'আমরা সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতামুক্ত সমাজে বিশ্বাসী'

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪০, জুন ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৬, জুন ১৫, ২০১৯

বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতামুক্ত সমাজে বিশ্বাস করে। তাই বেশি করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজনে আমাদের সরকার উৎসাহ দিয়ে থাকে। শনিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত চার দিনব্যাপী নদী ও ধর্ম নিয়ে ৮ম সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ইস্ট এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়নের (এসএসইএএসআর) আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বেশি করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়ে থাকে। আমাদের মুক্তচর্চা করার স্বাধীনতা আছে। কারণ আমরা একটি সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতামুক্ত সমাজে বিশ্বাস করি। আমরা সেই আলোকেই আমাদের দেশ এবং সমাজ গড়তে চাই। আমি ইউল্যাবকে আহ্বান জানাই এ ধরনের সম্মেলন আরও বেশি করে আয়োজন করতে। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের সম্মেলন থেকে ইউল্যাব এবং এর শিক্ষার্থীরা অনেক লাভবান হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ ও গবেষণার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও প্রস্তাবনা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান,  পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কিছু অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। যদি আমরা প্রস্তাবনা পাই, আমরা যাচাই করে দেখি। সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিত্তিক গবেষণায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সবসময় স্বাগত জানায়। আমি ইউল্যাবের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাই, আপনারা প্রস্তাবনা নিয়ে আসুন। আশা করি আমরা বিবেচনা করে অর্থ বরাদ্দ দিতে পারবো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাষ্ট্রদূত (ভারপ্রাপ্ত) ক্যানবার হোসেন বার, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির অধ্যাপক আই জে হ্যাকেট। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য প্রফেসর সামসাদ মর্তূজা। সম্মেলন সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এবং বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ উপদেষ্টা প্রফেসর ইমরান রহমান। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য আমেনা আহমেদ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক।

আয়োজকরা জানায়, সম্মেলনে আগত বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এছাড়া অতিথিরা ঢাকার প্রাচীন নিদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাও পরিদর্শন করেন। এবারের সম্মেলনের বিষয়বস্তু ‘নদী ও ধর্ম: দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক’ যেটা আবহমান বাংলার সঙ্গে জড়িত। চারদিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৩০টি দেশ থেকে ১৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ ১৫টি শিরোনামের অধীনে ৩৭টি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে উপস্থাপিত হবে।

এই সম্মেলনে বই মেলা, লোকশিল্প মেলা এবং ইউল্যাবের শিক্ষার্থীদের ‘বাংলাদেশের নদী’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ও ‘গ্রুপ টেম্পল অব পুঠিয়া’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনটি শেষ হবে ১৬ জুন।  চার দিনব্যাপি এই সম্মেলনের অনলাইন মিডিয়া পার্টনার ছিল বাংলা ট্রিবিউন।

উল্লেখ্য, সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ইস্ট এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়ন (এসএসইএএসআর) বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও সম্প্রীতির জন্য একটি অ্যাকাডেমিক সংস্থা। এটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়ন (আইএএইচআর) এর আঞ্চলিক সংস্থা যা ইউনেস্কো’র অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত আছে হাভার্ড, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, ইয়েল, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৮৫টি দেশের ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সংস্থাটি দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় প্রতি ২ বছর পর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে থাকে।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

               

/এসও/এফএএন/

লাইভ

টপ