কুবিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা

Send
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:০০, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০২, আগস্ট ২৬, ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে স্থাপন করা দ্রুত গতির ইন্টারনেট (ওয়াইফাই) এর মান নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর প্রজেক্টের অর্থায়নে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) কুবি ক্যাম্পাসকে ওয়াইফাই এর আওতায় আনার কাজ কাগজে-কলমে শেষ করলেও সেই নেটওয়ার্কের স্পিড এবং মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা।
প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবনসমূহ, শিক্ষকদের দুইটি ডরমেটরি, হলসমূহ এবং ক্যাফেটেরিয়াকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়। কিন্তু এই ওয়াইফাই এর মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা অভিযোগ।
ওয়াইফাই এর স্পিড প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থী রায়হান আবীর বলেন, ‘হলে যে ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়া হয়েছে তার স্পিড খুবই কম। শুধুমাত্র বারান্দায় আসলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। রুমে ঢোকার পর আর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।’
শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকদের মধ্যেও রয়েছে ওয়াইফাই নিয়ে অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষকদের আবাসিক ডরমেটরিতে ইন্টারনেট সংযোগ খুবই দুর্বল। স্পিড না থাকার পাশাপশি প্রায়ই নেটওয়ার্ক যাওয়া আসা করতে থাকে।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির এই প্রকল্প পাস হয়। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। কাগজে-কলমে কাজ শেষ হলেও এখনো পর্যন্ত ওয়াইফাই চালু হয়নি পুরোপুরি, চলছে পরীক্ষামূলকভাবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি উপদেষ্টা ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান বলেন, ‘দাপ্তরিকভাবে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের নেটওয়ার্ক বসানোর কাজ শেষ। তবে এখনও কিছু জায়গায় উন্নয়ন বাকি। নেটওয়ার্ক শুধু বসালেই চলে না এর সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে বিতরণ করতে হয়। তাই প্রকল্পটি এখনও পুরোপুরি চালু করিনি। পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে যে যে জায়গায় উন্নয়ন প্রয়োজন সেগুলো ঠিক করা হচ্ছে।’

ওয়াইফাই এর স্পিড নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের কর্মকর্তা সাইদুর রশীদ সাদী বলেন, ‘এই প্রকল্পে পুরো ক্যাম্পাসে ৪০০ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু হলগুলোতেই প্রায় হাজারের উপর শিক্ষার্থীরা থাকেন, ক্যাম্পাসে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ছয় হাজার। তারপর শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন সবার মধ্যে যখন এই ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্পিড কমে আসে। এক রাউটারে যুক্ত হয়ে কেউ যখন ডাউনলোড করে দেখা যায় তখন তার ডিভাইস একাই অনেক ব্যান্ডউইথ টেনে নেয় ফলে ঐ রাউটারে যুক্ত অন্যরা স্পিড পান না।’
পাশাপাশি এই কর্মকর্তা পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘সবাইকে সচেতন হতে হবে। কেউ যদি ইউটিউব থেকে বা অন্য ভিডিও ডাউনলোড সাইট থেকে ডাউনলোডে বেশি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার না করে বরং ওয়াইফাই পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করে, তবে ঐ রাউটারে যুক্ত অন্য সবাই আরেকটু ভাল স্পিড পাবে।’
তবে ২০১৫ সালে হাতে নেওয়া প্রজেক্ট কেন ২০১৮ সালে শুরু হলো এবং এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি চালু করা যায়নি এমন প্রশ্নের জবাবে আইটি উপদেষ্টা মাহমুদুল হাছান বলেন, ‘দেরির জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয় একা দায়ী নয়। দেরি সংশ্লিষ্ট সব পর্যায় থেকেই হয়েছে। ইউজিসি থেকে শুরু করে দাপ্তরিক সকল জায়গাতেই দেরি হয়েছে।’  তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটির সব ডিজাইন ২০১৫ সালে করা কিন্তু ২০১৮ সালে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভবনেই পরিবর্তন এসেছে। আয়তন বেড়েছে। কিন্তু ইউজিসির অনুমোদন একই রয়ে গেছে। ফলে চাইলেও বেশি রাউটার বা অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা উপাচার্য স্যারের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এই খাতে আরও কিছু উন্নায়ন করার প্রস্তাব দেওয়ার ব্যাপারে ভাবছি।’
কবে নাগাদ ওয়াইফাই পুরোপুরিভাবে চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা এখনও পর্যবেক্ষণ করছি। ইন্টারনেট সব জায়গায় একইভাবে স্থিতিশীল হলে পুরোপুরি চালু করা যাবে।’

/এনএ/

লাইভ

টপ