Vision  ad on bangla Tribune

‘সংরক্ষিত এলাকা’ বলেই তনু হত্যার তদন্তে বিলম্ব?

উদিসা ইসলাম১৪:২৬, মার্চ ২০, ২০১৭

তনু হত্যাকাণ্ড

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও ঘাতকরা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে আশানুরূপ কিছু না থাকা এবং এমন একটি হত্যাকাণ্ডের একবছরেও সুরাহা করতে না পারার কারণ হিসেবে ‘সংরক্ষিত এলাকা’য় স্বাধীন তদন্ত না করতে পারার কথা বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা মনে করেন, যদি কেবল সংরক্ষিত এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটার কারণে তদন্ত বিঘ্নিত হয় তাহলে সেটি হতাশার। অপরাধ সংঘটিত হলে কোনও এলাকাকেই বিশেষ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। সেনানিবাসের ভেতরেই থাকেন তারা। সেখানেই গত বছরের ২০ মার্চ টিউশনি করাতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মেধাবী ছাত্রী সোগাগী জাহান তনু। সে রাতে তার বাবা ও পরিবার সদস্যরা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গলে খুঁজে পান তনুর লাশ। নির্যাতন ও ধর্ষণের চিহ্ন স্পষ্ট থাকায় পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি-কুমিল্লা। ঘটনার পর পর ঘাতকদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন মহলসহ দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তনুর লাশের দুই দফা ময়নাতদন্ত, মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও সেনানিবাসের সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় বারেবারে অজ্ঞাত কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয় এ মামলার তদন্ত কাজ।  

তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সিআইডি-কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর থেকে এবছর জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারিনি। সেসময় সেনাবাহিনীর মহড়া হয় বলে আমরা সন্দেহভাজনদের নিয়ে কাজ করতে পারিনি। ফেব্রুয়ারিতে কিছু কাজ করেছি। তনুর লাশের কাছে পাশে পড়ে থাকা স্যান্ডেল, কলম, মোবাইল ফোন ও ব্যাগসহ কয়েকটি জিনিসের ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে আরও বেশি কাজ করা যাবে। আশা করছি দ্রুত একটা রেজাল্ট দিতে পারবো।’

এই একবছর ধরে বিচার না পাওয়া প্রশ্নে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি সংরক্ষিত এলাকায় হওয়ায় অন্য জায়গার তুলনায় তদন্ত স্বাধীনভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার শুরু থেকে নানাধরনের রাখঢাকের কারণেও বাধা তৈরি হয়েছে। এই রাখঢাকের কারণে জনমনে শঙ্কা শুরু থেকেই ছিল যে স্বাধীন তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে এবং এই শঙ্কার জায়গাও বাধা হয়ে দাঁড়ানোর আরেকটি কারণ।’

তনু হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ (ফাইল ছবি)

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল মনে করেন, একবছরেও বিচারের অগ্রগতি দেখতে না পাওয়াটা ভীষণ হতাশার। তিনি বলেন, ‘সেনানিবাসের জায়গায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা কী ধরে নেবো তারা এমন সব অলিখিত সুবিধা ভোগ করে যে কারণে সেখানে তদন্ত হচ্ছে না বা এ বিচার আলোর মুখ দেখছে না?’ তিনি মনে করেন, স্বাধীন দেশে সাংবিধানিকভাবেই বিচারের নিশ্চয়তা পাওয়ার অধিকার সবার জন্য সমান, এ বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়ার সুযোগ নেই।

‘আমরাতো এমন দিন দেখার জন্য যুদ্ধ করিনি, কেবল একটি ভুখণ্ডের জন্য নয়, সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে সেই দিন দেখতে চেয়েছি,’ বলেন তিনি।

তনু হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ  (ফাইল ছবি)

সুনির্দিষ্টভাবে এই মামলাটিতে বিচারহীনতার কারণ হিসেবে ‘বিশেষ এলাকা’য় অপরাধ সংঘটনকে মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্তত এক্ষেত্রে এমনটাই ঘটছে।’

তনুর মা আনোয়ারা বেগমও তার মেয়ের হত্যার বিচার পাবেন কিনা সে বিষয়ে এখন সন্দেহ প্রকাশ করা শুরু করেছেন। শুরু থেকেই তদন্তে নানা রকমের বাধা নিষেধ পাচ্ছেন বলে দাবি করে আসছে তনুর পরিবার। এ বিষয়ে তনুর মা আনোয়ারা বেগম গতকাল রবিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে সিআইডি’র দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছি, জানি না বিচার পাব কিনা।’

তিনি বলেন, ‘আর কত অপেক্ষা করতে হবে। সিআইডি কর্মকর্তারা শুধুই বলছেন, তনু হত্যাকাণ্ডে রহস্য উন্মোচন হবে কিন্তু একটা বছর তো সেসব কথা শুনতে শুনতেই কেটে গেল।’

/ইউআই/টিএন/

আরও পড়ুন:

তনু হত্যার এক বছর: রবিবারও তনুর বাবাকে হুমকির অভিযোগ

তনু হত্যার এক বছর, মানববন্ধনে অশ্রুসজল শিক্ষার্থীরা

 

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ