ইউনেস্কোর স্বীকৃতি কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে বড় জবাব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৪৯, নভেম্বর ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫০, নভেম্বর ৩০, ২০১৬

ইউনেস্কোর ঘোষণার ফলে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।এই মঙ্গল শোভাযাত্রাতো অমঙ্গলের বিরুদ্ধে আলোর প্রতীক। অন্ধকার শক্তির বিরুদ্ধে যারা আলোকিত সমাজে বিশ্বাস করেন, যারা প্রগতির পক্ষের মানুষ, তারাই মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করে শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বের মঙ্গল কামনা করেন।সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আলোর মশালটি আমরা জ্বালাতে চাই, বললেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।

প্রসঙ্গত, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশে বাংলা বর্ষবরণের অন‌্যতম অনুসঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। বুধবার ইউনেস্কোর অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।  ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি নিয়ে জানতে চাইলে গোলাম ‍কুদ্দুস এ মন্তব্য করেন।

ইউনেস্কোর পোস্টে আরও বলা হয়, প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেন।

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বুধবার বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ‌্য রক্ষায় আন্তঃদেশীয় কমিটির একাদশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত বিতর্কে ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট‌্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউমিনিটি’র তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ জানিয়ে গোলাম কুদ্দুস আরও বলেন,‘যারা এই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে নিয়ে নানা কটূক্তি করেছিল, এটাকে বাঙালি সংস্কৃতি নয় বলে নানাভাবে এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, বিদ্রুপ করেছিল, অপপ্রচার করেছিল,ধর্মবিরোধী বলেও আখ্যায়িত করেছিল,পুরো পহেলা বৈশাখকে যারা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করেছিল, ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি তাদের সেই সংকীর্ণ বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাড়িত যে বিবেচনাবোধ, যে সমালোচনা, তাদের বিরুদ্ধে এটি একটি বড় জবাব।আমরা মনে করি, বাংলাদেশের এই মঙ্গল শোভাযাত্রা আজ  সর্বজনীনভাবে পালিত হবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। সম্ভব হলে তারাও অনুসরণ করবে। যেভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

আমাদের কোনও কোনও মহল এখনও বাঙালি লোকজ সংস্কৃতির উপাদানগুলোকে পরিহার করে অন্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ঘটাতে চায়।আমাদের ঐতিহ্যগুলোকে নানাভাবে কখনও ফিউশনের নামে, কখনও আধুনিকতার নামে তারা বিকৃতভাবে বাণিজ্যিকভাবে উপস্থাপন করতে চায়।’ ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি তাদের বিরুদ্ধে বড় জবাব বলে মন্তব্য করেন গোলাম কুদ্দুস।

জেএ /এপিএইচ/
আরও পড়ুন: ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা

লাইভ

টপ