শাহজালালে ১৩টি সোনার বারসহ আটক ১

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৫:৩৭, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

পায়ুপথে সোনাবহনের সময় ১৩টি বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। আটক ব্যক্তির নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটকের পর হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন কাস্টম হাউসের গোয়েন্দারা।

ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (প্রিভেনন্টিভ) এইচ এস আহসানুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান। 

উদ্ধার করা সোনার ওজন ১ কেজি ৩০০ গ্রাম বলেও জানান তিনি। জাহাঙ্গীর আলম মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় আসেন।

এস আহসানুল কবির বলেন, মালয়েশিয়া থেকে  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৭ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউসের প্রিভেনন্টিভ টিম এই ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজর রাখে। যাত্রী জাহাঙ্গীর আলমের হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা থাকায় তাদের সন্দেহ বাড়লে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু জাহাঙ্গীর কোনোভাবেই সোনা থাকার কথা স্বীকার করছিলেন না। 

তিনি জানান, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও সোনার বার থাকার কথা অস্বীকার করতে থাকেন জাহাঙ্গীর। এরপর আর্চওয়েতে তাকে পরীক্ষা করা হলে দেহে ধাতব বস্তুর সন্ধান মেলে। কিন্তু, তারপরও অস্বীকার করায় ওই যাত্রীকে উত্তরার একটি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়। ডাক্তার যাত্রীর পেটে এক্স-রে সম্পন্ন করান। এতে তার রেক্টামে ৩ টি অস্বাভাবিক পোটলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তখন বাধ্য হয়ে সোনা বহনের কথা স্বীকার করেন জাহাঙ্গীর।

সোনা উদ্ধার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আহসানুল কবির বলেন, ওই যাত্রীকে শাহজালালের কাস্টমস হলে নিয়ে এসে পানি পান করিয়ে পেটে চাপ তৈরি করা হয়। এরপর কাস্টম ও বিভিন্ন সংস্হার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে টয়লেটে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে একে একে ৩ টি কনডম বের করে আনেন ৩৬ বছরের যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম। বের করা ৩টি কনডমের ভেতর থেকে মোট ১৩টি সোনার বার পাওয়া যায়।

জাহাঙ্গীর স্বীকার করেছেন, ফ্লাইট অবতরণ করার ৩০ মিনিট আগে আকাশপথে বাথরুমে গিয়ে যাত্রী কনডমগুলো নিজের পায়ুপথে প্রবেশ করান। এজন্য মালয়েশিয়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি। 

আহসানুল কবির বলেন, সোনার বারগুলোর ওজন ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতিটির ওজন ১০০ গ্রাম। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও টাকার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেন যাত্রী জাহাঙ্গীর। আটক করা সোনার মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। 

তিনি জানান, অবৈধ ভাবে সোনা বহনের অভিযোগে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং এলাকার কাবিলা বাজারে। তার পাসপোর্ট নম্বর এফ ৫৬৯০৪৯৮। 

/সিএ/টিএন/

লাইভ

টপ