ডাকসুর ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশিত : ০৮:২১, মার্চ ১৮, ২০১৯

সারাংশ

ভোটারদের লাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলছে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে একেক জন ভোটারকে দিতে হবে ৩৮টি ভোট। এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দু’টি ব্যালট পেপার। ডাকসুর কেন্দ্রীয় ২৫টি এবং হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

ডাকসু নির্বাচনে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) ফর্মে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনি কর্মকর্তা অধ্যাপক আব্দুল বাছির। প্রতিটি পদের জন্য আলাদাভাবে ব্যালট নম্বর ও প্রার্থীর নাম ওএমআর ফর্মে থাকবে। ভোটার নিজের আইডি কার্ড দেখিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে প্রার্থীর নামের ডানপাশে নির্ধারিত ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বুথ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অধ্যাপক আব্দুল বাছির আরও জানিয়েছেন, অস্বচ্ছ, স্টিলের তৈরি ও তালাবদ্ধ বক্সে ভোট নেওয়া হবে। প্রতিটি বুথে একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল রয়েছে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য। বাঁশের তৈরি এই বুথগুলো কাপড় দিয়ে ঢাকা আছে। অতীতে সবুজ রঙের অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হলেও এবারের নির্বাচনে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাই রঙের স্টিলের ব্যালট বাক্স।

এই ব্যালট বাক্স ব্যবহারের বিষয়ে ডাকসু নির্বাচনের কর্মকর্তা আবদুল বাছির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওএমআর ব্যালট পেপার ভাঁজ করা যাবে না। তাই আমাদের বড় ব্যালট বাক্স প্রয়োজন ছিল।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসুর নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। ওই সময় তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে। ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া, ২ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মার্চের ৩ তারিখ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১১ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয় ৩ মার্চ। এরপর আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামেন। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ করার নিয়ম ছিল। সে অনুযায়ী ১০ মার্চ সকাল ৮টায় প্রচারণা শেষ হয়।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়বেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

/এসও/আরজে/এমএ/

১৮:৩৫, মার্চ ১১, ২০১৯

‘কলঙ্কিত’ ডাকসু নির্বাচন

উদিসা ইসলাম

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ

২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু’র নির্বাচন যতটা আশান্বিত করেছিল, ভোট শুরুর মুহূর্ত থেকে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে ততটাই প্রশ্নবিদ্ধ ও ‘কলঙ্কিত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ডাকসু’র সাবেক  নেতারা। তারা বলছেন, আইয়ুব খানের আমলেও ডাকসু’র গায়ে আঁচড় পড়েনি। এবারের এই কলঙ্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু’র সুনাম ও সম্মান ধ্বংস করেছে।

সাবেক এই নেতারা বলছেন, প্রশাসনের শুভ বুদ্ধির উদয় হলে দ্রুত নির্বাচন বাতিল করে নতুন কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দেবে। যদিও উপাচার্য  ড. মো. আকতারুজ্জামান বলছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু এবং একইসঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে।’

ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলসোমবার (১১ মার্চ) সকালে নির্বাচন শুরুর একঘণ্টার মধ্যে খবর আসে বাংলাদেশ- কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা বস্তা বোছাই ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এরপর একে একে রোকেয়া হল, সুফিয়া কামাল হল, সূর্যসেন হল থেকে আসতে থাকে নানা অভিযোগ। প্রার্থীদের অভিযোগের বাইরে অভিযোগ আসতে থাকে সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকেও। সিল মারা ব্যালট, ব্যালট ভর্তি বাক্স, কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা ভোটারদের লম্বা লাইনসহ বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যেই চলতে থাকে ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে একাধিক ভিপি প্রার্থীর ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগও আসে।

বেলা একটার দিকে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব দল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। অভিযোগের সত্যতার এত প্রমাণ থাকার পরও ভোট বাতিল না করায় প্রশাসনের সমালোচনা করেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বর্তমান নেতা ও প্রার্থীরা। তারা বলছেন, এই প্রহসনের নির্বাচন ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।

বামজোট সমর্থিত প্যানেলের প্রতিবাদকেমন হলো নির্বাচন বলতে গিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে যে ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে, ডাকসু-কে এর বাইরে রাখা যেত। কিন্তু সেই একই কলঙ্ক ডাকসু’তেও লেপন হলো। এতে নিন্দা জানানো ছাড়া কিছু বলা নেই। যারা ভোট বর্জন করেছে, সেটা আমলে নিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’

সাবেক ডাকসু নেতা ও সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সবাই এটাই আশঙ্কা করেছিলাম, সেটি আরও  নগ্নভাবে প্রকাশ ঘটতে দেখলাম। এধরনের কলঙ্কজনক ঘটনা আইয়ুব আমলেও ঘটেনি। সেরকম অধঃপতনের মাধ্যমে সারাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এটা বরদাস্ত করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও ডাকসু’র সম্মান ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও  বলেন, ‘ইতিহাস এখানেই শেষ হবে না। ছাত্রসমাজের প্রতিরোধের মুখে তাদের সংসদ গঠনের অধিকার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নতুন তফসিল দিয়ে নতুন করে মুক্ত পরিবেশে ছাত্রদেরকে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ করে দেবে।’

কোটাবিরোধী আন্দোলন সমর্থিত প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা৩৭ বছর আগে ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন প্রবাসী অধ্যাপক আলী রিয়াজ। পরপর দুই দফা সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ডাকসু নির্বাচনের নামে আজ  যা ঘটেছে, তাকে নির্বাচন বলার কোনোই যুক্তি নেই। কলঙ্কিত হলেও তো কিছু হয়, এটি হচ্ছে গোটা দেশে নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া তারই অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ক্ষমতাসীন দলের অন্ধ সমর্থক শিক্ষকরা বুঝেশুনেই এটা করেছেন। তাদের যদি সামান্যতম আত্মসম্মান ও দায়িত্ববোধ থাকে, তবে এই মুহূর্তেই এই নির্বাচন বাতিল করে দেওয়া হবে তাদের কাজ। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে আমি ১৯৭৩ সালের ডাকসু নির্বাচনের চেয়েও খারাপ মনে করি। কেননা, সেই সময়ে শিক্ষক ও প্রশাসন অন্ততপক্ষে বলতে পারতো ‘আমাদের কিছু করার ছিল না।’ এবার প্রশাসন এই নির্বাচনকে ধ্বংস করেছে। একজন প্রাধ্যক্ষের বরখাস্ত মোটেই যথেষ্ট নয়, প্রশাসনের উচ্চ পদে অসীনদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত।’’

ডাকসু’র সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সরকার সমর্থিত সংগঠনকে জিততে হবেই বলে এবারের নির্বাচনে এসব অনিয়ম করা হয়েছে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষের ভোটকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে। আমি তো আগেই বলেছি, বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায়ও এসেছে যে, এবার ডাকসু নির্বাচন হবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের একটা রেপ্লিকা।’

নির্বাচন বর্জনের ঘোষণামান্না আরও বলেন, ‘এর আগে ডাকসু নির্বাচনে এমন অনিয়ম হয়নি। তবে ৭৩ সালে একবার ব্যালট বাক্স হাইজ্যাক করা হয়েছিল।’

সর্বশেষ ১৯৯০-৯১ সেশনে ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন মনে করেন, ডাকসু নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রথম থেকে দেখা দিয়েছে— সব ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি দাওয়াকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে যাচ্ছিল, ভিন্ন মতের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নীল দলের শিক্ষকদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলো। ছাত্রলীগ ছাড়া আর সব সংগঠনের দাবি ছিল— ভোটের সময় বর্ধিত করা, হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র করা, স্টিলের বদলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তা কিছুই করেনি। ডাকসু নির্বাচনকে যে কলঙ্কিত করবে, তাদের আচার-আচরণে তা প্রকাশ পেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপরে ভরসা রাখতে চেয়েছিলাম। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তারা স্বাধীন। তারা কারও নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। কিন্তু তাকে (অধ্যাদেশ) এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্রলীগ মিলে তা কলঙ্কিত করেছে।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

 

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

১৪:০৮, মার্চ ১১, ২০১৯

সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা (ভিডিও)

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা

নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। পরে তিনজন শিক্ষার্থী তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বের হওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। সোমবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে স্বতন্ত্র ও বামজোটের বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে এক বস্তা সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এরপর পুনরায় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ভোট শুরু হয়। এছাড়াও রোকেয়া হল, সূর্য সেন হলসহ আরও কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ আনে সাধারণ শিক্ষার্থী, বামজোট প্যানেল ও কোটা আন্দোলন প্যানেল। অনিয়ম এনে দুপুরে তারা ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় রোকেয়া হল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যালট নিয়ে প্রতিবাদ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে ওই হলেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান আসেন। তিনি কেন্দ্রের অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি তোপের মুখে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাপ্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ (১১ মার্চ) ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন। তবে এরইমধ্যে কয়েকটি প্যানেল ভোট বর্জন করেছে।

আরও পড়ুন:

ছাত্রলীগ বাদে অন্যদের ভোট বর্জন, কাল থেকে ধর্মঘট

এবার রোকেয়া হলে ভোট বন্ধ

 

তিন ঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু

 

ব্যালটে সিল, কুয়েত মৈত্রীর প্রভোস্ট অপসারণ

 

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

১৩:৫৭, মার্চ ১১, ২০১৯

‘ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দিতেই আচরণবিধি লঙ্ঘন’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ডাকসুর নির্বাচনে ভোটারদের লাইনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দখলদারিত্ব চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল, বাম ও স্বতন্ত্র জোট প্যানেলের প্রার্থীরা। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে ভোট চলাকালে হলে হলে (ভোটকেন্দ্রের ভেতরেসহ) ছাত্রলীগ কর্মীদের অবস্থান, হলের সামনে দফায় দফায় মোটরসাইকেলের  মহড়া, ভোটারদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন তারা।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দিতে আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে যা ইচ্ছে তাই করা হলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

স্বতন্ত্র জোট প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তি খান বলেন, ‘দখলদারিত্ব দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, হলে সামনে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।’

ছাত্রলীগের প্রার্থী সমর্থক ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠন ও জোটের প্রার্থীদের অভিযোগ— সকাল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা হলের সামনে কয়েক দফা মোটরসাইকেলে করে মহড়া দেয়। ভোট শুরুর আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভোটারদের প্রভাবিত করতে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর মধ্যদিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘণ শুরু করে। ফুল দিয়ে বরণ করার বিষয়ে হোম ইকোনমিক্স কলেজের ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কানিজ ফাতেমা সোনিয়া বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ে ভোটারদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছি। আমরা শোভন-রাব্বানী-সাদ্দাম পরিষদের ভোট চাইছি ভোটারদের কাছে।’ 

মৈত্রী হল থেকে উদ্ধার হওয়া সিল দেওয়া ব্যালটসাধারণ ছাত্ররা জানান, রোকেয়া হলের ভোটকেন্দ্রেও ভোটারদের ফুল দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যালট স্লিপ ছাড়া ভোটারদের অন্যকিছু দেওয়া নির্বাচনিবিধির লঙ্ঘন। সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরুর আগে এবং ভোট চলাকালে ছাত্রলীগের প্রার্থী ও সমর্থকরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। ভোটের লাইনে ঢুকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ‘ছাত্রলীগকে ভোট না দিলে খবর আছে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগের সভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র দাস বলেন, ‘কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’ 

তবে ছাত্রদলের ভিপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে যে আচরণবিধি রয়েছে, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড দেখে তা মনে হচ্ছে না। যখন যা খুশি তারা তা-ই করছে। প্রশাসন সুনিশ্চিতভাবে ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রভাব খাটানোটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, ব্যবস্থাও নিচ্ছে না।’

স্বতন্ত্র জোট প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তি খান বলেন, ‘প্রতিটি হলে ছাত্রলীগ দখলদারিত্ব দেখানোর চেষ্টা করছে। হলের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।’

ভোটারদের ফুল ও লিফলেট দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় ছাত্রলীগ কর্মীরাসকাল সোয়া ৯টার দিকে রোকেয়া হলের সামনে তিন ছাত্রীকে ফুল দিয়ে ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে আমন্ত্রণ জানাতে দেখা যায়। তিন মেয়ে শিক্ষার্থী ভোটারদের হাতে ফুল দিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর প্রচারপত্র বিলি করেন।

স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, ‘ভোটারদের লাইনে ঢুকে ফুল দেওয়া নির্বাচনের আচারণবিধি লঙ্ঘন। এটা কেউ করতে পারে না। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভএবিষয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় এমন কোনও কিছু কাউকে করতে দেওয়া হবে না। আমরা সবকিছু মনিটরিং করছি।’

উল্লেখ্য,দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ  (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন।

 

১৩:৩৮, মার্চ ১১, ২০১৯

ছাত্রলীগ বাদে অন্যদের ভোট বর্জন, কাল থেকে ধর্মঘট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট



ভোট প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বর্জন করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সমর্থিত প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভোট বর্জনের পাশাপাশি মঙ্গলবার (১২ মার্চ) থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। এ সময় সব ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।





সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট প্রত্যাখ্যান করেন বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। 

এ সময় অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিটন নন্দী বলেন, ‘আমরা এই প্রহসন ও জালিয়াতির নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

লিটন নন্দী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ করতে হবে।’

ছাত্রদলের প্রতিনিধিরাও এ সময় মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত থেকে তাদের সমর্থন দেন। পরে তারাও পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এ ঘোষণা দেন ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।  

পরে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে প্রশাসনের ব্যর্থ এবং অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কারণে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেনি, এমন অভিযোগ এনে ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে সরকার সমর্থিত জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীও।

ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা


জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব শামীম বলেন, ‘২৮ বছর পর হওয়া এ ভোট নিয়ে মানুষের অনেক আশা ছিল। তবে সেই আশা পূরণ করতে পারেনি প্রশাসন। ভোট সুষ্ঠু হয়নি। এই ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট আয়োজন করতে হবে।’

অন্যদিকে, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল বলেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা পুনরায় ভোটের দাবি জানাচ্ছি।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ

এছাড়া ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনও নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ২টায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত আতায়ে রাব্বী-মাহমুদ-শরীয়ত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এস.এম.আতায়ে রাব্বী ও জিএস প্রার্থী মাহমুদুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে ডাকসু নির্বাচনের ভোট বর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

পরে নিজেদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে সেখান থেকে সরে এসে তারা ভিসির বাস ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এসময় উভয় পক্ষ থেকে ভিসির পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।  

১৩:৩৪, মার্চ ১১, ২০১৯

সুফিয়া কামাল হলে তল্লাশি শিক্ষার্থীদের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে সুফিয়া কামাল হল কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স তল্লাশি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ভোটকেন্দ্রের সামনে একদল শিক্ষার্থী হল তল্লাশি করতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হল প্রভোস্ট হলের প্রতিটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পরিদর্শন করাতে বাধ্য হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন হলে সিল মারা ব্যালট পাওয়া গেছে। সে কারণে সুফিয়া কামাল হলের কেন্দ্রেও তল্লাশি চালাতে হবে।

এদিকে বিক্ষোভের সময় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা থেমে থেমে স্লোগান দিতে থাকে।
প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত জিএস প্রার্থী সুদীপ্তা মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুনেছি কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা ব্যালটের বস্তা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রার্থী হিসেবে এখানকার ব্যালট বাক্সসহ ভেতরের পরিস্থিতি দেখতে চাই।’
সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘সবাইকে ভেতরে নেওয়া সম্ভব না। তবে প্রার্থীদের আমরা বলেছি, আপনাদের পক্ষ থেকে তিনজন আমাদের সঙ্গে পাঠান, আমরা নিয়ে যাচ্ছি। ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে যা দেখবেন তা-ই বাইরে এসে বলতে হবে। উসকানিমূলক এমন কিছু বলা যাবে না, যাতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়।’
এরই একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হলের কেন্দ্রে নিয়ে যান প্রভোস্ট।
প্রভোস্ট সাবিতা রেজওয়ানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হলের প্রতিটি ভবনের কোনায় শিক্ষার্থীরা তল্লাশি করেছে। দরজা জানালা, টেবিল চেয়ারের তলায় পর্যন্ত দেখেছে।’
এদিকে সুফিয়া কামাল হলের ভোট নিয়ে কারচুপির অভিযোগ পাওয়া না গেলেও ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। হল পেরিয়ে শিক্ষাভবনের মোড়ে গিয়ে ঠেকেছে লাইন।
ভোট দিয়ে বের হওয়া শিক্ষার্থীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, সুফিয়া কামাল হলে ভোট নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই।

আরও পড়ুন:

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

১৩:২৪, মার্চ ১১, ২০১৯

ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান বামজোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 

সংবাদ সম্মেলনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন ও কোটা আন্দোলনসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে সবার পক্ষ থেকে ভোট প্রত্যাখান করেন বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। এসময় অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রহসন ও জালিয়াতির নির্বাচনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

লিটন নন্দী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র স্থাপন এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ করতে হবে।’

১২:৫২, মার্চ ১১, ২০১৯

নূর, অনীক ও লিটন নন্দীর প্রার্থিতা বাতিল করে মামলার দাবি রাব্বানীর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট




ছাত্রলীগ

নূরুল হক নুরু, অনিক ও লিটন নন্দীর প্রার্থিতা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সমর্থিত জিএস প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ওরা প্রশাসনকে জিম্মি করে এবং ব্যালট পেপার ছিনতাই করে তা ছড়িয়ে দেয়। এ কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করে মামলা করা হোক।’

সোমবার (১১ মার্চ) ১২টার পর রোকেয়া হল থেকে তিন ট্রাংক ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়। এসব ব্যালট বাইরে আসার পর হলে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেভাবে কোটাবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে গুম করা হয়েছে, বোনদের ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে প্রচার করা হয় তেমনটাই এখানেও করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
এর আগে তিনটি ট্রাংকে রাখা ব্যালট উদ্ধার করে রোকেয়া হল শিক্ষার্থীরা। এসব ব্যালেট কোথা থেকে বাইরে এলো জানতে চাইলে রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দরজা ভেঙে বের করেছে, এসব হল সংসদে ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরির জন্য কোটা আন্দোলনের নুর, ছাত্রদলের অনীক ও বামজোটের লিটন নন্দী জড়িত।

১২:৪৫, মার্চ ১১, ২০১৯

দুপুর ১টায় বামজোটের সংবাদ সম্মেলন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

লিটন নন্দী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামজোটের প্রার্থীরা সোমবার দুপুর ১টার সময় মধুর ক্যান্টিনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবে। বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ডাকসু নির্বাচনের অনিয়ম অভিযোগ, তার ওপর হামলা নিয়ে বামজোটের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে মুহসীন হলে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন লিটন নন্দী। হল প্রভোস্ট নিজামুল হক ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ রকমটা হয়েছে। এখন পরিবেশ শান্ত।’

এ বিষয়ে লিটন নন্দী বলেন,  ‘হলে প্রবেশ করতে গেলেই তারা (ছাত্রলীগ) হামলা চালায়। এসময় আমার সঙ্গে থাকা অন্য প্রার্থীরাও লাঞ্ছিত হন।’

ঘটনার পর ছাত্রলীগ ও বাম জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:

ভিপি প্রার্থী নূরের ওপরও হামলা

এবার রোকেয়া হলে ভোট বন্ধ

 

তিন ঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু

 

ব্যালটে সিল, কুয়েত মৈত্রীর প্রভোস্ট অপসারণ

 

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

 

 

১২:৩২, মার্চ ১১, ২০১৯

ভিপি প্রার্থী নূরের ওপরও হামলা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 



নূরের ওপর হামলাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোটা আন্দোলন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নূরুল হক নুরের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরের দিকে রোকেয়া হলে তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মুহসীন হলে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী নেতা হাসান আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোকেয়া হলের ব্যালট বক্স পাওয়া গেছে শুনে লিটন নন্দীসহ কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা রোকেয়া হলে যান। পরে সেখানে থাকা ছাত্রলীগের জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর উপস্থিতিতে তাদের কর্মীরা হামলা চালায়। গোলাম রাব্বানী নিজেও হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন মামুন। পরে নূরকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

১২:৩১, মার্চ ১১, ২০১৯

এবার রোকেয়া হলে ভোট বন্ধ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

রোকেয়া হলে মেয়েদের লাইনকুয়েক মৈত্রী হলের পর এবার রোকেয়া হলে ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। হল থেকে তিন ট্রাঙ্ক ব্যালট উদ্ধার করার পর ভোট বন্ধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, হলের একটি রুম থেকে ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়। এসব ব্যালটে সিল মারা ছিল না। ওই রুমে ছাত্রলীগের নেত্রীরা থাকতো বলে জানা গেছে।

এমনিতেই নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জটিলতার কারণে ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয় হবে প্রসাশনিক কর্মকর্তা জানান।

এর আগে সোমবার সকালে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে সিল মারা এক বস্তা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। এর ঘটনায় ওই হলের প্রভোস্ট শবনব জাহানকে অপসারণ করা হয়।  

কুয়েত হলের প্রার্থী ও ভোটাররা জানান,  ভোট শুরুর আগে থেকে হলের অডিটোরিয়ামে একটি কক্ষ আগে বন্ধ ছিল। সকালে সেই কক্ষ থেকে প্রার্থী ও ভোটাররা এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করে। তাতে  ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে সিল মারা ছিল। পরে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট বন্ধ করে দেন। 

আরও পড়ুন:

তিন ঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু

 

ব্যালটে সিল, কুয়েত মৈত্রীর প্রভোস্ট অপসারণ

 

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

 

১২:১২, মার্চ ১১, ২০১৯

ডাকসুর ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দীর ওপর ছাত্রলীগের হামলা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট




লিটন নন্দী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মুহসিন হলে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রভোস্ট নিজামুল হক ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ রকমটা হয়েছে। এখন পরিবেশ শান্ত।’

ঘটনা জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, ‘হলে প্রবেশ করতে গেলেই তারা (ছাত্রলীগ) হামলা চালায়। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা অন্য প্রার্থীরাও লাঞ্ছিত হন।’

ঘটনার পর ছাত্রলীগ ও বাম জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

১২:০৭, মার্চ ১১, ২০১৯

শামসুন্নাহার ছাড়া সব ছাত্রী হলেই অনিয়মের অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে একমাত্র শামসুন্নাহার ছাড়া সবগুলো ছাত্রী হলে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোটের শুরুতেই ফাকা ব্যালট বাক্স না দেখানো, কৃত্রিমভাবে দীর্ঘ লাইন তৈরি করে রাখা, প্রার্থী ও সাংবাদিকদের হলে প্রবেশে বাধাসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোকেয়া হল, সুফিয়া কামাল হল ও কুয়েত মৈত্রী হলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বলে দাবি করেন ভোটার ও প্রার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোকেয়া হলে সাংবাদিক ও প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খোলার যে নিয়ম সেটিতে প্রভোস্ট গরিমসি করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ ঘণ্টা পরে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

সিদ্ধেশ্বরী থেকে তৃতীয় বর্ষের কানিজ সুলতানা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিয়েছি। ভোট দিতে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি।

এদিকে সুফিয়া কামাল হলে গিয়ে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। লাইনটি হলের বাইরে মাজারের দিকে গিয়ে ঠেকেছে। এতো দীর্ঘ লাইন নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ আছে। তারা বলছেন, গেটে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বিধায় বাইরের লাইন লম্বা।

এদিকে ব্যালটে আগে থেকে সিল মারার অভিযোগে সকালেই ভোট স্থগিত করা হয় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে। এরপর বেলা ১১ টা ১০ মিনিট থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভোট শুরুর আগে থেকে এই হলের অডিটোরিয়ামে একটি কক্ষ আগে বন্ধ ছিল। সকালে সেই কক্ষ থেকে প্রার্থী ও ভোটাররা এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করে। তাতে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে সিল মারা ছিল। পরে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট বন্ধ করে দেন।

এদিকে নারী হলগুলো নিয়ে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব হলে গিয়েই দেখেছি ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোনও কোনও হলে প্রার্থীরাও ঢুকতে পারছে না।’

কৃত্রিম লাইনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই লাইনে কারা দাঁড়িয়ে আছে, খোঁজ নেন।

ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র দাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে। চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

আরও পড়ুন:
‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

১১:৫৮, মার্চ ১১, ২০১৯

অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট দেননি ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট দেননি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। সোমবার (১১ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, ‘সামগ্রিকভাবে যেসব অনিয়মের কথা শুনতে পাচ্ছি তাতে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ভোট না দেওয়ার। আমরা অন্যান্য হল পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সুফিয়া কামাল হলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমরা শুনেছি গতকাল রাতেই সুফিয়া কামাল হলে ব্যালট ভর্তি করে রাখা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমি এখনও ভোট দেইনি। আমাদের এরশাদ মাহমুদকে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘সূর্য সেন হলের প্রফেসর মাকসুদ কামাল নিজে আমাদের প্রার্থীদেরকে বের করে দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে যেসব অনিয়মের কথা শুনতে পাচ্ছি তাতে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত। অন্যান্য হল পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’

এরআগে, সকালে মুহম্মদ মুহসীন হল এবং এফ রহমান হল পরির্দশন শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘ভোট কেন্দ্রের গেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোটা প্রশাসনের হওয়ার কথা থাকলেও আমরা দেখছি পুরো নির্বাচনের পরিবেশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। আমি এফ রহমান হলে গিয়েছিলাম, এখন মুহম্মদ মুহসীন হলে আসছি। একই ধরনের পরিস্থিতি। ভোট কেন্দ্রে কৃত্রিম একটি লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে। লাইনে যারা দাঁড়িয়েছেন তারা অন্য ভোটারদের লাইনে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।’

উল্লেখ্য, এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়বেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

১১:৫০, মার্চ ১১, ২০১৯

‘পরিবেশ ভালো, তবে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ভোটারদের লাইনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা। সকাল ৮টা থেকে ১৬টি হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সিল মারা ব্যালট পাওয়ায় এবং জটিলতার কারণে কুয়েত মৈত্রী ও বেগম রোকেয়া হলে পরে ভোট শুরু হয়। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ ভালো বললেও ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ভোটাররা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ এই ব্যবস্থাকে জটিল বললে কেউ কেউ বলেছেন সহজ।

সোমবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন হলের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ আধা ঘণ্টা, কেউ কেউ ঘণ্টা খানেক ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভোট কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র রাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কঠিন মনে হচ্ছে। কারণ অল্প সময়ে ৩৮টি ভোট দিতে হবে। আমরা সাধারণ টিক চিহ্ন দিয়ে অভ্যস্ত। এখানে দিতে হবে ক্রস চিহ্ন। আর সদস্য পদে এত প্রার্থী, নাম খুঁজে পেতেই কয়েক মিনিট চলে যায়। এমনিতে পরিবেশ ভালো,এটা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।’

ভোটারদের লাইনসার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এ হলে আবাসিক শিক্ষার্থী ফাহিম মাহমুদ জানান, তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় আধা ঘণ্টা। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ফল্ট আছে। যেহেতু ৩৮টি ভোট দিতে হয় এবং সময় কম। আবার আমরা যদি সময় বেশিও লাগাই তাহলে আমার পরের মানুষগুলোর জন্য সমস্যা হচ্ছে। কেবলমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো রেখে সদস্য পদগুলো কমানো যায় নাকি এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তাছাড়া পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। আশা করি নিজের ভোটটি সঠিকভাবে দিতে পারবো।’

তবে পদ্ধতিকে খুব সহজ বললেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রক্রিয়াকে আমরা যতটা জটিল ভেবেছিলাম আসলে তা না। অনেক সহজ, একেবারেই ইজি। চাইলে ৩৮টি ভোট দেড় থেকে দুই মিনিটেই দেওয়া সম্ভব। অনেকগুলো বুথ আছে, সবাই ভোট দিতে পারবে।’

ভোটারদের লাইননির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন,  ‘এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমি সব হলে খোঁজ নিচ্ছি, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।’

রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর। ভোট দিয়ে আসা ইতিহাস বিভাগের সায়মা কানিজ বলেন, ‘ভোটের প্রক্রিয়া সহজ, তবে আমাদের হলে অনেক ভোটার। তাই একটু সময় বেশি লাগছে মনে হয়। সমস্যা হচ্ছে আমরা হল সংসদের প্রার্থীর ক্ষেত্রে সহজভাবে দিতে পারছি কিন্তু কেন্দ্রীয় পদে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক, সেখানে একটু সমস্যা হচ্ছে। এমনিতে পরিবেশ ভালো আছে।’

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী অপর্ণা বলেন, ‘আমাদেরকে তিন মিনিট সময়ের কথা বলা হলেও কাউকে চাপ দেওয়া হচ্ছে না এই সময়ের মধ্যে ভোট দেওয়ার জন্য। ’

 

আরও পড়ুন:

তিন ঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু

 

 

ব্যালটে সিল, কুয়েত মৈত্রীর প্রভোস্ট অপসারণ

 

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

১১:৩০, মার্চ ১১, ২০১৯

যেভাবে উদ্ধার হলো ‘সিল মারা ব্যালট’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সিল মারা ব্যালটশিক্ষার্থীদের কড়া পাহারা ও প্রতিবাদের মুখে ‘সিল মারা ব্যালট’ উদ্ধার হয়েছে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে। এক বস্তা সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের পর ওই হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত ও প্রভোস্টকে অপসারণ করা হয়। এরপর পুনরায় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত প্রতীকে সিল মেরে ভোট দেওয়ার নিয়ম। তবে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন (x) দিয়ে ভোট দেওয়া হচ্ছে।

জাল ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরাসোমবার (১১ মার্চ) সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে সিল মারা বা ক্রস (x) দেওয়া এই ব্যালট উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই হলের শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। অপসারণ করা হয় ওই হলের প্রভোস্ট শবনম জাহানকে। ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাহবুবা নাসরিনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সকাল পৌনে ১১টার দিকে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরুর সময় ঘোষণা করেন। ১১টা ১০ থেকে বিকাল  ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে এ সময়ের পরও ভোটারের লাইন থাকলে অথবা কেন্দ্রের ভেতরে কোনও ভোটার থাকলে সেই ভোট গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

যেভাবে উদ্ধার হলো সিল মারা ব্যালট

প্রত্যক্ষদর্শী ঢাবির উন্নয়ন ও অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নওশিন খান বলেন, ‘ভোট শুরুর আগে থেকেই হলের অডিটোরিয়ামের ভেতরে একটি কক্ষ বন্ধ অবস্থায় ছিল। ভোট নেওয়ার আগে প্রতিটি হলে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হচ্ছিল। তবে আমাদের হলের প্রভোস্ট তা দেখাননি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ভোটগ্রহণে বাধা দেন। পরে প্রো-ভিসি আব্দুস সামাদ ও প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভোস্টসহ অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরাও সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় অডিটোরিয়াম থেকে একটি ব্যালট বাক্স পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবারও ব্যালট বাক্সটি ভেতরে আনা হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করেন। ব্যালটে হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন (ভোট) দেওয়া ছিল। ’

শিক্ষার্থীদের হাতে সিল মারা ব্যালটস্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, ‘ব্যালটে আগে থেকেই ভোট দেওয়া ছিল। এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য কাম্য নয়। এ ঘটনায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে। অন্য হলগুলোতে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়—তার জন্য জোর দাবি জানাই।’

ডাকসুতে ছাত্র ফেডারেশনের জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই এমন আশঙ্কা করেছিলাম। সেই আশঙ্কা থেকেই সকালে হলগুলোতে ব্যালট ও বাক্স পাঠানোর দাবি করেছিলাম। তবে প্রশাসন আমাদের কথা রাখেনি। তারা আগের রাতে ব্যালট ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়ে ভোট কারচুপির সুযোগ করে দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

 ‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন
ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

১০:৫১, মার্চ ১১, ২০১৯

তিন ঘণ্টা পর কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরু

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

কুয়েত-মৈত্রী হলে জাল ব্যালট হাতে এক প্রার্থীব্যালটে সিল মারার অভিযোগে নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ডাকুস নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১ টা ১০ মিনিট থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন।

কুয়েত মেত্রী হলের সামনে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ড. মুহম্মদ সামাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থগিত থাকা ভোট শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকাল ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। এরপরও যদি ভোটার উপস্থিত থাকে তাহলে নির্ধারিত সময়ের পরও তাদের ভোট নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রভোস্টকে এরই মধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজ রহমান হলের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেন। এসময় বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টকে অব্যাহতির পরিবর্তে বহিষ্কারের দাবি জানান।

তিনি বলেন,  হল প্রভোস্ট শবনম জাহানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাধারণ ভোটারদের অনুরোধ করে বলেন,  ‘তোমরা ভোটে অংশগ্রহণ করো। তোমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রভোস্টকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন ৩ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়ার কারণে তিনি বলেন,  ভোট দেওয়ার সময় সীমা ৩ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নেওয়া হবে।

এসময় কুয়েত মৈত্রী হলের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শিরিন শারমিন বলেন,  ‘আমরা হল প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অব্যাহতি নয় বহিষ্কার চাই এবং এই হল থেকে ছাত্রলীগের প্যানেল বাতিল চাই।’

এ বিষয়ে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন,  এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হবে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রার্থী ও ভোটাররা জানান,  ভোট শুরুর আগে থেকে হলের অডিটোরিয়ামে একটি কক্ষ আগে বন্ধ ছিল। সকালে সেই কক্ষ থেকে প্রার্থী ও ভোটাররা এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করে। তাতে  ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে সিল মারা ছিল। পরে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট বন্ধ করে দেন। 

জাতীয় সংসদ, উপজেলা বা অন্যান্য নির্বাচনে সাধারণত ব্যালট পেপারে থাকা প্রার্থীর প্রতীকের ওপরে ভোটারকে সিল মারতে হয়। আর ডাকসু নির্বাচনে ব্যালটে প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারকে ক্রস (x) চিহ্ন দিতে হয়।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে। চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন।

আরও পড়ুন:

ব্যালটে সিল, কুয়েত মৈত্রীর প্রভোস্ট অপসারণ

 

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

১০:৩৭, মার্চ ১১, ২০১৯

ফুল দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন ছাত্রলীগের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর পক্ষে ভোটারদের ফুল দিচ্ছেন ছাত্রলীগের এক  কর্মী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণের শুরুতেই ভোটারদের ফুল দিয়ে ভোটকেন্দ্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ছাত্রলীগ। ভোটাররা বলছে, এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। কিন্তু, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন আমন্ত্রণকারী ছাত্রলীগের সমর্থকরা।

রবিবার (১১ মার্চ) সকাল সোয়া ৯টার দিকে রোকেয়া হলের সামনে তিন ছাত্রীকে ফুলি নিয়ে ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে আমন্ত্রণ জানাতে দেখা যায়। তিন মেয়ে শিক্ষার্থী ভোটারদের হাতে ফুল দিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর প্রচারপত্র বিলি করেন।

ফুল ও লিফলেট হাতে ছাত্রলীগের তিন সমর্থকএসময় ওই তিন শিক্ষার্থীর কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তাদের মধ্যে একজন  নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর পক্ষে ভোট চাচ্ছি। ভোটারদের ফুল দিয়ে ভোটকেন্দ্রে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

এতে আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ হওয়ার কিছু নাই। আমরা ফুল দিয়ে ভোটারদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছি।’

স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, ‘ভোটারদের লাইনে ঢুকে ফুল দেওয়া নির্বাচনের আচারণবিধি লঙ্ঘন। এটা কেউ করতে পারে না। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

এদিকে, সকাল সাতটা থেকে গোলাপ ফুল ও লিফলেট  হাতে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানাতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় হোম ইকনোমিক্স কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীরা।

তারা শোভন-রাব্বানী-সাদ্দাম পরিষদের পক্ষে ভোটারদের একটি করে ফুল ও লিফলেট দিচ্ছেন।

ভোটারদের জন্য ফুল নিয়ে অপেক্ষাহোম ইকনোমিক্স কলেজের ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কানিজ ফাতেমা সোনিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ে ভোটারদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছি। আমরা শোভন-রাব্বানী-সাদ্দাম পরিষদের জন্য ভোটারদের কাছে ভোট চাইছি।’

এবিষয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় এমন কোনও কিছু কাউকে করতে দেওয়া হবে না। আমরা সবকিছু মনিটরিং করছি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। একইসঙ্গে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যরাও রয়েছেন। তারা ভোটারদের আইডি কার্ড তল্লাশির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন৷

লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররাএছাড়া, শাহবাগ মোড়ে পুলিশের একটি এপিসি, পুলিশ ভ্যান ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা সদস্যরা মোতায়েন আছেন।

উল্লেখ্য,দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ  (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

১০:২৮, মার্চ ১১, ২০১৯

ব্যালটে সিল, কুয়েত মৈত্রীর প্রভোস্ট অপসারণ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

সিল মারা ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আগের রাতে সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী আবাসিক হলের প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অপসারণ করা হয়েছে। তার স্থলে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিনকে প্রভোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ভোট স্থগিত করে দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। তারা সেখানে যাওয়ার শিক্ষার্থীরা ঘটনার জন্য প্রভোস্টকে দায়ী করেন ও তার পদত্যাগের দাবি তুলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন প্রভোস্টকে অপসারণ করে। 

প্রার্থী ও ভোটাররা জানান, হলের অডিটোরিয়ামে একটি কক্ষ আগে থেকেই বন্ধ ছিল। সকালে সেই কক্ষ থেকে প্রার্থী ও ভোটাররা এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করে। তাতে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে সিল মারা ছিল। পরে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট বন্ধ করে দেন। 

কুয়েত-মৈত্রী হলে জাল ব্যালটপ্রত্যক্ষদর্শী ঢাবির উন্নয়ন ও অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নওশিন খান বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই হলের অডিটোরিয়ামের ভেতরে একটি কক্ষ বন্ধ অবস্থায় ছিল। ভোট নেওয়ার আগে প্রতিটি হলে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হচ্ছিল। তবে আমাদের হলের প্রভোস্ট তা দেখাননি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ভোটগ্রহণে বাধা দেন। পরে প্রো-ভিসি আব্দুস সামাদ ও প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভোস্টসহ অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরাও এসময় সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে। এসময় অডিটোরিয়াম থেকে একটি ব্যালট বাক্স পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবার ব্যালট বাক্সটি ভেতরে আনা হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে ভেতরের তালাবন্ধ কক্ষ থেকে এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করেন।’

জাতীয় সংসদ, উপজেলা বা অন্যান্য নির্বাচনে সাধারণত ব্যালট পেপারে থাকা প্রার্থীর প্রতীকের ওপরে ভোটারকে সিল মারতে হয়। আর ডাকসু নির্বাচনে ব্যালটে প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারকে ক্রস (x) চিহ্ন দিতে হয়।

প্রসঙ্গত,সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে। চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন।

আরও পড়ুন:

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

১০:২৫, মার্চ ১১, ২০১৯

‘এখানে দাঁড়ায়ে কী করতেছো তোমরা’ (ভিডিও)

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখতে শাহবাগ থানার সামনে আসেন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এসময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিক-নির্দেশনা দেন।
তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যাগ চেক নাই কেন? হোয়াট ইউ আর ডুইং হেয়ার? তোমরা (পুলিশ)এখানে দাঁড়ায়ে কী করতেছো? কারও কাছে ব্যাগ প্যাক থাকলে সেগুলো চেক করা।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বিএনসিসি আইডি কার্ড চেক করছে, করুক। তোমাদের যদি সন্দেহ হয় গাড়ি চেক করবা। গাড়ির মধ্যে কেউ লাঠি নিয়ে যাচ্ছে কিনা, কোনও কিছু আছে কিনা সেগুলা চেক করবা।’
এরপর আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেও পুলিশ সদস্য রয়েছে। যদি কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হলে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যেতে পারবে।’ ’তিনি আরও বলেন, ‘জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন থেকে আগামী ৩৬ ঘণ্টা বলবৎ থাকবে।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা মূলত বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আছি। তবে যেকোনও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি আর্মি ইউনিটের করপোরাল মোহাইমিনুল খান বলেন, ‘শাহবাগের এই প্রবেশপথ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ভোটারদের আইডি কার্ড দেখে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কারও সঙ্গে যদি ব্যাগ থাকে তবে সেটিও তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গাড়ি আসছে, সেগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের নামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পথ দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের কার্ড দেখে যেতে দেওয়া হচ্ছে, তবে এই পথ দিয়ে বিশেষ রোগী ছাড়া অন্য কোনও রোগী যেতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যেসব ব্যাংক আছে সেগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচয়পত্র দেখানোর সাপেক্ষে প্রবেশ করেত পারছেন।’


প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে। চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

 

আরও পড়ুন:
প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া শঙ্কিত সবাই

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট
ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

০৯:৫৫, মার্চ ১১, ২০১৯

‘নীল নকশার নির্বাচন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (ভিডিও)

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

নুরুল হক নূরকোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী নুরুল হক নূর বলেছেন, ‘ব্যালট পেপারে রাতেই ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। আমরা বারবার বলেছিলাম যেখানে জাতীয় নির্বাচন একটি কলঙ্কময় নির্বাচন হয়েছে, ভোট ডাকাতি হয়েছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার বাইরে যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই নীল নকশার নির্বাচন বাস্তবায়ন করেছে।’

তিনি আরও বলেন,  ‘আমরা স্যার এফ রহমান হলে গেছি সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি,  প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। শহীদুল্লাহ হলে গেছি সেখানে একই রকম ঘটনা ঘটেছে। ভোটের লাইন দাঁড়িয়ে আছেন ভোটাররা, সেখানে ছাত্র লীগের নেতাকর্মীরা শো-ডাউন দিচ্ছে। আমি এখনও ভোট দিতে পারিনি।’ 

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। রাতে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে এখন পর্যন্ত কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরুই হয়নি।

ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ প্রার্থী। এছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে আট জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

আরও পড়ুন:

সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, কুয়েত মৈত্রী হলে ভোট স্থগিত

 এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট

ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন
ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

০৯:৪০, মার্চ ১১, ২০১৯

কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

কুয়েত-মৈত্রী হলে জাল ব্যালট ধরা হয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আগের রাতেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী আবাসিক হলে ছাত্রলীগ প্রার্থীদের নামের পাশে ব্যালটে সিল মেরে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১১ মার্চ) সকালে শিক্ষার্থীরা সে সব ব্যালট উদ্ধার করে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন। তারা হল গেটে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান।

চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে আমরা ভোটগ্রণ স্থগিত করেছি। এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।’

কুয়েত-মৈত্রী হলে ধরা পড়া জাল ব্যালট

প্রার্থী ও ভোটাররা জানান, হলের অডিটোরিয়ামে একটি কক্ষ আগে থেকেই বন্ধ ছিল। সকালে সেই কক্ষ থেকে প্রার্থী ও ভোটাররা এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করেন। তাতে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামের পাশে সিল মারা ছিল। পরে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট বন্ধ করে দেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত প্রতীকে সিল দিয়ে ভোট দিতে হয়। তবে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন (x) দিয়ে ভোট দিতে হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ঢাবির উন্নয়ন ও অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নওশিন খান বলেন, ‘ভোট গ্রহণ শুরুর আগে থেকেই হলের অডিটোরিয়ামের ভেতরে একটি কক্ষ বন্ধ অবস্থায় ছিল। ভোট নেওয়ার আগে প্রতিটি হলে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হচ্ছিল। তবে আমাদের হলের প্রভোস্ট তা দেখাননি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ভোট গ্রহণে বাধা দেন। পরে প্রো-ভিসি মুহম্মদ সামাদ ও প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভোস্টসহ অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরাও এসময় সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে। এসময় অডিটোরিয়াম থেকে একটি ব্যালট বাক্স পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবার ব্যালট বাক্সটি ভেতরে আনা হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে ভেতরের তালাবন্ধ কক্ষ থেকে এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করেন। ব্যালটে হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নামের পাশে ভোট (ক্রস চিহ্ন ) দেওয়া ছিল।’ 

এদিকে শিক্ষার্থীরা ভোট আটকে দিলে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মো. সামাদ ও প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। তারা সেখানে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ঘটনার জন্য প্রভোস্টকে দায়ী করেন ও তার পদত্যাগের দাবি তুলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন হল প্রভোস্ট শবনম জাহানকে বাদ দিয়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিনকে নতুন দায়িত্ব দেন। 

জাল ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা

স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, ‘ব্যালটে আগে থেকেই ভোট দেওয়া ছিল। এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য কাম্য নয়। এ ঘটনায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে। অন্য হলগুলোতে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় তার জোর দাবি জানাই।’

ছাত্র ফেডারেশনের জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই এমন আশঙ্কা করছিলাম। সেই আশঙ্কা থেকেই সকালে হলগুলোতে ব্যালট ও বাক্স পাঠানোর দাবি করেছিলাম। তবে প্রশাসন আমাদের কথা রাখেনি। তারা আগের রাতেই ব্যালট ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়ে ভোট কারচুপির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

তবে ব্যালট পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। আমি মাত্র আমার হল থেকে বেরিয়ে ভোট দিয়েছি। এখন অন্য হলগুলোতে যাবো। আমি এখনো বিষয়টি জানি না। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন, এখানে আমাদের শিক্ষকরা আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আছেন। বিষয়গুলো প্রশাসন খতিয়ে দেখবে।’

ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ডাকসু নির্বাচনের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, যে বা যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ছাত্রলীগ কখনো এমন কাজ সমর্থন করে না।’

০৯:২৩, মার্চ ১১, ২০১৯

ব্যালট স্লিপের সঙ্গে ফুল দিচ্ছেন রাব্বানীর সমর্থকরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

রাব্বানীর সমর্থকরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী গোলাম রাব্বানীর পক্ষে তার সমর্থকরা ভোটারদের ব্যালট স্লিপের সঙ্গে গোলাপ ফুল দিচ্ছেন। রোকেয়া হলের ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ফুল দেওয়া হচ্ছে। যদিও ব্যালট স্লিপ ছাড়া ভোটারদের অন্য কিছু দেওয়া নির্বাচনি বিধি বহির্ভূত।

তবে এ বিষয়ে কেউই কোনও কমেন্ট করতে রাজি হয়নি।

ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

আরও পড়ুন:

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু

   
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট

ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন
ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

 

০৯:১০, মার্চ ১১, ২০১৯

এক ঘণ্টা দেরিতে রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ শুরু

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

রোকেয়া হলের ছাত্রীদের লাইনসোমবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন শুরু হলেও রোকেয়া হলে এক ঘণ্টা দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সালমা আক্তার বলেন, ‘কিছু জটিলতার কারেণ নির্ধারিত সময়ে ভোট শুরু হয়নি।’ তবে কী ধরনের জটিলতা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

রোকেয়া হলে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে টিভি রুমে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। হল গেট থেকে বলা হচ্ছে এখন ভেতরে যাওয়া যাবে না। ভোট দেরিতে শুরু হওয়ায় ত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুল হক অনিক বলেন, ‘কী কারণে ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয়েছে আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা প্রভোস্ট ম্যাডামকে বলার পর ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। দেরি করার যৌক্তির কারণ দেখি না। ব্যালট ব্যাক্স আমাদের সামনে খুলে সিলগালা করা হলেও কোনও বাক্সেই নম্বর নেই। ফলে এ নিয়ে আমরা শঙ্কায় রয়েছি।’

রোকেয়া হল সংসদের ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী ইসরাত জাহান তন্বী বলেন, ‘আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যলালয় প্রশাসন ৮টার আগে ব্যালট বাক্স খুলে দেখিয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য দল ও প্যানেলের যারা ছিল তার বিরোধিতা করায় ভোটগ্রহণ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

আরও পড়ুন:

   
প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট

ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন
ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু 

০৯:০৮, মার্চ ১১, ২০১৯

প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে: ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন প্রার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। গেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোটা প্রশাসনের হওয়ার কথা থাকলেও আমরা দেখছি পুরো নির্বাচনের পরিবেশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে।

সোমবার (১১ মার্চ) সকালে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এফ রহমান হলে গিয়েছিলাম, এখন মহসিন হলে আসছি। একই ধরনের পরিস্থিতি। ভোট কেন্দ্রে কৃত্রিম একটি লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে। লাইনে যারা দাঁড়িয়েছেন তারা অন্য ভোটারদের লাইনে প্রবেম করতে দিচ্ছেন না।’

তবে ছাত্রদলের অভিযোগকে গুজব বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তিনি বলেন, ‘এখানে সবাই আছেন। লাইনে সবাই দাঁড়াতে পারবেন। লাইনে যারা দাঁড়াবে তারাই ভোটের সিরিয়ালে যাবে। যারা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল, যাদের ভোটার নাই, তাদের এসব অভিযোগ বাংলাদেশে সারাজীবন গুজব বলেই চলে আসছে।’

হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ভোটার ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

উল্লেখ্য, এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়বেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

০৮:৫৪, মার্চ ১১, ২০১৯

ডাকসু প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

 



ডাকসু নির্বাচনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

এদিকে ভোট দেওয়ার জন্য সকাল ৮টার আগে থেকেই লাইনে এসে দাঁড়ান সাধারণ ভোটাররা।

নির্বাচনে ছাত্রলীগের ভিপি ভোট দেবেন হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলে। এছাড়া জিএস গোলাম রাব্বানী ভোট দিবেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। এজিএস সাদ্দাম হোসেন নিজ ভোট দিবেন স্যার এ এফ রহমান হলে।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর ভোট দিবেন হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলে। এছাড়া জিএস রাশেদ খান সূর্যসেন হলে ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভোট দেবেন সূর্যসেন হলে আর জিএস আনিসুর রহমান খন্দকার জহুরুল হক হলে ভোট দেবেন।

০৮:২৯, মার্চ ১১, ২০১৯

প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪ মিনিট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে চার মিনিট সোমবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জহুরুল হক হলে প্রথম ভোট দিতে সময় লেগেছে ৪.১৫ মিনিট।

নির্বাচনে একেক জন ভোটারকে দিতে হবে ৩৮টি ভোট। এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দু’টি ব্যালট পেপার। ডাকসুর কেন্দ্রীয় ২৫টি এবং হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে জহুরুল হকে হলের প্রভোস্ট ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোট শুরুর পর আমরা আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমাদের হলে দুই হাজার ৩০০ ভোটার রয়েছে। তাদের সিরিয়ালগুলো মেইনটেইন করার জন্য সাতটি টেবিলে কাজ করা হচ্ছে। হলে বুথ রয়েছে ২৪টি। ৩৮টি পদে ভোট দিতে একজন ভোটারের অন্তত ৪-৫ মিনিট সময় লাগছে। সকাল ৮ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও যদিও কোনও ভোটার কেন্দ্রে থেকে যায় তাহলে ২টার পরও তাদের ভোটগ্রহণ করা হবে। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ভোট নেওয়া সম্ভব হবে।’

এদিকে, ভোট শুরুর আগে মহসীন ও জহুরুল হক হলে সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে খালি ব্যালট  বাক্স খুলে দেখানা হয়। এরপর সবার উপস্থিতিতে তা সিলগালা করা হয়।

জহুরুল হক হলের ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, হলের প্রধান ভবনের বাইরে ভোটারদের তিনটা সারি রয়েছে। প্রধান ভবনের প্রবেশের পর কলাপসিবল গেট পার হওয়ার পর বাম পাশে টিভি ও গেস্ট রুম। টিভি রুমেই ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও কলাপসিবল গেটের মাঝখানে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা ও স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থী অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া অন্য কোনও ছাত্র সংগঠনেরন কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন
ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু

 

০৮:০২, মার্চ ১১, ২০১৯

ডাকসুর ভোটগ্রহণ চলছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ভোটগ্রহণ শুরুঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে একেক জন ভোটারকে দিতে হবে ৩৮টি ভোট। এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দু’টি ব্যালট পেপার। ডাকসুর কেন্দ্রীয় ২৫টি এবং হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

ডাকসু নির্বাচনে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) ফর্মে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনি কর্মকর্তা অধ্যাপক আব্দুল বাছির। প্রতিটি পদের জন্য আলাদাভাবে ব্যালট নম্বর ও প্রার্থীর নাম ওএমআর ফর্মে থাকবে। ভোটার নিজের আইডি কার্ড দেখিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে প্রার্থীর নামের ডানপাশে নির্ধারিত ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বুথ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অধ্যাপক আব্দুল বাছির আরও জানিয়েছেন, অস্বচ্ছ, স্টিলের তৈরি ও তালাবদ্ধ বক্সে ভোট নেওয়া হবে। প্রতিটি বুথে একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল রয়েছে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য। বাঁশের তৈরি এই বুথগুলো কাপড় দিয়ে ঢাকা আছে। অতীতে সবুজ রঙের অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হলেও এবারের নির্বাচনে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাই রঙের স্টিলের ব্যালট বাক্স।

এই ব্যালট বাক্স ব্যবহারের বিষয়ে ডাকসু নির্বাচনের কর্মকর্তা আবদুল বাছির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওএমআর ব্যালট পেপার ভাঁজ করা যাবে না। তাই আমাদের বড় ব্যালট বাক্স প্রয়োজন ছিল।

ভোটগ্রহণ শুরুগত ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসুর নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। ওই সময় তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে। ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া, ২ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মার্চের ৩ তারিখ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১১ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয় ৩ মার্চ। এরপর আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামেন। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ করার নিয়ম ছিল। সে অনুযায়ী ১০ মার্চ সকাল ৮টায় প্রচারণা শেষ হয়।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৯২৩ জন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়বেন ২২৯ জন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন। এ ছাড়া, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ প্রার্থী।

০৭:৫১, মার্চ ১১, ২০১৯

ডাকসু নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই লাইন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

ভোট শুরুর আগেই লাইনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। সবার গলায় ছাত্রলীগের প্রার্থীর কার্ড। ভোটারদের লাইন রাস্তার ওপরে চলে আসলে প্রক্টর গোলাম রব্বানী সবাইকে সরে এক পাশে যেতে বলেন।

এসময় স্যার এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট কে এম সাইফুল ইসলাম খান সব প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান ব্যালট বাক্স দেখাতে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা ঠিক ৮ টায় ভোটগ্রহণ শুরু করবো। তাই সব প্রার্থীর প্রতিনিধির সামনেই ব্যালট দেখিয়ে সিলগালা করবো।'

এ সময় লাইনে দাঁড়ানো হলের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘নৈতিক দায়িত্ব থেকে সকাল সকাল লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি।’  তবে একই হলের ছাত্র ইউনিয়নের এজিএস প্রার্থী মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে ভোট দেওয়ার জায়গা দেখছি না  লাইনের সবাইকে রোবট মনে হচ্ছে। যেন আরেকজন চালাচ্ছে এরকম মনে হয়।’

উল্লেখ্য, ২৮ বছর পর আজ ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়বেন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন।

২৩:০১, মার্চ ১০, ২০১৯

সব চোখ এখন ডাকসুতে

উদিসা ইসলাম

ডাকসু নির্বাচন





টানা ২৮ বছর পর দেশের 'দ্বিতীয় পার্লামেন্ট' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সোমবার। এইদিনটি নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী। কেবল শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক সমাজ, সাবেক শিক্ষার্থী, নেতাকর্মীদের এখন চোখ ডাকসুর দিকে। সকলের দাবি, এতদিনের লড়াই সংগ্রামের ফসল যে ডাকসু নির্বাচন সেটি যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

গত ২৮ বছর ৫ মাস ধরে ডাকসুর কোনও কার্যক্রম নেই। স্বাধীন দেশে গত ৪৭ বছরে এ নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাতবার। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এর দীর্ঘ আট বছর পর ১৯৯৮ সালে ডাকসুর কমিটি ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২৮ বছরেও সেই নির্বাচন আর হয়নি।

ডাকসু ভবিষ্যতের জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির কারখানা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ। ৬৯-এর অগ্নিঝরা দিনে ডাকসুর নেতৃত্বে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব। স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকসুর ভিপি হন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান। এছাড়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সুলতান-মুশতাক পরিষদ ও আমান-খোকন পরিষদের ভূমিকা সর্বজনবিদিত।

এবার ডাকসুর ২৫টি পদে ১২টি প্যানেল থেকে ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ২১ জন এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) প্রার্থী ১৪ জন। এর সঙ্গে ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে মোট ২৩৪টি পদে প্রার্থী ৫০৯ জন।

ডাকসুতে আগামীকাল ভোট। আজ দিনভর নেওয়া হয় প্রস্তুতি।

২০ ফেব্রুয়ারি ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। আর ৫ মার্চ প্রকাশ করা হয় সম্পূরক ভোটার তালিকা। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩টি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর হতে চলা এই নির্বাচনে সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের একটানা ভোট গ্রহণ হবে। ১৮টি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে শিক্ষকরা বলেন, আমরা অঙ্গীকার করছি যে,  নির্বাচনের দিনে স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক দল হিসেবে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবো এবং আমাদের অভিজ্ঞতা জাতির  সঙ্গে শেয়ার করবো। এ সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্র ডাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার (চিফ রিটার্নিং  অফিসার) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই  নির্বাচনটি ঠিকঠাক মতো অনুষ্ঠিত হলে  অন্যান্য  বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, ডাকসু না থাকাতেই ছাত্র রাজনীতিতে অছাত্ররাও ঢুকে পড়েছে। এই পরিস্থিতির অবসান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির দিতে তাকিয়ে থেকেছে। যদিও এটি বার্ষিক হিসেবে দেখা উচিত। এ জন্যে সরকারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

ডাকসু নির্বাচনের মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয় প্রতিটি হলের কেন্দ্রে

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি নির্বাচনকে জাতীয়ভাবে বিকৃত ব্যবস্থা হিসেবে চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আইয়ুব খান পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল করতে পারেনি। এবারেও একধরনের চেষ্টা আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি অতীতের ইতিহাস ঐতিহ্য জারি রেখে ঢাবি শিক্ষার্থীরা সেই অপচেষ্টা প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, কেবল এবারই না, বছর বছরে ভোট হতে হবে। এটা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ না, কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ। ভোটের তারিখ একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত থাকতে হবে। এটি কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় কলেজেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দিন আহমেদ এখনকার শিক্ষার্থীদের চোখে ডাকসুকে দেখতে চান উল্লেখ করে বলেন, পরিবেশ বদলে গেছে। এখন তোমাদের চোখ দিয়ে দেখছি। এখন যা ঘটছে ২৮ বছর আগে কেউ এসব চিন্তা করতো না। তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে দেখছি, যারা ক্ষমতায় থাকে তারা হল দখল করে নেয়। অন্য দলগুলো হলে ঢুকতেই পারে না, হলের বাইরে থাকে। এ পরিস্থিতিতে আমরা ভালো কিছু আশা করি, কী আর করবো। অতীতের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিয়ন ব্যবস্থা জন্মের পরের বছরই শুরু হয়েছিল। সেসময় ছোট্ট লিফলেটে কার রেজাল্ট কেমন সেটাসহ পরিচয় লেখা থাকতো, আমতলার মিটিংয়ে কীভাবে কে কী বলে সেটাই ক্যানভাস এর ধরন। হলে হলে দৌড়াতে হতো না। যারা ক্ষমতায় আছে আর যারা যেতে চায় সবার আচরণ এক হয়ে গেছে।

ডাকসু’র দাবি প্রাণ পায় আদালতে

উচ্চ আদালতে করা দুটি রিট আবেদনের কারণে দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের জট খুলেছে। ২০১২ সালের ২১ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন ঢাবির ২৫ শিক্ষার্থী। একই বছরের ৮ এপ্রিল এই রিটে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর গত বছরের ১৭ জানুয়ারি রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপরেও নির্বাচন সম্পন্ন না করায় ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বরে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। সেসময় ছয় মাসের মধ্যে অর্থাৎ ১৫ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে হাইকোর্টকে চিঠি দিয়ে আবেদন দাখিল করলে আদালত অবমাননার আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরও ১ অক্টোবর ঢাবি কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ওই দিনই চেম্বার আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরপর ৬ জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে থাকা স্থগিতাদেশ আপিল বিভাগ প্রত্যাহার করে নিলে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে, ১৫ মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

 

টপ