behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

ঢামেক ওসিসিতে অমানবিকতা-কান্না

উদিসা ইসলাম২২:০৫, নভেম্বর ৩০, ২০১৬

ওসিসি

‘আপনাকে বাইরে আসতে বলেছে কে? যা করসেন করসেন। এখন আবার সাংবাদিকের সামনে কথা বলেন। ভেতরে যান।’ নির্যাতনের শিকার মেয়েশিশুকে সহায়তা দিতে খোলা ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সহযোগী হিসেবে গেটের বাইরে যারা থাকেন, তাদের বেশিরভাগেরই নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার নারীদের প্রতি কোনও মানবিক আচরণ নেই। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বেশ বিব্রত পরিস্থিতিতে আছেন এদের নিয়ে। কেবল মিডিয়ার নজর পায়, এমন ক্ষেত্রে আচরণে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০০১ সালে প্রথম চালু হয় ওসিসির কার্যক্রম। পরবর্তীতে বিভাগীয় শহরসহ আটটি ওসিসি সেন্টার ও জেলা পর্যায়ে ৪০টি এবং উপজেলা পর্যায়ে ২০টি ওসিসি সেলের মাধ্যমে নির্যাতিত নারীশিশুদের ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ, পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সিলিংসহ নির্যাতিত নারীদের সহযোগিতা করে থাকে ওসিসি।  

নির্যাতনের শিকার নারীর নিরাপত্তার খাতিরে ঢামেক ওসিসিতে সবচেয়ে নিরাপদ করে রাখতে একটি কলাপসিবল গেট দিয়ে জায়গাটা বন্ধ রাখা আছে। অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। তার মধ্যে একটি কক্ষে ভিক্টিমদের রাখা হয়। যৌতুক বা নানা কারণে মারধরের শিকার ভিক্টিমরা বেডে থাকতে চান না, তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেই তাদের নানারকম কটূক্তি করা হয়।

রোগির আত্মীয় মনে করে অপেক্ষমান এ প্রতিবেদককে একজন আয়া বলেন, বাচ্চাদের কথা আলাদা।কিন্তু এই বিবাহিতরা বদমাইসি করে। স্বামী শাশুড়ি শায়েস্তা করার জায়গা পাইছে। ঠিকমতো বেডে থাকে না। কথা শোনে না। সাংবাদিক আসছে শুনলেই দৌড়ে বাইরে আসতে চায়।

তাদের সঙ্গে মা বা অন্য কোনও অ্যাটেনডেন্ট আছেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আছেনতো। এরা মাইর খাইছে স্বামীর কাছে, মামলা দিব, সেবা নিব। কোনও স্বামী মারে না। খামাখা এখানে ভিড় করে। এসব কথা বলার সময় সাভার থেকে শাশুড়ি ও স্বামীর হাতে নির্যাতিত এক নারী বেরিয়ে এসে তার কোমর আর পায়ের থেতলে দেওয়া অংশ দেখানোর চেষ্টা করলে, সেই সহযোগির পাশে থাকা আরেক সহযোগী বলেন,‘যাকে-তাকে শরীর দেখাইতেছে। আপনেরতো চরিত্র ভালো না।’ কথাগুলো শুনে ওড়নায় কান্না চেপে আবার ঢুকে যান ঘরের ভেতরে।

ওসিসির বাইরে স্বজনের কান্না

ওসিসির আরেক সহযোগী বলেন, জানেন, কেবল শশুর-শাশুড়িকে শাস্তি দিতে নিজে নিজে ক্ষত তৈরি করেছে। আরে বাবা, মেয়ে মানুষ এসবতো সহ্য করতেই হয়।

কেবল আচরণ নয়,অপরিচ্ছন্নতার সমস্যাও ওসিসিতে এখন প্রায়ই নজরে আসে। সরেজমিনে দেখা গেল, দুপুরের খাবার আসার পর মোট বিশটি খাবারের প্লেটে (হাসপাতালে যেমন স্টিলের খোপ খোপ প্লেট দেওয়া হয়)ভাত, সবজি ও মাছ রাখা হলো এবং সেই প্লেটগুলো একটির ওপর একটি রাখায় ভাত তরকারি মাখামাখি, একটি প্লেটের নিচের ময়লা আরেকটি প্লেটের ভাতের ওপর। এবার একে একে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রোগীরা খাবার নিয়ে যান। খাবার পরিবেশনের সময় মূল ফটকের সামনেই ঝোল আর ডালে মেঝে ভিজে গেলে একটা কাপড় এনে সেটি সঙ্গে সঙ্গে মুছে দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু কাপড়টি সেখানেই ফেলে রাখা হয় কোনাতে।

এত গেল ভেতরের চিত্র। ওসিসিতে যেহেতু একজন নারী অ্যাটেনডেন্ট ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না, সেহেতু বাইরে অধীর আগ্রহে তাদের পিতা, ভাই বা স্বজনরা অপেক্ষা করেন, যদি কিছু লাগে। কী লাগবে সেটি রোগীর কাছ থেকে জানতে  ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। খোঁজ পাঠালে সে খোঁজও যায় না। কিন্তু টাকা গুজে দিলে সেই খোঁজ রোগীর কাছে সহজেই যায় বলে অভিযোগ রোগীদের স্বজনের।

ওসিসি শুরু হওয়ার পর থেকে এর সমন্বয়ক ড. বিলকিস বেশ আন্তরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এসব বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাকে এসব কেউ বলেনি কখনও।’ গ্রাম থেকে আসা রোগীরা ভয় পান কোনও কথা বলতে, তার ওপর তারা সহিংসতার শিকার জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখব এধরনের কোনও কিছু ঘটেছে কিনা। তবে, এত রকমের রোগী আসে সামলানোও খুব কঠিন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য জেলার ওসিসির এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি নিজেও ঢাকা ওসিসিতে গিয়ে অবাক হয়েছি, সেখানকার সাধারণ স্টাফদের আচরণে। এসব নারী শিশুদের সঙ্গে খুব যত্ন নিয়ে কথা বলতে হয়। এদের মনের ক্ষত দূর করাটাও আমাদের সমান দায়িত্ব। কিন্তু পরিদর্শনকালে ঢাকা ওসিসিতে আমি তেমনটা দেখিনি। এটি দুঃখজনক।’

/ইউআই/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন:

ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা


Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ