‘যে মেয়েকে নিয়ে এতবছর কেবল সংগ্রাম করে গেছি, সেই মেয়ের জন্যই এভাবে গর্ব করতে পারবো কোনও দিন স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তাই করলেন। আমার মেয়ের ছবি প্রধানমন্ত্রী তার পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা কার্ডের জন্য নির্বাচিত করেছেন।আমি কৃতজ্ঞ তার কাছে। কেবল তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যেভাবে এসব বিশেষ শিশুদের সামনে নিয়ে এসেছেন, তাতে করে আমাদের পথচলা এখন অনেক বেশি সাবলীল।’ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথাগুলো বললেন শিরিন হাফিজ। তার মেয়ে ইসাবা হাফিজের হাতে আঁকা একটি ছবি প্রধানমন্ত্রীর পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছাকার্ডে এবার স্থান পাওয়ায় নিজের অনুভূতির কথা এভাবেই ব্যক্ত তিনি।
শিরিন হাফিজ বলেন, ‘নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আমার মেয়েটি কেবল ভালো ছবিই আঁকে না, ভালো গানও গায়। প্রধানমন্ত্রী আমার মেয়েসহ আরও পাঁচজন শিশুর হাতে আঁকা ছবি দিয়ে এবারের কার্ড করেছেন।এর মধ্যদিয়ে অটিস্টিক শিশুদের পরিবারগুলোকে সাহস দিচ্ছেন তিনি। এতে করে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভরসা পাচ্ছি।।কয়েকদিন আগেও বাচ্চাদের নিয়ে ঘরের বাইরে যাওয়ার সাহস পেতাম না। কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। সায়মা ওয়াজেদ এসব শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন, তাকে শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে ইসাবা হাফিজসহ আরও পাঁচ অটিস্টিক শিশুর হাতে আঁকা ছবি স্থান পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ছয়টি ছবি প্রধানমন্ত্রী নিজেই বাছাই করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর এবারের শুভেচ্ছা কার্ডে ইসাবা হাফিজ ছাড়া আরও যে পাঁচ শিশুর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তারা হলো-ইব্রাহিম খলিল (অটিজম), সুমা দাস (বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী), আশহাব মুনঈম চৌধুরী (অটিজম), আবিদা সুলতানা শান্তা (বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী) এবং মো. রাহাত (সেরিব্রাল পালসি)।
ইব্রাহিম খলিলের মামা মো. মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাকার্ডে ইব্রাহিমের ছবি স্থান পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের ও গর্বের।’ ছেলেটি এভাবে আমাদের চমকে দেবে, এটা কোনও দিন ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের সালাম, বলেন তিনি।
আশরাফুল আলম আরও বলেন, ‘‘২০১০ সালের কোরবানির সময় থেকে এসব বিশেষ শিশুদের (বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী) আঁকা ছবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা কার্ড করছেন। তার আগে ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন পেশাজীবীদের আঁকা ছবি। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে অটিস্টিক এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে তার কার্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখন ছবিগুলো বাছাই করা হতো রাজধানী ঢাকা থেকে সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে ঈদ উল ফিতরের সময় বলেন, ‘কেবল ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে থেকেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ছবি আনতে হবে।’ মূলত তখন থেকে দেশের জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ছবি আনা হয়।’ আগে যার বা যাদের ছবি নির্বাচিত হতো,তাদেরকে এসঙ্গে তিন লাখ টাকা দেওয়া হতো বলেও জানান তিনি।
আশরাফুল আলম বলেন, ‘‘কিন্তু এতে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আরও ছেলেমেয়েদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। উৎসাহী করতে হবে।’ সারাদেশ থেকে আসা ছবিগুলো প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্বাচিত করেন। কখনও ছয় জন, সাত জন, আট জন আবার নয় জনের ছবিও বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী।এদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা পুরষ্কার দেন তিনি।’’
তিনি বলেন, ‘এ বাছাই প্রক্রিয়ায় একবার যাদের ছবি নির্বাচিত হয়,পরে আর তাদের ছবি মনোনীত করা হয় না। কারণ আরও নতুন নতুন শিশুরা যাতে অংশ নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী চান, সবাই যেন এতে সুযোগ পায়।’
২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯৪ জনের ছবি প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাকার্ডে স্থান পেয়েছে বলেও জানান আশরাফুল আলম ।
/এপিএইচ/








