কুবিতে পাহাড় কেটে চলছে ভবন নির্মাণ ও মাটি ভরাট

Send
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৩৭, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৯, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) খ্যাতি রয়েছে লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাস হিসেবে। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নির্মাণকাজ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড় কেটে নিচু স্থান ভরাটের কাজ চলছে।পাশাপাশি এক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রও। 

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের কিছু অংশ মেশিনের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়েছে। তারপর সেই মাটি ট্রাক দিয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়কদ্বীপ ও নির্মাণাধীন ডরমেটরির নিচু স্থান ভরাট করা হচ্ছে।  স্থানীয়রা দাবি করছেন, এতে করে যেকোনও সময় পাহাড়টির বাকি অংশ ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনের ২০১০ এর ৬ এর খ’ ধারা অনুযায়ী পাহাড় বা টিলা কাটার জন্য ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও পাহাড়টি কাটার ক্ষেত্রে সেটি মানা হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের কুমিল্লা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটেছে। আমাদের দফতর থেকে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ছাড়া পাহাড় কর্তনের ব্যাপারে কোনও অনুমতি দেওয়া হয় না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা গিয়ে তদন্ত করব, পাহাড়টি কীভাবে কাটা হয়েছে। 

পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান বলেন,পাহাড়টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল লাগোয়া হওয়ায় এটি ধ্বসে পড়লে হলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হলের স্যানিটারি ব্যবস্থা ও ড্রেইন নির্মাণের জন্য পাহাড়টির কিছু অংশ  কাটা হচ্ছে। তবে পাহাড়টি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, বঙ্গবন্ধু হলের সঙ্গে পাহাড়টি হওয়ার কারণে হলের তৃতীয় তলা পর্যন্ত ঢেকে থাকে। যার ফলে হলটিতে সঠিকভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করবে না। এছাড়া পাহাড়টি যেকোনো সময়ে হলের ওপরে ধসে পড়তে পারে। এ জন্য পাহাড়টিকে কিছুটা কাটা হচ্ছে। তবে পাহাড়টি পুরোপুরি কাটা হবে না, এটি গার্ড ওয়াল দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি এবং পাহাড়টি সংরক্ষণ করে পরিবেশসম্মতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা প্রদান করেছি।

 

/এফএএন/

লাইভ

টপ