মালিকদের একগুঁয়েমিতে অনিশ্চিত ৫০ হাজার ট্যানারি শ্রমিকের জীবন!

জাকিয়া আহমেদ ও চৌধুরী আকবর হোসেন
০৯ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:১৩আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৪০

হাজারীবাগে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে রাজধানীর হাজারীগের ট্যানারি পল্লী উচ্ছেদ করায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সেখানে কর্মরত ৫০ হাজার শ্রমিকের জীবন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজধানীর হাজারীবাগের সব ট্যানারিতে বন্ধ করে দেওয়ার হয়েছে সব ইউটিলিটি সংযোগ। ফলে শ্রমিকরা এখন কী করবেন তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। বারবার সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় ও আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে ট্যানারি মালিকরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শ্রমিকরা এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। 

শ্রমিকরা বলছেন, ‘আদালতের রায় নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই, আদালত সবার ওপরে। কিন্তু হাজারীবাগের ৫০ হাজার শ্রমিকসহ এলাকার লাখ লাখ মানুষের জীবন মালিক ও সরকারের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে গেল। আমরা জানি না কাল সকাল থেকে আমাদের কী হবে? এক অনিশ্চিত জীবনের দিকে যাচ্ছি আমরা। হয়তো না খেয়েই থাকতে হবে পরিবার পরিজন নিয়ে।’

শনিবার হাজারীবাগে ট্যানারি কারখানাগুলোতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিবেশ অধিদফতর অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১২৩টি টেলিফোন সংযোগ, ১৯৩টি পানির লাইন, ২২৪টি বিদ্যুৎ সংযোগ ও ৫৪টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। গত ৩০ মার্চ এক আদেশে ৬ এপ্রিলের মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেন আপিল বিভাগ।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে অভিযান শুরু হলে সেখানে শ্রমিকদের আহাজারী শোনা যায়। ভবিষ্যত জীবনের অনিশ্চিয়তায় দিশেহারা অনেক শ্রমিক। শ্রমিকরা আজকের এ অবস্থার জন্য কারাখানা মালিকদের  দায়ী করছেন। তারা বলছেন, 'সরকার থেকে বারবার তাদের সময় দেওয়া হলেও মালিকরা তাতে উদ্যোগী হননি, তাদের গাফিলতির কারণেই আজ  আমাদের এ অবস্থা।'

হাজারীবাগের রুমা লেদার ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে গিয়ে দেখায় যায়, ভেতরের বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ততোক্ষণে শ্রমিকরা কারখানা ত্যাগ করলেও অনেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী কর্মী বলেন, 'কাল থেকে কী খাবো জানি না? কয়েকদিন পর রমজান মাস শুরু হবে। ঈদে ছেলেমেয়ের জন্য নতুন জামা কেনা ও গ্রামে বাবা মায়ের জন্য টাকা পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে গেছে এখন।'

পুরো কারখানা অন্ধকার হয়ে আছে, কাজ বন্ধ তাহলে কেন বসে আছেন-জানতে চাইলে নারী শ্রমিকরা বলেন, ‘মায়া ছাড়তে পারছি না, বাড়ি গিয়ে কী করবো? তাই বসে আছি এখানে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ট্যানারি কারখানা ম্যানেজার বলেন, ‘হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেলো। মালিকরা কেউ তাদের দেখতে আসেনি। কারখানায় পানি, গ্যাস নাই। মালিকরা তো শেরাটন-সোনারগাঁও হোটেলে খাবে। শ্রমিকদের দেখতে আসার মতো সময় তাদের নেই।’

আরক শ্রমিক বলেন, 'বার বার আমাদের মালিকরা বুঝিয়েছেন, এখান থেকে সরতে হবে না। তোমরা কাজ করে যাও। এখন তো সব বন্ধ। আমাদের এই অনিশ্চিত জীবনের দায় কি তারা এখন নেবে?'
এ বিষয়ে ট্যানারি ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সাভারে প্রস্তাবিত ট্যানারি পার্কে শ্রমিকদের চাকরি অব্যাহত থাকবে কিনা সেটাও অনিশ্চিত। নতুন জায়গায় আবাসন নেই, হাসপাতালসহ অন্যান্য কোনও সুবিধা নেই। সরকার এবং মালিক পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেখানে এসব বিষয়গুলো একেবারেই উপেক্ষিত। ৫০ হাজার শ্রমিক এখন হাজারীবাগে অন্ধকারে, সাভারেও যাওয়ারও উপায় নেই তাদের।’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একটি কারখানার উৎপাদন দুই মাস বন্ধ থাকলে মালিকপক্ষের হয়তো লাভ হবে না। কিন্তু তারা না খেয়ে থাকবে না। কিন্তু একটি কারখানা এভাবে দিনের পর দিন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের না খেয়ে থাকতে হবে।  তাই আমাদের দাবি সরকার এবং মালিকপক্ষ বসে সমস্যাটি সমাধান করুক।’

/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী