নিরাপত্তায় আমরা নিয়োজিত আছি।’

১৩:৩৫, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

নাটোর-২ আসনে লাঙ্গল প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরনাটোর-২ (সদর) আসনের লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান সেন্টু নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় শহরের কানাইখালি এলাকায় নিজ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।

লিখিত বক্তব্যে মজিবুর রহমান সেন্টু দাবি করেন, নির্বাচনি এলাকায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে তার মনোনীত এজেন্টেদেরকে আওয়ামী লীগপন্থী লোকজন জোর করে বের করে দেয় এবং তাদের মনগড়া ব্যক্তিদের দিয়ে লাঙ্গলের এজেন্ট নিয়োগ করে। সমস্ত কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদেরকে নৌকা মার্কা প্রতীকে তাদের মনোনীত এজেন্টদের সামনে সিল দিতে বাধ্য করছে। এসব তিনি নিজের চোখে দেখে নির্বাচনি পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

১৩:৩২, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

নরসিংদী-৩ আসনে আ.লীগের নির্বাচনি এজেন্টকে গলা কেটে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি

হত্যা

নরসিংদী-৩ আসনের শিবপুরে মো. মিলন মিয় (৪৫) নামে আওয়ামী লীগের এক নির্বাচনি এজেন্টকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নরসীংদী-৩ শিবপুর কুন্দারপাড়া কেন্দ্রে অদূরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নরসীংদী-৩ শিবপুর কুন্দারপাড়ার ভোট কেন্দ্রের অদূরে গণ্ডগোল দেখা দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে মো. মিলন মিয়ার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করা হচ্ছে।

নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে জহিরুল হক মোহন। এ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। 

 

১৩:২৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা জামায়াতের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

জামায়াতে ইসলামীএকতরফাভাবে নির্বাচন হচ্ছে অভিযোগ করে ভোট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ধানের শীষের ২২ প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র ৪ প্রার্থীর নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে দলের প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

তিনি বলেন, ‘ভোটার ও সাধারণ জনতার ওপর সরকারের অব্যাহত হামলায় জনগণের জীবন আজ বিপন্ন। সর্বত্রই চলছে সশস্ত্র মহড়া। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা তো দূরের কথা, জান-মালের কোনও নিরাপত্তা নেই।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই একতরফা নির্বাচন কোনও অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর যেসব প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন ওইসব আসনে আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বয়কট করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

জামায়াত সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই জনগণের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সরকারের নির্দিষ্ট ছক ও নক্শা অনুযায়ী সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জোটের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দেওয়া হয়।’ আন্তর্জাতিক মহল থেকেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে আহ্বান জানানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটারদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও ভোটাররা হামলার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। দেশের সর্বত্রই নির্বাচনের নামে প্রহসনের নগ্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে এটা কোনও নির্বাচনই নয়। নির্বাচনের নামে এটি একটি ব্যালট ডাকাতির প্রহসন এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।