সমাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তায় জবির নাট্যকলা-চারুকলার শিক্ষার্থীরা

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০৭, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৯, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়আগামী বছর জানুয়ারিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রথম সমাবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও সমাবর্তনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
চলতি বছর ১৬ মে প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণে আবেদনের সময় শেষ হলেও স্নাতক শেষ না হওয়ায় আবেদন করতে পারেনি নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের কোনও শিক্ষার্থী। তাই নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন না করায় সমাবর্তনের সুযোগ পাবে না দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিভাগ দুটির বিভাগীয় প্রধানরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় সমাবর্তনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন।
সমাবর্তনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার জন্য মূলত সেশনজটকেই কারণ হিসেবে দুষছেন দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য বিভাগে তাদের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর সমাবর্তনে অংশ নিতে পারলেও তারা পারছেন না, এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১৬ মে পর্যন্ত যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর যে কোনও একটির সার্টিফিকেট বা ফলাফল পেয়েছেন, ১ম সমাবর্তনের জন্য তারা রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে ৯ম ব্যাচ (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) পর্যন্ত মোট ১৩ ব্যাচের (তৎকালীন কলেজের ৪ ব্যাচসহ) শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু অন্যান্য বিভাগের ৯ম ব্যাচের (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন পেলেও সুযোগবঞ্চিত হতে হচ্ছে নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের ৯ম (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। 
নাট্যকলা বিভাগের ১ম ব্যাচের (বিশ্ববিদ্যালয় ৯ম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা প্রায় ২ বছর পিছিয়ে স্নাতক ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ করেছেন চলতি মাসেই । শিক্ষার্থীরা জানান, এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছয় মাস মেয়াদী সব সেমিস্টার শেষ করতে আট মাস সময় লাগে। এছাড়া বিভাগটিতে ক্লাসরুম সংকটের কারণে এক ব্যাচের পরীক্ষা হলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এজন্যও বিভাগটির শিক্ষার্থীদের সেশনজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামালউদ্দিন খান বলেন,  ‘অনার্সের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন, আমি তেমনটাই আশ্বাস পেয়েছি প্রশাসন থেকে।’
সেশনজটের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রায় ২ বছর মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে বিভাগটি পরিচালিত হয়েছে। ফলে অনেকগুলো পরীক্ষা, পরীক্ষার রেজাল্ট সময় মতো শেষ হয়নি। এর আগের বিভাগীয় প্রধান, যিনি সাময়িক বহিস্কৃত তার সময়ে সেশনজটগুল সৃষ্টি হয়।’
চারুকলা বিভাগের ১ম ব্যাচের ( বিশ্ববিদ্যালয় ৯ম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা প্রায় ২ বছর পিছিয়ে স্নাতক ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা দিচ্ছেন এখন। সেশনজটের কারণ হিসেবে শিক্ষকদের অনিহা, অনুপযোগী সিলেবাস ও ক্লাসরুম সংকটের কথাই বলছেন শিক্ষার্থীরা।
চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আলপ্তগীন বলেন, ‘চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগ আমরা একসাথে আবেদন করেছি। বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনের সুযোগ পাবে বলে কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে।’
সেশনজটের কারণ হিসেবে তিনি বলেন,’ আমরা যে সিলেবাস করেছিলাম সেটা আন্তর্জাতিকমানের, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছোট হওয়া ও ক্লাসরুম সংকটের কারণে সিলেবাস শেষ করতে আমাদের দেরি হয়েছে।’
নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের সমাবর্তনের সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে রেজিস্টার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘সমাবর্তনের জন্য এখন আর রেজিস্ট্রেশনের কোনও সুযোগ নেই।’ বিভাগীয় প্রধানদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনও তেমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রসঙ্গত, কয়েক দফা পেছানোর পর জবির প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান আগামী বছর ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তন বক্তব্য দিবেন বিশিষ্ট পদার্থ বিজ্ঞানী ড. অরুণ কুমার বসাক। পুরান ঢাকার ধূপখোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠকে সমাবর্তন ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

/এনএ/

লাইভ

টপ