Vision  ad on bangla Tribune

সুবিধাবঞ্চিতদের সেহরি খাওয়ান যারা

জাকিয়া আহমেদ০৭:৩৭, জুন ২৩, ২০১৬

সেহেরি নিয়ে বের হবার আগে‘আমরা সেহরির খাবার নিয়ে রাত দু’টায় বের হই বিতরণ করতে। পথের পাশের ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে জিজ্ঞাসা করি, সেহরি খাবেন? কেউ মাথা তোলেন, কেউ মশারির ফাঁক গলিয়ে হাত বের করেন। আমরা  তাদের মাঝে  সেহরি বিতরণ করি।’ এভাবেই বাংলা ট্রিবিউনকে কথাগুলো বলছিলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাস। আর এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেই  প্রতিদিন বিনামূল্যে ইফতারি ও সেহরি বিতরণ করা হয়।  প্রায় ১ হাজার ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত বৃদ্ধ-প্রতিবন্ধীসহ নানা বয়সী মানুষের মাঝে এই ইফতার ও  সেহরি বিতরণ করেন এই প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকরা।  
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হলেও মূলত শিক্ষা নিয়েই বেশি কাজ করে বলে জানালেন কিশোর কুমার দাস। তিনি ২০১৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তারপরের বছর থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে ইফতার দেওয়া শুরু হয় প্রায় ৫০০ মানুষের মধ্যে। আর এর পরের বছরে ইফতারের পাশাপাশি  সেহরির কার্যক্রমও শুরু করে বিদ্যানন্দ। ওই  বছর প্রায় তিন হাজার মানুষের মাঝে ইফতার ও সেহরি বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি।  
চলতি বছরে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষকে ইফতার এবং সেহরি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন কিশোর কুমার দাস।  তিনি বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের রামুতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের চারটি শাখা রয়েছে। এসব জায়গায় ইফতার ও সেহরি বিতরণ করছি আমরা।  এছাড়া চলতি বছরে রাজশাহীতেও  ইফতার বিতরণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
ঢাকার মীরপুর থেকে তিনটি ফুড ভ্যানে সাড়ে তিনশো খাবারের প্যাকেট নিয়ে গাবতলী, মীরপুর আর হাতিরঝিল প্রকল্পে ৩০০ প্যাকেট ইফতার বিতরণ করে বিদ্যানন্দ। আর কয়েকদিনের ভেতরে মহাখালীতেও এই ইফতার বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিদিন এই একই নিয়মে ইফতার দিয়ে আসছে রোজার প্রথম দিন থেকে, পরিকল্পনা রয়েছে শেষ দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার।

কিশোর কুমার বলেন, পুরো রমজান মাস ধরে মোট ত্রিশ হাজার মানুষকে সেহরি ও ইফতার করাতে চাই।  এর মধ্যেই প্রায় পনেরো হাজার মানুষের সঙ্গে আমরা সেহরি করতে পেরেছি। এছাড়া, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ঢাকা ও চট্টগ্রামের  সেহরিও বিতরণ করা হচ্ছে। ঢাকার মীরপুর থেকে খাবারের ট্রাক ছাড়ে। শ্যাওড়াপাড়া, শ্যামলী, পান্থপথ হয়ে কাওরান বাজারে এসে থামে এই খাবারের ট্রাক। কিশোর বলেন, এই পুরো রাস্তায় যারা রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে থাকেন, তাদের ডেকে ডেকে আমরা তাদের হাতে সেহরির প্যাকেট তুলে দেই। চট্টগ্রামে ষোলশহর, দুই নাম্বার গেইট এবং জিইসি মোড়ে সেহরি বিতরণ করি।

সেহেরি প্যাকেট করা হচ্ছে.

বিদ্যানন্দের ঢাকায় দেওয়া ইফতার প্যাকেটে থাকে আম, আপেল, পেয়ারা বা কলা। সঙ্গে ছোলা, পেঁয়াজু, খেঁজুর এবং মুড়ি। তবে ঢাকায় বিদ্যানন্দের এ ইফতার আয়োজনে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার। ইউনিলিভার ঢাকায় দেওয়া ইফতারে বিদ্যানন্দের দেওয়া ইফতারের সঙ্গে দেয় এক প্যাকেট নুডুলস আর এক বোতল পানি। ঢাকায় ইফতারের প্যাকেটের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১৫ টাকা আর চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দেওয়া হয় প্রচলিত সব রকমের ইফতারি, যার খরচ ধরা হয়েছে ২৫ টাকা।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ইফতার বিতরণ.

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মোট চারটি শাখায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন মোট ৫৫ জন। যারা প্রতিদিন বিদ্যানন্দের হয়ে কাজ করেন।  এর বেশিরভাগই চাকরিজীবী।  চাকরির পাশাপাশি তারা বিদ্যানন্দে কাজ করেন, বাকিরা শিক্ষার্থী। তবে চলতি বছরে বিদ্যানন্দের সঙ্গে লাইটার ইয়ুথ ফাউন্ডেশন নামের আরেক প্রতিষ্ঠানও এক হয়ে কাজ করছে। কিশোর কুমার বলেন, এ বছর অনেক মানুষকে ইফতার ও সেহরি করানোর পরিকল্পনা শুনে এই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন অনেকেই।  

আরও পড়তে পারেন: ডিএনসিসি-ডিএসসিসিতে ১৬ ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত হলেও নির্দেশনা নেই

/এমএনএইচ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ