সংসদে উপস্থিত থেকেও ‘অনুপস্থিত’ কয়েকজন এমপি

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ০২:৪৩, এপ্রিল ২৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৩, এপ্রিল ২৯, ২০১৬

সংসদ অধিবেশনের ফাইল ছবিঅধিবেশন চলার সময় সংসদে উপস্থিত থেকে অল্প সময়ের জন্য ‘অনুপস্থিত’ থাকতে বাধ্য হতে হলো কয়েকজন সংসদ সদস্যকে। বৃহস্পতিবার অধিবেশন চলাকালে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিছু সময়ের জন্য সরকারি দলের হুইপরা এই এমপিদের অধিবেশন কক্ষের বাইরে ডেকে নেন। এ সময় স্পিকার তাদের ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অপর এক মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকার কারণে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপনের পরও সেটা স্থগিত করা হয়। এছাড়া সংসদে ৭১ বিধির বাতিল নোটিশের ওপর আলোচনার সময়ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অনুপস্থিত দেখা গেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অনুপস্থিত ছিলেন। তাই এই মন্ত্রীকে প্রশ্নকারী সংসদ সদস্যদের সংসদে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের অনুপস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে সরকারি দলের সাংসদ শফিকুল ইসলাম ও তানভীর ইমামের দেওয়া দুটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত নোটিশ।

অারও পড়ুন:  আইএস নেই, শাখা বলে জাহির করছে অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী

বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তরপর্বে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ মেননের জবাব দেওয়ার জন্য সাতটি তারকা চিহ্নিত (মৌখিক উত্তর দেওয়ার জন্য) প্রশ্ন এবং আটটি লিখিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তিনি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। বিধি অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কোনও মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে তার পক্ষে জবাব দেওয়ার জন্য বিকল্প হিসেবে অন্যমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প মন্ত্রী না থাকলে অন্য কেউ এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনও রয়েছে। বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দায়িত্ব পালনের কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানমন্ত্রী আগে থেকেই বিষয়টি সংসদ সচিবালয়কে অবহিত করলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনিও আগেভাগে অপরাগতার বিষয়টি জানিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাকে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার বিদেশি ডেলিগেটের সঙ্গে বৈঠকসহ একাধিক সরকারি কর্মসূচি নির্ধারিত থাকায় আগে থেকেই বিষয়টি পারব না বলে জানিয়ে দিয়েছি। তবে, বিকল্প হিসেবে কারও না কারও জবাব দেওয়ার কথা।

অারও পড়ুন:  ভয়ে জিডিও করছেন না ভুক্তভোগীরা

বৃস্পতিবারের প্রশ্নোত্তর বইয়ে দেখা গেছে,  প্রথম প্রশ্নটি (৩৩৩ নম্বর) ছিল বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের জন্য। প্রশ্নকর্তা ছিলেন আয়েন উদ্দিন। বিমানমন্ত্রীর কাছে পরের দুটি প্রশ্ন ছিল সরকারি দলের ওয়াসিকা আয়শা খান ও সেলিনা বেগমের। সংসদ সচিবালয় থেকে জানা গেছে, প্রশ্নোত্তর পর্বের নির্ধারিত এক ঘণ্টায় এই তিনটি প্রশ্ন নিশ্চিতভাবে আলোচনায় আসবে জেনে সরকারি দলের হুইপরা অধিবেশন শুরুর পরপরই আয়েন উদ্দিন, ওয়াসিকা খান ও সেলিনা বেগমকে অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। ফলে স্পিকার তাদের নির্ধারিত প্রশ্ন উত্থাপনের সময় তাদের নাম ডেকে না পেয়ে ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর স্পিকার অন্য প্রশ্নে চলে যান।

বিধি মোতাবেক, কোনও সংসদ সদস্য অনুপস্থিত থাকলে স্পিকার চাইলে অন্য সদস্যদের তা উত্থাপনের সুযোগ দিতে পারেন। কিন্তু বিমানমন্ত্রীর প্রশ্নের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। অবশ্য বৃহস্পতিবারই ভুমিমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে নির্ধারিত প্রশ্নকর্তা না থাকায় অন্য এমপিকে সুযোগ দেওয়া হয়।

‘অনেকটা বাধ্য হয়ে অনুপস্থিত থাকা’ এমপিদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মন্ত্রী না থাকার কারণে তাদের অনুরোধ করে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হতাশার সুরে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি সংসদে নেই টেলিভিশনে শুনে এলাকা থেকে অনেকে ফোন করেছেন। অনেকবার প্রশ্ন করার পর দু’একবার তা উত্থাপনের সুযোগ হয়। কিন্তু এভাবে যদি আমাদের সুযোগ বঞ্চিত করা হয় তাহলে জনগণকে কী বলব?

অারও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে জন কেরির ফোন

এর আগে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তরপর্বে এসে তিনি প্রশ্নকর্তা আয়েন উদ্দিন, ওয়াসিকা আয়শা খান ও সেলিনা বেগমকে অনুপস্থিত দেখতে পান। যে কারণে তাদের প্রশ্ন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।

এদিকে, সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুরে স্থল বন্দর স্থাপন, শফিকুল ইসলামের নাটোরে ড. ওয়াজেদ মিয়া নামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং তানভীর ইমাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কৃষি কলেজ স্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু নোটিশ সংশ্লিষ্ট নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও শিক্ষামন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় দুই সাংসদের নোটিশ স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে, সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বেড়িবাধের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাব এনে নিজেই উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে  আনোয়ারুল আবেদীন খান, এম আবদুল লতিফ, দিদারুল আলম চৌধুরী, মোস্তাফা রশিদী সুজা, সামশুল হক চৌধুরী, গোলাম দস্তগীর গাজী, ইয়াসিন আলী, শাহজাহান কামালসহ বেশ কয়েকজন এমপি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

এমপিদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সামনে তিনদিন বন্ধ। তাই অনেকেই বাড়ি চলে গেছেন। সে জন্যই অনুপস্থিত আছেন।

/এএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ