মহাকাশে যাচ্ছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ন্যানো-স্যাটেলাইট!

Send
শেখ নোমান পারভেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৫৩, জুন ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৫, জুন ১৭, ২০১৬

ব্র্যাক

 

 ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্জনের খাতায় নতুন করে যোগ হতে যাচ্ছে ন্যানো-স্যাটেলাইট। সম্ভাবনার এই মাইলফলক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাংলাদেশের অর্জন হতে যাচ্ছে। প্রথমবার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দ্বারা মহাকাশ স্টেশনে উড়তে যাচ্ছে নিজেদের ন্যানো-স্যাটেলাইট “অন্বেষা ৩বি”,  উন্মোচন হচ্ছে আরেক সম্ভাবনার দুয়ার।

প্রচলিত বেশি খরচের স্যাটেলাইটের  তুলনায় ন্যানো স্যাটেলাইট আকার ছোট হয় এবং ওজন এক থেকে দশ কেজির মধ্যে হয় যা  কমপক্ষে পৃথিবীর কক্ষপথে ৫০০ থেকে ১৫০০ কিঃমি  বিষুবরেখা বরাবর স্থাপন করা যেতে পারে।  আরও ব্যয়বহুল হলে ন্যানো স্যাটেলাইট ভূ-সমলয় পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ৩৬০০০ কিঃমি দূরে স্থাপন করা সম্ভব।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির তিন শিক্ষার্থী কাফি, মাইসুন ও অন্তরা চোখে লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তারা জাপানে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন আগে থেকেই। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি স্যাটেলাইট তৈরি এবং তা উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে তারা যেই পরিশ্রম করে আসছিলেন তার সফলতা বয়ে নিয়ে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় আগামী ২০১৭ সালের মে মাসে তাদের তৈরি স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার এক ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে দেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পের চুক্তি জাপানের কিউসু ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (কেআইটি) এবং বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কনফারেন্সে উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ সাদ আন্দালিব এবং কেআইটির প্রফেসর মেংগু চো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

ন্যানো স্যাটেলাইট “অন্বেষা ৩বি” উৎক্ষেপণ করা হবে বার্ডস নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে। এজন্য এর নাম দেয়া হয়েছে অন্বেষা ৩বি (৩বি-বাংলাদেশ, ব্র্যাক ও বার্ডস প্রজেক্ট)। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জিডিএলএন সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্সের চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্রের (স্পারসো)সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আবদুল্লাহ জিয়াউদ্দিন আহমাদ বলেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও প্রযুক্তিগত ভাবে অগ্রগতি।জাপানের কিউসু ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (কেআইটি)ল্যাবরেটরি অব স্পেসক্র্যাফট এনভায়রনমেন্ট ইন্টের্যাবকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক সহকারি অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান খান বলেন “ন্যানো স্যাটেলাইটে বাংলাদেশও হবে একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম এবং বয়ে নিয়ে আসবে প্রযুক্তি গত সফলতা। এর সুবিধাভোগী পুরো বাংলাদেশের মানুষ। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য থেকে আরো জানা যায় যে, এর মাধ্যমে আবহাওয়া তথ্য , বনায়ন,বন্যা , নগরায়ন , সমুদ্র এলাকা ইত্যাদির হাই রেজুলেশনের ছবি ও তথ্য পাওয়া সম্ভব। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভিন্ন রিসার্চের কাজে এটি ব্যাবহার করতে পারবেন। তাছাড়া দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহার ব্যাপক অগ্রগতি বয়ে আনবে। একই সভায় “অন্বেষা ৩বি (৩বি-বাংলাদেশ, ব্র্যাক ও বার্ডস প্রজেক্ট)” এর বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান।

/এফএএন/

লাইভ

টপ