বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই ইউজিসি’র

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:১১, জুলাই ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩৮, জুলাই ১৭, ২০১৬

অধ্যাপক আবদুল মান্নানবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ পেলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)। এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন,আইনটি পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ইউজিসির হাতে দেওয়া উচিত।
শনিবার নিজ কার্যালয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি’র চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ধারা-৬-এর ১০ উপধারায় বলা আছে, প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হতে পারে এমন কোনও কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করবে না বা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতা বা এই জাতীয় কোনও কার্যকলাপে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না।
তিনি আরও বলেন, মঞ্জুরি কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা আছে, দেশের জন্য ক্ষতিকর কোনও কিছুর পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না। কিন্তু বলা নেই, পৃষ্ঠপোষকতা করলে ইউজিসি কী ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গত কয়েকবছর ধরে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ থাকায় গত বছর ইউজিসির একটি তদন্ত দল সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গিয়ে তাদের লাইব্রেরিতে জঙ্গিবাদী বই পাওয়াসহ বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পায়।

কিন্তু ক্ষমতা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি ইউজিসি। তবে নিয়ম অনুযায়ী ইউজিসি ওই তদন্তের একটি প্রতিবেদন দাখিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরে আর সে ব্যাপারে আর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

ইউজিসির চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা নেই। ফলে আমরা ব্যবস্থা নিতেও পারি না। যদি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকতো, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারতাম। আইনের ফাঁক-ফোঁকরের কারণেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে।

এমন অনিয়ম পেলে ইউজিসি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনটি দ্রুত পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, হয়ত দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। তখন আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।

/আরএআর  / এমএসএম /এমএনএইচ/

লাইভ

টপ