পুলিশের সাপোর্ট সেন্টারেই ভিকটিম ভিকটিমাইজড!

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১০:১১, মে ১৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৫, মে ১৬, ২০১৬

ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সহায়তা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী। দেড়মাস আগের এক মামলায় সমঝোতা করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এক এসআই । এমনকি সহায়তা দেওয়ার বদলে সেন্টারে ডেকে এনে পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাকে নানা হয়রানিমূলক কথা বলায় সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেছে তাকে সহায়তাদানকারী সংগঠন জাস্টিস ফর উইমেন।

জাস্টিস ফর উইমেন-এর দাবি, উত্তরা পূর্ব থানার একটি ধর্ষণ মামলার (মামলা নং- ১(৪)১৬) মেডিক্যাল প্রতিবেদন আনার নামে শনিবার ভিকটিমকে ডেকে আনা হয় তেজগাঁওয়ে। তারপর ফোন দিয়ে তার বাবাকেও ডেকে ধর্ষকের সঙ্গে সেই নারীর সম্পর্ক আছে দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন:  মরিয়মের মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাচ্ছে, আশা দেখছেন না চিকিৎসকরা

ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে জাস্টিস ফর উইমেন। সংগঠনটির কর্মী মাহবুবুর রহমানের দাবি, কয়েকদিন ধরে ভিকটিম সহায়তা চেয়েও না পাওয়ায় শুক্রবার তাকে নিয়ে আমরা পাঁচজন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে যাই। এরপর শনিবার ওই মেয়েকে ফের ডেকে নিয়ে ‘ওর মতো মেয়ের মরে যাওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করা হয়। এসআই শিউলী ওই ভিকটিমকে বলেন, টাকা নিয়ে মীমাংসা করো। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সী এই ভিকটিম রবিবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিদিন আমাদের কাছে ১০-২০ জন ভিকটিম আসেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের একজন এসআই  যদি ধর্ষণের শিকার বিপর্যস্ত কিশোরীকে এসব বলে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেন, এর দায় কি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নেবে?

তিনি আরও বলেন, আমাদের পুলিশের সঙ্গে মিলেই কাজ করতে হয়। সব পুলিশ খারাপ না, তা আমরাও জানি, কিন্তু গুটিকয়েক এমন পুলিশের জন্যই ইমেজ নষ্ট হয়।

আরও পড়ুন: আইএস’র দায় স্বীকারের নেপথ্যে সন্দেহ করা হচ্ছে আসলামকে

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এসআই শিউলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,মেয়ে আর মেয়ের বাবাকে মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য ডেকে আনার পর বাবা-মেয়ের মধ্যে তর্ক হয়। আমি তাকে খারাপ কিছু বলিনি।

তিনি আরও বলেন,মেয়ের বিরুদ্ধে বাবার অনেক অভিযোগ। আমাদের বাজে কথা বলার তো প্রশ্নই ওঠে না, আমরা তো কাউন্সিলিং করাই। বাদীর উপকারের বাইরে কোনও কথা বলি না।শনিবারের ঘটনার পর রবিবার ভিকটিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এমন প্রশ্নে এসআই শিউলী বলেন, তিনি এসব বিষয়ে এখনও জানেন না।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটির আচরণ খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। তার বাবা অভিযোগ করেছেন মেয়ে তাকে সপ্তাহে ৫ দিন মারে। সারারাত ফোনে কাদের সঙ্গে যেন কথা বলে। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, খারাপ কোনও কথা বলিনি। সেখানে অন্য অফিসাররাও ছিলেন।

ভিকটিমের পক্ষে জাস্টিস ফর উইমেন বলছে, অনেক কষ্টে মেয়েটিকে মানসিক সাপোর্ট দিয়ে রেখেছি আমরা। তার ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এ ধরনের আচরণ পেলে আগামীতে মামলাটির পরিণতি কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

/ইউআই/এমও/এমএসএম/আপ-এপিএইচ/

লাইভ

টপ