এনসেফালাইটিস ভাইরাসে জবি শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যু

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৪, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৭, আগস্ট ১৮, ২০১৯

এনসেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার রাজধানীর সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। জবি প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রসায়ন বিভাগের ১৪তম আবর্তনের (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন সিরাজুল। তার গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলায়। মেধাবী শিক্ষার্থী সিরাজুল ২০১৬ সালে কেমিস্ট্রি অলেম্পিয়াডে আঞ্চলিক পর্যায় বিজয়ী হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 সিটি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভ জানান, ভাইরাল এনসেফালাইটিস নামক মস্তিষ্ক সংক্রামণজনিত রোগে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাস মূলত ভাইরাস থেকে মস্তিষ্কে সংক্রামণ ঘটায়। পেশেন্টের পরিবার থেকে বলা হয় দুইদিন আগে থেকে জ্বর হচ্ছে। কিন্তু রোগী জানিয়েছে, আগেও তার জ্বর আসলেও সে গুরুত্ব দেয়নি। ১৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আমরা তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নিই। তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে, রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ সামান্য কম থাকলেও সকল রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে।

 সিরাজুলের সহপাঠী ও প্রতিবেশী মাহমুদ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তার মাঝেমাঝে জ্বর হতো। সর্বশেষ ঈদের ছুটিতে পাবনায় গ্রামেরবাড়িতে গেলে ঈদের দিন বিকালে জ্বর নিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে ২দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী অথবা ঢাকায় নিতে বললে তাকে ঢাকা সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে সিটি হাসাপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মাহমুদ আরও জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা ডেঙ্গু সন্দেহ করেছিল। কিন্তু ৩বার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলেও ডেঙ্গু ধরা পরেনি।

সিরাজুলের আরেক সহপাঠী ও রসায়ন বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জামশেদ অদদআলি দিপু বলেন, ওর অসুস্থতার বিষয়ে আগে কিছু জানতাম না। ঈদের ২-৩ দিন পর মোবাইলে কথা হয়। তখন বলে ওর কিডনিতে পানি জমেছে তাই ঢাকায় চিকিৎসা করাতে আসছে।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক অমিনুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি খবর পেয়ে বিকালে সিটি হাসপাতালে যাই। তখন ওকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। আমি যাওয়ার কিছুসময় পরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, সিরাজুলের মৃতদেহ নিয়ে সন্ধ্যার দিকেই পরিবারের সদস্যরা পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। আমাদের একজন শিক্ষক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

/এফএএন/

লাইভ

টপ