বর্ণাঢ্য আয়োজনে জবি দিবস পালিত

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:০১, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৩, অক্টোবর ২০, ২০১৯

‘উন্নয়নের জন্য সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন’ স্লোগান সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চতুর্দশ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বিভিন্ন কর্মসূচিতে পালিত হয়েছে।

রবিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রকাশনা উৎসব।

সকাল ৯টায় শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

এরপর উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস, বাহাদুর শাহ পার্ক, বাংলাবাজার ওভারব্রিজ প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেটে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে দ্বিতীয় বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০১৯ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ও অন্যান্য শিল্পকর্ম স্থান পায়।

সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সবার সার্বিক সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রতিষ্ঠিত। অ্যাকাডেমিকভাবে সেশনজটমুক্ত, কারিকুলামে আধুনিকায়ন ও মেধাবী শিক্ষকদের প্রয়াসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য মূল আকর্ষণ। এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর কোন র‌্যাগিং ও অন্যায় আচরণ হয় না। এসব ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সজাগ। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যেখানে ১০৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১০১ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী, বাকি তিন জনের ডিগ্রি প্রক্রিয়াধীন। এখানে ২০২০ সালের জুন মাসের পর কোনও শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক পদে প্রমোশন পাবেন না। গবেষণায় তরুণ শিক্ষকরা অনেক এগিয়ে। প্রায় শতাধিক শিক্ষক ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করছেন। কেউ কেউ ডিগ্রি সম্পন্ন করে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামোগত সমস্যা থাকার পরও আমরা স্বল্প সময়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছি। পরিবহন স্বল্পতা দূরীকরণে সম্প্রতি একসঙ্গে ১৫টি বাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কেনা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে নিজস্ব মালিকানায় দোতলা বাস কেনা হবে। এখন পরিবহনের দিক থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগামী।’

এ সময় উপাচার্য আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায়  কলা অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ, জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক, কর্মচারী সমিতির সভাপতি ইসরাফিল, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নাট্যকলা বিভাগের তদারকিতে শূন্য নাট্যদলের উদ্যোগে ‘লাল জমিন’ নাটক মঞ্চস্থ হয়।

এছাড়াও ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী প্রকাশনা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ বার্তার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সামাজিক বিজ্ঞান ভবন চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত ব্যান্ড ও লোকগানের দলের ‘অভিকর্ষ’, ‘ট্রাভেলার্স’, ‘মনের মানুষ’, ‘আবোল-তাবোল’, ‘স্বপ্নবাজি’, এবং ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ ব্যান্ড দল দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গান পরিবেশন করে। শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা সবাইকে মাতিয়ে রাখে।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটস উপাচার্যকে গার্ড অব অব প্রদান করে। বাঁধন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি পালিত হয়।

 

/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ