বাজেট বাস্তবায়নটা বড় চ্যালেঞ্জ, দরকার সুশাসন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:২৩, জুন ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৮, জুন ০৫, ২০১৬

বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকিতে অতিথিরাএবারের বাজেটের পরিমাণ বড় এবং সেটা বাস্তবায়ন কৌশলটা স্পষ্ট না হলেও বাস্তবায়নটা বড় চ্যালেঞ্জ। শনিবার বাংলা ট্রিবিউন কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কেমন বাজেট পেলাম’ শীর্ষক বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকিতে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গবেষকরা এ কথা বলেন। তারা বলেন, বাজেটের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে সুশাসন নিশ্চিত করা খুব জরুরি,  এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বাড়াতে হবে। আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- সরকারের যে ব্যয় সেটা কতখানি মানসম্পন্ন সেটা দেখতে হবে।

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামবৈঠকিতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন, পরোক্ষ কর অসমতা বাড়ায়। সমতা বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এ বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা অর্জনের জন্য আমাদের ৩২ শতাংশ বিনিয়োগ দরকার। চলতি অর্থবছরে ২৯ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। এটা বৃদ্ধি করতে চাইলে তা বেসরকারি খাত থেকে আসতে হবে। এই বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বাজেটে কি করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।

নুরুল আমিনমেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন বলেন, বাজেট ভীষণভাবে ট্যাক্সনির্ভর, এনবিআর ৩৫ শতাংশ ট্যাক্স আদায় করবে। সেটা সম্ভব কিনা এটা চ্যালেঞ্জ। কারণ আয়কর সীমা বাড়ানো হয়নি।

ভ্যাট যখনই প্রয়োগ হবে সেটার চাপ সরাসরি ভোক্তার ওপর পরবে। সড়ক থেকে আয় করে কেউ যখন রুটি খাবে তাকেও ভ্যাট দিয়েই খেতে হবে। সেটা নাগরিকদের জন্য সুখবর নয়। করপোরেট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আনা হয়নি।

ড. মোস্তাফিজুর রহমানবেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভ্যাট আদায় করতে সরকারের দিক থেকে প্রস্তুতি জরুরি। সাতটি পয়েন্টে একমত হয়েছিল ব্যবসায়ী ও এনবিআর- সেটার যৌক্তিকতা আছে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে যখন এই ভ্যাট কার্যকর হবে তখন যদি অস্বচ্ছতার সৃষ্টি হয় তাহলে এই বাজেটেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন যত হবে তত ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কম পড়বে। এক্ষেত্রে অনলাইন ভ্যাট সাবমিশনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাত লাভজনক ছিল, সেটাও এখন বড় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কৃষক উৎপাদন খরচ পাচ্ছে না। সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। ২শ’ কোটি টাকা হিন্দু কমিউনিটির জন্য রাখা হয়েছে। অন্যান্যদের জন্যও বাজেটে আছে। বাজেটের বিস্তারিত দেখলে বুঝা যায়।

শওকত হোসেন মাসুমপ্রথম আলোর বিজনেস এডিটর শওকত হোসেন মাসুম মনে করেন, বাজেটের আকার বাড়ছে, যত আকার বাড়ছে প্রশ্নের উত্তর কমছে। তিনি বলেন, বাজেটটি বিনিয়োগ নির্ভর না বরং কর নির্ভর হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন বা কোন কৌশলে করবেন সেটার উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাজেটের পরিমাণ নিয়ে বেশি আলাপ করছি। সংবাদকর্মী হিসেবে বাজেটের পর বিষয়গুলো আমাদের দেশে যেভাবে প্রচার করা হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে খুঁজলেও পত্রিকায় বাজেটের টাকার পরিমাণ পাবেন না। কেননা, এই আকার নিয়ে আলাপ করলে মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যাই।

আহমেদ রশিদ লালীঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী এবারের বাজেটকে উচ্চাভিলাষী মনে করেননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি’র যে আকার তাতে বাজেট আরও বড় হতে পারতো। ছোট স্বপ্ন দেখলে আমাদের দেশের জন্য ছোট স্বপ্নই নিয়ে আসবে। আমি এ বাজেটে খুশি, কারণ এ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা আমরা রেভিনিউ আয় করবো। করের মধ্য দিয়ে সেখানে ট্যাক্সনেট বাড়ানোর কথা হয়নি। যেসব ব্যবসায়ীরা কর দিচ্ছেন তাদের ওপরই চাপ বাড়বে। সুশাসন নিশ্চিত না হলে বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ।

নাসরিন আওয়াল মিন্টুবাংলাদেশ নারী উদ্যোক্তা সমিতির সাবেক সভাপতি নাসরিন আওয়াল মিন্টু বলেন, স্বপ্ন না দেখলে সামনে এগুনো যায় না, এটা মনে রেখে বড় স্বপ্নের দিকেই আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে স্বপ্ন দেখাও জরুরি।

হেলাল উদ্দিনএফবিসিসিআই’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাইভেট বিনিয়োগ কমেছে। তবে এটাও ঠিক সরকারি পর্যায়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তা আগে হয়নি। এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে আমাদের ফেরার সুযোগ নেই।

বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদ জুলফিকার রাসেলএর আগে বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জুলফিকার রাসেল শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে পাঠকদের প্রশ্নগুলো তুলে ধরা শুরু করেন। পাঠকরা মোবাইল ফোনের সিমের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ের প্রস্তাবগুলো রাতেই কার্যকর হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছেন। এছাড়া চালের দাম বাড়ানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়েও পাঠকদের পাঠানো প্রশ্ন তুলে ধরেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি অতিথিরামিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর শওকত হোসেন মাসুম, মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ সভাপতি হেলাল উদ্দিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী, বাংলাদেশ নারী উদ্যোক্তা সমিতির সাবেক সভাপতি নাসরিন আওয়াল মিন্টু ও বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। 

আরও পড়ুন: 
যারা কর দিচ্ছেন তাদের ওপরই চাপ আসবে: আহমেদ রশিদ লালী
স্বপ্ন না দেখলে এগুনো যায় না: নাসরিন আওয়াল মিন্টু
পরোক্ষ কর অসমতা বাড়ায়: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম


বিনিয়োগ নির্ভর নাকি কর নির্ভর বাজেট: শওকত হোসেন মাসুম
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: মোস্তাফিজুর রহমান

/ইউআই/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ